নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

...............

শ্রাবণধারা

" আমাদের মতো প্রতিভাহীন লোক ঘরে বসিয়া নানারূপ কল্পনা করে, অবশেষে কার্যক্ষেত্রে নামিয়া ঘাড়ে লাঙল বহিয়া পশ্চাৎ হইতে ল্যাজমলা খাইয়া নতশিরে সহিষ্ণুভাবে প্রাত্যহিক মাটি-ভাঙার কাজ করিয়া সন্ধ্যাবেলায় এক-পেট জাবনা খাইতে পাইলেই সন্তুষ্ট থাকে......."

শ্রাবণধারা › বিস্তারিত পোস্টঃ

ইরান ও আমেরিকার সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারক সম্পর্কে

২৪ শে মে, ২০২৬ দুপুর ১:১৯


বিষয়টির শুরুতেই যেটা মনে রাখতে হবে, তা হলো, এই সমঝোতা স্মারক নিয়ে অতিরিক্ত আশাবাদী হওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি, কারণ এটি কেবল একটি সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারক মাত্র; মূল চুক্তির বিষয়গুলো চূড়ান্ত করতে আরও ৩০ দিন সময় রাখা হয়েছে। যাতে করে, ইরান ও আমেরিকা পারমাণবিক ইস্যু এবং হরমুজ প্রণালীর অবস্থানসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে। ইসরায়েল এখন তার সর্বশক্তি প্রয়োগ করবে এই চুক্তি যাতে স্বাক্ষরিত না হয় সেজন্য।

ইসরায়েল এখন পর্যন্ত এই সমঝোতা বিষয়ে চুপ করে আছে এবং কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে, আমেরিকায় ইসরায়েলের শক্তিশালী লবি ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে কথা বলা শুরু করেছে। এতে বোঝা যায়, নেতানিয়াহু ও তার সহযোগীরা এটা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। আমেরিকার কংগ্রেস সদস্য লিন্ডসে গ্রাহাম ও টেড ক্রুজ থেকে শুরু করে জায়নবাদীরা যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে, তাদের মাথা নষ্ট হয়ে গেছে। তবে, এটা একটি ভালো লক্ষণ! অর্থাৎ সমঝোতা স্মারকটি ট্রাম্পের নতুন কোন কারসাজি নয় বরং বেশ ভালো কিছু হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, এই চুক্তিতে মধ্যপ্রাচ্যের সবগুলো যুদ্ধ বন্ধের বিষয় অন্তর্ভুক্ত আছে, যার মধ্যে লেবাননও রয়েছে। ইরানের কয়েক বিলিয়ন ডলারের জব্দকৃত সম্পদ মুক্তি দেবার বিষয় আছে এবং ইরানে তাদের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ও এতে অন্তর্ভুক্ত আছে। এতে মনে হয়, বারাক ওবামার ইরান চুক্তিতে যে অর্থনৈতিক অবরোধ-সংক্রান্ত ধারাগুলো ছিল এই চুক্তিটি তার চেয়েও বিস্তৃত এবং ভালো হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানের নিকটবর্তী এলাকা অর্থাৎ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু ঘাটি থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের বিষয় এতে রয়েছে।

অন্যদিকে, পারমাণবিক ইস্যু এবং হরমুজ প্রণালীর চূড়ান্ত অবস্থান নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। গুরুত্বপূর্ণভাবে, এই প্রক্রিয়াটি শুধু আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে নয়, এতে জিসিসি দেশগুলো, যেমন সৌদি আবর, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাশাপাশি মিশর, জর্ডান ও তুরস্কের সমর্থন রয়েছে।

ইসরায়েল ও তাদের সহযোগীরা কেন বিরক্ত তা সহজেই বোঝা যায়, কিন্তু এই শর্তগুলো যুক্তিসঙ্গত। ইসরায়েল চেয়েছিল ইরানকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিতে এবং দক্ষিণ লেবানন দখল করে নিতে। সেটি আপাতত ব্যর্থ হয়েছে। এখন ট্রাম্পের উচিত তার ক্ষতি স্বীকার করে ইরান থেকে সরে আসা।

পরিশেষে: আমি ২৭ ফেব্রুয়ারির রাতে তেহেরানের এই ছবিটি ব্যবহার করে "আমেরিকার ইরান আক্রমণ ও ইসরায়েলের মধ্যপ্রাচ্য দখলের অভিসন্ধি" শিরোনামে একটি পোস্ট দিয়েছিলাম। তখন ছিল রমজান মাস এবং ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব পুরিমের ঠিক আগের সময়। খবর দেখে মনে হয়েছিল, ইসরায়েল খুব অল্প সময়ের মধ্যে ইরান আ্ক্রমণ করবে ও ইরানকে আরেকটি গাজায় পরিনত করার চেষ্টা করবে। তেহেরানের এই ছবিটি যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে আর নাও থাকতে পারে, এই ভাবনাটি আমাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। আশা করি, ইরানে তেমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে না এবং ইসরায়েলের সকল অপচেষ্টা ও ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। ইরান নিয়ে আমার আর নতুন করে কিছু না লিখলেও চলবে, এই কামনা করি।

(লেখাটি মূলত মিচেল প্লিটনিক নামের একজন লেখকের ফেসবুক পোস্ট ও ইরানি-সুইডিশ রাজনৈতিক বিশ্লেষক ত্রিতা পারসির আজকের কতগুলো ইন্টারভিউ থেকে নেওয়া।)

মন্তব্য ৩ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৩) মন্তব্য লিখুন

১| ২৪ শে মে, ২০২৬ দুপুর ১:২৯

মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: ভালো কিছু হোক। জায়ানবাদ থেকে শান্তিপ্রিয় মানুষ রক্ষা পাক।

২৪ শে মে, ২০২৬ দুপুর ১:৩৩

শ্রাবণধারা বলেছেন: হ্যাঁ ধন্যবাদ। কিন্তু ভেবে দেখুন, যখন আমি দিনের পর দিন ইরান যুদ্ধ নিয়ে পোস্ট দিচ্ছিলাম, তখন আপনি ইরানের শিয়া সম্প্রদায় নিয়ে কতগুলো আজগুবি কথা লিখে তাদের গালমন্দ করছিলেন।

২| ২৪ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৩:১৮

জুল ভার্ন বলেছেন: মার্কিন-ইহুদী জান্তার সাথে যেকোন চুক্তির ফুটোপয়সাও দাম নাই। নেতানিয়াহু-ট্রাম্প আন্তর্জাতিক স্রেফ বাটপার।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.