নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

করবো না মানা

রাহুল মল্ল

রাহুল মল্ল › বিস্তারিত পোস্টঃ

ভালোবাসার পুষ্পাঞ্জলি

২৯ শে জুলাই, ২০১৫ রাত ২:৫০

এভাবে দেখা হবে চিন্তা করি নি। সেই কবে শেষ বার দেখেছি বোরকা পরে নীল কাপড়ে মুখ ঢেকে বসে ছিলে লাইব্রেরীর টেবিলে। হরিণী কাজল মাখা দুচোখে স্পষ্ট ছিল অপেক্ষার ছাপ। হয়তো সেদিন আমি ফিরে আসার একটু পরেই চোখের জল আর কাজলে একাকার হয়ে গিয়েছিল। আর ভাবতে পারছি না সে দিন আর কি হয়েছিল তোমার মনের সাথে। দরজার শব্দ পেয়ে স্তম্ভ ফিরে পাই। টুপুর জোহরের নামাজ পড়ে আসল পাসের খালি ঘরটাতে। এসে বসল চেয়ারের পাশে গন্ধরাজ ফুলের টপ টা সরিয়ে। টপে ২টি ফুল ফুটে আছে। একটি বাতাসের সাথে দুলছে অন্যটি গম্ভীর হয়ে আছে। ১ম মিল তা খুঁজে পেলাম। সেদিনের মত আজও কাপড়ে মুখ ঢাকা তফাৎ, সেদিন বেদনার রঙ আজ কাল রঙে। তার পর মুখে দিকে তাকিয়ে-


টুপুর: কিছু খেয়েছ? মুখটা অনেক শুকনা লাগছে তৌসিফ।

তৌসিফ: বাড়ি থেকে খেয়ে আসছি। জ্বর কয়েক দিন থেকে তাই শরির একটু দূর্বল।

টুপুর: তারপর আন্টি আংকেল কেমন আছে । বিয়ে করলে কবে?

তৌসিফ : বাবা অসুস্থ মা ভাল আছে। বিয়ে করছি ১০বছর হয়ে গেছে। ১টা মাত্র মেয়ে আছে। ক্লাস থ্রি পড়ে।

টুপুর: নাম কি রাখলে? সানজিদা তাবাসুম কনা নাকি? এটা তো তুমি ঠিক করে রাখছিলে।

তৌসিফ: তোমার এখন ও মনে আছে নাম টা!! পুরোপুরি সেটা রাখিনি। কনা ডাক নাম টা ঠিক আছে।

টুপুর: সব মনে আছে। সেই তৌসিফ আহসান সাদী কে কিভাবে ভুলি। যে আমাকে..........., থাক সেকথা। আমি কোন দিন ভাবি নি তোমার সাথে দেখা হবে চিনলে কিভাবে আমাকে।

তৌসিফ: রিসেফশান এ সিরিয়াল দিতে গিয়ে। ৪৫আমার সিরিয়াল নং। ৪৪নং সিরিয়ালে যেই ফোন নম্বর টা দেখি সেটা তোমার। সাথে সাথে নামটাটা দেখি মিলে গেছে। সিম এখন ও চেঞ্চ কর নি বলে দেখা হল।

টুপুর: হ্যাঁ সিমটাই তো আমার জীবন কে উলটপালট করে দিয়েছে। সেটা ছাড়বো কিকরে। তাই ধরে রাখছি। আচ্ছা সেদিন তুমি ফোন করে বলছিলে ১০মিনিটে দুলাল লাইব্রেরীতে আসবে। পরে ফোন করে এসব বলছিলে কেন?

তৌসিফ: থাক সে কথা। যা চলে গেছে সেটা বলে কি হবে। এ পৃথিবী, প্রকৃতি চায় নি সেদিন। তাছাড়া বোরকাতে তোমাকে খুব সুন্দর মানিয়েছে। আর আমার অপরাধ মনে করিয়ে লজ্জা দিও না। শিকার করছি আমি অপরাধী।

টুপুর: হ্যাঁ। প্রথম প্রথম তো মনে হতো আমার পৃথিবীর সব থেকে বড় অপরাধী তুমি। অনেক ঘৃণা ও করতাম। এখন তেমন হয় না। অনেক নরমাল হয়ে গেছে মন। ১৭বছর কম সময় না। বলতে না চাইলে থাক সেকথা। দেখ গন্ধরাজ ফুল টা দেখে মনে পড়ে যাচ্ছে তুমি প্রথম দেখায় আমাকে গন্ধরাজ দিবে বলছিলে।

কাউন্টার থেকে আওয়াজ আসছে নম্বর ৪৪, বলতেই টুপুর বস বলে উঠে চলে গেল ডাক্তারের চেম্বারে। পিছন থেকে দেখতেছি তার হাঁটা। মনে পড়ে গেল কলেজ শেষে প্রায় তাকে দেখতে যেতাম বন্ধুকে নিয়ে। স্কুল ছুটি হলে পিছু পিছু হাঁটতাম। একটু দেখতে তাকে। তখন ও সে জানতো না আমি তার ভালবাসার নাদেখা তৌসিফ। মনে পড়ে গেল তার জুতার ফিতা ছিঁড়ে গিয়েছিল বলে নিজের জুতা হাতে নিয়ে হাঁটার কথা। ভাবতে ভাবতে আমি ফিরে যাচ্ছি আমার অতীতে। নিষ্ঠুর কিছু নিয়ম প্রথা কে মনে মনে থুঃ থুঃ দিচ্ছিলাম। টুপুর বের হল এবার আমার সিরিয়াল। টুপুর চেয়ারে বসিল।


টুপুর: আমি অপেক্ষা করছি এখানে তুমি ভিতর থেকে এসো। তাড়াতাড়ি যাও ডাক্তার লাঞ্চ করতে যাবে।


ব্যাগটা রাখ বলে ডাক্তারের চেম্বারে ডুকলাম। ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে চেম্বার থেকে বের হলাম। দেখি টুপুরের চোখে জল। অন্য ভাবে তাকিয়ে আছে। কিছু জিজ্ঞাস না করতে হাত ধরে বাইরে নিয়ে আসল। আর বলল "তোমার নাম কি"? তখন আর বুঝতে বাকি রইল না ব্যাগে পুরনো পরামর্শ পত্রে আমার নাম দেখে নিয়েছে। নীরস্র রথের চাকাহারা ভালবাসার অভিমুন্য হয়ে সত্যি টা বলে দিলাম "নির্মল চক্রবর্তী"। এরপর প্রথম তার চোখে ১টি মিনিট আমার জন্য ঘৃণা দেখিলাম।

টুপুর: তাহলে কেন আমাকে মিথ্যে বলছিলে সেই ৪টি বছর? একবার বলে দেখতে আমি তো রাজি ছিলাম তোমার হাত ধরে আমার পৃথিবী ছাড়েতে।

নির্মল: তোমার ধর্ম ও মেনে নিতো না। না আমি আমার পৃথিবী ছাড়তে পারতাম, না তোমাকে হারাতে পারতাম। আর তুমিও পরাজিত নয় আমি পরাজিত।

টুপুর: তুমি খুব পার কাঁদাতে। বেশিক্ষণ ছিলাম না। সাথে সাথে চলে আসি। আজ তোমার সাথে দেখা না হলে কোন দিন তোমাকে দেখতাম না। হয়তো মৃত্যুর আগেও ঘৃণা করতাম একটি ভুল ধারনা নিয়ে।

নির্মল: হাসি আসছে এই জন্য ভাল হল সেদিন যাই নি। তোমার মত আমার স্ত্রী এত স্বর্ণ চোখেও দেখে নি। কাল তুমি ছেলের সাথে চিরদিনের জন্য অস্ট্রিয়া যাচ্ছ আমার হাত ধরে কি পেতে কি পেতে?

টুপুর: একদম আগের মত রয়ে গেছ। খুব কষ্ট নিয়ে হাসতে পার। এবার যেতে হবে আমাকে। ভাল থেক। নিজের খেয়াল রেখ।

নির্মল: তুমিও ভাল থেক। আর একটা কথা আমাকে ক্ষমা করো না। তাহলে ভুলে যাবে।

টুপুর: আজও কি গন্ধরাজ ব্যাগে রেখে দিবে? তুমি না বলছিলে প্রথম দেখায় গন্ধরাজ দিবে। আজ তো প্রথম আর শেষ দেখা।


বুঝলাম আমি ব্যাগটা রাখতে দিয়ে ১৭বছর লুকিয়ে রাখা সত্য প্রকাশ করে দিয়েছি। কে জানতো ২টি গন্ধরাজ থেকে চুরি করা ১টা গন্ধরাজ হবে আমার প্রথম ও শেষ ভালবাসার পুষ্পাঞ্জলি।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.