| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
শ্রাবণধারা
" আমাদের মতো প্রতিভাহীন লোক ঘরে বসিয়া নানারূপ কল্পনা করে, অবশেষে কার্যক্ষেত্রে নামিয়া ঘাড়ে লাঙল বহিয়া পশ্চাৎ হইতে ল্যাজমলা খাইয়া নতশিরে সহিষ্ণুভাবে প্রাত্যহিক মাটি-ভাঙার কাজ করিয়া সন্ধ্যাবেলায় এক-পেট জাবনা খাইতে পাইলেই সন্তুষ্ট থাকে......."

যদি শুনি আজ রাত আটটায় পারমাণবিক বোমা হামলা হবে আমাদের এই শহরে, যেমন ইরানে সভ্যতা মুছে ফেলা হবে বলে ঘোষণা দিলেন পৃথিবীর সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী মহামান্য ট্রাম্প, তাহলে আমি আমার সন্তানদের কাছে ডেকে নেব। ছেলেটি হয়তো তখনও তার খেলা নিয়ে মেতে আছে।
আমার ছেলের বয়স আট, তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। ফুটবল খেলতে সে খুব ভালোবাসে। এখানে শীতের সময়ে বছরের অর্ধেকটা সময় খোলা মাঠে খেলার আবহাওয়া থাকে না বলে সপ্তাহে একদিন তাকে ইনডোর মাঠে নিয়ে যাই। দিনটার জন্য সে সারা সপ্তাহ ধরে অপেক্ষা করে। বাকিটা সময় ঘরের ভেতরেই ধুপ ধাপ করে বলে লাথি মারে আর মায়ের বকা খায়। এখানে ঘরের দেয়ালগুলো ড্রাইওয়াল নামে একধরনের কাগজের বোর্ডে তৈরি হয়। বলে জোরে লাথি মারলে প্রচণ্ড শব্দ হয়, মনে হয় এই বুঝি ঘরের দেয়াল ভেঙে গেল।
তখন মেয়েটি হয়তো তার ঘরে পিয়ানো বাজাচ্ছে। আমার ১৪ বছর বয়সী মেয়ে বাজাতে খুব পছন্দ করে। তার শেলফে থরে থরে সাজানো পিয়ানোর বই, সুরগুলোর অধিকাংশ বিষণ্ণ, এটা মনে হয় আমার। সে ছবি আঁকতেও ভালোবাসে। কোনো একটা প্রাকৃতিক দৃশ্য বা স্থির চিত্র নয়, তার আঁকার প্রিয় বিষয় জাপানি বা অন্যদেশীয় পুতুল। তার আঁকাগুলো এত সূক্ষ্ম আর নিখুঁত যে, আমি বুঝতে পারি না সেগুলোর ভেতরে কী গল্প লুকানো আছে।
বাংলাদেশের মফস্বল শহর থেকে জীবন শুরু করে, সে তার বাবা-মায়ের সাথে পশ্চিমে এসেছিল। এভাবে পূবে থেকে পশ্চিমে যাত্রা শুরু করে আসতে আসতে হয়তো তার হৃদয় প্রাচ্যেরই কোন এক অচেনা শহরে এসে বিশ্রাম নিচ্ছে। যে শহর বসন্তে চেরি ফুলে ছেয়ে যায়, আর গ্রীষ্মের রাতে জোনাকির আলো জ্বলা দেখতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে মানুষ।
আমি তাদের দুজনকে কাছে বসাবো। পারমাণবিক বোমা শব্দটা আমার মেয়ে বুঝলেও আমার ছেলে বুঝবে না। এই শব্দটি আমি উচ্চারণ করতে চাই না। তার বদলে বলবো, আজ রাতে একটু অন্ধকার হতে পারে, তবে আমরা সবাই একসাথে থাকব। আমি জিজ্ঞাসা করবো তারা তাদের দাদি বা নানা-নানির সাথে কথা বলতে চায় কি না। বিদায় শব্দটাও আমি উচ্চারণ করবো না।
আমার ছেলে ম্যাকডোনাল্ডসের খাবার খেতে পছন্দ করে। তাকে জিজ্ঞাসা করবো আজ সে সেধরনের কিছু খেতে চায় কি না। মেয়ের কাছে জানতে চাইবো, আজ তার জন্য কোনো আইসক্রিম নিয়ে আসবো কি না।
বিকেল হওয়ার আগে ছেলেকে বলবো, তার প্রিয় রোনাল্ডোর সাত নম্বর হলুদ জার্সিটা সে যেন পরে নেয়, সাথে তার প্রিয় এয়ার জর্ডান জুতো জোড়া। আর বলবো, আজ তার সঙ্গে ঘরের ভেতরে আমিও ফুটবল খেলবো। আমি থাকবো গোলকিপারে, আর সে পেনাল্টি শট অনুশীলন করবে।
মেয়েকে বলবো পিয়ানোতে তার কোনো প্রিয় সুর বাজাতে, তবে সেটা যেন কোন বিষাদসংগীত না হয়। আমার মেয়ে হয়তো চুপ করে বসে থাকবে। তারপর ধীরে ধীরে পিয়ানোর সামনে গিয়ে বসবে। একটা সুর তুলবে। আমি জানি, সে বুঝে গেছে।
আটটা বাজার আগে আগে আমি তাদের জড়িয়ে ধরব। শক্ত করে।
১১ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:৪৬
শ্রাবণধারা বলেছেন: ধন্যবাদ। আসলে পারমাণবিক বোমা এই বিষয়বস্তুটাই ভয়ংকর বিষাদময়।
আপনার জন্যও অনেক শুভকামনা।
২|
১১ ই এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:৫৪
মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: মহামান্যরা আলোর বদলে অন্ধকার উপহার দেয়।
১১ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:৫১
শ্রাবণধারা বলেছেন: এরা মহামান্য নয়, এরা অতিনিচু চোর-বদমায়েশ গুণ্ডা-মাস্তান। এদেরকে কীভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে নির্মূল করা যায়, তা নিয়ে বিশ্ববাসীকে নতুন করে চিন্তা-ভাবনা করতে হবে এবং এদেরকে হটাতে মাঠে নামতে হবে।
©somewhere in net ltd.
১|
১১ ই এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:০১
সন্ধ্যা রাতের ঝিঁঝিঁ বলেছেন: একটু বিষাদময় লেখা কিন্তু পড়তে ভালো লেগেছে। পিয়ানো আর বেহালা এই দুইটার সুর অদ্ভুত সুন্দর মনে হয় আমার কাছে। আপনি এবং আপনার পরিবারের জন্য শুভকামনা।