নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

...............

শ্রাবণধারা

" আমাদের মতো প্রতিভাহীন লোক ঘরে বসিয়া নানারূপ কল্পনা করে, অবশেষে কার্যক্ষেত্রে নামিয়া ঘাড়ে লাঙল বহিয়া পশ্চাৎ হইতে ল্যাজমলা খাইয়া নতশিরে সহিষ্ণুভাবে প্রাত্যহিক মাটি-ভাঙার কাজ করিয়া সন্ধ্যাবেলায় এক-পেট জাবনা খাইতে পাইলেই সন্তুষ্ট থাকে......."

শ্রাবণধারা › বিস্তারিত পোস্টঃ

মিথ্যাবাদী কাউবয় "ট্রাম্প" এবং ইরান যুদ্ধের খবর

২৪ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:৫৯


দিনের শুরুটা হলো ট্রাম্পের মিথ্যা দিয়ে। তিনি লিখলেন: "ইরানে সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য বন্ধ রাখা হচ্ছে, যা আলোচনার সাফল্যের ওপর নির্ভর করবে।" দুপুর নাগাদ ইরান জানালো, ট্রাম্প মিথ্যা বলছে, এ ধরনের কোনো আলোচনা শুরুই হয়নি। আর সারাদিনে ইসরায়েল দক্ষিন লেবাননে বোমা হামলা করে মানুষ মারলো এবং খবরগুলো চেপে গেলো; আর রাতে ইরানের গ্যাসক্ষেত্র ও পাওয়ার-প্লান্টে হামলা করলো।

সারা বিশ্বের মানুষের সাথে প্রতারনা করে ট্রাম্প সকালে তার যোগাযোগ মাধ্যমে লিখলেন: "আমি আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে, গত দুই দিনে আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে, মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের বিরোধের বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এই আলোচনার ভিত্তিতে, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামো সহ সব ধরনের সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে, যেটা আলোচনার সাফল্যের ওপর নির্ভর করবে।"

দুপুর নাগাদ ইরান পরিষ্কারভাবে জানালো, এ ধরনের কোনো আলোচনা হচ্ছে না। বিশ্ববাসী ইরানের বক্তব্যকে ট্রাম্পের কথার চেয়ে বেশি বিশ্বাসযোগ্য মনে করে। সারা বিশ্ব জানে যে, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট একজন মিথ্যাবাদী কাউবয়। তবে এটা হতে পারে যে, ট্রাম্প ইরানের তেল ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলার হুমকি থেকে সরে আসতে চাচ্ছে। কারন, তিনি এগুলোকে ভবিষ্যতে নিজের মালিকানাধীন সম্পদ হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন! তাই ধ্বংস না করে এগুলো অক্ষত রাখা তার দরকার যাতে তিনি এগুলোর মুনাফা ভবিষ্যতে ভোগ করতে পারেন।

ইসরায়েল একা ইরানের সাথে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে না, কিন্তু তারা যুদ্ধ চালু রাখতে মরিয়া। যতক্ষণ না ইরান লিবিয়া বা ইরাকের মত ধ্বংস হয়ে যায়, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা এই যুদ্ধ চালিয়ে যাবার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। ট্রাম্পের এক্সিট প্লানের ইঙ্গিত পাওয়ার পর থেকে তারা ইরানে হামলা বাড়িয়েছে। আমেরিকাও এতে সমর্থন দিয়েছে। পাশাপশি, বৃহত্তর সংঘাত ধরে রাখতে তারা লেবাননে সামরিক তৎপরতা বাড়িয়েছে।

তুরস্ক, পাকিস্তান ও মিশর নাকি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করেছে। তারা এমন একটি ধারণা দিচ্ছে যে এতে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে, কিন্তু এর পক্ষে তেমন প্রমাণ নেই। বরং সম্ভাবনা হলো, আমেরিকার মতো তারাও বাজার স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে চাচ্ছে এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যা ধ্বংস করেছে, ইরান সেগুলো আবার গড়ে তুলতে পারবে। আমেরিকার জন্য স্থল আক্রমণের হুমকি বাস্তবসম্মত নয়। ইরানের বড় সেনাবাহিনী রয়েছে। এমন যুদ্ধ হলে দুই পক্ষেই বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটবে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ও রাশিয়া ও চীনের সাথে আঞ্চলিক মিত্রতা অটুট আছে। ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো তারা পুনর্গঠন করতে পারবে।

ট্রাম্প আবার ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তার দাবির দিকে ফিরছেন। পারমাণবিক ইস্যুটি ট্রাম্পের জন্য একটি সম্ভাব্য এক্সিট প্লান হতে পারে। ট্রাম্প এই পরিকল্পনার বিষয়ে আন্তরিক হয়ে থাকলে, ইরান যদি আগের মতো চুক্তি নাও করে, তবু হয়তো ইউরেনিয়ামের মজুদ নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এই যুদ্ধের সমাপ্তি অনেকটাই ইরানের হাতে। আমেরিকা হয়তো শক্তি প্রয়োগ করে হরমুজ প্রণালী খুলতে পারবে, কিন্তু এর দাম সারা পৃথিবীকে দিতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলো ইরানের ওপর যতই ক্ষুব্ধ হোক, তারা এখন এই যুদ্ধের সমাপ্তি চায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই যুদ্ধ হয় বড় বৈশ্বিক বিপর্যয়ে শেষ হবে, নয়তো ইরানের শর্তে শেষ হবে।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.