| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
শ্রাবণধারা
" আমাদের মতো প্রতিভাহীন লোক ঘরে বসিয়া নানারূপ কল্পনা করে, অবশেষে কার্যক্ষেত্রে নামিয়া ঘাড়ে লাঙল বহিয়া পশ্চাৎ হইতে ল্যাজমলা খাইয়া নতশিরে সহিষ্ণুভাবে প্রাত্যহিক মাটি-ভাঙার কাজ করিয়া সন্ধ্যাবেলায় এক-পেট জাবনা খাইতে পাইলেই সন্তুষ্ট থাকে......."
"সীমার সজোরে হোসেনের গলায় খঞ্জর দাবাইয়া ধরিল। এবারেও কাটিল না। বারবার খঞ্জর-ঘর্ষণে হোসেন বড়ই কাতর হইলেন। পুনরায় সীমারকে বলিতে লাগিলেন, "…সীমার! মাতামহ জীবিতাবস্থায় অনেক সময় স্নেহ করিয়া আমার এই গলদেশে চুম্বন করিয়াছেন। সেই পবিত্র ওষ্ঠের চুম্বন-মাহাত্ম্যেই তীক্ষধার অস্ত্র ব্যর্থ হইয়া যাইতেছে। আমার মস্তক কাটিতে আমি তোমাকে বারণ করিতেছি না। আমার কণ্ঠের পশ্চাৎভাগে, যেখানে তীরের আঘাতে শোণিত প্রবাহিত হইতেছে, সেখানেই খঞ্জর বসাও, অবশ্যই দেহ হইতে মস্তক বিচ্ছিন্ন হইবে।"
-বিষাদ-সিন্ধু, মীর মোশাররফ হোসেন।
ইসরাইল-আমেরিকার আক্রমণের সময় খামেনি তাঁর নিজ অফিসকক্ষে বসে কাজ করছিলেন। হয়তো অবিচলিত মনে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। শত্রুর আক্রমণের মুখে তিনি কোথাও আত্মগোপন করেননি, কোনো গোপন কুঠুরি অথবা বাংকারে আশ্রয় নেননি, কোনো মিত্র দেশে পালিয়ে যাননি। ৮৬ বছর বয়সী এই ধর্মীয় নেতা তাঁর বিশ্বাস অনুসারে শহিদি-মৃত্যুকে বেছে নিয়েছেন।
শহিদি আত্মত্যাগের এই ধারণা শিয়া মতবাদের একটি মৌলিক নীতি, যা ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। কারবালার প্রান্তরে ইমাম হোসেনের শাহাদাত বরণ শিয়া ইতিহাসে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনার একটি। ইয়াজিদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে তাঁর যুদ্ধ শিয়া মতাদর্শে অন্যায় ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে একটি চিরন্তন প্রতীক। শিয়াদের কাছে এই আদর্শ জীবনের থেকেও বেশি মূল্যবান।
শিয়াদের বারো ইমামের অধিকাংশই বিষপ্রয়োগে বা যুদ্ধের মাধ্যমে মৃত্যুবরণ করেছেন। ধারাবাহিক এই আত্মোৎসর্গ তাদের সমাজে শক্তিশালী শহিদি সংস্কৃতি গড়ে তুলেছে। ফলে ধর্মীয় আচরণ ও রাজনৈতিক ভাষ্যে শহিদ হওয়া এক ধরনের মূল্যবোধে পরিণত হয়েছে। তাদের কাছে এমন মৃত্যুর অর্থ হেরে যাওয়া নয়, বরং এটি আধ্যাত্মিকভাবে জেগে ওঠা। মৃত্যুর বিনিময়ে সত্য প্রতিষ্ঠার এই নীতি যুগের পর যুগ ধরে শিয়াদের অত্যাচার ও নিপীড়নের মুখে দৃঢ় অবস্থান নিতে প্রেরণা জুগিয়েছে।
ইসরাইল-আমেরিকার অন্যায়ের বিরুদ্ধে খামেনির মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সেই প্রতিরোধী প্রতীক আবার জাগিয়ে তোলা হলো। শিয়াদের আত্মত্যাগের এই ধারণাকে জায়নবাদীরা মৃত্যুপূজা বা ডেথ-কাল্ট নামে প্রচার করে, এবং সকল মুসলিমের ওপর চাপিয়ে দেয়।
অন্যদিকে, শহিদি মৃত্যুর এই তাৎপর্যের একটি ভয়ংকর দিকও আছে। সেটি হলো এই মতাদর্শ আনুসারে মানুষের জীবনকে তুচ্ছ ও মূল্যহীন করে দেখার গভীর মনস্তত্ত্ব। সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই - এই মানবিক নীতিবোধ তাদের রাজনৈতিক দর্শনে নেই। সেখানে মানুষের জীবন একটি উপকরণ মাত্র, যা রাষ্ট্র, ধর্ম বা রাজনীতির জন্য উৎসর্গযোগ্য হতে বাধা নেই।
যখন কোনো শাসক নিজের স্বেচ্ছামৃত্যুকেও রাজনৈতিক অস্ত্র বানায়, তখন অন্য মানুষের জীবনের মূল্য তার কাছে শূন্য হয়ে যায়। নিজেকে শহিদ হিসেবে কল্পনা করা এই শাসককে এমন এক উচ্চাসনে বসায়, যেখান থেকে সাধারণ মানুষের রক্ত, কান্না ও মৃত্যুর কোনো তাৎপর্য থাকে না। এ অবস্থায় শাসকের কাছে মানুষ হত্যা আর অপরাধ বলে গণ্য হয় না।
এই জায়গায় এসে, আমার কাছে ইরানের ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে বঙ্কিমচন্দ্রের কপালকুণ্ডলা উপন্যাসের কাপালিক চরিত্রের মিল চোখে পড়ে। কাপালিক যখন ঘোষণা করে যে নবকুমারকে নরবলি দেওয়া হবে, তখন নবকুমার পালাতে চাইলে কাপালিক তাকে সান্ত্বনা দেয় এই বলে যে, "মূর্খ! কি জন্য বল প্রকাশ কর? তোমার জন্ম আজি সার্থক হইল। ভৈরবীর পূজায় তোমার এই মাংসপিণ্ড অর্পিত হইবেক; ইহার অধিক তোমার তুল্য লোকের আর কি সৌভাগ্য হইতে পারে?"
এখানে নবকুমার মানুষ নয়। সে একটি উৎসর্গ এবং পবিত্র প্রয়োজন। ঠিক এই মনস্তত্ত্বেই রাষ্ট্র যখন ধর্ম ও রাজনীতিকে এক করে, তখন নাগরিক আর নাগরিক থাকে না, সে হয়ে ওঠে বলি দেওয়ার উপাদান। মাহসা আমিনির মতো ২৩ বছরের নারীকে মাথার কাপড় না পড়ার অজুহাতে হত্যা করতে তখন শাসকের প্রাণ কাঁপে না। এই রাষ্ট্রে মানুষের জীবন রক্ষা নৈতিক কর্তব্য নয়, বরং ক্ষমতার প্রয়োজনে জীবন নেওয়াই কর্তব্য। ধর্মের নামে রাজনৈতিক মতবাদ রক্ষা করতে তারা অনায়াসেই নিজ দেশের হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করতে পারে।
কিন্তু আমেরিকা বা ইসরাইলের সামরিক আক্রমণ ইরানিদের মুক্তি দেবে না, বরং তা কট্টরপন্থীদের আরও শক্তিশালী করবে। একজন খামেনির মৃত্যু একজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শাসকের মৃত্যু, কিন্তু সেটি ইরানের মোল্লাতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার অবসান নয়। এই সংঘাতে উদারপন্থীদের বিজয়ের কোনো সম্ভাবনাই নেই।
এটি পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ এবং ইরানের ভেতরে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ ডেকে আনতে পারে। এর সঙ্গে যুক্ত হবে মধ্যপ্রাচ্য লাখো মানুষের জীবিকার অনিশ্চয়তা। আমাদের মতো দেশগুলোর রেমিট্যান্স প্রবাহে ধস এবং তেলের উচ্চমূল্যের বোঝা বহন করতে না পারার বাস্তবতা, যা সম্মিলিতভাবে একটি বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
০২ রা মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:২৫
শ্রাবণধারা বলেছেন: তাঁর মৃত্যুতে এক ধরনের বীরত্ব অবশ্যই আছে, তবে এর মধ্যে প্রশংসনীয় কিছু আমি অন্তত খুঁজে পাই না। জাতির শীর উঁচু রাখার চেষ্টা তাঁর ছিল বটে, কিন্তু আমার দৃষ্টিতে তিনি একজন নিষ্ঠুর স্বৈরশাসক, যিনি ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে বহু মানুষকে হত্যা করেছেন।
২|
০২ রা মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৮
আমি নই বলেছেন: সঠিক পর্যবেক্ষন। তবে ইরানিরা বাহিরের হস্তক্ষেপ বিশেষ করে ইসরাইলের হস্তক্ষেপ কখনই মেনে নেবেনা, খোমেনির প্রতি তাদের ক্ষোভ অভ্যন্তরীণ ব্যাপার, ইরানিরা কখনই আমেরিকা-ইসরাইলকে বলে নাই খোমেনিকে হত্যা করে তাদের মুক্ত করতে। সুতরাং আমার মনে হয় এখন বেশিরভাগ ইরানিয়ানরাই একত্রিত হবে এবং সেনাদের সমর্থন দেবে। যুদ্ধ দির্ঘায়িত হবে।
আর ইসরাইলের যা প্রয়োজন ছিল তা পেয়ে গেছে। আমার মনে হয় না খোমেনি তাদের মেইন টার্গেট ছিল, তাদের মুল টার্গেট ছিল আমেরিকাকে যুদ্ধে টেনে আনা, যেই যুদ্ধে আমেরিকার ক্ষতি ছারা বিন্দুমাত্র লাভ নেই। এখন আমেরিকা তাদের হয়ে যুদ্ধ করবে আর এই যুদ্ধের আড়ালে পশ্চিম তীরে গনহত্যার পরিমান বাড়ানো সাথে লেবানন, সিরিয়ায় যতটা সম্ভব সিমানা বাড়ানো। যেটা অলরেডি শুরুও করেছে, গাজা আবার ব্লক করেছে, পশ্চিম তীরে ব্যাপক ধরপাকর আর বাড়ী ঘড় ধংশ করতেছে।
০২ রা মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৩৫
শ্রাবণধারা বলেছেন: আপনার পর্যবেক্ষণ নিখুঁত এবং বক্তব্য সম্পূর্ণ সঠিক। ইসরাইল আমেরিকাকে দিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সুযোগ নিয়ে পশ্চিম তীরে গণহত্যা বাড়িয়েছে, এবং তাদের লক্ষ্য এখন পশ্চিম তীর, লেবানন ও সিরিয়ার ভুমি দখল পর্যন্ত।
ইরানের সঙ্গে উপসাগরীয় অন্য দেশগুলোর যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনাও খুব বেশি, এবং এটা ইসরাইলের আরেকটি লক্ষ্য।
৩|
০২ রা মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:৫২
আমি নই বলেছেন: আরো একটা বিষয় আমি লক্ষ করলাম, আরব দেশ যে গুলোতে আমেরিকার বেস আছে আর ইরান হামলা করেছে, আমেরিকা একটা দেশকেও বাচানোর চেষ্টা করে নাই। আমেরিকার পুরো আগ্রহই ইসরাইলকে নিয়ে যে ইসরাইল কিনা আমেরিকাকে বেস করতে দেয় নাই। আমার মনে এটা আরবদের মাঝে চিন্তা ঢুকিয়ে দেবে।
০২ রা মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৪৪
শ্রাবণধারা বলেছেন: ক’দিন আগেই তো কাতারের রাজধানী দোহায় যুদ্ধবিরতির আলোচনা চলার সময় ইসরাইল বোমা হামলা করেছে। তখনও আমেরিকা তা থামায়নি; বরং ভান করেছে যেন তাদের অনুমতি ছাড়াই ইসরাইল বোমা মেরেছে।
আমেরিকা তাদেরকে বিপদের মধ্যে ঠেলে দেবে, এই ধারণা আরবদের মধ্যে আগে থেকেই আছে, কিন্তু তাদের কিছু করার মতো ক্ষমতা আছে বলে মনে হয় না। মধ্যপ্রাচ্যে কাজের অভিজ্ঞতা থেকে আমি ধারণা করতে পারি যে উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য এটা একটি অত্যন্ত জটিল পরিস্থিতি।
৪|
০২ রা মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৫:২৪
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আপনি জিহাদি মানসিকতার হোলো এবং আনহোলি দিক তুলে ধরেছেন লেখায় । পাকিসতানে আমেরিকান কনসুলেটরের সামনে জিহাদি পুলিশ এবং জিহাদি আম জনতার মাঝে সংঘাতে মারা গিয়েছেন নয় জন । এই নয় জনের কি মরার কথা ছিলো ? কথা ছিলো তারা প্রতিবাদ জানাবে ইরানের উপর হামলার । আমি জিহাদি চেতনাকে ভালো চোখে দেখি না । আমার নিকট এখন ইসরায়েল কে সেকু মুখোশধারি জিহাদি দেশ মনে হয় ।
০২ রা মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৫৯
শ্রাবণধারা বলেছেন: জিহাদ শব্দটার অর্থ এখন একেবারে উল্টে গিয়ে খুবই নেতিবাচক একটা শব্দ হয়ে গেছে। কিন্তু আসলে তো সেটা সঠিক নয়। এটার ঐতিহাসিক মানে বীরত্ব এবং ন্যায়ের পথে যুদ্ধ - যেটার বর্ননা বিষাদ-সিন্ধুর মধ্যে আছে। ইমাম হাসান এবং হোসেন কিন্তু আপনার ভাষায় যেটাকে জিহাদি বলেছেন তা নন।
জিহাদের মত ধারনাকে পলিটিক্যালি খুবই খারাপ ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। এটার একটা তুলনা হতে পারে ভারতের হিন্দাটভা বা হিন্দুত্ব রাজনীতি কিভাবে বিকশিত হচ্ছে সেটা খেয়াল করা। যোগ, ধ্যান, তন্ত্র-মন্ত্র সবই এখন রাজনীতিকরণ করা হচ্ছে।
ইসরাইল সেকুলার দেশ নয়, এটা জঙ্গি, বর্নবাদী এবং উগ্র বানরদের দেশ, যারা প্রাগতিহাসিক চিন্তা লালন করে।
৫|
০২ রা মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬
ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:
আপনার বক্তব্য ১০০ ভাগ সঠিক। আমি অনেক অনেক যুদ্ধ দেখেছি, আমার মনে হয় ইরান এখন ইরাক ও লিবিয়ার পথে প্রবেশ করেছে। ইরানের তৈল ইরানের জন্য আশীর্বাদ না হয়ে অভিশাপে রুপান্তর হয়েছে, মনে হয়। - যদি এমনটি না হয় তাহলে খুবই ভালো হতো! কিন্তু কেনো জানি আমার মনে হচ্ছে ইরানের দিন শেষ।
আর হারামজাদা দেশ আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার তুরস্ক মনে করছে ইসরায়েল তাদের ছেড়ে দিবে! কোনো ভাবেই সম্ভব না। সাউদি আরবকেও ধ্বংস করে দিবে ইসরায়েল তখন আবাবিল পাখি আর আসবে না।
পৃথিবীতে যতোগুলো মুসলিম দেশে যুদ্ধ হয়েছে তার জন্য বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের জনগণ ৫০% দায়ী।
০২ রা মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:০৬
শ্রাবণধারা বলেছেন: ধন্যবাদ ঠাকুরমাহমুদ ভাই। আপনার পর্যবেক্ষণ খুবই গুরুত্বপূর্ন এবং সঠিক। ইরানকে সিরিয়া, ইরাক, লিবিয়ায় পরিণত করাটাই শয়তানদের লক্ষ্য।
আমার অভিজ্ঞতায় কাতার বা কুয়েতের চেয়ে বহুগুন পাজি দেশ হলো আরব আমিরাত আর বাহরাইন। আন্চলিক যুদ্ধে ইসরাইল আমেরিকা এই শয়তান গুলোকে ব্যবহার করবে।
মুসলিম দেশে যুদ্ধের জন্য বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের জনগণ কিভাবে দায়ী, এটা আমি নিশ্চিত নই। আপনি ব্যাখ্যা করলে হয়ত বুঝতে পারবো।
৬|
০৩ রা মার্চ, ২০২৬ রাত ২:০৯
জ্যাক স্মিথ বলেছেন: ইরান এখন পর্যন্ত ভালো ফাইট করে যাচ্ছে, ইরান যদি আগামী ৭ দিন এভাবে মিসাইল ছুড়ে যেতে পারে তাহলে আমি অবাক হবো।
০৩ রা মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:১৮
শ্রাবণধারা বলেছেন: আপনি মনে হচ্ছে খুব আনন্দে আছেন, ভাই।
ইসরাইল যে বোমা ফেলে দেড়শতাধিক মেয়ে-শিশুকে হত্যা করেছে, ইরান যদি পাশ্চাত্যের কোনো দেশে এমনটা করত, তাহলে এতক্ষণে অন্তত দুইটা পারমাণবিক বোমা ইরানের ওপর পড়ত। আমার এসব কথা আপনার মাথায় বা হৃদয়ে কোনো আন্দোলন তুলবে এমনটা মনে করি না। অতএব, এ প্রসঙ্গে আপনার সাথে আর কথা বাড়াতে চাই না।
৭|
০৩ রা মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:৩২
মেঠোপথ২৩ বলেছেন: আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যু ও শিয়া মতবাদে শহিদি আত্মত্যাগ আসলে এক বিষয় নয়। ইরান নিয়ে বিশ্বব্যপী মুসলিম সম্প্রদায়ের ভাবনা ও ইরানিদের ভাবনা সম্পুর্ন বীপরিত। ইরানিদের কাছে খোমেনি কোন হিরো নয় , এটা যেমন সত্য ঠিক তেমনি ইজরাইল ও আমেরিকার আক্রমন কোন অবস্থাতেই মেনে নেয়ার মত বিষয় নয়। দীর্ঘকাল ধরে ক্ষমতা জোড়পুর্বক ধরে রাখা খোমেনির মৃত্যূর বিষয়টা বেশিরভাগ ইরানিদের কাছেই শহীদি মৃত্যূ নয়। কিন্তু তাদের স্বৈরশাষক তারা উৎখাত করবে। খোমেনি উৎখাতের নামে মেয়েদের স্কুলে আক্রমন করে ১০০র অধিক মেয়ে শিশুকে মেরে ফেলা কোনভাবেই কোণ মানুষের কাছে গ্রহনযোগ্য হতে পারে না। ইজরাইল ও আমেরিকাকে ধর্ম বর্ন নির্বিশেষে প্রতিটি ইরানি ঘৃনা করে খোমেনির মৃত্যূর জন্য নয় বরং নিরাপরাধ ইরানিদের জীবন কেড়ে নেয়া ও তাদের দেশকে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করে দেয়ার জন্য ।
০৩ রা মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:১৩
শ্রাবণধারা বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ মেঠোপথ২৩, আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য।
ইরানিদের ভাবনা যে সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং খামেনির মৃত্যুকে ঘিরে পাশ্চাত্যে বসবাসরত অনেক ইরানি যে ইসরাইলের পতাকা নিয়ে আনন্দমিছিল করছে - এ ব্যাপারে সম্যক অবগত আছি। তাদের ঘরের আগুন নিভেছে বলে, স্বৈরশাসকের মৃত্যুর ঘটনায় ইরানিদের খুশি হওয়ার কারণ আছে। ঘরে যখন আগুন জ্বলে, তখন বাইরের আগুনের চেয়ে ঘরের আগুন বড় মনে হয়। কিন্তু বাইরের আগুন একসময় আবার গৃহদাহের কারণ হয়- যেটা আগে বোঝা যায় না।
এই লেখা আমি ইরানিদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে লিখিনি, নিজের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে লিখেছি। ইরানিদের কাছে খামেনির মৃত্যু শহিদি মৃত্যু না হোক, খামেনির নিজের বিশ্বাসে এটি শহিদি মৃত্যু, সেটাই আমি বলেছি।
ইসরাইল ও আমেরিকার চেয়ে বড় শয়তান খোদ শয়তানও হতে পারবেনা। এই শয়তান মধ্যপ্রাচ্যে যে আগুন জ্বালিয়ে দিল, তার পরিণতি দেখার অপেক্ষায় আছি।
৮|
০৩ রা মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪
রাজীব নুর বলেছেন: আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যু হয়ে ভালো হয়েছে।
ইরানের লোকজন বেঁচে গেলো। তার মৃত্যুতে খুশি হওয়ার কথা। যারা খুশি হতে পারছে না, তারা জঙ্গী মানসিকতার।
০৩ রা মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:৪১
শ্রাবণধারা বলেছেন: হ্যাঁ হ্যাঁ
বিষয়টা এত সরল নয়।
৯|
০৩ রা মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:৫৮
রাজীব নুর বলেছেন: লেখক বলেছেন: হ্যাঁ হ্যাঁ
বিষয়টা এত সরল নয়।
অপেক্ষা করুন আর দেখুন। আরো অনেক কিছু ঘটবে।
০৩ রা মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:৩৬
শ্রাবণধারা বলেছেন: হ্যাঁ হ্যা, ঠিকাছে!
১০|
০৩ রা মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:৫১
জ্যাক স্মিথ বলেছেন:
বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের ছবকদাতা এবং মানবতার ধারক এবং বাহক আমেরিকার মুখোশ ইরানে উম্মোচিত হচ্ছে দেখে আমি খুশি। তাছাড়া আপনি হয়তো জানেননা, আমি সেই ২০২৩ সাল থেকে ইরান বিষয়ে পোস্ট করে আসছি এবং খামোনি সরকারের পতন চেয়ে আসছি সুতরাং খোমোনি সরকারের পতন হলে এই ব্লগে আমার চেয়ে বেশি খুশি অন্য কারো হওয়ার কথা নয়।
০৩ রা মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৫৮
শ্রাবণধারা বলেছেন: প্রথম কথা হলো, খামেনি সরকারের পতন হয়নি, একজন খামেনির মৃত্যু হয়েছে মাত্র। এরকম অন্তত ৪০ জন খামেনি ইরানের ব্যাক পকেটে আছে। ইরানের নেটওয়ার্ক এবং ডিপ-স্টেট সম্পর্কে আপনার কোন রকম ধারনা নেই।
ইরানের মোল্লাতন্ত্র একটা বিভীষিকা এবং এটার পতন একদিন না একদিন ইরানীরা নিজেই করবে। এখন ইসরাইল আমেরিকা ঢুকে যাওয়ায় ইরানের মোল্লাতন্ত্র আরও শক্তিশালী হলো এবং তার সাথে আইএসএর মত জঙ্গি সংগঠন মোসাদের পৃষ্ঠপোষকতায় ঢুকে যাবার সম্ভাবনা বাড়লো। এই জঙ্গিরা ইসরাইলের সাথে মিলে প্রথমেই ইরানের প্রগতিশীল মানুষগুলোকে ধরে ধরে হত্যা করবে।
১১|
০৩ রা মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২৪
ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:
আমরা সম্ভবত সভ্যতার মাঝে চুরান্ত অসভ্য সময়ে প্রবেশ করেছি। আপনি সকল নিউজ মিডিয়াতে তাকিয়ে দেখুন সবাই যুদ্ধ দেখছে। কেউ দেখতে পাচ্ছে না কতো বড় অপরাধ হয়েছে। আমেরিকা কি পরিমান মানুষ হত্যা করছে। আমেরিকার কি এই রাইট আছে কিনা? আমেরিকা কেনো ইরান আক্রমণ করবে? এর বিচার কে করবে?
০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:৪৬
শ্রাবণধারা বলেছেন: এটা একটা দুঃখজনক বাস্তবতা। মানুষ যেভাবে রিক্যাক্ট করতে চায়, মিডিয়া সেভাবেই খবর প্রকাশ করে। কেননা খবরটা একটা পণ্য এটা বিক্রি করতে হবে।
এই ব্লগেও কোন ধরনের পোস্টে হিট বেশি হয় সেটা দিয়েও এই বিষয়টা যাচাই করা যায়।
১২|
০৩ রা মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২৬
জ্যাক স্মিথ বলেছেন: ইরানের নেটওয়ার্ক এবং ডিপ-স্টেট সম্পর্কে আপনার কোন রকম ধারনা নেই। - একটা দেশের অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সম্পর্কে আমার খুব বেশী ধারণা থাকার কথা নয়। তবে একসময় আল-কায়েদারও অনেক বড় নেটওয়ার্ক ছিলো বলে শুনতাম, আমেরিকার প্রাণকেন্দ্র টুইন টাওয়ারে হামলার জন্য যাদের দায়ী করা হয়। খুব সম্ভবত ইরানের ডিপ-স্টেটের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সক্ষমতা আল-কায়েদার থেকেও বেশী তারা হয়তো হোয়াইট-হাউস অথবা নেতানিয়াহুর সুরক্ষীত বাংকারেও হামলা চালাতে সক্ষম।
তবে তারা আসলেই কতটা সক্ষম তা প্রমাণ হয়ে যাবে সাপ্তহ দুয়েকের মধ্যেই- তারা যদি বর্তমানের মতোই প্রবল প্রতিরোধ ধরে রাখতে পারে আন্তত আগামী দুই সাপ্তাহ এবং আমেরিকান ঘাঁটিগুলোর ক্ষয়ক্ষতি বাড়াতে পারে তাহলে নিঃসন্দেহে তারা বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হবে।
০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ ভোর ৪:০৬
শ্রাবণধারা বলেছেন: আল-কায়েদা নেটওয়ার্কের সাথে ইরানের নেটওয়ার্কের মিল থাকতে পারে, তবে আমার মতে বেশি মিল আছে মোসাদ বা সিআইএর।
আপনি বর্তমানে যে সিআইএর প্রধান তাকে নিয়ে অনুসন্ধান করে দেখতে পারেন। এর নাম জন র্যাটক্লিফ (John Ratcliffe)। এই লোককে ইসরাইলের গ্রুমিং করা। ডালাসের সাধারণ একজন উকিল থেকে তিনি জায়নবাদীদের ফাণ্ডিংয়ে প্রথমে বিচার বিভাগে তারপর রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে রাজনীতিতে নেমে কংগ্রেস থেকে এখন সিআইএর প্রধান।
১৩|
০৩ রা মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:৪৫
জ্যাক স্মিথ বলেছেন: বাই দ্যা ওয়ে- খামেনির মৃত্যুতে শুধু আমিই যে একা খুশি হয়েছি তা কিন্তু নয়, তার মৃত্যুতে হাজার হাজার ইরানী উল্লাস করছে, আনন্দ মিছিল করছে, মিষ্টি বিতরন করছে। Iranians from across the world অপরদিকে আরেকটি গোষ্ঠী শোক প্রকাশ করছে। কোন বিষয়ে কেউ উল্লাস করবে কেউ হয়তো শোক প্রকাশ করবে এভাবেই যে যার মত প্রকাশ করবে এটাই গণতন্ত্রের শিক্ষা।
আর আমেরিকা ইরানের অভ্যন্তরীন বিষয়ে হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এবং বোমিং এর মাধ্যেম হাজার হাজার মানুষ হত্যা করে গণতন্ত্রের চর্চা করছে।
গণতন্ত্রকে কেউ কেউ ধর্মের মতোই দেখে কি না, তাই বললাম আরকি। ![]()
০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ ভোর ৪:১২
শ্রাবণধারা বলেছেন: খামেনির মৃত্যুতে আপনি অনেক ইরানীর মত উল্লাস করতেই পারেন। এটা আপনার বিষয়।
প্রসঙ্গ সেটি নয়, আমি আপনাকে শুধু মনে করিয়ে দিয়েছি যে, ইরানে মেয়েদের স্কুলে বোমা হামলা করে যে ১৬৫ জন শিশুহত্যা হলো, এটা ইরান করলে হিরোশিমা ও নাগাসাকির মত কমপক্ষে দুটি পারমানবিক বোমা ইরানের উপর পড়তো।
১৪|
০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ ভোর ৫:২২
জিকোব্লগ বলেছেন:
ইরানে মেয়েদের স্কুলে বোমা হামলা করে যে ১৬৫ জন শিশুহত্যা হলো, এই
প্রসঙ্গ দেখেন জ্যাক স্মিথ আইডির পিছনে যে নরপশু আছে,উহা তা এড়িয়ে
যাচ্ছে। জ্যাক স্মিথ আইডির পিছনের লোকটা সত্যিই একটি নরপশু।
০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৬
শ্রাবণধারা বলেছেন: হ্যাঁ দেখেছি। উনি প্রথমে বলার চেষ্টা করছিলেন এই বোমা ইরানই মেরেছে এবং ইসরাইলের ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছে!
![]()
১৫|
০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:৪৬
রাজীব নুর বলেছেন: পোষ্টে আবার এলাম। কে কি মন্তব্য করেছেন সেটা জানতে।
১৬|
০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:৩২
জ্যাক স্মিথ বলেছেন: ইরানে মেয়েদের স্কুলে বোমা হামলা করে যে ১৬৫ জন শিশুহত্যা হলো, এটা ইরান করলে হিরোশিমা ও নাগাসাকির মত কমপক্ষে দুটি পারমানবিক বোমা ইরানের উপর পড়তো। - প্রথমেই বলে রাখি যুদ্ধে বেসামরিক লোকজন হতাহত কারো কাম্য নয়, প্রতিটি মৃত্যুই তার পরিবারের জন্য অত্যন্ত কষ্টের এবং বেদনাদায়ক। দুঃখজনক হলেও এটা সত্য যে প্রতিটি যুদ্ধে অনাকাংখিতভাবে কিছু বেসামরিক লোকজন হতাহত হয়। দু'পক্ষের যখন তুমুল যদ্ধ শুরু হয় তখন এটি (বেসামরিক লোক হতাত) এড়িয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব, তবে কেউ এটা ইচ্ছেকৃত করছে কি না তা খাতিয়ে দেখতেই তৈরী হয়েছে যুদ্ধা আইন বা যুদ্ধ আপরাধ আইন। আবার কেউ জনতাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে কি না বা প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিকভাবে দূর্বল করতে তারা নিজেরাই এ ধরণের অপরাধ করে প্রতিপক্ষের উপরে চাপিয়ে দিচ্ছে কি না ইত্যাদি হাজারো বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে যা দীর্ঘ তদন্ত প্রক্রিয়ার বিষয়।
ইরান যদি এইটা করতো তাহলে ওইটা হতো- এগুলো এক ধরণের কাল্পনিক প্রাশ্ন এর সঠিক কোন উত্তর দেয়া যায় না। তবে আমি এটা কখনোই মনে করি না যে মানাবতাবাদী ইরান বেসামরিক লোকজন হতাহতের ভয়ে তুমুল বেগে ইসরাইলে হামলা চালাচ্ছে না - ঠিক এই মূহুর্তে ফুল স্কেলে যুদ্ধ চলছে, ইরানে রীতিমত ধ্বংসযজ্ঞ চলছে (যা বিডি মিডিয়ায় সম্পুর্ণ অনুপস্থিত) যুদ্ধের এমন পরিস্থিতিতেও শুধুমাত্র বেসামরিক লোকজন রাক্ষার উদ্দ্যেশ্যে ইরান বিপুল বিক্রমে ইসরাইলে হামলা চালাচ্ছে না এমন ছেলেখেলা যুক্তি আমার পক্ষে মেনে নেয়া সম্ভব নয়। আপনার মত বাংলাদেশের অনেক সামরিক বিশেষ অজ্ঞ মনে করেন- ইরানের হাতে এমন কিছু অস্ত্র রয়েছে যা দিয়ে তারা ইচ্ছে করলেই ইসরাইলকে একদম মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে পারে, ৭ দিনেই মধ্যপ্রাচ্যের সকল আমেরিকান ঘাঁটি গুড়িয়ে দিতে পারে, কিন্তু তারা এটা করছে না কারণ তাতে নাকি অনেক বেসামরিক লোকজন হাতহত হবে তাই মানবাতার খাতিরে ইরান এটা করছে না।
যুদ্ধের এমন পরিস্থিতেও ইরানের কি মানবতা.. আহা!!
প্রকৃত সত্য হচ্ছে- এখন পর্যন্ত ইরান ইসরাইলের প্রতি যতগুলো ক্ষেপাণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে বা এখনো করে যাচ্ছে সেগুলো যদি ইসরাইল প্রতিহত না করতে পারতো তাহলে এতদিনে ইসরাইলে কম করে হলেও কয়েক লাখ বেসামরিক লোকজন হতাহত হতো। ইসরাইল রীতিমত ধ্বংস্তুপে পরিণত হতো।
দেখেন আপনারা যা ভালো মনে করেন- আপনারা হচ্ছেন সামরিক বিশেষজ্ঞ আপনারা মনে করতেই পারেন মানবতাবাদী ইরান কম ধ্বংসাত্নক মিসাইল ইজারাইলের দিকে ছুড়ছে যাতে বেসামরিক লোকজন হতাহত না হয়।
পৃথিবীতে নিজেদের দূর্বলতা ঢাকতে মানবতা হচ্ছে অন্যতম এক ঢাল- আহা! মানবতা.... মানবতার একি অপব্যবহার!!
আমি আপনাকে হত্যা করার জন্য বছরের পর বছর ধরে হুমকি ধামকি দিয়ে আসলাম, আপনাকে হত্যার উদ্দ্যেশে মাঝে মাঝেই গুলি ছুড়ি কিন্তু তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হবার পর আমার মানবতা ঠিকরে বের হয় আমি হয়ে যাই তখন বিশাল মানবাতাবাদী এবং যুক্তি দেখাই "আমি ইচ্ছে করলেই আপনাকে হত্যা করতে পারি, কিন্তু করি না কারণ আপনার মৃত্যুতে আপনার পরিবার কষ্ট পাবে তাই"
আর এ জন্যই বলা হয়- মানবতা হচ্ছে দূর্বলতা ঢাকার শ্রেষ্ঠ হাতিয়ার।
০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:০১
শ্রাবণধারা বলেছেন: জ্যাক স্মিথ বলেছেন: আপনার মত বাংলাদেশের অনেক সামরিক বিশেষ অজ্ঞ মনে করেন- ইরানের হাতে এমন কিছু অস্ত্র রয়েছে যা দিয়ে তারা ইচ্ছে করলেই ইসরাইলকে একদম মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে পারে।
এ ধরনের কথা আমি কখনো বলিনি। আমার লেখা পড়ে আপনার যদি আমাকে "সামরিক বিশেষ অজ্ঞ" মনে হয়ে থাকে তাহলে বলতেই হবে আপনি একজন সাঙ্ঘাতিক পাঠক!
ইরানে যুদ্ধ বিষয়ে আপনার সাথে আমার মতভেদের জায়গাটা হলো, আপনি ইসরাইল-আমেরিকার যুদ্ধকে সমর্থন করছেন, কেননা আপনি মনে করেন মুসলমানদের বোমা মেরে নিশ্চিহ্ন করাটা খুব ভালো কাজ। এখানে যদি ৭-১২ বছরের কয়েক লক্ষ শিশুকেও হত্যা করা হয়, আপনি তবুও ইসরাইল-আমেরিকার পক্ষে থাকবেন।
আমি এই যুদ্ধের বিপক্ষে। সেটা ইরানীরা মুসলিম সেজন্য নয়, তারা মানুষ শুধু এজন্যই।
১৭|
০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫
জ্যাক স্মিথ বলেছেন: আমেরিকা ইরানে যা করছে তা প্রথাগত গণতন্ত্র এবং আন্তর্জাতিক আইনের সম্পুর্ণ পরিপন্থী তা কিন্তু আমি অস্বীকার করছি না, যা আমি এই পোস্টে উল্ল্যেখ করেছি। ইরানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দ্বারপ্রান্তে
আপনি এই যুদ্ধের বিপক্ষে কারণ ইরানে মানুষ মারা যাচ্ছে।
আমি এই যুদ্ধের পক্ষে কারণ আমি চাই ইরানের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো অস্ত্রমুক্ত হোউক।
ঠিক এই মুহুর্তে আমার অবস্থান আপনার চেয়ে রিস্কি জোনে আছে কারণ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্রমুক্ত করতে হলে অবশ্য'ই হতাহতের সংখ্যা বাড়বে। এখন ইরানের আক্রমনে যদি ইসরাইলে লক্ষ লক্ষ মানুষ হতাহত হয় তবুও আমি হতাহতের জন্য কান্নাকাটি করবো না বা ইরানকে দোষারোপ করবো না। এটা একটা যুদ্ধ- ইরানের অবশ্যই রাইট আছে প্রতিপক্ষকে দুমড়ে মুচড়ে দেয়ার, আর তারা সে চেষ্টাও করে যাচ্ছে। "ইরান এতগুলো মানুষ হত্যা করলো কেন, ইরান খুব খারাপ"- এই ধরণের বাতুলা কখনোই আমার মুখ থেকে বের হবে না, কারণ আমি জানি এটা একটা যুদ্ধ আর একটা যুদ্ধে কি হতে পারে তা আমি খুব ভালো করেই জানি, একটা যুদ্ধাবস্থাকে কখনোই স্বাভাবিক অবস্থার সাথে তুলনা করলে হবে না।
আমি জানি এখানে দু'পক্ষের যুদ্ধ চলছে পুরোদমে, এখানে শক্তিতে যারা এগিয়ে তারা জয়লাভ করবে, আর যারা দূর্বল তাদের পক্ষে হতাহতের সংখ্যা বেশী হবে।
এখন আমার প্রতি আপনার অভিাযোগ হচ্ছে- ইরানে এত মানুষ হতাহত হওয়ার পরেও কেন আমি এই যুদ্ধের পক্ষে- কারণ আমি মনে করি ইরানের গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্রমুক্ত করা গেলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ষ মেয়াদে শান্তি প্রতিষ্ঠীত হবে যদিও তাতে পশ্চিমা বিশ্ব লাভবান হবে এবং আরও মনে করি এই গোষ্ঠীগুলোকে যদি অস্ত্রমুক্ত না করা যায় তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে বছরে পর বছর ধরে হতাহতের সংখ্যা বাড়তেই থাকবে (এর বিপক্ষে আপনার যুক্তি থাকতে পারে)।
এখন কে সঠিক বা কে বেঠিক তার কিন্তু সঠিক কোন স্ট্যান্ডার্ড নেই বা এটা দীর্ঘ আলোচনার বিষয়।
তাছাড়া যুদ্ধের পক্ষে থাকাই যে খুব খারাপ তা কিন্তু ভাবা ভুল হবে কারন- আমাদের নবীজি তার জীবদ্দশায় শত শত যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়ে শ্বান্তি প্রতিষ্ঠা করে গিয়েছেন, যুদ্ধ ছাড়া ইসলামের শান্তি প্রতিষ্ঠা করা কখোনোই সম্ভব হতো না। তাই যুদ্ধের মাধ্যমেই শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব তা আমাদের নবীজি দেখিয়ে দিয়ে গিয়েছেন।
এখন নাবীজিকে যদি স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে ধরি তাহলে- শান্তি প্রতিষ্ঠায় আমিই নাবীজির রাস্তায় হাঁটছি এবং আপনিই বরং উল্টো পথে হাঁটছেন।
তাছাড়া, আমি মনে করি বিবিধ কারণে আমেরিকাকে সমর্থন করা আমার একটি গণতান্ত্রিক অধিকার, ঠিক আপনার যেমন অধিকার রয়েছে ইরানকে সমর্থন করার।
ধন্যবাদ।
০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:০১
শ্রাবণধারা বলেছেন: জ্যাক স্মিথ বলেছেন: এই যুদ্ধের পক্ষে- কারণ আমি মনে করি ইরানের গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্রমুক্ত করা গেলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ষ মেয়াদে শান্তি প্রতিষ্ঠীত।
হা হা
আপনি যে এত সহজ সরল, এটা বুঝি নি। ইসরাইল-আমেরিকা যে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ষ মেয়াদে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য এই যুদ্ধ করছে এটা আসলে আমি বুঝতেই পারি নি।
সিআইএ এখন কুর্দিদের অস্ত্র সাপ্লাই দিচ্ছে ইরানীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য। ট্রাম্প ঘোষনা দিয়েছে যে, কুর্দিরা যুদ্ধ করলে তাদেরকে নতুন দেশ দেওয়া হবে। হুম সবই আসলে হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তির জন্য!!! হা হা ![]()
১৮|
০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:১৬
জ্যাক স্মিথ বলেছেন: ইরান যে উক্ত স্কুলকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেনি, বা ইসরাইলের মিসাইল'ই যে উক্ত স্কুলে আঘাত হেনেছে, অথবা ইসরাইল ইচ্ছেকৃতেভাবে স্কুলে হামলা চালিয়েছে, অথবা স্কুলে হামলা চালিয়ে যুদ্ধ জয়ের ক্ষেত্রে ইসরাইলের অনেক সুবিধা পেয়েছে বা তারা অনেক সুনাম অর্জন করেছে বা তাদের অন্য কোন লাভ হয়েছে ( বরং উলোটাই হয়েছে ) ইত্যাদি...এর কোন কিছুই যথাযথ তদন্ত ব্যতিরেকে ঢালাওভাবে কোন এক পক্ষকে দোষারেপ করতে পারে না। এটা যুদ্ধক্ষেত্রে অনেক কারিকুলাম হয় যা আপনার না জানার কথা নয়।
০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:১৯
শ্রাবণধারা বলেছেন: জ্যাক স্মিথ বলেছেন: এখন নাবীজিকে যদি স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে ধরি তাহলে- শান্তি প্রতিষ্ঠায় আমিই নাবীজির রাস্তায় হাঁটছি এবং আপনিই বরং উল্টো পথে হাঁটছেন।
আপনি আগের মন্তব্যে অপ্রসঙ্গিক ভাবে নবীর প্রসংগ নিয়ে এসেছেন, কারন আপনি একজন উগ্র ইসলাম-বিদ্বেষী এবং মুসলিম-বিদ্বেষী। আপনার করা সব মন্তব্য এবং সাম্প্রতিক পোস্টগুলোর আসল অর্থ এই ঘৃণা।
আপনার অভিপ্রায় হলো মুসলিমদের পশুতে নামিয়ে এনে এদের নির্বিচারে হত্যা করাকে ন্যায্যতা দেয়া। কিন্তু এই ইচ্ছাকে আপনি কখনো রেজিম চেন্জ, কখনো শান্তি প্রতিষ্ঠা নাম দিয়ে ঢাকার চেষ্টা করছেন - ঠিক কট্টোরপন্থি ইসরাইলিদের মতই।
১৯|
০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:২১
আঁধারের যুবরাজ বলেছেন: জ্যাক স্মিথ সে বোধ হয় জানে না , তার প্রিয় ইসরাইল গাজাতে স্কুল ,হাসপাতাল গুড়িয়ে দিয়েছে এবং তা বছরের পর বছর নিয়মিত করেছে। ৩ বছরের শিশুকে গুলি করে মেরেছে। এমনকি রেড ক্রিসেন্টের অফিসে পর্যন্ত বম্ব ফেলেছে। ইরানের ঢাল বানানোর দরকার নাই ,ইরান বিশাল দেশ। ওই স্কুল এর পাশে আর্মির স্থাপনা রয়েছে। ইরানের প্রশ্নই আসে না নিজেদের শিশুদের উপরে বম্ব ফেলার।
এই লোক অন্য এক পোস্টে মন্তব্য করেছে যে ,পশ্চিমারা নাকি লিবিয়াতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে ! এই " জ্ঞানী বিশেষজ্ঞ " মিথ্যা বলছে ! লিবিয়া আজকে জাহান্নামে পরিণত হয়েছে। খলিফা হাফতার জাতিসংঘের মনোনীত সরকারের বিরুদ্ধে গিয়ে রীতিমতো গৃহ যুদ্ধ চালাচ্ছে। নানা গোত্রে বিভক্ত লিবিয়াতে কার্যত কোনো একক সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই। হাফতার বাহিনী লিবিয়ার অধিকাংশ তেল খনি গুলি নিয়ন্ত্রণ করে এবং তাকে সমর্থন করি পশ্চিমাদেরকে পানির দরে বিক্রি করে ,যা সাধারণ লিবিয়ার জনগণের কোনো উপকারেই আসে না। ইরাক কার্যত তিনভাগে বিভক্ত ,কুর্দিস্থানের উপরে বলতে গেলে কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই। আমেরিকা নিও করেছে তাদের আজ্ঞাবাহী কুর্দিদের থেকে রাষ্ট্রপতি দিতে হবে ! এটাই সেখানকার গণতন্ত্র। এপস্টেইন ফাইল দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে ট্রাম্পকে বদ্ধ করেছে নেতানিয়াহু এই যুদ্ধে অংশ নিতে।
০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২০
শ্রাবণধারা বলেছেন: আপনার এটা মনে আছে কি না, ইসরাইল যখন প্রথম হাসপাতালে বোমা ফেললো, তখন এটা নিয়ে মিডিয়ায় বেশ হই চই হলো। ইসরাইল তখন এটা ইসলামিক জিহাদের কাজ বলে প্রচার করলো। এর পরে তারা গাজার প্রায় সবগুলো হাসপাতালই বোমা মেরে ধ্বংস করেছে, কিন্তু তখন কিন্তু আর এগুলো নিয়ে খুব বেশি নিউজ হয়নি। এটাকে তারা নরমালাইজ করে ফেলেছে।
ইরানে বাচ্চাদের স্কুলে বোমা ফেলাটাও আমার মনে হয়, তারা ইরানে যে নির্বিচারে গণহত্যার প্লান করেছে সেটার একটা আভাস।
হ্যাঁ, ট্রাম্পের শিশুধর্ষণের ফাইল ইসরাইলের হাতে আছে যেটা দিয়ে তাকে ব্লাক মেইল করা হয়েছে। দুই সপ্তাহ আগে ট্রাম্পকে হত্যা করার জন্য তার ফ্লোরিডার বাসভবনে একজন নিরাপত্তা চৌকি ভেদ করে ঢুকে ছিল, যাকরে পরে নিরাপত্তা রক্ষীরা গুলি করে মারে। অর্থাৎ তার উপর লাইফ থ্রেটও আছে।
২০|
০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:১১
জ্যাক স্মিথ বলেছেন: আমি আমার যুক্তিগুলো দেখিয়েছি মাত্র যা ভুল হতে পারে যেমন- আমার ধারণা ইরানের সশস্ত্রগোষ্ঠীগুলো'কে নিরস্ত্র করা গেলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরে আসবে ( এটা সঠিক নাও হতে পারে) কিন্তু আপনি এর বিপক্ষে কোন যুক্তি উপস্থাপন করতে পারেননি।
আপনি আমার প্রায় সব আরগুমেন্টগুলোর'ই সঠিক উত্তর দিতে ব্যর্থ হয়েছেন - পশ্চিমারা কখনোই চায় না মধ্যপ্রাচ্যে শন্তি প্রতিষ্ঠিত হউক এটা প্রায় সবাই জানে কিন্তু আপনি এর পক্ষেও সঠিক কোান যুক্তি তুলে ধরতে পারেন নি।
আমার আরগুমেন্টগুলোর বিপক্ষে আপনার যা যুক্তি তা হচ্ছে- আপনি জানে না, আপনি বুঝেন না, আপনার ধারণা নেই, আপনার জ্ঞান নেই..ইত্যাদি... এর বাইরে আপনি আমার কোন যুক্তির সদুত্তর করতে পারেন নি। কোন কিছুরই সঠিক উত্তর না করতে পেরে শেষ পর্যন্ত তো আমাকে উগ্র ইসলাম বিদেষী'ই বানিয়ে দিলেন। তবে এটা সত্য যে আমার কমেন্টগুলো ইসলামের বিপক্ষে যায় কিন্তু তাই বলে আপমাকে উগ্র বলতে পারে না, কারণ আমি এই ব্লগে শুধু ইসলামের বিপক্ষে বলছি আর এর ফাঁকে অন্য ধর্ম প্রচার করছি বিষয়টা এমন নয়।
ধন্যবাদ।
০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:৩১
শ্রাবণধারা বলেছেন: হা হা
ঠিকই বলেছেন, আপনার যুক্তিগুলো এতই শক্তিশালী যে এর উত্তর দেবার মত ভাষাই আমার নেই।
![]()
©somewhere in net ltd.
১|
০২ রা মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩
মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: তাঁর মৃত্যু প্রশংসার। জাতির শীর উঁচু রাখায় তাঁর চেষ্টায় কমতি ছিল না।