নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভাবছি ব্যবসা করবো। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

রাজীব নুর

আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি। কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।

রাজীব নুর › বিস্তারিত পোস্টঃ

রক্ষাকবচ

১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:৩৭



সফিকের সবচেয়ে বড় শখ এবং পেশা হচ্ছে মাছ ধরা।
প্রতিদিন নদীতে অথবা পুকুরে- কোনো না কোনো জায়গাতে মাছ ধরতে যাবেই। বাইশে শ্রাবনের এক দুপুরবেলা সফিক বড়শি নিয়ে মাছ ধরতে গেলো পাশের গ্রামের এক বড় দীঘিতে। দীঘির পাড়ে একটি বড় প্রাচীন বট গাছ। সফিক তারই ছায়ায় বসে বরশী ফেলল দীঘির জলে। আশেপাশে কোনো মানূষজন নেই, বাড়ি-ঘর গুলোও অনেক দূরে দূরে। দুপুরে কেন, কোনোও সময়েই এখানে কেউ মাছ ধরতে আসে না। লোক মূখে প্রচার আছে- এই জায়গাটার নাকি দোষ আছে। কিন্তু সফিকের কথা হচ্ছে- মাছ ধরব তা জায়গা খারাপ হলে আমার কি! বড় দুইটা কাতলা মাছ ধরে আমি বাড়ি চলে যাবো।

সফিক বড়শী ফেলে অনেকক্ষন ধরে বসে আছে।
কোনো মাছ আঁধার খাচ্ছে না। না কি মাছ নেই এই পুকুরে? সফিক মনে মনে খুব বিরক্ত হলো। একবার তার ইচ্ছা করলো- এখান থেকে উঠে যাবে। তখনই মাথার ভেতর কে যেনো বলল- আর একটু বসে যাও, মাছ পেতে পারো। আর এখান থেকে উঠেই বা কোথায় যাবে? চারিদিক কড়া রোদ। সফিকের খুব অস্থির লাগছে। গলা শুকিয়ে আসছে। সফিক হঠাৎ দেখলে তার বড়শীর ছিপির মাথায় একটা কালো রং এর সাপ ভেসে উঠেছে। সফিক খুব ভয় পেলো। ছোট আকারের সাপটি মাথা তুলে সফিকের দিকে তাকিয়ে আছে। সফিক মনে মনে ভাবল আজ আর কপালে মাছ নেই। সফিক ছিপটি টান দিতেই সাপটি মানুষের মতন কথা বলে উঠল- ভয় পেও না, আমি তোমার কোনো ক্ষতি করবো না, তবে এইটুকু তোমাকে বলি- এই সয়ম তোমার এখানে আসা ঠিক হয়নি, বলেই সাপটি পানির নিচে ডুব দিলো। সফিক অবাক হয়ে পানির দিকে তাকিয়ে রইল আর তখন আর একটি বড় সাপ পানির ভেতর থেকে উঠে বলল- তোমার নাম কি? সফিক তার নাম বলল।

সাপটি বলল- তুমি খুব ভাগ্যবান, তারপর সাপটি পানির নিচে ডুব দিলো।
সফিক অবাক হয়ে বসে ভাবতে লাগল- আজ কোনো মাছ পেলাম আর আমি নাকি ভাগ্যবান। সফিক যখন ভাবল চলে যাবে ঠিক তখনই পানির ভেতর থেকে খুব সুন্দর একটা মেয়ে ভেসে উঠল। মেয়েটার মাথা ভর্তি চুল আর সারা শরীরে গহনা। মুখটা মায়া দিয়ে ভরা। সফিক অবাক চোখে তাকিয়ে থাকল। এত সুন্দর মেয়ে তার জীবনে সে দেখেনি! মেয়েটি সফিকের পাশে এসে দাঁড়িয়ে বলল- তুমি কি জানো তোমাকে আমি অনেক ভালোবাসি?

সফিক মেয়েটির দিকে তাকিয়ে বলল- তুমি কে?
আমি তো তোমাকে ভালোবাসি না। মেয়েটি বেশ কিছুক্ষন হেসে বলল- তুমি আমাকে ভালোবাসো না, কথাটি বিশ্বাস করতে পারলাম না। তুমি সত্যি করে বলতো এতক্ষনে তুমি আমাকে ভালোবেসে ফেলনি? তোমার কি ইচ্ছা হয়নি আমাকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেতে? সফিক মিথ্যা বলতে পারলো না। বলল- তোমার মত এতো সুন্দরী মেয়ে আমি আমার জীবনে দেখিনি। তোমাকে ভালো না বেসে পারি? মেয়েটি সুন্দর এক ঝলক হাসি দিয়ে বলল, সত্য কথা বলার জন্য ধন্যবাদ । আমার পরিচয় হচ্ছে- আমি এই পুকুরের রানী, আমার অনুমতি ছাড়া এ পুকুরের কোনো মাছ খাদ্য গ্রহন করে না। তোমার বড়শীতে যে খাদ্য তুমি দিয়েছ তা এই পুকুরের কোনো মাছ আমার অনুমতি ছাড়া খাবে না। তুমি কত মাছ ধরতে চাও বলো? আমি সব ব্যবস্থা করে দিবো। শুধ মাছ নয়, অনেক মূল্যবান জিনিস তুমি চাইলে পাবে। শুধু আমার একটা কথা তোমার শুনতে হবে। সফিক বিড়বিড় করে বলল- কি কথা, বলো? মেয়েটি বলল- আমাকে বিয়ে করতে হবে। আমি মানূষ জাতিকে বিয়ে করতে চাই। একজন ভালো মানুষকে বিয়ে করতে চাই। তোমাকে আমার খুব ভালো লেগেছে। তুমি আসার আগে আমি বটগাছটার গুড়িতে বসে রবীন্দ্র সংগীত গাইছিলাম, তুমি আমাকে দেখতে পাওনি। এখন বলো, তুমি কি আমাকে বিয়ে করতে রাজী আছো?

সফিকের মাথায় যেন এক আকাশ ভাবনা এসে জড়ো হলো।
বিয়ে করবো না, একথাটা বলতে সাহস পাচ্ছে না। কেননা এতো সুন্দর মেয়ে। পুকুরের রানী'র রুপে মনে মনে সে প্রায় পাগল। তবুও বলল, তুমি হলে জলের রানী, আর আমি ডাঙ্গার মানুষ। তোমার আমার সাথে কি করে বিয়ে হবে? এ ও কি সম্ভব? মেয়েটি বলল, হুম সম্ভব। যদি তুমি আমাকে মন থেকে ভালোবাসো। তোমার ভালোবাসা দিয়ে আমাকে জয় করতে পারো। যদি তোমার ভালোবাসায় খাদ না থাকে। ঠিক এই সময় সফিক দেখলো- তার চারপাশে অসংখ্য সাপ ফণা তুলে তার দিকে তাকিয়ে আছে। সফিক ভেতরে ভেতরে খুব ভয় পাচ্ছে। আবার মেয়েটির সানিধ্যে মুগ্ধ হচ্ছে। মেয়েটির কাছ থেকে যেতে ইচ্ছা করছে না আবার থাকতেও ইচ্ছা করছে না। চারপাশ দিয়ে সাপগুলো ফণা তুলে আছে। চলে যাওয়ার সময় যদি সাপগুলো কামড় দেয়, যদি সে আর বাড়ি ফিরে যেতে না পারে, ভয়ে কিছুই বলতে পারছে না জলের দেবীকে।

মেয়েটি সফিকের মুখের দিকে তা্কিয়ে বলল- সফিক, তুমি ভয় পাচ্ছো কেন?
আমি তোমাকে আটকে রাখিনি। তুমি ইচ্ছা করলে চলে যেতে পারো। ওরা কেউ তোমার কোনো ক্ষতি করবে না। এই বলে মেয়েটি সাপগুলোর দিকে তাকিয়ে বলল- তোরা সব এখান থেকে চলে যা। আর তখনি সাপগুলো মাথা নিচু করে চলে গেলো। সফিক লম্বা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। মনে মনে বলল, হে জলের দেবী অনেক ধন্যবাদ। এবার সফিক জলের রানীর দিকে তাকিয়ে স্পষ্ট উচ্চারনে বলল- তুমি হলে রানী আর আমি হলাম একজন গরীব মানুষ। আমার ভাঙ্গা ঘরে তোমাকে কোথায় রাখবো। ভাঙ্গা ঘরে তোমাকে মানাবে না, তোমার প্রয়োজন রাজপ্রাসাদ। মেয়েটি বলল- সফিক, তুমি ধনী, কি গরিব এটা আমার কাছে কোনো ব্যাপার না। আমার কাছে তুমি অনেক বড়, অনেক ধনী। তুমি যদি বলো, আমি তোমাকে রাজপ্রাসাদের মতো বাড়ি বানিয়ে দিবো, আর তুমি যদি বলো, তোমার কুড়ে ঘরে থাকতে, আমি লক্ষ্মী মেয়ের মতন থাকব। বছরে দু'টা চুন্ডী শাড়ি তো কিনে দিতে পারবে? সফিক বলল- শোনো হে রানী, আমি খুব গরীব মানূষ। তোমাকে আমার ভাঙ্গা ঘরে রাখব এমন সাহস আমার নেই।

মেয়েটি কাঁদতে কাঁদতে বলল- বুঝেছি সফিক, তুমি তোমার সমাজকে ভয় পেয়েছো। আমার মতো নারীকে কেউ মেনে নিবে না। অনেকে নানান ধরনের কথা বলবে, তুমি তা সইতে পারবে না। আবার হয়তো প্রতিবাদ করার ক্ষমতাও তোমার নেই। তবে শোনো, আমি এমন কিছু তোমার জন্য করবো যে, কেউ তোমার উপর কথা বলার সাহস পাবে না। সফিক, আজ তুমি বাড়ি চলে যাও, তোমাকে জোর করে আটকে রাখতে চাই না। তুমি তোমার মা'র অনুমতি নিয়ে ফিরে এসো। কাল ফিরে এসে দেখবে, এখানে তৈরি থাকবে তোমার জন্য রাজপ্রাসাদ। আর শোনো, এবার সত্য কথা বলি, আমার জন্মের পঁচিশ বছরের মধ্যে যদি কোনো মানবজাতির পুরুষের সাথে বিয়ে না হয়- তবে আমি মারা যাবো। আগামীকাল আমার পঁচিশ বছর পূর্ণ হবে। কাল সূর্য ডোবার সাথে সাথে আমি মারা যাবো। তুমি আমার জীবনটা রক্ষা করো। আমি সারাটা জীবন তোমাকে এক আকাশ ভালোবাসায় ঘিরে রাখব। মধ্যরাত্রে চা খেতে ইচ্ছা করলে চা বানিয়ে দিবো। জলের রানীর দু'চোখ বেয়ে জল গড়াচ্ছে। মেয়েটি পুকুরে নেমে যাওয়ার আগে বলল, কাল সূর্য ডোবার আগে তুমি এসো, আমি এক আকাশ ভালোবাসা নিয়ে অপেক্ষায় থাকব।

সফিকের বুকের ভেতরটা ছটফট করতে লাগল। অনেক চেষ্টা করেও মেয়েটিকে আর দেখতে পেলো না। বাড়ি ফিরে সফিক মাকে সব বুঝিয়ে বলল। মা রাজি হলেন। সফিক সারা রাত অস্থিরতার মধ্যে কাটালো। একটুও ঘুম এলো না তার। একটা জীবন তার বাচাতেই হবে। শুধু জীবন বাঁচানো নয় তার জীবনও ধন্য হবে জলের দেবীর ভালোবাসা পেয়ে।

সকালের আলো ফুটতেই সফিক ছুটে গেলো সেই পুকুর পাড়ে। তখনো আকাশ পুরোপুরি ফর্সা হয়নি। পুকুরের জাগাটায় সত্যি সত্যি এক রাজপ্রাসাদ। রাজপ্রাসাদের বারান্দায় পথ চেয়ে দাঁড়িয়ে আছে- সুন্দরী এক তরুনী, তার মুখে এক আকাশ মায়া। জলের রানী। সফিক কাছে গিয়ে জলের দেবীকে জড়িয়ে ধরল। ফিসফিস করে বলল- ভালোবাসি। অনেক ভালোবাসি।

মন্তব্য ২২ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (২২) মন্তব্য লিখুন

১| ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:৪৪

ইসিয়াক বলেছেন: ভালোবাসি তোমাকে অনেক ভালোবাসি
ব্যাথা যত দাও না কেন , বারবার তবু ফিরে আসি ।।

১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:৫০

রাজীব নুর বলেছেন: হুম।

২| ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:৫৪

ইসিয়াক বলেছেন: এক আকাশ আশা নিয়ে পথচেয়ে বসে আছে জলদেবী
জীবনমৃত্যুর দোলায় দোদ্যুল্যমান তার জীবনের আশা ভরসা সবই ।।

এবার শুধু হুম বললে হবে না।

১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:০৫

রাজীব নুর বলেছেন: এই গল্পটা ছোট বাচ্চাদের জন্য লিখতে চেয়েছিলাম।
কিন্তু শেষমেষ কেমন এলোমেলো হয়ে গেল!!!

১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:০৫

রাজীব নুর বলেছেন: এই গল্পটা ছোট বাচ্চাদের জন্য লিখতে চেয়েছিলাম।
কিন্তু শেষমেষ কেমন এলোমেলো হয়ে গেল!!!

৩| ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:২৯

ইসিয়াক বলেছেন: রাজীব নূর ভাই
কাজী নজরুলের ওপর আপনার প্রশ্নের উত্তর গুলো এখনো পেলাম না ।
আমার উত্তরগুলো আজই চাই । দিতে হবে। হবেই।
এত আলসে হয়ে গেছেন কেন ?

১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৩৯

রাজীব নুর বলেছেন: আমাকে সময় দেন।
আমি কবিকে নিয়ে ১০০ পর্বের একটা ধারাবাহিক লিখব। প্রচুর বই দরকার। সংগ্রহ করছি।

৪| ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৪০

ইসিয়াক বলেছেন: রাজীব নুর বলেছেন: ছারপোকা ভয়াবহ। আমার জীবন প্রায় শেষ করে দিয়েছিল।
ছারপোকার গল্পটা বলেন । শুনি.........ও হ্যাঁ দেখি হো হো হো

১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৪৩

রাজীব নুর বলেছেন: গত ছয় মাস ধরে বিছানায় আরাম করে ঘুমাতে পারছি না। প্রতিদিন রাত্রে বিছানায় যাওয়ার পর কি যেন কুট কুট করে কামড়ায়। একদিন ঘুম থেকে উঠে বাতি জ্বালিয়ে দেখি ছোট ছোট অনেক গুলো পোকা। একটা পোকা মেরে দেখি পেট ভরতি রক্ত।এমন পোকা আমি আগে কখনো দেখিনি।সকাল বেলা মাকে বললাম- মা বলল পোকা গুলোর নাম ছার পোকা। এরা রক্ত খায়। দিনেরবেলা আর পোকাদের কথা মনে থাকে না। রাতে বিছানায় যাওয়ার পোকার কামড় খেয়ে- ছার পোকার কথা মনে পড়ে। সামান্য ছোট ছোট পোকা গুলোর জন্য ছয় মাস ধরে ঘুমাতে পারছি না। এই পোকা মারার জন্য সব রকমের ওষুধ দেওয়া হয়েছে- কোনো কাজ হয়নি, ( ডিডিটি পাউডার ছাড়া ) ।

একদিন বিরক্ত হয়ে বালিশ তোষক সব সরিয়ে দেখি- একশো দুইশো না, পাঁচ শো-সাত শো ছারপোকা। এই ভারি জাজিম তোষক ছয় তলার ছাদে নিয়ে গিয়ে রোদে দেওয়া সম্ভব নয়। এই ছোট পোকা গুলো আমার ঘুম হারাম করে দিয়েছে। আরে...রক্ত খাবি খা, কামড়ানর কি দরকার। কামড়ানোর পর লাল হয়ে ফুলে থাকে সারাদিন। আমার খালাতো বলেন বলেন- টাকা পয়সা বেশি হলে ঘরে ছারপোকার উপদ্রপ হয়। গভীর রাতে ঘুম থেকে উঠে শত শত ছারপোকা মেরে ওদের প্রতিহত করতে পারছি না। রাতে পোকা গুলো আমার শরীরের উপরে হাঁটা হাটি করে- আমি স্পষ্ট টের পাই। মাঝে মাঝে ইচ্ছা করে হাসপাতাল থেকে এক ব্যাগ রক্ত কিনে এনে বাটিতে করে ওদের খেতে দেই।

একদিন খবরের কাগজে দেখি- "বাসের সিটে ছারপোকার উৎপাত ঠেকাতে আগুন দেওয়া হয়েছে।" সেদিন রাগে দুঃখে মধ্যেরাত্রে সুনীলের একটি কবিতা মনে পড়ল- আমি কীরকম ভাবে বেঁচে আছি তুই এসে দেখে যা নিখিলেশ/এই কী মানুষজন্ম?/আমি আক্রোশে হেসে উঠি না,/ আমি ছারপোকার পাশে ছারপোকা হয়ে হাঁটি,/ মশা হয়ে উড়ি একদল মশার সঙ্গে;/খাঁটি অন্ধকারে স্ত্রীলোকের খুব মধ্যে ডুব দিয়ে দেখেছি দেশলাই জ্বেলে/আজকাল আমার নিজের চোখ দুটোও মনে হয় একপলক সত্যি চোখ। /এরকম সত্য পৃথিবীতে খুব বেশী নেই আর।" আমি আর বেশী দিন বাচবো না। এই ছারপোকা আমাকে অতিষ্ট করে দিয়েছে। ঈশ্বরের কি দরকার ছিল- ছারপোকা বানানোর?

মানুষের চোখে রয়েছে যখন একক লেন্স তথন পোকামাকড়ের চোখ অথ্যাৎ যৌগ চোখে রয়েছে অনেক ছোট চাক্ষুষ ইউনিট।একদিন এক পাজি ছারপোকা কানের ভেতরে ঢুকে গেল। হঠাত দেখি মোবাইল চার্জ হয়, কারন অনুসন্ধান করে দেখি- মোবাইলের ভেতরে তিন টা ছার পোকা। ছারপোকা শুধু আমার বাসায় না, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটা হলে হাজার হাজার ছারপোকা, রাজারবাগ পুলিশ লাইনের প্রতিটা ব্র্যাকে হাজার হাজার ছারপোকা।উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হল রয়েছে ১৭টি। এমন কি অনেক সরকারী হাসপাতা এবং অফিসেও হাজার হাজার ছারপোকা। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছি- এখন সব জাগায় ছারপোকা। দামী এসি বাসে আজকাল অনেক ছারপোকা পাওয়া যায়।কিছু মানুষও ছারপোকার মতন নিষ্ঠুর।

আসুন, ছার পোকা সমন্ধে কিছু যেনে নিই- ছারপোকা সিমিসিডে গোত্রের একটি ছোট্ট পরজীবী পতঙ্গবিশেষ।ইংরেজিতে বলে: Bed bug ।এটি রক্ত খেয়ে বেঁচে থাকে।মূলতঃ এ পোকাটি বিছানা, মশারী, বালিশের এক প্রান্তে বাসা বাঁধলেও ট্রেন কিংবা বাসের আসনেও এদের দেখা মেলে।পুরোপুরি নিশাচর না হলেও ছারপোকা সাধারণত রাতেই অধিক সক্রিয় থাকে এবং মানুষের অগোচরে রক্ত চোষে নেয়। মশার ন্যায ছোট্ট কামড় বসিয়ে এরা স্থান ত্যাগ করে। গত ছয় মাস ধরে বিছানায় আরাম করে ঘুমাতে পারছি না। প্রতিদিন রাত্রে বিছানায় যাওয়ার পর কি যেন কুট কুট করে কামড়ায়। একদিন ঘুম থেকে উঠে বাতি জ্বালিয়ে দেখি ছোট ছোট অনেক গুলো পোকা। একটা পোকা মেরে দেখি পেট ভরতি রক্ত।এমন পোকা আমি আগে কখনো দেখিনি।সকাল বেলা মাকে বললাম- মা বলল পোকা গুলোর নাম ছার পোকা। এরা রক্ত খায়। দিনেরবেলা আর পোকাদের কথা মনে থাকে না। রাতে বিছানায় যাওয়ার পোকার কামড় খেয়ে- ছার পোকার কথা মনে পড়ে। সামান্য ছোট ছোট পোকা গুলোর জন্য ছয় মাস ধরে ঘুমাতে পারছি না। এই পোকা মারার জন্য সব রকমের ওষুধ দেওয়া হয়েছে- কোনো কাজ হয়নি, ( ডিডিটি পাউডার ছাড়া ) ।

৫| ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৪৪

রাজীব নুর বলেছেন: ছারপোকা

৬| ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৫১

চাঁদগাজী বলেছেন:


সোজা কথায় মোটামুটি রূপকথা, ভালো

১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৫৫

রাজীব নুর বলেছেন: অবশ্যই রুপকথা। কিন্তু খেই হারিয়ে ফেলেছি।

৭| ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:২৫

ইসিয়াক বলেছেন: একবার যদি বাসা বানিয়ে ফেলে, এই জিনিস তাড়ানো খুব কঠিন। আপনাদের খাট বা অন্যকোনো আসবাবপত্র(যেটিতে ছাড়পোকার উৎপাত দেখা দিয়েছে) যদি কাঠের হয়, তাহলে প্রতি সপ্তাহে কিংবা দুই সপ্তাহে একবার খাটের সবগুলো কোনায় আর ফাঁকফোকর গুলোয় ফুটন্ত গরম পানি ঢেলে দিন। তারপর পানির সাথে লিটার প্রতি আনুমানিক ৫০মি.লি. পরিমান ফিনাইল মিশিয়ে সেই জায়গাগুলোতে স্প্রে করুন, একঘণ্টা পর কড়া রোদে শুকাতে দিন। বালিশ ও তোষক থেকে চাদর, কভার খুলে নিয়ে গরম পানি দিয়ে ভালভাবে ধুয়ে তুলে রাখুন। এবার বালিশ ও তোষকের ভাঁজে ভাঁজে এবং কোনায় কোনায় হাল্কাভাবে ফিনাইল মিশ্রণটি স্প্রে করে, পলিথিনের মধ্যে বায়ুরোধীভাবে ২/৩ ঘণ্টা বেঁধে রেখে দিন। তারপর খুলে কমপক্ষে ৩/৪ ঘণ্টা ধরে কড়া রোদে শুকিয়ে নিন, রোদে শুকানোর সময় একঘণ্টা পর পর উল্টে দেবেন। এভাবে প্রতি সপ্তাহে একবার করুন। একদের মাসের মধ্যে ছারপোকার উপদ্রব কমে যাবে। এতেও যদি কাজ না হয়, তাহলে উপরের পদ্ধতি চালিয়ে যান; পাশাপাশি আরেকটা কাজ করতে হবে। এক/দেড়মাসের জন্য বিছানার চাদর ও বালিশের কভার ব্যাবহার না করে তোষকের উপর বড় একটা রবারক্লথ এমনভাবে বিছিয়ে নিন যাতে তোষকের কোনও অংশ যেন রবারক্লথের বাইরে বেরিয়ে না থাকে। বালিশও রবারক্লথের নীচে ঢুকিয়ে দিন নয়তো পলিথিন দিয়ে মুড়ে নিন। এককথায়, এমন ব্যাবস্থা করবেন যাতে ঘুমানোর সময় বালিশ, তোষক এবং খাটের সাথে আপনার শরীরের কোন সংস্পর্শ না ঘটে। এইভাবে দুয়েকমাস চালিয়ে যান; সাথে ফিনাইল স্প্রে আর রোদে দেয়াও চালিয়ে যান। দুই মাসের মধ্যে অবশ্যই ছারপোকার উপদ্রব থেকে মুক্তি পাবেন।।

১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১২:৩০

রাজীব নুর বলেছেন: ছয় মাস বেশ কষ্ট করেছি। তারপর সমস্যার সমাধান করেছি। হে হে

৮| ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:৫০

আনমোনা বলেছেন: সুন্দর রূপকথা।

১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১২:৩১

রাজীব নুর বলেছেন: ধন্যবাদ।

৯| ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:০৪

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন: মাছ ধরতে যেতে হবে আড়িয়াল বিলে অথবা পদ্মা নদীতে।

১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১২:৩১

রাজীব নুর বলেছেন: আপনি দেশে ফিরলে দু'জনে মিলে যাবো মাছ ধরতে।

১০| ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:১৪

রাকিব আর পি এম সি বলেছেন: ভালবাসা মানে না কোন বাধা! সুন্দর হয়েছে গল্পটি।

১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১২:৩২

রাজীব নুর বলেছেন: ধন্যবাদ। ভালো থাকুন।

১১| ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:০৭

শাহাদাৎ হোসাইন (সত্যের ছায়া) বলেছেন: রুপকথা। এখন তো পোলাপান রুপকথা পড়তে চায়না। কিন্তু আমার রুপকথা পড়তে ভালো লাগে।

১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১২:৩২

রাজীব নুর বলেছেন: আমি নিজে এখন হাতের কাছে পেলে পড়ে ফেলি।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.