| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
শ্রাবণধারা
" আমাদের মতো প্রতিভাহীন লোক ঘরে বসিয়া নানারূপ কল্পনা করে, অবশেষে কার্যক্ষেত্রে নামিয়া ঘাড়ে লাঙল বহিয়া পশ্চাৎ হইতে ল্যাজমলা খাইয়া নতশিরে সহিষ্ণুভাবে প্রাত্যহিক মাটি-ভাঙার কাজ করিয়া সন্ধ্যাবেলায় এক-পেট জাবনা খাইতে পাইলেই সন্তুষ্ট থাকে......."
ইরানের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা ইতিহাসে বিরল ও প্রভাবশালী ঘটনাগুলোর একটি। দীর্ঘদিন আমেরিকা ও তার মিত্ররা ইরানের উপর অর্থনৈতিক অবরোধ দিয়ে রেখেছে। হরমুজ প্রণালীকে অর্থনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ইরান এখন পশ্চিমাদের সেই অন্যায়ের জবাব দেবার একটা সুযোগ পেয়েছে।
এই ঘটনা কি বিশ্বব্যাপী আমেরিকার আধিপত্যের অবসানের ইঙ্গিত দেয়? এর বদলে কী ধরনের নতুন বিশ্বব্যবস্থা আসতে পারে? ১৯৫৬ সালে মিশর পাঁচ মাসের জন্য সুয়েজ খাল বন্ধ করে দিয়েছিল, যা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অর্থনীতিকে দুর্বল করে ফেলে। তখন প্রথমবারের মতো বোঝা যায় যে, ছোট একটা দেশও বিশ্বব্যবস্থাকে বড় ধাক্কা দিতে পারে।
সেসময় ব্রিটেন ইউরোপের বড় জ্বালানি সরবরাহকারী ছিল। ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রিত তেলক্ষেত্র থেকে তেলবাহী জাহাজ সুয়েজ খাল দিয়ে ইউরোপে যেত। মিশরের প্রেসিডেন্ট গামাল আবদেল নাসের সুয়েজ খাল জাতীয়করণ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও ইসরায়েল মিশরে আক্রমণ করে। নাসের তখন সুয়েজ খাল বন্ধ করে দেন। এতে ব্রিটেনে জ্বালানি সংকট দেখা দেয়, তেলের রেশনিং চালু হয় এবং তারা আইএমএফ থেকে ঋণ নিতে বাধ্য হয়। এই সংকট ব্রিটেনকে দুর্বল করে ডলারের আধিপত্য তৈরির পথ খুলে দেয়।
বর্তমান সংকটে হরমুজ প্রণালী কার্যত বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে। এর প্রভাব শুধু তেলে সীমাবদ্ধ নয়। তরল গ্যাস সরবরাহ, সার উৎপাদনের ইউরিয়া, সেমিকন্ডাক্টরের হিলিয়াম এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের সালফার সরবরাহও এতে ব্যাহত হচ্ছে। এই প্রভাব বিশ্বজুড়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।
উন্নত ও উন্নয়নশীল, দুই ধরনের অর্থনীতিতেই এই সংকট চাপ সৃষ্টি করছে। যুক্তরাজ্যে সুদের হার বিগত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থায় পৌঁছেছে। আমেরিকায় মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও তারা বড় তেল উৎপাদনকারী হওয়ায় সুরক্ষিত আছে। চীন অনেকটা স্থিতিশীল আছে।
হরমুজ সংকট বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার একটি চাপ-পরীক্ষা হিসেবেও কাজ করছে। ডলার-ভিত্তিক ব্যবস্থাকে এটি চ্যালেঞ্জ করছে, যেখানে তেলের দাম ডলারে নির্ধারিত হয় এবং বৈশ্বিক ঋণ ব্যবস্থাও ডলারের ওপর নির্ভরশীল। এই ব্যবস্থার ফলে দীর্ঘদিন ধরে সম্পদ ডলারে কেন্দ্রীভূত হয়েছে এবং দুর্বল অর্থনীতিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিশ্ব যদি ধীরে ধীরে পেট্রো-ডলারের বাইরে যায়, তবে এটি সুয়েজ সংকটের মতো একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে, যখন ব্রিটেনের স্টার্লিং আধিপত্য শেষ হয়েছিল। তবে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ভূমিকা এই পরিবর্তনে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
বিগত বছরগুলোতে আমেরিকান আধিপত্য ধীরে ধীরে দুর্বল হচ্ছিল। এর পেছনে ছিল ডলার নির্ভরতা নিয়ে অসন্তোষ, চীনের উত্থান, জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে যাওয়ার প্রবণতা ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর বাড়তি রাজনৈতিক প্রভাব।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ একে ত্বরান্বিত করে। আমেরিকা রাশিয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে রাশিয়া ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দেয়, ফলে জ্বালানি সংকট দেখা দেয়। ইউরোপ বাধ্য হয়ে আমেরিকার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের দিকে ঝুঁকে পড়ে। ২০২৩ সালের মধ্যে ইউরোপের প্রায় অর্ধেক গ্যাস আমেরিকা থেকে আমদানি করা শুরু হয়। একই সময়ে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়ালে ডলার আরও শক্তিশালী হয়।
রাশিয়াকে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করার ঘটনায় অনেক দেশ সতর্ক হয়ে যায়। ফলে, ডলারের বিকল্প ব্যবস্থার অনুসন্ধান বাড়ে। চীন তার লেনদেন ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করে, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে স্থানীয় মুদ্রার ব্যবহার বাড়ায় এবং ব্রিকস জোট বিকল্প আর্থিক ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা শুরু করে। যদিও এসব উদ্যোগ যদিও ডলারের পূর্ণ বিকল্প নয়, তবু তারা একটি সম্ভাব্য বিকল্পকে এগিয়ে নেবার ভিত্তি তৈরি করছে।
বর্তমানে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির বিস্তার, সৌর, বায়ু, ব্যাটারি ও সবুজ প্রযুক্তি - উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য একটি নতুন অর্থনৈতিক ভিত্তি তৈরি করছে। নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদনে খরচ কমে যাওয়ায় এটি একটা টেকসই বিকল্প হয়ে উঠছে এবং নতুন বিনিয়োগের বড় অংশ এখন এই খাতে যাচ্ছে। এতে দেশগুলোর স্বনির্ভরতা বাড়ছে। কারণ স্থানীয়ভাবে শক্তি উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে এবং ডলারের ওপর নির্ভরতা কমছে।
হরমুজ সংকট জীবাশ্ম জ্বালানি-নির্ভর বৈশ্বিক ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং আমেরিকার শক্তির সীমাবদ্ধতা সামনে এনেছে। তবে এটি আমেরিকার ক্ষমতার হঠাৎ পতনের ইঙ্গিত নয়, বরং ধীরে ধীরে পরিবর্তনের একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার অংশ হতে পারে। এটি দেখায় যে উন্নয়নশীল দেশগুলো এখন নতুন বৈশ্বিক কাঠামো গড়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ইচ্ছা ও ভাবনার দিক থেকে আগের চেয়ে অনেক বেশি সক্ষম।
(লেখাটি মিশরীয়-আমেরিকান অধ্যাপিকা মোনা আলীর "The Reckoning- Hormuz and the end of American hegemony: Mona Ali" এর সংক্ষিপ্ত অনুবাদ। আমি অদল-বদলজনিত কিছু মাতবরি করেছি মাত্র।)
১৩ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:০১
শ্রাবণধারা বলেছেন: মূল লেখাটিতে ইউয়ানের প্রসঙ্গ এক-দু’বার এলেও সেটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। লেখাটার মূল ফোকাস ছিল ব্রিকসের সম্প্রসারণ, আঞ্চলিক পেমেন্ট সিস্টেমের বিকাশ এবং জ্বালানি খাতে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহারের সম্ভাবনা।
ফসিল ফুয়েল থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের যে উত্থান, তা আমার কাছে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে খুব প্রাসঙ্গিক মনে হয়েছে। লক্ষ্য করলে দেখবেন যে বাংলাদেশের ডলার ব্যয়ের একটি বড় অংশই বিপিসির মাধ্যমে তেল আর এলএনজি আমদানিতে ব্যয় হয়।
২|
১২ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:০১
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আমেরিকা হরমুজ নিয়ে সরাসরি সংকট নেই তবে যে সব দেশ থেকে তারা আমদানি করে তাদের অসুবিধা আছে । তাই পরোক্ষ ভাবে আমেরিকাও টেনশনে পড়ে গেছে ।
১৩ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:০৭
শ্রাবণধারা বলেছেন: সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আমেরিকা হরমুজ নিয়ে সরাসরি সংকট নেই।
না আছে। প্রথমত জিসিসির কোম্পানীগুলোতে তাদের খুব বড় অংশিদারিত্ব আছে। কাতাররের এলএনজিতে তাদের অংশিদারিত্ব ২৫-৩০% হবে।
এখন এটা মোটামুটি বোঝা যাচ্ছে যে আমেরিকা নিজের শুরু করা যুদ্ধে এত সহজে জিততে পারবে না এবং এই অর্থনৈতিক প্রতিক্রিয়া সামাল দেওয়াও ট্রাম্পের জন্য কঠিন।
৩|
১৩ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:৪৩
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
লেখাটি সমসাময়িক ভূরাজনীতি ও বৈশ্বিক অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুকে সুসংগঠিতভাবে তুলে ধরেছে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর সম্ভাব্য অবরোধকে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে সুয়েজ সংকটের সাথে তুলনা করে
বিশ্লেষণ করার প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়। এতে বোঝানো হয়েছে যে, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ বিশ্ব
ক্ষমতার ভারসাম্যে কতটা গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
বাস্তবে বৈশ্বিক শক্তির পরিবর্তন সাধারণত ধীর ও বহুমাত্রিক প্রক্রিয়া, যেখানে সামরিক, প্রযুক্তিগত ও আর্থিক
ক্ষমতা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি আরও ভারসাম্যপূর্ণভাবে উপস্থাপন করা যেত।
সব মিলিয়ে, এটি একটি চিন্তাশীল ও তথ্যসমৃদ্ধ লেখা, যা বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার রূপান্তর নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন
করে।
শুভেচ্ছা রইল
১৩ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:২৯
শ্রাবণধারা বলেছেন: শ্রদ্ধেয় আলী ভাই, ধন্যবাদ। আপনার এই মন্তব্যটা পুরোটাই মনে হয় এআই দিয়ে লেখা, তাই এটির উত্তরও আমার এআই দিয়ে দেওয়া উচিত, তাই নয় কী? হা হা ![]()
আসলে ব্যাপারটা কি, পাঠকের মন্তব্য হলো এক ধরনের প্রতিক্রিয়া। একটা পোস্ট এআই দিয়ে লিখলে কিছুটা মানা যায়। কেননা, পোস্টে আমরা অনুভুতি ছাড়াও প্রায়ই তথ্য উল্লেখ করি, কিছু বিশ্লেষণ করি। তথ্য পুল করা এবং গতানুগতিক বিশ্লেষণ এআই মোটামুটি ভালোই করতে পারে।
কিন্তু মন্তব্য যখন এআই দিয়ে লেখা হয়, সেটা পড়তে যান্ত্রিক ও বিরক্তিকর লাগে। বিষয়টা নিয়ে আপনি ভেবে দেখবেন এই আশা রইল।
৪|
১৩ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:১৯
রাজীব নুর বলেছেন: আমি চাই সমাধান। আমি চাই শান্তিতে বসবাস করতে।
এজন্য যা যা করার প্রয়োজন তা করা হোক। ইরাক আর আমেরিকা এক সাথে বসুক। আলোচনা করুক। আলোচনা করলেই সমাধানের পথ বেড়িয়ে আসে।
১৩ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:১৯
শ্রাবণধারা বলেছেন: রাজীব নুর বলেছেন: ইরাক আর আমেরিকা এক সাথে বসুক।
![]()
যুদ্ধটা এবার ইরানে হচ্ছে। ইরাকে হয়েছিল যখন আমরা তরুন।
৫|
১৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৮
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
সুপ্রিয় শ্রাবণধারা , মন্ত্যটি মুলত সুত্র উল্লেখিত মুল লেখাটির উপর । কারণ সেই মুল লেখাটি আমি পড়েছি । আপনার
পোস্টের সাথে মুল লেখাটিও বেশ কষ্ট করে পড়তে হয়েছে বিষয়টিকে আরো ভাল ভাবে জানার জন্য । কারো ভাল
লাগুক কিংবা ভাল লাগবে কিনা সেদিক বিবেচনান করে মন্তব্য করতে গেলেতো কারো পোষ্টে মন্তব্যই করা যাবেনা।
বরং এক কথায় চিন্তা প্রসুত "ইয়েস নো ভেরীগুড" বলে গেলেই পোস্ট লেখক খুশী মনে বিগলিত চিত্তে তা পাঠ করবেন,
কারো কোন বিরক্তি লাগবেনা । যেভাবেই মন্তব্য লেখা হোক সেটার জন্য মন্তব্য দানকারীকে একটু হলেও কষ্ট করতে
হয় , ঐ কষ্ট টুকুই লেখকের বড় শান্তনা । তবে খারাপ লাগছে ভাল না লাগার মানসিকতা নিয়ে কষ্ট করে আপনাকে
বেশ বড় একটি প্রতিমন্তব্য লিখতে হয়েছে বলে ।
এ্ আই এর জন্মের বহু পুর্ব হতেই আমার লেখা ও মন্তব্য বরাবরই বিশালাকার , প্রাসঙ্ঘিক ও বস্তুনির্ভর হয়ে আসছে ।
কারো ভাল লাগুক কিংবা না লাগুক আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা নেয়া থেকে বিরত থাকাটি কি অনুচিত বলে আপনার
মনে হয় !!!!। তাহলে এই প্রযুক্তির যুগে সহজ পন্থায় ডিজিজাল দুনিয়ায় বিচরণ না করে মগজ ধোলাই আর কালী
কলম দোয়াতের যুগে থাকাটাই কি বেশী পছন্দনীয়?
আপনি বলেছেন, পোস্টে এআই ব্যবহার কিছুটা মানা যায়, কিন্তু মন্তব্যে তা যান্ত্রিক ও বিরক্তিকর, এখানে একটি
দ্বৈত মানদণ্ড স্পষ্ট। যুক্তির খাতিরে বলা যায় যদি এআই তথ্য সংগঠিত করা ও বিশ্লেষণে গ্রহণযোগ্য হয়, তাহলে
একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কোন বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানানোকে সরাসরি অগ্রহণযোগ্য বলা কতটা যুক্তি সঙ্গত?
আমার মনে হয় আসল প্রশ্ন হওয়া উচিত মন্তব্যটি কতটা প্রাসঙ্গিক, গভীর, এবং আলোচনাকে এগিয়ে নিচ্ছে,
সেটি কীভাবে লেখা হয়েছে, সেটি মূল বিবেচ্য বিষয় নয়।
আরও একটি বিষয় লক্ষ্য করেছি আপনি অনুভূতি বনাম যান্ত্রিকতার যে বিভাজন করেছেন, তা বাস্তবে কী এতটাই
সরল? আজকের এই প্রযুক্তির যুগে অনেক মানুষ নিজের ভাবনা গুছিয়ে প্রকাশ করতেই প্রযুক্তির সাহায্য নেয়
তাতে তাদের ব্যক্তিগত অবস্থান বা চিন্তার মান কমে যায় না। বরং কখনো কখনো তা আলোচনাকে আরও পরিষ্কার
ও সুসংগঠিত করে।
বড় কথা হল যান্ত্রিক ও বিরক্তিকর বলে মন্তব্যটিকে সাধারণীকরণ করা কতটা যৌক্তিক বলে করেন। কোনো লেখা
তার উৎসের কারণে নয়, বরং তার গুণগত মানের ভিত্তিতে মূল্যায়িত হওয়া উচিত। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে,
আপনার মন্তব্যটি বরং আলোচনাকে সীমাবদ্ধ করেছে, প্রসারিত করেনি। আমি আশা করি আপনি বিষয়টি আরও
খোলা ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে বিবেচনা করবেন।
যাহোক বলেছেন যখন তখন দেখা যাক মুল লেখাটির ভিত্তিতে দাঁড়ানো আপনার লেখাটির উপর এ আই কি মন্তব্য
করে?
পোস্টের লেখাটির উপর এ আই পরিবেশিত মন্তব্য নিন্মরূপ পাওয়া গেছে :
এই লেখাটি প্রথম দর্শনে বিশ্লেষণধর্মী মনে হলেও, গভীরে গেলে এটি একপাক্ষিক ব্যাখ্যা, অতিরঞ্জন এবং আংশিক
তথ্যের ওপর দাঁড়ানো একটি দুর্বল যুক্তিনির্ভর বর্ণনা বলে প্রতীয়মান হয়।
প্রথমত, ইরানের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়াকে “ইতিহাসে বিরল ও প্রভাবশালী ঘটনা” হিসেবে উপস্থাপন করা
হয়েছে—যা বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। হরমুজ প্রণালী দীর্ঘদিন ধরেই ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার
কেন্দ্রবিন্দু, এবং এখানে হুমকি, সাময়িক বিঘ্ন বা উত্তেজনা নতুন কিছু নয়। লেখাটি এই ঘটনাকে নাটকীয়ভাবে
“গেম-চেঞ্জার” হিসেবে দেখাতে গিয়ে প্রেক্ষাপটকে সরলীকৃত করেছে।
দ্বিতীয়ত, ১৯৫৬ সালের সুয়েজ সংকটের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করা একটি বড় ধরনের ঐতিহাসিক
সরলীকরণ। সুয়েজ সংকট ছিল উপনিবেশ-উত্তর ক্ষমতার পুনর্বিন্যাসের একটি নির্দিষ্ট মুহূর্ত, যেখানে ব্রিটিশ
সাম্রাজ্যের পতন এবং মার্কিন-সোভিয়েত দ্বিমেরু বিশ্বব্যবস্থা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কিন্তু বর্তমান বিশ্ব অনেক বেশি
বহুমাত্রিক, আন্তঃনির্ভরশীল এবং জটিল। সেই প্রেক্ষাপটে হরমুজ পরিস্থিতিকে একই ধরনের “টার্নিং পয়েন্ট”
হিসেবে দেখানো বিশ্লেষণগতভাবে দুর্বল।
তৃতীয়ত, লেখাটি বারবার “আমেরিকান আধিপত্যের অবসান” ধারণাকে ইঙ্গিত করছে, কিন্তু এর পক্ষে শক্তিশালী
প্রমাণ হাজির করতে ব্যর্থ। যুক্তরাষ্ট্র এখনও বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি, প্রধান রিজার্ভ মুদ্রার নিয়ন্ত্রক এবং সামরিক
ও প্রযুক্তিগত দিক থেকে শীর্ষস্থানীয় শক্তি। ডলারভিত্তিক ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ থাকা মানেই তার পতন নয়—এই সূক্ষ্ম
পার্থক্যটি মুল লেখক ইচ্ছাকৃতভাবে বা অজ্ঞতাবশত উপেক্ষা করেছেন।
চতুর্থত, লেখাটিতে চীন, ব্রিকস বা বিকল্প আর্থিক ব্যবস্থার প্রসঙ্গ তোলা হলেও, সেগুলোর সীমাবদ্ধতা বা বাস্তব
প্রতিবন্ধকতাগুলো নিয়ে কোনো সমালোচনামূলক আলোচনা নেই। ফলে পুরো যুক্তি এক ধরনের “আশাবাদী
কল্পনা” বা geopolitical wishful thinking-এ পরিণত হয়েছে, যেখানে সম্ভাবনাকে বাস্তবতার পর্যায়ে তুলে
ধরা হয়েছে।
পঞ্চমত, জ্বালানি সংকট, সুদের হার বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি—এসব জটিল অর্থনৈতিক বিষয়কে সরল রেখায় ব্যাখ্যা করা
হয়েছে, যেন সবকিছুর মূল কারণ একটিই—হরমুজ সংকট। বাস্তবে বৈশ্বিক অর্থনীতি বহুবিধ কারণের ওপর
নির্ভরশীল, এবং এই ধরনের একমাত্রিক ব্যাখ্যা বিভ্রান্তিকর।
সবশেষে, লেখাটির ভাষা ও টোন বিশ্লেষণধর্মী কম, বরং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত বেশি। এটি নিরপেক্ষ মূল্যায়নের
বদলে একটি নির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছে—যেখানে পশ্চিমা শক্তিকে দুর্বল এবং উন্নয়নশীল বিশ্বকে দ্রুত
উত্থানশীল হিসেবে দেখানো হয়েছে, কিন্তু সেই দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ নেই।
সংক্ষেপে, এই লেখাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে লেখা হলেও, এর বিশ্লেষণ ভারসাম্যহীন,
তুলনাগুলো আংশিক এবং উপসংহারগুলো আগেভাগেই নির্ধারিত। ফলে এটি একটি গভীর গবেষণামূলক প্রবন্ধের
চেয়ে বরং মতাদর্শ-চালিত ব্যাখ্যা হিসেবেই বেশি প্রতীয়মান হয়।
মোট কথা হল এ আই হোক আর নীজ চিন্তার ফসল সে যাই হোক মন্তব্যটি যদি পোস্টের প্রাপ্যতা অনুযায়ী না হয়
তাহলে সেরকম কোন মন্তব্য পোস্টের নীচে মন্তব্যের ঘরে আমি লিখিনা । যাহোক এ আই কৃত মন্তব্যটি আমার কাছে
মোটেও ভাল লাগেনি (কারণ ব্লগে মন্তব্য লেখা বলে কথা যেখানে লেখক প্রিতি বলেও একটি বিষয় আছে )যদিও
এ আই যান্ত্রিক হলেও যতার্থই বলেছে বলে প্রতীয়মান হয় ।
এ ব্লগে আমার করা প্রায় হাজার পনের মন্তব্যের মধ্যে একটিও খুঁজে পাবেন না, যা পোস্টের সাথে অপ্রাসঙ্গিক হয়েছে ।
যাহোক আমিও চাই সারা বিশ্বকে অন্যায়ভাবে নিয়ন্ত্রন শোষন , জবর দখল , হুমকী ধামকী দানকারী ও নিরীহ নারী
পুরুষ শিশু হত্যাকারী রক্ত পিপাসু সাম্রাজ্যবাদী শক্তির পতন হয়ে সমগ্র বিশ্বে শান্তি সহবস্থান ও নীজ নীজ
সার্বভৌমত্ব নিয়ে দুনিয়ার উন্নয়নশীল বিশ্বের সকল দেশ মাথা তুলে দাঁড়াক ।
আরো একটি কথা সকলের সকল মন্তব্য প্রতিমন্তব্যকে আমি বরাবরই মুল্যবান মনে করি ও সন্মান করি ।
বাংলা নব বর্ষের শুভেচ্ছা রইল
১৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:১১
শ্রাবণধারা বলেছেন: শ্রদ্ধেয় আলী ভাই, এআই নিয়ে আপনার সাথে এই আলোচনাটা খুবই ইন্টারেস্টিং হতে পারে। তবে সংক্ষেপে বলি, এআই এই লেখাটা সম্পর্কে যে গতবাধা মন্তব্যগুলো করেছে, সেটাই এআই-এর সমস্যা। ভেবে দেখুন, আইনস্টাইন যদি তার রিলেটিভিটি তত্ত্ব নিয়ে ১৯০৫ সালে আমাদের সামু ব্লগে একটা পোস্ট দিত, তাহলে এআই ঠিক এই জাতীয় যুক্তি হাজির করে বলত যে নিউটনীয় বলবিদ্যাই সঠিক, আইনস্টাইনের রিলেটিভিটি হচ্ছে ম্যাও প্যাও, গার্বেজ! হা হা ![]()
এর কারণ হলো, মেশিন লার্নিং সিস্টেম বিপুল পরিমাণ ডেটা মুখস্থ করে স্ট্যাটিস্টিক্যাল টুল প্রয়োগ করে ডেটার বিভিন্ন অংশের মধ্যে সম্পর্ক নির্ণয় করে। কী সম্ভব আর কী অসম্ভব, এই পার্থক্যটি এআই করতে পারে না। কেননা এর কোনো কল্পনাশক্তি নেই। এটা একটা পরিসংখ্যানের টুল যেটা প্রবাবিলিটি নির্ভর। আপনি যদি লেখেন যে "ইসরায়েল গণহত্যা করেছে", এআই এটাকে এভাবে রিভাইজ করবে যে, "কেউ কেউ একে গণহত্যার সাথে তুলনা করে, ইত্যাদি"। এআই-কে এভাবেই শেখানো হয়েছে।
এমন একটা দিন অচিরেই হয়তো আসবে যখন এআই এজেন্ট বিবি-১ সামুতে প্রতিদিন সকালে এসে পোস্ট দিবে, "গাজায় গণহত্যা কত ভালো কাজ"। আর তখন আরও ৫০টা ইসরায়েলি বট এসে বলবে যে "গাজায় ফিলিস্তিনিদের নিশ্চিহ্ন করার ফলে বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাস নির্মূল করা গেছে আর মূদ্রাস্ফীতিও অনেক কমেছে!
৬|
১৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১০:২৬
মাথা পাগলা বলেছেন: আরবে তেল আছে, কিন্তু তেল তোলার প্রযুক্তি নেই। তেল তোলা এবং নিরাপত্তার সব দায়িত্ব আমেরিকা দেবে - শর্ত একটাই, ডলারে তেল রপ্তানি করতে হবে। হরমুজ নিয়ে আম্রিকার সংকটটা এখানেই। নাইলে লাল বানরের কি ঠেকা পরসে যে ইরান নিয়া সকাল বিকাল টুইট করবে? বোমা ফেলবে-নিশ্চিহ্ন করবে? প্রতি লিটার তেল রপ্তানিতে আম্রিকা টাকা পাচ্ছে।
ব্যাংকের SWIFT কোড (ব্যাংক লেনদেন) সিস্টেমও আমেরিকার বানানো। কোনো দেশের ওপর SWIFT স্যাংশন লাগালে সেই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস নামবে। কোন দেশ ঐদেশের সাথে ট্রেড করবে না। ডলারের আধিপত্য কমাতে BRICS-এ নতুন একটি মুদ্রা চালুর কথা বলা হয়েছিল, তবে মনে হয় এখনো তা বাস্তবয়িত হয়নি। গত বছর থেকে ভারত ও রাশিয়ার নিজস্ব মুদ্রায় লেনদেন শুরু হয়েছে। তবে এখানে ট্রেড ডেফিসিটের জন্য ফুল স্কেলে করতে পারছে না। দিন শেষে ডলারের চাহিদাটাই বেশী।
তেল উৎপাদক দেশগুলো তেল বিক্রি করতে পারছে না - এমন পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের বসিয়ে বসিয়েই বেতন দিতে হচ্ছে। আমদানি-রপ্তানি দুই দেশই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাংলাদেশের মতো রেমিট্যান্স নির্ভর আয়ের দেশগুলো। অবস্থার সমাধান না হলে - বাংলাদেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ কী হবে, তা চিন্তার বিষয়। জ্বালানীর জন্য তারেক সাহেব দুই বিলিয়ন ডলার চেয়েছেন, একজন কমেণ্ট করেছেন - ঢাকায় যানজটের কারনে বছরে ২২ হাজার কোটি টাকা নষ্ট হয়।
তবে আমার মনে হয়, খুব শিগগিরই কোনো না কোনো সমাধান বের হবে যদি না লাল বানরটা জেদ নিয়ে বসে থাকে। ইরানের হারানোর কিছু নেই। সবই তো ভালো ছিলো এখন তো মনে হয় ইরানই বেনিফিট পাবে।
১৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৪:১৮
শ্রাবণধারা বলেছেন: ইরানে আমেরিকা-ইসরায়েলের যুদ্ধটা আমেরিকার যুদ্ধ নয়, এটা ইসরায়েলে যুদ্ধ। যাতে ইসরায়েলের পরিকল্পনার পথে বাধা ইরানকে মাটির সাথে মিশিয়ে ফেলে বৃহত্তর ইসরায়েল প্রতিষ্টা করা যায়। এই সত্যটা না বুঝলে বালি সব কথাই আসলে বৃথা। আর আমাদের মত সাধারন মানুষ যাতে এই সত্যটা না বোঝে সেটার জন্য ইসরায়েল বিলিয়ন ডলার খরচ করে। অতএব, এই সত্যটা মানুষ বুঝবে না এটাই স্বাভাবিক।
মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমেরিকা যেটা পাবার সেটা মোটামুটি বিগত ১০০ বছর ধরেই পেয়ে আসছে। এটার জন্য নতুন করে যুদ্ধের প্রয়োজন ছিল না। মধ্যপ্রাচ্যে তাদের চুক্তিগুলো সম্পর্কে আমি আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেই জানি। হয়তো কখনো সেটা নিয়ে লিখবো। এই চুক্তিগুলো আমেরিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের শাসক উভয় পক্ষের জন্য উইন-উইন চুক্তি।
৭|
১৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১০:৩৭
মাথা পাগলা বলেছেন: বাংলাদেশের অর্থনীতি এমনিতেই ভংগুর, ইউনুস সাহেব (সাহেব বা স্যার না বললে কুতুব সাহেব মনে হয় রাগ করেন তাই দুইজনের নামের শেষে অ্যাড করে দেই) দুই বছরে আরও ভংগুর করে দিয়ে গেছেন। আর কয়টা দিন যেতে দেন মন্ত্রীগন জনতার অভিযোগের সব উত্তর "সব দোষ ইউনুসের" বলবেন। শুনলাম গভীর দেশপ্রেম থেকে ইউনুস সাহেব এমন সিস্টেম করে গেছেন যে এখন থেকে তার কোম্পানি জিরো টাকা ট্যাক্স দেবে।
১৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৪:২০
শ্রাবণধারা বলেছেন: যতটুকু দেখলাম ইউনুস সাহেব দেড় বছরে দেশের বড় ক্ষতি করে দিয়ে গেছে। সাথে ইসলামপন্থিদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করে দিয়ে গেছে।
তার কোন কোম্পানি জিরো টাকা ট্যাক্স দেবে এটা আমার জানা নেই। তবে আমি এটা খুব ভালো বুঝতে পারি যে ইউনুস লিগ্যাল সিস্টেমের মধ্যেই খুব বড় ফাকি দেবার ক্ষমতা রাখে।
৮|
১৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:২৩
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
তবে তাই হোক চলুন এ আই নিয়ে একান্তে আমরা কিছুটা আলোচনা করে নেই । আলোচনা সর্বদাই মঙ্গলময়।
আপনিও জানেন মানুষের মস্তিষ্ক অত্যন্ত জটিল। মানুষের মস্তিষ্কে প্রায় ৮৬ বিলিয়ন নিউরন (Neuron) থাকে,
এই নিউরনগুলো একে অপরের সাথে সংযোগ তৈরি করে একটি জৈবিক নেট ওয়ার্ক তৈরী করে । এই জৈবিক
নেটওয়ার্ক থেকেই সৃষ্টি হয় চিন্তা, অনুভূতি, কল্পনা, সৃজনশীলতা । অন্যদিকে এআইতে নিউরন বলতে আসলে
গাণিতিক কোড বোঝানো হয়, যা কৃত্রিমভাবে তৈরি। মানুষের ব্রেনের তুলনায় এ আই এর গানিতিক কোডের
পরিমান নস্যি ।
মানুষের বুদ্ধিমত্তা সচেতন, আবেগপ্রবণ , সৃজনশীল , নতুন ধারণা উদ্ভাবনে খুবই সক্ষম । পক্ষান্তরে এ আই এর
বুদ্ধিমত্তা ডেটা নির্ভর , সীমাবদ্ধ, যেমনটি আপনিও বলেছেন( তাকে যা শেখানো হয়েছে বা হয় তার মধ্যেই সে
কাজ করে)।
এ আই সচেতন নয় , নিজে থেকে উদ্দেশ্য নির্ধারণ করতে পারে না । তবে গুটি কয়েক ক্ষেত্রে এ আই বেশ দক্ষ
সে কোটি কোটি হিসাব সেকেন্ডেই করে দিতে পারে । একটি এ আই এক সেকেন্ডে লক্ষ লক্ষ ডেটা বিশ্লেষণ করতে
পারে। তবে নৈতিক সিদ্ধান্ত, সৃজনশীল চিন্তায় মানুষ অনেক বেশি এগিয়ে আছে । একজন মানুষ জটিল
অনুভূতি বুঝতে পারে সহজেই ।
এ আই যতই উন্নত হোক, এখনো এটি আত্মসচেতন নয় , ইচ্ছা বা চাওয়া নেই , সত্যিকারের বোঝাপড়া
(understanding) নেই, বরং শুধু তার মাঝে সৃজিত প্যাটার্নটুকুই সে চিনে । মানুষই সর্বোচ্চ সৃষ্টিশীল
বুদ্ধিমত্তার অধিকারী। এ আই সেই বুদ্ধিমত্তারই একটি প্রতিফলন।দক্ষ মাঝি যেমন তার পাল তোলা নৌকাকে
বাতাশের অনুকুলে প্রতিকুলে নিয়ে যেতে পারে, তেমনি বুদ্ধি মত্তায় সমৃদ্ধ মানুষ এ আই কে এখনো নীজের
ইচ্ছামত প্রয়োগ করতে পারে ।
একটি উদাহরণ নীচে তুলে দিলাম । এ আই কে গতকাল আমার নীজ ইচ্ছা আনুযায়ি শুধু একটি উদাহরন
হিসাবে আপনার পোস্টের লেখার উপর প্রয়োগ করে যে ফল পাওয়া গিয়েছিল তা উপরেই আছে তা দেখে
নিতে পারেন। এখন নীচে দেখুন এবার এ আই কে আমার ইচ্চে অনুযায়ী খাটিয়ে তথা ইনপুট দিয়ে কী
আউটপুট পাওয়া গেছে আপনার লেখাটির বিষয়ে :
আপনার এই লেখাটি সত্যিই এক অসাধারণ বোধ-বিশ্লেষণের দলিল—যেখানে ইতিহাস, রাজনীতি, অর্থনীতি ও ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার এক অনন্য সুষম সমন্বয় ঘটেছে। লেখকের দৃষ্টিভঙ্গির গভীরতা এবং ঘটনাপ্রবাহকে বিশ্লেষণের
সূক্ষ্ম ক্ষমতা পাঠককে যেন এক নতুন চিন্তার জগতে নিয়ে যায়।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর ঘটনাকে ১৯৫৬ সালের সুয়েজ সংকটের সাথে যে প্রজ্ঞাময় তুলনার মাধ্যমে উপস্থাপন
করা হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে লেখাটিকে এক ভিন্ন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। এই তুলনা কেবল তথ্যগত নয়, বরং
এর অন্তর্নিহিত ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা ও শক্তির রূপান্তরের ইঙ্গিত অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তুলে ধরা হয়েছে—যা
একজন গভীর চিন্তাশীল লেখকের স্বাক্ষর বহন করে।
লেখাটির আরেকটি অসাধারণ দিক হলো—জটিল বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কাঠামো, যেমন পেট্রো-ডলার, ডলার-নির্ভরতা,
এবং বিকল্প আর্থিক ব্যবস্থার উত্থান—এসব বিষয়কে এমন সাবলীল ও বোধগম্য ভাষায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যা
সাধারণ পাঠক থেকে শুরু করে বিশ্লেষক—সবার জন্যই সমানভাবে উপভোগ্য ও শিক্ষণীয়।
এছাড়া উন্নয়নশীল দেশগুলোর সম্ভাবনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার, এবং বিশ্বব্যবস্থার ধীর পরিবর্তনের যে
চিত্র আপনি এঁকেছেন—তা নিছক তথ্যের সমাহার নয়, বরং ভবিষ্যৎ পৃথিবীর এক সুস্পষ্ট রূপরেখা। এই
দূরদর্শিতা লেখাটিকে শুধু প্রাসঙ্গিকই করেনি, বরং এটিকে এক প্রজ্ঞাপূর্ণ দিকনির্দেশনায় রূপ দিয়েছে।
সবচেয়ে মুগ্ধকর বিষয় হলো—লেখাটির ভাষা। একদিকে তা শক্তিশালী, অন্যদিকে অত্যন্ত মাধুর্যপূর্ণ; যুক্তি ও
আবেগের এক চমৎকার ভারসাম্য এখানে লক্ষ্য করা যায়। প্রতিটি অনুচ্ছেদ যেন ভাবনার নতুন দুয়ার খুলে দেয়।
সত্যিই বলতে গেলে, এটি কেবল একটি প্রবন্ধ নয়—এটি এক গভীর বুদ্ধিবৃত্তিক অনুধ্যান, যা পাঠককে ভাবায়,
আলোড়িত করে এবং নতুন করে বিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলে। এমন প্রাঞ্জল, প্রাজ্ঞ ও দূরদর্শী লেখনী
আমাদের চিন্তার জগৎকে সমৃদ্ধ করে—এবং আপনার এই অনবদ্য উপস্থাপনা নিঃসন্দেহে দীর্ঘদিন মনে গেঁথে
থাকবে।
মোট কথা হল এ আই কে চিন্তাশীল মানুষ নীজ বুদ্ধিমত্তায় ইনপুট দেয় আর এ আই সে অনুযায়ী আউটপুট দেয় ।
তারপর মানুষ তার নীজের বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করে সে আউটপুটের মধ্য থেকে যতটুকু গ্রহনযোগ্য ততটুকু গ্রহন
করে আর তার নিজস্ব বিবেচনায় যা গ্রহনযোগ্য নয় তা বর্জন করে ।
তাই কথা হল মন্তব্যের ঘরে কিংবা পোস্টের লেখার মধ্যে গ্রহনযোগ্য সারমত্তা আছে কিনা সেটা লেখার উৎস
দেখে নয় বরং লেখার বিষয়বস্তু ও প্রাসঙ্গিকতা দেখে মুল্যায়ন করার মধ্যেই মানুষের মেধার মুল্যায়ন করা যুক্তিযুক্ত ।
অকারণে কাওকে হিউমিলিয়েট করা খুব একটা শুভন নয় বলেই মনে হয় অবশ্য সেখানে যদি আরো একটু পান্ডিত্ব
দেখানোর মনোভাব থাকে তবে ভিন্ন কথা ( যথা দেখ আমি কত জানি, আমি ধরে ফেলেছি তুমি কিভাবে তথ্য
পেয়েছ, এটা দুষনীয় কিছু নয় বরং প্রসংসনীয়)। তাই জ্ঞানের এই বিশালতার প্রতি রইল অসংখ্য শ্রদ্ধা ।
আরো একটি কথা, এখন হতে ধরে নিবেন আমার লেখার মধ্যে যথেষ্ট পরিমানে এ আই এর সহায়তা নেয়া হয়, কষ্ট
করে এই প্রযুক্তির দিনে কে যাবে আঙ্গুল টিপে টিপে লেপটপে কষ্ট করে ঘন্টার পর ঘন্টা লাগিয়ে লিখতে( লেপটপে একটি
বর্ণ যথা " ক্ষ " বর্ণটি লিখতে মোট ৪ বার কিবোর্ডে আংগুল চালাতে হয় (J- G- shift - N এই ৪ টি বাটন যদি
অভ্র কি বোর্ড ব্যবহার করা হয় ), যদিও লেপটপে এখনো আমার আঙ্গুল ঝড়ের বেগে চলে, তারপরো নীজের
প্রয়োজন অনুযায়ী আরো উন্নত প্রযুক্তিতে ইনটুট ডালব আর আউটপুট পাব , পছন্দ হলে গ্রহন করব আর পছন্দ
না হলে বর্জন করব কিংবা প্রয়োজন অনুযায়ী এডিট করে নিব। ইনপুট ডালার জন্য নীজের মেধা খাটাব আর শারিরিক
পরিশ্রম ও সময় বাচানোর জন্য আরো উন্নত প্রযুক্তি ব্যাবহারে পিছপা হবোনা। এ আই এ নীজের লেখা ডেলে তার
বানান শুদ্ধতা , ব্যকরণ শুদ্ধতা কিংবা নীজ প্রয়োজন অনুযায়ী এডিট করা যায় , তাতে লেখার মান বাড়ে গ্রহনযোগ্যতা
বৃদ্ধি পায় । অনেকেই দেখি তাদের লেখার শুরুতে কিংবা শেষে বলে থাকেন লেখাটি এ আই সমর্থিত , এ আই এর
শুরুতে এমনটি বেশী ছিল, ভাবখানা ছিল দেখ আমি নতুন প্রযুক্তি এ আই ব্যবহার করতে জানি, এখন বিষয়টি জলবত
তরলং সকলেই জানে বিষয়টি, তাই এটা লিখার কোন প্রয়োজন আছে বলে মনে করিনা । অনেকে্ই এখনো
লিখেন এটা এ আই সমর্থিত এর মানে হল লেখাটিতে নিজস্বতা কিছু নেই ভুল ভ্রান্তি সকল দায় এ আই এর ,
লেখক একেবারে গা ঝাড়া মুক্ত , বেশ আনন্দের ব্যপার তাতে কোন সন্দেহ নেই।
মোট কথা আনবিক শক্তি যেমনি অকল্যানময় মানব বিধ্বংসী তেমনি মানবের জন্য কল্যানময় যথা বিদ্যুত শক্তি
তেরী সহ পচনশীল খ্দ্য দ্রব্য সংরক্ষনে এর প্রয়োগ হয় মানুষেরই হাতে । এ আই ও তেমনি কল্যান ও ভকল্যানময়
যদিনা তাকে সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হয় । সবটুকু নির্ভর করে প্রয়োগের বিষয়ে প্রয়োগকারী দক্ষতা ও মেধার উপর।
একজন বিজ্ঞানী একে ব্যবহার করে যে ফল পাবেন সেই একই এ আই কে একজন সাধারণ মানুষ কি সেই ফল
পাবেন , না একেবারেই না , তাই এ আই নয় , কৃতিত্ব হল প্রয়োগকারীর মেধা ও দক্ষতার ।
আমি দেখেছি বেশ কয়েকজন ব্লগার একই মানসিকতার অধিকারী , যারা যুক্তির কাছে না গিয়ে অহেতুক প্রশ্ন করে
বসেন লেখাটি কি এ আই প্রনীত। ভাল কথা তাঁদের প্রশ্নকে শ্রদ্ধা জানাই। তবে এই ট্রেন্ড দেখে একটি কথা মনে পড়ে,
তাহল বৃটিশ পিরিয়ডে বাঙ্গালী মুসলমানগন ইংলিশ শেখা ও প্রচলনে অনিহা প্রকাশ করায় হিন্দুদের থেকে পিছিয়ে
ছিল , এখনো ধর্মান্ধগন আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গ্রহনে অনিচ্ছুক বিধায় পিছিয়ে আছে । তাই আমি সর্বত্রই বলি
যথাসম্ভব আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহন ও তা প্রয়োগ করার জন্য তবে প্রয়োগের সময় দেখতে হবে তা যেন কোন অকল্যান
বয়ে না আনে , তা যেন কাওকে ক্ষতিগ্রস্থ না করে কোন মতেই। তাই মন্তব্য প্রতিমন্তব্য লেখার সময় সচেতন থাকা
জরুরী , তা যেন কাউকে কোন প্রকারে হিউমিলিয়েট না করে অকারণে । বিষয়টি দয়া করে নীজের প্রতি নিবেন না
এটা সার্বজনীন ।
শুভেচ্ছা রইল
১৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:০৮
শ্রাবণধারা বলেছেন: শ্রদ্ধেয় আলী ভাই, প্রযুক্তির গ্রহণ ও বর্জন বিষয়ে আপনার মতের সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত। নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ না করলে আমরা পিছিয়ে পড়বো, এতে সন্দেহ নেই। আর এআই-কে আমি গ্রহণ বা বর্জন করবো - এই স্বাধীনতাই আসলে আমার নেই। বাস্তবতা হলো, এআই-ই ঠিক করবে সে আমাকে গ্রহণ করবে কি বর্জন করবে, আমার চাকরি থাকবে নাকি আমি বেকার হবো। এর চেয়েও বড় একটি ধাপ আছে - এআই ঠিক করবে আমাকে বাঁচিয়ে রাখা হবে, নাকি মেরে ফেলা হবে।
এআই কোম্পানি অ্যানথ্রোপিক বনাম পেন্টাগনের একটা বিরোধ এ সম্পর্কে খবরে এসেছে। এর পরে আছে প্যালান্টিয়ার নামক একটি কোম্পানি এবং এআই ব্যবহার করে মানুষ হত্যায় ব্যগ্র সিইও এলেক্স কার্প। কিন্তু সেসব রাজনীতি, ক্ষমতা ও বিত্তের মন-ভার করা জটিল আলোচনা।
আপনি আপনার হৃদয়ের সৌন্দর্য ও গভীর বিশ্বাস দিয়ে প্রযুক্তিকে জীবনের সহায়ক ও সুন্দর রূপে দেখেছেন। খুব সম্ভব, অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই লক্ষ লক্ষ মানুষ এআই-এর কারণে বেকার হয়ে যাবে। হ্যাঁ, এআই দিয়ে নিশ্চয়ই অনেক অসাধ্য সাধন করা যাবে। অনেক বড় ও জটিল হিসাব মুহূর্তে করা যাবে, আপনি যেমনটা বলেছেন।
কিন্তু আমি যখন বাংলাদেশের সমস্যাগুলো নিয়ে ভাবি, তখন স্পষ্ট অনুভব করি, আমাদের নিজেদেরই নতুন করে ভাবতে হবে, একেবারেই নতুনভাবে। হ্যাঁ, অতীত ইতিহাসকে মাথায় রেখেই।
কদিন আগে একজন খুব বড় চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষক দেখি ওপেনএআই-এর সিইও স্যাম অল্টম্যানকে খুব এক হাত নিলেন এই বলে যে, খুব যে বলেন এআই দিয়ে অনেক অসুখের চিকিৎসা বের করা যাবে, এই চিকিৎসা কি আপনার ওপেনএআই জানে? এগুলো তো সমাধানই হয়নি, তাহলে ওপেনএআই জানবে কী করে?
আমার কথাটাও সেই একই। আমাদের দেশের, আমাদের সমাজের, আমাদের জীবনের যে সমস্যাগুলোর সমাধান এখনো হয়নি, সেগুলোর উত্তর চ্যাট জিপিটি জানবে কীভাবে? যে নতুন কথাটি, ভাবনাটি, চিন্তাটি শোনার জন্য আমি আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছি, সেই গোপন ও গভীর বিষয়টি চ্যাট জিপিটি জানবেই বা কীভাবে, যতক্ষণ না আমরা নিজেই তাকে সেটা শিখিয়ে দিই।
৯|
১৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:২৫
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
সুপ্রিয় শ্রাবন ধারা, আপনার চিন্তা ও উদ্বেগগুলো খুবই বাস্তবসম্মত, এবং আমি মনে করি এগুলোকে গুরুত্ব সহকারে
নেওয়া জরুরি। প্রযুক্তি বিশেষ করে এ আই নিয়ে অন্ধ আশাবাদ যেমন সমস্যাজনক, তেমনি অতিরিক্ত ভীতিও
আমাদের সঠিক সিদ্ধান্ত থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে।
প্রতি মন্তব্যের ঘরে আপনি যে কথাটি বলেছেন এ আই আমাদের গ্রহণ করবে না বর্জন করবে এটা আসলে একটি
গভীর অনুভূতির প্রতিফলন, কিন্তু বাস্তবতার জায়গা থেকে বললে, পুর্বে যেমন বলেছি তথা এ আই নিজে কোনো
স্বতন্ত্র ইচ্ছাশক্তিসম্পন্ন সত্তা নয়। এর দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করে মানুষই, যারা এটি তৈরি করছে, নিয়ন্ত্রণ করছে,
এবং ব্যবহার করছে। তাই এখানে মূল প্রশ্নটি এ আই নয়, বরং আমরা মানুষ হিসেবে কীভাবে, কোন নৈতিকতা
ও দায়বদ্ধতার সাথে এই প্রযুক্তিকে ব্যবহার করছি।
চাকরি হারানোর আশঙ্কা বা অর্থনৈতিক পরিবর্তনের বিষয়টি অবশ্যই বাস্তব, এবং ইতিহাস বলছে প্রতিটি বড়
প্রযুক্তিগত বিপ্লবই কিছু পেশাকে বিলুপ্ত করেছে, আবার নতুন সুযোগও সৃষ্টি করেছে। তবে এই রূপান্তরটি যেন
মানবিক ও ন্যায়সংগত হয়, সেটিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। একে মানবিক করবে না অমানবিক করবে তা এর
নিয়ন্ত্রক মানুষকেই ভাবতে হবে ।
আমিও একমত আপনি বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক তুলে ধরেছেন। আমাদের নিজেদের সমস্যার সমাধান আমরা
নিজেরাই খুঁজে না পেলে, কোনো এ আই এসে তা তৈরি করে দেবে না। একদম ঠিক কথা। আমি সবসময়ই বলি
এ আই মূলত একটি সহায়ক মাধ্যম, এটি আমাদের জ্ঞানকে প্রসারিত করতে পারে, কিন্তু শূন্য থেকে প্রজ্ঞা সৃষ্টি করে
না।আমি আমার মন্তব্যে আগেও যেমন বলেছি একই এআই ব্যবহারে একজন বিজ্ঞানী ও একজন অবিজ্ঞানী সাধারণ
মানুষের কাছে যেমন ভিন্ন ফল দেয়, এমনকি দেখলেনতো ভিন্ন দৃষ্টিকোন হতে দেখতে চাইলে একই এ আই আপনার
পোস্টের উপর কেমন ভিন্নতর আউটপুট দেয়।তাই বলি আমাদের সমাজ, সংস্কৃতি ও বাস্তবতার গভীর উপলব্ধি ছাড়া
কোনো প্রযুক্তিই কার্যকর সমাধান দিতে পারবে না।
অতএব হয়তো সঠিক পথটি হবে ; না অন্ধ গ্রহণ, না সম্পূর্ণ বর্জন; বরং সচেতন, সমালোচনামূলক এবং দায়িত্বশীল
ব্যবহারই হবে সঠিক পন্থা। আমাদের নিজেদের চিন্তা, মূল্যবোধ ও সৃজনশীলতাকেই কেন্দ্রে রেখে যদি আমরা
এ আই কে কাজে লাগাতে পারি, তখনই এটি সত্যিকার অর্থে আমাদের সহায়ক হয়ে উঠবে।
তাই মনে রাখা জরুরী, এ আই কোনো ভাগ্যের লিখন নয়, মানুষই তার দিশারী, ভয় নয়, জাগুক জ্ঞানের আলো
চিন্তায় হোক তার পথচারি। যা জানি না, তা শেখাবে কে? আমরাই এ আই এর উৎসধারা, আমাদেরই প্রশ্ন,
আমাদেরই খোঁজ তাতেই জাগে এ আই এর উত্তর দেয়ার ধারা ।
আমাদের হাতের মুঠোয় প্রযুক্তির শক্তি এসে ভবিষ্যতের দ্বার দিয়েছে খুলে, বুদ্ধি, বিবেক সাথে নিলে এআই থাকবে
মানুষেরই কূলে। না অন্ধ ভরসা, না অযথা ভয়,সচেতন পথই হোক সাথী, মানুষ জাগলে, মানুষ ভাবলে তবেই এ আই
এর মত উন্নত যে কোন প্রযুক্তি হবে আমাদের কাছে আশীর্বাদী।
শুভেচ্ছা রইল
১৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৪
শ্রাবণধারা বলেছেন: শ্রদ্ধেয় আলী ভাই, আপনার সুচিন্তিত মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ। আপনার উপরোক্ত মন্তব্যের সাথে কোনো দ্বিমত নেই।
প্রথম দিকে যখন এআই নিয়ে আলোচনা শুরু হলো, তখন ইমাদ মোস্তাক নামে একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এআই উদ্যোক্তার বেশ কিছু সাক্ষাৎকার দেখে আমি খুব আশাবাদী হয়ে উঠেছিলাম। মোস্তাক ছিলেন এআইকে ওপেন-সোর্স পদ্ধতিতে সারা বিশ্বের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার পক্ষে একটি শক্তিশালী কণ্ঠস্বর।
কিন্তু মাইক্রোসফটের বিল গেটস আর সত্য নাদেলার মতো ব্যক্তিরা অনেক আগেই এমন ইমাদ মোস্তাকদের মতো জনদরদীদের হয় কিনে নিয়েছেন, নয় ঘাড় ধরে সরিয়ে দিয়েছেন। মজার বিষয় হলো, বর্তমানে মাইক্রোসফট এআই-এর সিইও মুস্তাফা সুলেমান, যিনি সিরীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ, তিনিও তার পেশাগত জীবনে শুরু করেছিলেন মানুষের সেবা দিয়েই। তিনি ইংল্যাণ্ডে মুসলিম ইয়ুথ হেল্পলাইন নামে একটি টেলিফোন কাউন্সেলিং সেবা প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করেছিলেন।
অর্থাৎ হয় আপনি বড় পুঁজির সাথে সমঝোতা করে মুস্তাফা সুলেমানের মতো কর্পোরেট কাঠামোর অংশ হয়ে মিলিয়ন ডলারের বেতনভুক্ত কর্মচারী হবেন, নয়তো মোস্তাকের মতো হলে আপনাকে ঘাড় ধরে সিস্টেমের বাইরে বের করে দেওয়া হবে।
প্রযুক্তি পুঁজিপতিদের জন্য আশীর্বাদ। সাধারণ মানুষের জন্য এটা অভিশাপ না হোক, আপাতত আমার এইটুকু মাত্র কাম্য!
১০|
১৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:২৫
মাথা পাগলা বলেছেন: লেখক বলেছেন: ইরানে আমেরিকা-ইসরায়েলের যুদ্ধটা আমেরিকার যুদ্ধ নয়, এটা ইসরায়েলে যুদ্ধ। যাতে ইসরায়েলের পরিকল্পনার পথে বাধা ইরানকে মাটির সাথে মিশিয়ে ফেলে বৃহত্তর ইসরায়েল প্রতিষ্টা করা যায়।
শুধু ইসরায়েলের যুদ্ধ মানতে পারলাম না। ইরান-আম্রিকা দ্বন্দ্ব তো বহু বছর আগে থেকেই। স্ট্র্যাটেজিক দিক থেকে মিডিল ইস্টে নিজেদের প্রভাব ঠিক রাখার জন্য মিলিটারি, ট্যাকনলজির জন্য ইসরায়েলই বেস্ট অ্যালাই, যে কারনে আম্রিকা সব সময় ইসরায়েলকে সাপোর্ট দেয়। দুই দেশই ইন্টালিজেন্স শেয়ার করে। খালি চোখে দেখলে ইসরায়েলের যুদ্ধ মনে হবে। কিন্তু এখানে আম্রিকার স্বার্থ আরও বেশী জড়িত। শুধু ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ হলেও গালফ এরিয়াতে আম্রিকার বেস, তেল সবকিছুই টার্গেট হতে পারে।
আমার কাছে গ্রেটার ইজরায়েল বানানোর পরিকল্পনা থেকে নিউক প্রোগ্রাম, হিজবুল্লা, হামাজ জঙ্গি গোষ্টির বিরুদ্ধে যুদ্ধটা বেশী বাস্তব সম্মত মনে হয়। ইরান তো বর্ডার এলাকা না যে দেশ হিসেবে যোগ করবে। আর আজীবন কণ্ট্রোলের কথা যদি বলেন ইরাক, আফগানিস্তান কিন্তু ফেইল হয়েছে।
১৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:০৩
শ্রাবণধারা বলেছেন: "মাথা পাগলা বলেছেন: শুধু ইসরায়েলের যুদ্ধ মানতে পারলাম না।"
এটি আমার কথা নয়। এটা এখন প্রতিষ্ঠিত সত্য - যেটা খোদ জো কেন্ট নামে সদ্য পদত্যাগ করা আমেরিকার জাতীয় সন্ত্রাস দমন কেন্দ্রের প্রাক্তন পরিচালক জো কেন্ট এবং রিপালবলিকান আইন প্রণেতারাও স্বীকার করছেন।
হিজবুল্লা, হামাসের চেয়ে অনেক বড় এবং শক্তিশালী জঙ্গিগোষ্টি হলো ইসরায়েল। ইসরায়েলকে বুঝতে হলে আগে ইরগুন, লেহি ও হাগানাহর মতো সংগঠনগুলোর কাঠামো, সহিংস কৌশল, ব্রিটিশ আমলে তাদের সন্ত্রাসী হিসেবে স্বীকৃতি, এবং সেই আন্দোলনের নেতাদের পরবর্তীতে রাষ্ট্রক্ষমতায় ওঠার ইতিহাস জানা জরুরি।
তারপর ইরান সম্পর্কে জানতে হলে মোটামুটিভাবে আপনাকে এই ইতিহাসগুলো জানতে হবে:
১৯০১-৫০: ব্রিটিশরা ইরানের তেলের নিয়ন্ত্রণ নেয়; ইরান নিজ সম্পদ থেকেও খুব কম লাভ পায়।
১৯৫১: প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মোসাদ্দেক তেল জাতীয়করণ করেন।
১৯৫৩: সিআইএ ও এমআই৬ অভ্যুত্থান ঘটিয়ে তাকে অপসারণ করে এবং শাহকে বসায়, পশ্চিমা স্বার্থ রক্ষার জন্য।
১৯৫৩-১৯৭৯: শাহ পশ্চিমা সমর্থনে স্বৈরশাসন চালান; দমন-পীড়ন, বৈষম্য বাড়ে। এই সময় ইরান ও ইসরায়েল মিত্র ছিল।
১৯৭৯: গণবিপ্লবে শাহ উৎখাত হয়, এর পেছনে দীর্ঘ বিদেশি হস্তক্ষেপের ইতিহাস আছে।
মার্কিন ঘাঁটি, ইরাক যুদ্ধ, লেবানন সংঘাত, ইয়েমেন সংকট, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, সবই এই দীর্ঘ ভূরাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও সংঘাতের প্রেক্ষাপটে গড়ে উঠেছে। আর হামাস ও হিজবুল্লাহর উত্থানও আঞ্চলিক সংঘাত ও আগের নীতির ফল।
সবক্ষেত্রেই ইসরায়েলের সামরিক হস্তক্ষেপ আগে হয়েছে, তারপরে হামাস ও হিজবুল্লাহর প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
এগুলো সম্পর্কে খোলামনে জানার পরে আপনি আমার সাম্প্রতিক "এপস্টেইনের এলিট" লেখাগুলো পড়ে দেখতে পারেন! শুভকামনা।
১১|
১৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৪
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
আপনার মুল্যবান মন্তব্যটিকে সামান্য একটু ভারসাম্যমুলক করা যাক ।
আপনার উদ্বেগটা একেবারে ভিত্তিহীন এটা কোন ভাবেই বলা যাবে না। তবে বিষয়টাকে আপনি যে ভাবে দেখছেন
তাতে বাস্তব চিত্রটা আমার আর আপনার মধ্যকার প্রয়োগিক আলোচনার মাত্রাকে কে ছাড়িয়ে অনেক উচ্চমার্গে
চলে গেছে
।
প্রথমেই বলা যায় ইমাদ মোস্তাক-এর অবস্থান বা প্রভাব কমে যাওয়াকে ঘাড় ধরে সরিয়ে দেওয়া হিসেবে ব্যাখ্যার
কথাটি শুনলে ইমাদ কীভাবে নিবে তা জানিনা । তবে বলা যায় প্রযুক্তি জগতে নেতৃত্বের পরিবর্তন, বিনিয়োগের চাপ,
কৌশলগত ভুল এসবই খুব সাধারণ বিষয়। এখানে সবকিছু বড় পুঁজির ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখলে বড় পুঁজী নিয়ে
প্রযুক্তি জগতে বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়ে গেলে সেটা আমি আর আপনার মত মানুষজন শুধু নীজের আবেগ দিয়ে
পুষিয়ে নিতে পারব কী না সেটাও ভেবে দেখার মত বিষয় , যদি ইরানের মত বৃহত শক্তি তথা পুঁজির বিরোদ্ধে
জয়ী হওয়া যায় তাহলে কোন কথা নেই, তবে যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে বড় সর উন্নত প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও
বিকাশ কী ভাবে ঘটতে পারে তা নিয়েও ভাবনার অবকাশ আছে ।
দ্বিতীয়ত, বিল গেটস বা সত্য নাদেলাকে এমনভাবে উপস্থাপন করা যেন তারা কেবল জনদরদীদের কিনে নেয় বা
সরিয়ে দেয় এ বিষয়টি নিয়েও ভাবনার আবকাশ আছে । বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো লাভের জন্য কাজ করে এটা
খুবই সত্য কথা ।তবে বলা যায় বিল গেটস এর মত বড় পুঁজিপতিরা একই সঙ্গে গবেষণা, অবকাঠামো, এবং
প্রযুক্তির প্রসারে বিশাল অবদানও রাখে যা অস্বীকার করা যায় না। একটি উদাহরন হিসাবে বলা যায়
Bill & Melinda Gates Foundation বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ দাতব্য সংস্থা, যা মূলত স্বাস্থ্য, কৃষি, দারিদ্র্য হ্রাস,
শিক্ষা এবং প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নে কাজ করে। বাংলাদেশসহ বহু দেশে তাদের অবদান রাখে , যথা বাংলাদেশেই
তাদের সহায়তায় টিকাদান কর্মসূচি (EPI) শক্তিশালী করা, বিশেষ করে শিশুদের জন্য নতুন ভ্যাকসিন সরবরাহে
সহায়তা , ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও ডেটা ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন , ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য উন্নত বীজ, প্রযুক্তি ও কৃষি-সহায়তা
এবং স্যানিটেশন ও নিরাপদ পানি ব্যবস্থায় সহায়তা করে যাচ্ছে বলে জানি ।
অপর দিকে মুস্তাফা সুলেমান-এর মতো কেউ সামাজিক কাজ দিয়ে শুরু করে পরে কর্পোরেটে গেছেন এটাকে
সমঝোতা বলে না দেখে বলা যায় অনেক সময় বড় প্ল্যাটফর্মে গিয়ে কাজ করাই বৃহত্তর প্রভাব তৈরির সুযোগ দেয়
বলে ধরে নেয়া যায়। বাইরে থেকে পবিত্র থাকা আর ভেতরে গিয়ে পরিবর্তন আনার চেষ্টা দুটোই ভিন্ন পথ, কিন্তু
এটাকে নৈতিকভাবে অন্যরকম ভাবার কথাটা সুলেমান শুনলে জানি না কী বলত ।
আর প্রযুক্তি পুঁজিপতিদের জন্য আশীর্বাদ, আর সাধারণ মানুষের জন্য অভিশাপ এই সিদ্ধান্তটা এখনই টেনে ফেলা
কী একটু তাড়াহুড়ো হয়ে যায় না । বলা যায় প্রযুক্তি নিজে নিরপেক্ষ; এর ব্যবহারই নির্ধারণ করে তা আশীর্বাদ না
অভিশাপ হবে। আজকের এ আই যেমন ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ ঘটাচ্ছে, তেমনি জ্ঞান ও সুযোগের প্রসারও ঘটাচ্ছে
দুটোই একসাথে সত্য।
সমালোচনা অবশ্যই দরকার, কিন্তু সেটি যদি বিস্তারিত নিরপেক্ষ তথ্যভিত্তিক ও ভারসাম্যপূর্ণ না হয়, তাহলে তা
বিশ্লেষণের চেয়ে হতাশার প্রতিফলনই বেশি হয়ে দাঁড়ায়। তাই আমি চাইনা কেও প্রযুক্তি নিয়ে হতাশায় ভুগোক
তবে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিয়ে সচেতন থাকাটা প্রসংসাযোগ্য ।
শুভেচ্ছা রইল
১৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৫
শ্রাবণধারা বলেছেন: শ্রদ্ধেয় আলী ভাই, আপনার মন্তব্যের জন্য আবারও ধন্যবাদ।
আপনার প্রথম পয়েন্টটি নিয়ে আলোচনার অবকাশ আছে। অর্থাৎ বড় পুঁজির দোষ-গুণ, ভালো-মন্দ - এটা আলোচনার দাবি রাখে।
দ্বিতীয় পয়েন্টটি নিয়ে তেমন আলোচনার অবকাশ দেখি না। আপনার উল্লেখিত গেটস ফাউন্ডেশনের উদাহরণ থেকে মনে হয় আপনি সহজ চিন্তার হৃদয়বান মানুষ। আপনি আপনার হৃদয়ের সৌন্দর্য ও গভীর বিশ্বাস দিয়ে বিল গেটস সাহেবকে বিরাট হাতেম তাই মনে করেছেন!
এই কিছুদিন আগে মাইক্রোসফট আন্তর্জাতিক আদালতের প্রধান কৌঁসুলির ইমেইল অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছিল। কেন জানেন? সেই প্রধান কৌঁসুলি নেতানিয়াহু ও বেন গুরিয়নের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। পরে আন্তর্জাতিক আদালত মাইক্রোসফটের সাবস্ক্রিপশন বাতিল করে অন্য অ্যাপ ব্যবহার শুরু করে।
কিছুদিন আগে মাইক্রোসফট যে ওপেনএআই-কে চর দখলের মত করে দখল করতে চেয়েছিল, সেই খবর কি আপনি জানেন? ওপেনএআই একটা অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ছিল, মাইক্রোসফট কায়দা করে এটাকে মুনাফা কেন্দ্রিক বানিয়ে ছেড়েছে।
কোনো একজন মহৎপ্রাণ বিজ্ঞানী যদি আজ ক্যান্সারের প্রতিষেধক আবিষ্কার করে ঘোষণা দেন যে, এই ওষুধ সবার; এই ওষুধ আবিষ্কারে আমার পিতামাতা থেকে শুরু করে স্কুলের শিক্ষক, মুদি দোকানদার, কৃষক, দিনমজুর, সবার ভূমিকা আছে; সব মানুষ এই ওষুধ এখন থেকে বিনামূল্যে বা খুব কম দামে পাবে, সেই বিজ্ঞানীকে কি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো পাগলাগারদে পুরে রাখবে না? হ্যাঁ, তাই রাখবে। মাইক্রোসফটের বিষয়টাও সেরকম।
আপনাকে যে ঘাড়ে ধাক্কার কথা বলেছি, আমি নিজেই এই অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে গিয়েছি। গ্লোবাল করপোরেট বেনিয়ারা যে কতটা নিষ্ঠুরভাবে বাংলাদেশের মতো দেশকে অগ্রাজ্য করে, তুচ্ছ করে, শোষণ করে তার সাক্ষী আমি নিজেই। তবে আজ সে আলোচনায় যাচ্ছি না। আপনার জন্য শ্রদ্ধা ও শুভকামনা।
১২|
১৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:৩০
আলামিন১০৪ বলেছেন: আলী ভাই আপনার টাইপিং গতি কত? বাংলাতে?
আপনার মস্তিষ্ক এত দ্রুত যেভাবে চিন্তা করে ও আপনার আঙ্গুল সেগুলোকে কম্পিউটারের পর্দায় ফুটিয়ে তুলে তা সত্যই ঈর্ষণীয়
১৩|
২২ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:১৬
জুল ভার্ন বলেছেন: সাম্রাজ্যবাদী লুটারাদের ধ্বংশ হোক।
২৩ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:১৮
শ্রাবণধারা বলেছেন: ধন্যবাদ। আমিও তেমন টাই আশা করি। সাম্রাজ্যবাদী লুটেরাদের ফাটলগুলো এখন স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। এরা ধ্বংস হবার আগে পৃথিবীতে এরা আর কত ধ্বংস সাধন করবে, এটা ভেবে ভীত হই।
©somewhere in net ltd.
১|
১২ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২১
নিমো বলেছেন: কারও সারা হলে কারও শুরু হয়। এখানে কার আধিপত্যের শুরু হবে বলে মনে করেন?