নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভাবছি ব্যবসা করবো। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

রাজীব নুর

আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি। কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।

রাজীব নুর › বিস্তারিত পোস্টঃ

৭১

১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১২:৫৫



দেশ স্বাধীন করার যুদ্ধে ১৯৭১ এ ঝাপিয়ে পড়েছিলো সব শ্রেনীর মানুষ। এই দেশের মানুষের পাশে খুব গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ছিলেন কিছু ভিনদেশী মহামানব ও মহামানবী। আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে তাদের সম্পর্কে বলতে হবে। আমরা স্বার্থপর জাতি নই। সেই সব মহা মানব- মানবীর হলেন- ভারত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী, কনসার্ট ফর বাংলাদেশের শিল্পী জর্জ হ্যারিসন, প্রখ্যাত সেতারবাদক পন্ডিত রবিশংকর, সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আলেক্সি কসিগান, যুক্তরাষ্ট্রের রিচার্ড টেইলর, মুম্বাইয়ের তৎকালীন প্রথম সারির নায়িকা ওয়াহিদা রহমান প্রমূখ।

৭১ এ ভারত আমাদের সহযোগিতা না করলে আমাদের খবর ছিল। সেই সময় প্রায় এক কোটি লোককে আশ্রয় দিলো ভারত। থাকার জায়গা দিলো, খাবার দিলো। ইন্দিরা গান্ধী দেশ বিদেশ ঘুরে ঘুরে আমাদের উপরে অত্যাচারের কথা জানাতে লাগলেন। স্বাধীনতা যুদ্ধ- আমাদের অনেক বড় পাওয়া। মহান মুক্তিযুদ্ধ দুঃসময়ে আমাদের সাহস দেয়- শক্তি দেয়। যে কোনো বাঁধার মুখে আমাদের বারবার মুক্তিযুদ্ধের কাছে ফিতে যেতে হবে।

স্বাধীনতার যুদ্ধ- বাঙ্গালী জাতির অনেক বড় পাওয়া আর প্রতিটা যোদ্ধা আমাদের কাছে এক আকাশ ভালোবাসা এবং সম্মানের পাত্র। তার মানে এই না যে- মুক্তিযুদ্ধকে যত্র-তত্র বেঁচে দিতে হবে। মুক্তিযুদ্ধকে পুজি করে- নিজের আখের গোছাতে হবে। আমি অনেক মুক্তিযোদ্ধাকে দেখেছি- তারা কোথাও গেলে- পরিচয় দেয়, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। আমি এই বিশাল লাইনে দাঁড়িয়ে (টিসিবি থেকে) তেল-চিনি ডাল নিতে পারব না। লাইনে না দাঁড়িয়ে আমি সদাইপাতি নিবো।

আমার ছেলেকে চাকরী দিতেই হবে। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা... অথবা আমার ছেলেকে ছেলেকে লেখাপড়ার সুযোগ দিতে হবে। সব জাগায় কেন বারবার নিম্ম মন-মানসিকতার মানূষের কাছে মুক্তিযুদ্ধকে হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিতে হবে? সামান্য একটা চাকরী অথবা একটু সুবিধা পাওয়ার জন্য? একজন মুক্তিযোদ্ধা কি চাকরী অথবা লাইনে না দাঁড়িয়ে ডাল আটা-চিনি নেওয়ার জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন? আবার কিছু কিছু লোক মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বড় বড় কথা বলে বেড়ায়- নিজে মহান সাজতে চায় কিন্তু আড়ালে তার সূর্য হাসে না। তবে খোশ মেজাজে দিন চলে যায়। কাজেই মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সকল ব্যবসা বন্ধ করতে হবে।

দেশ স্বাধীন হলো।
বঙ্গবন্ধু ছাড়া পেলেন কারাগার থেকে। তিনি দেশে ফিরে আনন্দে আত্মহারা হলেন। তিনি দেশ গড়ার কাজে মন দিলেন। তিনি মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে ফিরে এতটাই খুশি হলেন যে, তার মাথা আউলায়ে গেল। তিনি রাজাকারদের একে একে ক্ষমা করে দিতে লাগলেন। এই ক্ষমা করে দেওয়াটা অনেক বড় ভুল ছিল। দুষ্টলোক সারা জীবন দুষ্ট'ই থাকে। তারা গোপনে গোপনে বদমাশি শুরু করে দিল। সেদিকে বঙ্গবন্ধুর খেয়াল নেই। তার হাতে অনেক কাজ। একটা ভাঙ্গা দেশকে সোজা করা তো মুখের কথা না। এদিকে তার কাছের মানূষেরা দূর্নীতি শুরু করলো। সেদিকে তিনি মোটেও নজর দিলেন না।

একসময় বঙ্গবন্ধুকে আক্রমন করা হলো।
তিনি কাঁচা ঘুম থেকে উঠে এলেন বীরের মতন। ভেবেছিলেন বিরাট এক ধমক দিবেন। এই ভোর রাতে কারা ফাজলামো শুরু করেছে। এই দেশের মানুষের উপর বঙ্গবন্ধুর সীমাহীন আস্থা ছিল। তিনি কোনো দিনও ভাবতে পারেন নি এই দেশের লোক তাকে হত্যা করবে। একজন গ্রেট বাঙ্গালীকে হত্যা করা হলো। তার হত্যার মাধ্যমে প্রতিটা বাঙ্গালীর কপাল পুড়তে শুরু করলো। জিয়া উর রহমান ক্ষমতায় বসলেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর হত্যা নিয়ে কোনো কথা বললেন না। তিনি তার মতো কাজ করে যেতে থাকলেন। ক্ষমতায় গেলে মানুষের মাথা ঠিক থাকে না। জিয়া সাহেবও পাগলের মতো বেশ কিছু ভুল করে ফেললেন। যে সমস্ত রাজাকাররা এত দিন পালিয়ে ছিলেন। তাদের দেশে ফিরিয়ে আনলেন জিয়া। তাদের বড় বড় পদে বসালেন। ক্ষমতাবান ভুল গুলো জাতিকে বহু বছর পেছনে ফেলে দেয়।

সব কিছু মূলে হলো দেশভাগ।
দেশভাগ না হলে পরিস্থিতি অন্য রকম হতো।

মন্তব্য ৩২ টি রেটিং +৪/-০

মন্তব্য (৩২) মন্তব্য লিখুন

১| ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:১০

ইসিয়াক বলেছেন: সবকিছুর মূলে হলো দেশভাগ , দেশ ভাগের কষ্টটা আসলে খুব করে বুকে বাজে ।
আমার নানাদের পরিবার সেই আমলে লক্ষপতি থেকে রাতারাতি উদ্বাস্তুতে পরিণত হয়েছিলেন এক নিষ্ঠুর সিদ্ধান্তে।
রায়টে মধ্যে এক কাপড়ে কলকাতার শ্বেত পাথরের প্রাসাদ থেকে পূর্ববাংলার যশোরে এসে তাদের নিতান্ত এলেবেলে টাইপের বাড়িতে থাকতে হলো । তারা একসময়দেশ ভাগের কষ্ট বুকে নিয়ে ই মারা গেল। তাও তো বেনাপোলে তাদের জমিদারির কিছু অংশ ছিল বলে এদেশে সোজা হয়ে দাড়াতে পেরেছিলেন। কত হাজার লোক যে রাতারাতি ভিখারি হয়ে গিয়েছিলো তার পরিসংখান দেখলে আতকে উঠতে হয়।

১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:১৪

রাজীব নুর বলেছেন: আমারে নানা নানী সে সময় আসামে ব্যবসা করতেন। বিশাল ব্যবসা। কিন্তু তাদের বাধ্য হয়ে চলে আসতো হলো। টাকা পয়সা কিছুই সাথে করে আনতে পারেনি। ভাগ্যিস বিক্রমপুরে তাদের ঘর বাড়ি ছিল।

২| ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:১৬

ইসিয়াক বলেছেন: দেশ ভাগের উপর বইএর লিষ্ট
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় এর মাধব ও তার পারিপার্শ্বিক
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এর পূর্ব পশ্চিম ...................................।

পার্টিশান/ বাংলা ভাগের ইতিহাস
@The great Partition: The making of India and Pakistan-ইয়াসমিন খান
@The Sole Spokesman: Jinnah, the Muslim League and the Demand for Pakistan- Ayesha Jalal
@বাঙলা ভাগ হল- জয়া চ্যাটার্জী। ১৯৪৭ সালের বাংলা ভাগ নিয়ে অনবদ্য গবেষণা।
@ The Decline of the Caste Question: Jogendranath Mandal and the Defeat of Dalit Politics in Bengal- Dwaipayan Sen
@The Spoils of Partition: Bengal and India (1947–1967)-Joya Chatterji

১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:১৬

রাজীব নুর বলেছেন: দেশভাগ নিয়ে আমি একটা উপন্যাসে রকাজে হাত দিয়েছি। তাও প্রায় পাঁচ বছর হয়ে গেল। আজও শেষ করতে পারিনি।

সুনীল আর শীর্ষেন্দুর বই পড়েছি।

৩| ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:২০

ইসিয়াক বলেছেন: দেশ ভাগ নিয়ে কিছু বই: রিভিউ

ইতিহাসকে জার্মাণ দার্শনিক হেগেল (Hegel) তিনভাগে ভাগ করেছেন। মৌলিক ইতিহাস (Original History), ভাবমূলক ইতিহাস (Reflecting History) এবং দার্শনিক ইতিহাস (Philosophical History)। মৌলিক ইতিহাস হিসাবে হেগেল চিহ্নিত করেছেন গ্রিক ইতিহাসবিদ হিরোটাস বা থুকুডিডিসদের।
আর সেই ইতিহাসের পাতা থেকে আজ দেশ বিভাগ নিয়ে কিছু মিছু।

২রা সেপ্টেম্বর ১৯৪৫ জাপানের আত্মসমপর্ণের সাথেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসান ঘটে। যুদ্ধোত্তর ব্রিটেনে তখন শ্রমিক দলের সরকার ক্ষমতাসীন ছিল। ক্লিমেন্ট এটলি সেই সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। যুদ্ধ বিদ্ধস্ত ব্রিটেনের সরকার ভারতীয়দের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে উদ্‌গ্রীব হয়ে পড়ে। সে জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট ব্রিটিশ ক্যাবিনেট মিশন ভারতে পাঠানো হয়। সেই তিন সদস্যরা ছিলেন- লর্ড পেথ্রিক লরেন্স, স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রীপস্‌ ও মিঃ এ. ডি. আলেক্সজান্ডার। ক্যাবিনেট মিশনের পক্ষ থেকে ১৬ই মে ১৯৪৬ এক ঘোষণায় জানানো হয়- পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে মুসলিম লীগের দাবী অনুযায়ী পাকিস্তান সৃষ্টি করলেই সাম্প্রদায়িক সমস্যার সমাধান হবে না। সেটাকে মাথায় রেখেই ক্যাবিনেট মিশন ভারতের অখণ্ডতা বজায় রেখে ক্ষমতা হস্তান্তরের এক পরিকল্পনা তৈরী করে। সেটিই ইতিহাস খ্যাত ক্যাবিনেট মিশন প্ল্যান। তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি মৌলানা আজাদ ছিলেন তার রূপকার। প্ল্যানের এক নম্বর সুপারিশ ছিল-ব্রিটিশ ভারত ও করদ রাজ্যগুলো নিয়ে একটিই ভারত ইউনিয়ন গঠিত হবে। প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র ও যোগাযোগ এই তিনটি দপ্তরই শুধু ইউনিয়ন সরকারের হাতে থাকবে। উক্ত তিনটি বিষয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহের ক্ষমতাও ইউনিয়ন সরকারের হাতে থাকবে। বর্ণিত তিনটি বিষয় ছাড়া অন্যান্য বিষয় তথা উদ্বৃত্ত ক্ষমতা থাকবে প্রদেশ সমূহের।
প্রদেশগুলো এ-বি-সি এই তিনটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে নিজ নিজ সংবিধান তৈরী করবে। প্রস্তাবিত তিনটি গ্রুপের এ-গ্রুপ ছিল অমুসলিম প্রধান প্রদেশগুলো নিয়ে। বি-গ্রুপ ছিল মুসলিম প্রধান প্রদেশগুলো নিয়ে। বাংলা ও আসাম নিয়ে ছিল সি-গ্রুপ। ক্যাবিনেট মিশন প্ল্যানে ইউনিয়নস্তরে পাকিস্তান দাবী-আগ্রাহ্য হলেও-প্রদেশ স্তরে মুসলিম লীগের দাবী অনেকটাই মানা হয়ে যায়।
যে কয়টি প্রদেশ নিয়ে মুসলিম লীগ পাকিস্তান দাবী করছিল- ক্যাবিনেট মিশন প্ল্যনে আসাম সহ তার সব কয়টিই দুটি গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত হয়। (গ্রুপ-বি ও গ্রুপ-সি)। ওই সব প্রদেশের স্বতন্ত্র সংবিধান তথা শাসন ক্ষমতার অধিকারী হওয়ার বিষয়টা সুস্পষ্ট অবস্তুায় আসাতে মুসলিম লীগ ক্যাবিনেট মিশন প্ল্যান গ্রহণ করে।
(Mr. Jinnah had to admit that there could be no fairer solution of the minority problem than that presented in the Cabinet mission plan. He told the Council that the scheme presented by Cabinet mission was the maximum that we could secure. As such, he advised the muslim league to accept the scheme and the Council voted unanimously in its favour. India wins freedom. Revised version)
মুসলিম লীগ স্বতন্ত্র পাকিস্তান দাবী থেকে সরে আসায় দেশব্যাপী স্বস্তির বাতাবরণ তৈরী হয়। কিন্তু সেই স্বস্তির ছিল বিজলীর ক্ষণিক চমকের মতো ক্ষণস্থায়ী। গ্রুপ সি-তে বাংলা ও আসাম যুক্ত হলে মুসলিম জনসংখ্যা সামান্য বেশী হয়ে যেত। হিন্দু গরিষ্ঠ আসামের কংগ্রেস নেতৃত্ব ওই রকম গ্রুপিং-এ অন্তর্ভুক্ত হয়ে সংখ্যালঘু হতে রাজী ছিলেন না। এ বিষয়ে জাতীয় কংগ্রেসের ব্যাখ্যা ছিল-ক্যাবিনেট মিশন পস্ন্যান অনুযায়ী প্রদেশগুলো ইচ্ছে করলে গ্রুপিং থেকে বের হয়ে যেতে পারে। মুসলিম লীগের ব্যাখ্যা ছিল তার বিপরীত। লীগের মতে একবার গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত হলে আর বের হওয়া যাবে না। এ বিষয়ে ব্রিটিশ সরকারের অভিমত মুসলিম লীগের পক্ষে যায়। এই টানাপোড়েনের ফলে শেষ পর্যন্ত ক্যাবিনেট মিশন প্ল্যান পরিত্যক্ত হয়। পরবর্তী ইতিহাস ক্ষমতা হস্তান্তরের অনিৱম অধ্যায়। সেই অধ্যায়টি ছিল বেপরোয়া ক্ষিপ্রগতির। ক্যাবিনেট মিশন প্ল্যান ব্যর্থ হলে ব্রিটিশ সরকার নিঃসন্দেহ হয়ে যায়- ভারত বিভাগ এড়ানো যাবে না। পরবর্তী ভাইসরয় ও গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন লর্ড লুই মাউন্টব্যাটেন। ভারতে আসার আগেই মাউন্টব্যাটেন ক্ষমতা হস্তান্তরের সময়সীমা বেঁধে দেয়ার জন্য ব্রিটিশ সরকারের নিকট আর্জি জানান। এটলি সরকার সেই মতে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ইঙ্গিত দেন- ১৯৪৮ সালের জুন মাসের মধ্যে ভারতীয়দের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরিত হবে। মাউন্টব্যাটেন ভারতে আসেন ১৯৪৭ সালের মার্চ মাসে। ভারত ভাগ এড়াতে মাউন্টব্যাটেন এক অদ্ভুত প্রস্তাব উপস্তুাপন করেন। সেটি ‘প্ল্যান বলকান। তার সারমর্ম ছিল- ইউরোপের বলকান দেশগুলোর মতো ক্ষমতা হস্তান্তর করা। মাউন্টব্যাটেনের পূর্বসূরী লর্ড ওয়াভেলও ‘অপারেশন ব্রেকডাউন নামে একটি পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছিলেন। তাতে ভারতকে কয়েকটি অঞ্চলে ভাগ করে সে সব অঞ্চলের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করার কথা ছিল। কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ উভয় দল দ্বারাই ওই অবাস্তব পরিকল্পনা দুটি বাতিল করা হয়। প্রকৃতপক্ষে অপারেশন ব্রেকডাউন ও পস্ন্যান বলকান দুটিই ছিল ‘আই ওয়াশ্‌’ গোত্রীয়। ব্রিটিশ সরকার আন্তরিকভাবেই ভারত বিভাগ চায় না- এরকম একটা ভনিতার প্রয়োজনে ওই অবাস্তব পদক্ষেপ দুটি নেয়া হয়েছিল। ক্যাবিনেট মিশন পস্ন্যান, অপারেশন
ব্রেকডাউন ও পস্ন্যান বলকান দুটিই ছিল ‘আই ওয়াশ্‌’ গোত্রীয়। ব্রিটিশ সরকার আন্তরিকভাবেই ভারত বিভাগ চায় না- এরকম একটা ভনিতার প্রয়োজনে ওই অবাস্তব পদক্ষেপ দুটি নেয়া হয়েছিল। ক্যাবিনেট মিশন পস্ন্যান, অপারেশন ব্রেকডাউন ও প্ল্যান বলকান ফলপ্রসূ না হওয়ায় দেশবিভাগ অনিবার্য হয়ে পড়ে। ব্রিটিশ সরকারের সেই প্রকৃত অভিপ্রায়কে ফলতি রূপ দিতে মাউন্টব্যাটেন এক অভিনব কৌশল অবলম্বন করেন। মাউন্টব্যাটেন জানতেন- কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে মুসলিম লীগ সুপ্রিমো জিন্নার যে সুদীর্ঘ টানাপোড়েন চলছে তাতে উভয় অংশই ত্যাক্তবিরক্ত হয়ে পড়েছেন। তাঁদের ধৈর্যচ্যুতি ক্রমশই বাড়ছে। তা পরিলক্ষিত করে মাউন্টব্যাটেন ক্ষমতা হস্তান্তর দশ মাস এগিয়ে ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট করায় কৌশল নিলেন। সেটাকে সন্দেহ মুক্ত তথা বিশ্বাসযোগ্যতা দিতে মাউন্টব্যাটেন কংগ্রেস নেতৃত্বের সামনে একটি ‘টোপ’ রাখেন।
সেটি ছিল- কংগ্রেস যদি কমনওয়েলথে থাকতে প্রথমাবধিই রাজী থাকে তা হলে ক্ষমতা হস্তান্তর দশ মাস আগেই হবে। চরম ধৈর্যচ্যুত কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব তাতে রাজী হয়ে যান। মুসলিম লীগের কমনওয়েলথে থাকতে প্রথমাবধিই আপত্তি ছিল না। তাছাড়া পাকিস্তান হাতের মুঠোয় চলে আসায় জিন্না আর দর কষাকষিতে না যাওয়াই ভাল মনে করেন। তাই খন্ডিত ও পোকায় খাওয়া (জিন্নার ভাষায়) পাকিস্তানেই রাজী হয়ে যান। জিন্নার রাজী হবার আরেকটি গুরুতর কারণ ছিল। আর কেউ না জানুক জিন্না নিজে জানতেন তাঁর দূরারোগ্য ক্ষয়রোগ হয়েছে। চিকিৎসক তাঁকে জানিয়েছেন, তিনি আর ছয় মাস বাঁচবেন। জিন্না এটাও জানতেন তিনি যদি পাকিস্তান সৃষ্টি করে না যেতে পারেন তা হলে পাকিস্তান বাস্তবায়িত হবে না। ভারত উপমহাদেশের শীর্ষ নেতৃত্বের ধৈর্যচ্যুতির সুযোগটাকে কাজে লাগাতে মাউন্টব্যাটেন ঘড়ির কাঁটাকে এগিয়ে আনেন। এতেই তাঁর তথা ব্রিটিশ সরকারের অভীষ্ট সিদ্ধ হয়। মাউন্টব্যাটেনের কৌশল মাফিকই ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট মধ্য রাতে দেশ বিভাগ, ক্ষমতা হস্তান্তর ও ভারত ও পাকিস্তান দুটি ডমিনিয়নের সৃষ্টি হয়।

<বই: পূর্ব-পশ্চিম
<লেখক: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

ভারত-পাকিস্তান দেশ ভাগ নিয়ে বাংলায় মনে হয় সেরা উপন্যাস সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের পূর্ব-পশ্চিম। শুধুমাত্র ধর্মের দোহাই দিয়ে আর রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য যুগ যুগ ধরে একসাথে মিলে মিশে বাস করা মানুষগুলো একে অপর থেকে আলাদা হয়ে গেল। মর্মান্তিক ও ঐতিহাসিকও বটে।
লেখক মূলত 'পূর্ব-পশ্চিম' দুই বাংলার বিভাজন নিয়ে লিখেছেন। যাদের মুখের ভাষা ছিল এক, সংস্কৃতি, আচার-ব্যবহার অনেকটা একই। তারপরেও তারা আলাদা হতে বাধ্য হলেন ধর্মের জন্য।
অনেকেই তাদের বাপ-দাদার ভিটা ছেড়ে চলে গেলেন ওপার বাংলায় আবার কেউ আসলেন এপার বাংলায়। যাদের পরিচিতজন কেউ নেই তারা হয়ে গেলেন উদ্বাস্তু। হঠাৎ করে ঠিকানা পরিবর্তন করায় অনেকেই হয়ে পড়েন গৃহহীন, কর্মহারা। তাছাড়া সরকার ও রাষ্ট্র ব্যবস্থাও তাদের সহায়তায় হিমশিম খেয়ে যান। পথে পথে অন্নহারা মানুষের হাহাকার। সব মিলিয়ে অত্যন্ত করুণ অবস্থা।
এমনই সময়ে দুই বাংলায় কয়েকটি পরিবারের কাহীনি নিয়ে উপন্যাস 'পূর্ব-পশ্চিম'। দেশ ভাগ নিয়ে তাদের বিড়ম্বনা, আপনজনদের সাথে বিচ্ছেদ সব কিছুই দারুণ ভাবে উপস্থাপন করেছেন সুনীল অত্যন্ত নিপুন হাতে। তাছারাও সেই সময়ে আমাদের বাংলায় রাজনীতিতে মাওলানা ভাসানী, বঙ্গবন্ধু সহ দেশবরণ্যে নেতাদের রাজনৈতিক কর্মকান্ড, ৫২'র ভাষা আন্দোলনের কথাও উঠে এসেছে লেখকের বর্ণনায়।
৫০০ পাতার বড় একটি বই হলেও এমন নেশা লাগানো গল্প যে পুরোটা পড়ে শেষ না করা পর্যন্ত ছাড়া যায় না। সাদা কাগজের জমিনের উপর কালো কালির রেখা মানুষকে কাদাতেও পারে! উপসংহারটা পড়ে আমারও এই দশা হয়েছিল। এমন একটা বই বার বার পড়লেও কেমন যেন প্রত্যেকবারই নতুন মনে হয়।
**ডাউনলোড লিংক:
http://www.amarboi.com/…/sunil-gangopadhyay-purbo-poshchim.…

<বই:দেশ বিভাগ : ফিরে দেখা’
<লেখক:আহমদ রফিকের

দেশ ভাগ এমন একটি ট্র্যাজেডি আমরা তার পরিমাপ এখনও করতে পারিনি। এটা অনিবার্য ছিল না, তারই বহির্প্রকাশ এই বই। তিনি নিরপেক্ষভাবে তথ্যসংবলিত অনুসন্ধানে বইটি লিখেছেন। এটা কোন ইতিহাসের বই নয়, এটা ইতিহাসের বিশ্লেষণ।, ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক এই তিনটি প্রেক্ষাপট নিয়ে বইটি লেখা হয়েছে। এতে গান্ধীজীসহ অনেকের প্রচুর সমালোচনাও আছে। কয়েকজনের ভুলের মাসুল এই দেশ ভাগ এটা তুলে ধরা হয়েছে। সকল ধর্মের প্রতি স্বচ্ছ দৃষ্টিতে একই রকম উপমা বিন্যাস করা হয়েছে।
<বই:কেয়াপাতার নৌকা
<লেখক:প্রফুল্ল রায়

এ উপন্যাসটিতে ঔপন্যাসিক দারুন ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন বাধ্য হয়ে বাংলাদেশ (তৎকালীন পূর্বপাকিস্তান) ত্যাগ করে পশ্চিম বঙ্গে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের নিদারুন কষ্ট। বাংলার বাঙালেরা ওপার বাংলার ঘটিদের কাছে কীভাবে তাচ্ছিল্যের শিকার হয়েছেন তা ফুটে উঠেছে উপন্যাসটিতে, আরো ফুটে উঠেছে গত শতাব্দির চল্লিশ থেকে ষাট দশকের পূর্ব বাংলার অপূর্ব চিত্রায়ন।
কেয়াপাতার নৌকা’ (২০০৩), ‘শতধারায় বয়ে যায়’ (২০০৮), ‘উত্তাল সময়ের ইতিকথা’ (২০১৪), ‘নোনা জল মিঠে মাটি’ (বাং ১৩৬৬)। ‘কেয়াপাতার নৌকা’, ‘শতধারায় বয়ে যায়’, ‘উত্তাল সময়ের ইতিকথা’ আকারে এবং নামে আলাদা হলেও আসলে তিনটি উপন্যাস মিলেই একটি উপন্যাস, ‘কেয়াপাতার নৌকো’র পরবর্তী খণ্ড ‘শতধারায় বয়ে যায়’ এবং তারও পরবর্তী খণ্ড ‘উত্তাল সময়ের ইতিকথা’। তিনটি উপন্যাসই আকারে মহাকাব্যিক।
<বই:আগুনপাখি
<লেখক:হাসান আজিজুল হক
গাঁয়ের একটি মেয়ে, বাপের বাড়ি শ্বশুরবাড়ির বাইরে সে জানে চারপাশের মানুষজনকে, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই হিন্দু । হিন্দু বলে তারা যে আলাদা, তেমন তো কিছু বোঝেনা সে । গভীর মমতায় সে গড়ে তোলে তাদের বড় একান্নবর্তী সংসার, আর রাতের নিরালায় স্বামীর কাছে শিখে নেয় অল্পসল্প লেখাপড়া । সুখ দুঃখ এর নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে সে দেখে কেমন করে তার স্বামী জড়িয়ে পড়ে সামাজিক কাজে, হিন্দু মুসলমান দুই সম্প্রদায় এর কাছেই কতটা প্রিয় এক নেতা হয়ে ওঠে সে। কিন্তু হঠাত যেন পাল্টে যায় সব। তাদের একান্নবর্তী সংসারেও ধরে ভাঙ্গন, আর বাইরেও কোথা থেকে রব ওঠে যে দেশটাও নাকি ভাগ হয়ে যাবে । তা কি করে হয় ? দেশ আবার ভাগ হয় কেমন করে ? অবিশ্বাস্য সেই ঘটনাও সত্য হলো একদিন। মুসলমান পাড়া প্রতিবেশীরা চলে যেতে লাগলো ভিটে ছেড়ে । পরিজনেরাও । কিন্তু সে? না , সে কিছুতেই যাবেনা, কেননা, সে বলে "আমি আমাকে পাবার লেগেই এত কিছু ছেড়েছি। আমি জেদ করি নাই। কারুর কথার অবাধ্য হই নাই। আমি সবকিছু শুদু লিজে বুঝে নিতে চেয়েছি। আমাকে কেউ বোঝাইতে পারলে না ক্যানে আলেদা একটা দ্যাশ হয়েছে গোঁজামিল দিয়ে যিখানে শুধু মোসলমান থাকবে কিন্তুক হিঁদু কেরেস্তানও আবার থাকতে পারবে। তাইলে আলেদা কিসের? আমাকে কেউ বোঝাইতে পারলে না যি সেই দ্যাশটা আমি মোসলমান বলেই আমার দ্যাশ আর এই দ্যাশটা আমার লয়।’ (পৃ. ১৫৮)

**ডাউনলোড লিংক:
http://www.amarboi.com/…/aagun-pakhi-hasan-azizul-hoque.htm…
<বই:নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজে
<লেখক:অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়
নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজে’, যার মধ্যে তার পুরো স্বত্তা ডুবে আছে। একই সিরিজের আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য উপন্যাস গুলো হোল, ‘মানুষের ঘরবাড়ী’, ‘অলৌকিক জলযান’ এবং ‘ইশ্বরের বাগান’। দেশভাগ নিয়ে অতীন উদ্বাস্তু পরিবারগুলোকে নিয়ে লিখেছেন, জন্ম দিয়েছেন নানা অভিনব চরিত্র।

বিপুল বাংলাদেশের ছোট্ট একটি গ্রামের কথা। আর সেই ছোট্ট গ্রামটির মধ্যে দিয়েই গোটা বংগদেশকে এঁকেছেন লেখক। প্লট স্বাধীনতার আগে থেকে শুরু। আছে রায়টের ক্ষুদ্র প্রচ্ছদ, মুসলিম লীগের তৎপরতার কথা। আর সেই সাথে ধানের শীষে আর নদীর বহমানতায় বাঙালির জীবন, বৃহৎ অর্থে বাংলাদেশের জীবন এবং তার রঙ।
এইবার আবার পাড়ি দিতে হবে কোন গভীর অরণ্যে! যেখানে কবরে শুয়ে আছে চির দুঃখিনী জালালি, যেখানে সামসুদ্দিন আর রঞ্জিত মালতীকে নিয়ে ছুটছে ধানের শীষ কুড়াতে, যেখানে দুর্গাপুজোর দিনে অমলা আর কমলা পরী সেজে ঘোড়ার গাড়িতে ঘুরে বেড়ায়, যেখানে বড় বৌমণি ঠাকুর বাড়িতে সন্ধ্যায় ধুপ দেয় আর ধন বৌ গেছেন রান্নার আয়োজনে। এখনো হয়তো কাঁঠাল গাছটঠালনীচে অপেক্ষা করছে ফতিমা তার প্রিয় সোনা ঠাকুর আসবে বলে, তারপর ওরা ছুটবে ধান খেতের আল ধরে। সেখানে হয়তো স্থির হয়ে আছে ফকিরসাবের কিংবদন্তি বনে যাওয়া দেহটা, জুটন বসে আছে চুপচাপ, নরেন দাস এখনো বেঁচে আছে একটা শূন্য দৃষ্টি নিয়ে, আবেদালি এখনো কাঁদে তার কুলাঙ্গার ছেলের অসভ্য নষ্ট কাজের জন্য, আন্নুকে এখনো সন্দেহ করে ফেলু আর তার পঙ্গু হাতটা নিয়ে বিড়বিড় করে বলে উঠে – হালার কাউয়া... সেই মাঠ, পাটক্ষেত, চারিদিকে সবুজ ধান আর নদীর জীবনে মানুষগুলির জীবন সংগ্রাম। সোনা জোড়ে জোড়ে পড়ছে – পাতায় পাতায় পরে নিশির শিশির।
চলে যাবো সেই পথ ধরে...
পথেই দেখা হয়ে যাবে পাগলা ঠাকুরের সাথে, উনার সাথে আমি পলিন'কে খুঁজতে বেরুব কিংবা সোনালি বালির চরে হারিয়ে যাবো রোদ দেখতে দেখতে, আর তারপর গল্পের খাতার বাইরে এসে উল্টো সুরে আমাদের পথ দেখাবে ছোট্ট সোনা আর তার পাশে পায়ে পায়ে হাঁটবে আশ্বিনের কুকুর । ঘাটে তখন পাটাতনের উপর অপেক্ষা করছে ঈশম, চলো এবার সোনালি বালির নদীর তলে হারিয়ে যাই, হারিয়ে যাই রূপকথার নৌকা তুলে আনার জন্য। বিশাল দৈত্যের হাত থেকে উদ্ধার করলেই ভেসে উঠবে সোনার নৌকা, রুপার বৈঠা, এবং ভেসে বেরাতে বেরাতে অনেক দূরের খোয়াই দেখা যাবে আর উপরে নীল আকাশ, উড়ছে হাজার হাজার নীলকণ্ঠ পাখি।

এ ছাড়া পড়তে পারেন ****
সমরেশ বসুর ‘সওদাগর
’রমেশচন্দ্র সেনের ‘পুব থেকে পশ্চিমে’,
জ্যোতিরিন্দ্র নন্দীর ‘বারো ঘর এক উঠান’,
প্রফুল্ল রায়ের ‘কেয়াপাতার নৌকো’,
মাহমুদুল হকের ‘কালো বরফ’,
হাসান আজিজুল হকের ‘আগুনপাখি’
অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজে’,
মিহির সেনগুপ্তের ‘বিষাদবৃক্ষ

১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:১৯

রাজীব নুর বলেছেন: গত রমজান মাসে পূর্ব পশ্চিম পড়া শুরু করছিলাম। গতকাল শেষ করেছি। দুই খন্ড।
অবশ্য চার বছর আগেও এই বই একবার পড়েছি।
নতুন বই একেবারে নেই, তাই পুরান পড়া বই গুলোই আবার পড়ছি।

৪| ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:৪৬

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন: সুন্দর পোস্ট।

১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:২০

রাজীব নুর বলেছেন: ধন্যবাদ। ভালো থাকুন।

৫| ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:৩০

বলেছেন: দেশভাগে যদি সমস্যাই হয় তবে আবারো দেশজোড়া করে দেওয়া হোক।।।

১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:২৩

রাজীব নুর বলেছেন: সেটা কি কেউ মানবে। ইংরেজরা এই ভেজালটা করে গেছে।

৬| ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:৩০

ইসিয়াক বলেছেন: আজকের পোষ্টটি আমারও ভালো লেগেছে। ++++++++
রাজীব ভাই আমি এই প্রথম লক্ষ্য করলাম সামুতে আমার প্রথম পোষ্টে আপনি একমাত্র কমেন্ট করেছেন ।
So I say "You are a great man."
Thanks.

১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:২৩

রাজীব নুর বলেছেন: আমি আছি আপনার আথে।

৭| ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:০৭

রাকিব আর পি এম সি বলেছেন: যারা নিজেদের মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ের দাম্ভিকতা করে, আমার মনে প্রশ্ন জাগে, তারা কি আদৌ প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা! লেখাটি সুন্দর হয়েছে। আর ইসিয়াক ভাইয়ের মন্তব্যটি নিজেই একটি পোস্টের দাবীদার। চমৎকার। উভয়কেই অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।

১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:২৪

রাজীব নুর বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।
ভালোবাসা জানবেন।

৮| ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:২৩

এমজেডএফ বলেছেন: ভালো পোস্ট।
দেশ ভাগ না হলে আমাদের ইতিহাস অন্যরকম হতো এটা ঠিক। কিন্তু কীরকম হতো সেটা অনিশ্চিত!
তবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম না হলে এদেশ স্বাধীন হতো না, এ দেশ স্বাধীন না হলে আমরা পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদের অবস্থা আজকের রোহিঙ্গাদের চেয়েও খারাপ হতো - এটা নিশ্চিত।

পোস্টে প্লাস, সেইসাথে তথ্যসমৃদ্ধ মন্তব্যের জন্য ইসিয়াককে ডাবল প্লাস।

১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:২৭

রাজীব নুর বলেছেন: দেশভাগের কারনে অসংখ্য মানুষ ছন্নছাড়া হয়ে যায়। অনেক ধনী পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করতে বাধ্য হয়। আমি আমার দাদার কাছে শুনেছি, দেশভাগের কারনে তাদের ওপারে চলে যেতে হয়েছে। এবং তারা বাকি জীবনে আর এপারে আসেন নি। কারন নিজের বাপ দাদার বসত ভিটায় আসার জন্য তাদের পাসপোর্ট লাগবে- এই দুঃখে।

৯| ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:১১

চাঁদগাজী বলেছেন:


প্রতি ৪ জনে ১ জন আসল মুক্তিযোদ্ধা, যারা নিজকে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিয়ে সুযোগ চাচ্ছে, সে নকল মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার সম্ভাবনা শতকরা ৭৫ ভাগ।

১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:৩১

রাজীব নুর বলেছেন: অনেকে যুদ্ধ করেও নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা বলে না। আর অনেকে যুদ্ধ না করেও নানান সুযোগ সুবিধা ভোগ করছে। আমি একজঙ্কে দেখি, সে নিয়মিত তেল ডাল পায়, টাকা পায়। কিন্তু এই লোক মুক্তিযোদ্ধা নয়।

১০| ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:১৫

চাঁদগাজী বলেছেন:


২০/২২ জন মিলিটারী অফিসার তাদের অধীনস্হ ৪০০ সৈন্যকে সাথে নিয়ে শেখ সাহেবকে হত্যা করলো; সেটাকে "ক্যু" হিসেবে মানেনি সেনাপ্রধান জেনারেল শফি উল্লাহ; তাই, উনাকে সরালো জিয়ার লোকেরা। এই জিয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বীর থেকে বদলে, জামাত ও মুসলিম লীগারদের বীর ও নেতাতে পরিণত হলো!

১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:৩২

রাজীব নুর বলেছেন: শেখ মুজিবকে যখন হত্যা করা হলো, তখন সম্ভবত শফি উল্লাহ ঢাকায় ছিলেন না।
জিয়া কেন রাজাকাদের সাপোর্ট করলো এটা আমার মাথায় আসে না!!

১১| ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:২২

Farhana Sharmin বলেছেন: অনেকদিন পর ব্লগে ঢুকতে পেরেছি। ঢুকেই আপনার লেখা পড়লাম। ভাল লেগেছে।

১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:৩৩

রাজীব নুর বলেছেন: ধন্যবাদ বোন।

১২| ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:৩৪

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




চাঁদগাজী ভাই, ক্যু কাউন্টার ক্যু সম্পর্কে আজকের জেনারেশন জানে না, তাদের জানানোর প্রয়োজনও মনে করি না। তারা ফেসবুকে লাম্পট্য করবে আর ব্লগে এসে আজেবাজে কথা বলে বিশেষ কোনো এক ধর্ম প্রচার করবে এটা তাদের নেশা ও পেশা। ইগনোর করেন - ইগনোর করেন।

১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:৩৪

রাজীব নুর বলেছেন: !

১৩| ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:২৫

ইসিয়াক বলেছেন: রাজীব ভাই আগামী কাল আমি একটু অন্য টাইপের পোষ্ট দেব । আজ বন্ধের দিন অনেক খাটাখাটুনি করে শেষ করলাম কিছুক্ষণ আগে । তথ্যগুলি অবশ্যই ইন্টারনেট থেকে নেওয়া ।
আশা করি পড়বেন ।
আর কাজের ফাঁকে আজ আমি সারাদিন আপনার ব্লগেই ছিলাম।
ধন্যবাদ

১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:৩৭

রাজীব নুর বলেছেন: অন্য টাইপের পোষ্ট মানে কি?
রাজনীতি নিয়ে?

১৪| ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:৩৮

ইসিয়াক বলেছেন: লেখক বলেছেন: দেশভাগ নিয়ে আমি একটা উপন্যাসে রকাজে হাত দিয়েছি। তাও প্রায় পাঁচ বছর হয়ে গেল। আজও শেষ করতে পারিনি।
আপনাকে দেশভাগ নিয়ে উপন্যাসের কাজ শেষ করতে হবে । ব্লগে ধারাবাহিক পোষ্ট দিন। নতুন জেনারেশন ইতিহাসের ই ও জানে । তাদের জানাতে হবে ।চারদিকে শুধু বিভ্রান্তি আর ভুল গাল গল্প। যে জাতি তার অতীত কে ফিরে দেখেনা বা অস্বীকার করে সে জাতির ভাগ্যে সীমাহীন দূর্ভোগ লেখা আছে এটা নিশ্চিত ।

১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:৪৮

রাজীব নুর বলেছেন: ব্লগে কিছু পর্ব পোষ্ট করেছি।
ধাবমান কালো চোখে আলো নাচে এই শিরোনামে।

১৫| ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:৫৭

আহমেদ জী এস বলেছেন: রাজীব নুর ,



প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা জীবন বাজী রাখেননি কারো কাছ থেকে কিছু চাওয়ার জন্যে, আজও চাননা। এটাই ইতিহাস

যাদের কথা বললেন, তারা মুক্তিযোদ্ধা কিনা সন্দেহ আছে।

১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:৫৯

রাজীব নুর বলেছেন: ধন্যবাদ আপনার চিন্তিত মতামতের জন্য।

১৬| ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:০৪

ইসিয়াক বলেছেন:
রাজীব নূর খান
২ বছর আগে
ধাবমান কালো চোখে আলো নাচে ( ধারাবাহিক উপন্যাস, পর্ব- দুই )
সাহিত্য ৮ এপ্রিল '১৭
১৯৪৭ সালটা সমস্ত বাঙ্গালীর জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ । ভারতীয় উপমহাদেশ ১৯৪৭ ও ১৯৪৮ সালে ব্রিটেনের শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে এবং ভারত,বার্মা (বর্তমান মায়ানমার) সিলন (বর্তমান শ্রীলংকা) এবং পাকিস্তান (তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান, বর্তমান বাংলাদেশ) এই চারটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ১৯৪৭ সনে অর্থাৎ দেশবিভাগের বছর শেখ মুজিব কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইসলামিয়া কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রী লাভ করেন। ভারত ও পাকিস্তান পৃথক হওয়ার সময়ে কলকাতায় ভয়ানক হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা হয়। এসময় মুজিব মুসলিমদের রক্ষা এবং দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সোহরাওয়ার্দীর সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক তৎপরতায় শরিক হন। পাকিস্তান-ভারত পৃথক হয়ে যাওয়ার পর শেখ মুজিব পূর্ব পাকিস্তানে ফিরে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৪৮ সালের জানুয়ারি ৪ তারিখে প্রতিষ্ঠা করেন পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্র লীগ যার মাধ্যমে তিনি উক্ত প্রদেশের অন্যতম প্রধান ছাত্রনেতায় পরিণত হন। ( এই লেখাতে আমি, একটু একটু করে দেশ ভাগ, যুদ্ধ, আন্দোলন,আবিস্কার, রাজনীতি, প্রেম, মানব জীবন ইত্যাদি বিষয় নিয়ে টুকরো টুকরো কিছু আলোচনা করবো।)

ফাতেমা বেগমের মেয়ের নাম, নূরজাহান বেগম। ডাক নাম নূরী। নূরী ছোটবেলা পুকুরে পড়ে গিয়েছিলেন। অল্পের জন্য বেঁচে জান। বেগম পত্রিকার প্রকাশনা শুরু হয় ১৯৪৭ সালের ২০ জুলাই যখন নূরজাহান বেগম বিএ শ্রেণীতে পড়তেন। বেগম পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন সুফিয়া কামাল। বেগমের শুরু থেকে নূরজাহান বেগম ছিলেন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক। তিনি বিয়ে করেন রোকনুজ্জামান খান (দাদা ভাই) কে। নারীদের ছবি আঁকতে, লেখার জন্য উৎসাহী দিতেন নূরজাহান বেগম। প্রায় ৬৩ বছর ধরে প্রকাশিত হচ্ছে তার প্রতিষ্ঠিত বেগম পত্রিকা। যদিও অর্থনৈতিক সমস্যায় পড়তে হয়েছিল পত্রিকাটা নিয়ে কিন্তু বেগম-এর উদ্দেশ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। নারী জাগরণ, নতুন লেখক সৃষ্টি, সাহিত্য ও সৃজনশীলতায় নারীকে উৎসাহী করাই ছিল মূল লক্ষ্য। বেগম-এর প্রথম দিকে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে তাঁরা লেখা, ছবি সংগ্রহ করেতেন। আজ নারীরা নিজেই লেখা পাঠিয়ে দেন। 'ধাবমান কালো চোখে আলো নাচে' উপন্যাসে এই রকম অনেক জ্ঞানী গুনীদের কথা আসবে।

শশীভূষন ক্লান্তিহীন ভাবে তার ডায়েরীতে লিখে চলেছেন- সমস্ত পৃথিবী জুড়েই দু’টি ভাগে বিভক্ত হয়ে আছে মানুষ। তাদের একটি দল হচ্ছে শাসক শ্রেণী, অন্যটি শোষিত শ্রেণী।পৃথিবীর আদিতে এই সব শ্রেণী বিভাজ্যতা ছিল না। কারণ তখন রাজা প্রজার ভেদ বুঝতে পারতো না মানুষ।পশ্চিমা দেশগুলো সভ্যতার সংগ্রামের ইতিহাস দীর্ঘদিনের। অন্ত পাঁচহাজার বছর আগে থেকে শুরু করতে পেরেছিল তারা। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ রদ করতে যাওয়া বাঙালি ১৯৪৭ সালে কাজে পরিণত করার মতো পরস্পরবিরোধী কাজে লিপ্ত হতে পেরেছিল। আগেরবার বৃটিশ রাজ সেটা করতে চেয়ে এদের বিরোধিতায় সেটা পারেনি পরের বার বৃটিশদের হাতে-পায়ে ধরে সেটা করে এরা। ১৯০৫ সালে লর্ড কার্জন নিপীড়িত মেজরিটি বাঙ্গালীদের একটু সুবিধা দিতে চেয়ে বঙ্গভঙ্গ করেন। কিন্তু সংখ্যালঘু বাঙ্গালীর বিরুদ্ধে দারুণ আন্দোলন শুরু করেন। এ আন্দোলনে কিছু জাতীয়তাবাদী মুসলিম নেতা যে ছিলেন না তা নয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ১৯১১ সালে দিল্লীর দরবারে এটা বাতিল ঘোষিত হয়। অবিভক্ত বাংলায় হিন্দু-মুসলি জনসংখ্যায় ভারসাম্য ছিল ঠিকই, কিন্তু লেখাপড়ায়, জ্ঞান-বিজ্ঞানে, সাহিত্য-সংস্কৃতিতে এরা মুসলমানদের চাইতে কয়েক যোজন এগিয়ে ছিল যা একশ' বছরের মধ্যেও অক্ষুণ্ণ থাকতো। ২০০ বছরের ব্রিটিশ শাসন অবসান করে ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ বিভাগ হয়ে ১৪ আগষ্ট পাকিস্থান রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা ও ১৫ আগষ্ট ভারতের স্বাধীনতা লাভ ।

ওমর আলীর হাতে পন্ডিত নেহেরু ‘ডিস্কভারি অব ইন্ডিয়া' বইটি। তিনি ৩১৪ পৃষ্ঠাটি খুব মন দিয়ে পড়ছেন। ৩১৪ পৃষ্ঠায় লেখা আছে, ''অন্যান্য অঞ্চলে বৃটিশ শাসন ছড়িয়ে পড়ার আগে বাঙালিরা একচেটিয়া সুবিধা ভোগ করে পঞ্চাশ বছর ধরে। এ কারণেই অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষাংশ এবং ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ পর্যন্ত বৃটিশ ভারতে ঔদ্ধত্যব্যঞ্জক ও প্রধান ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হয়। সে সময় বাংলা শুধু বৃটিশ শাসনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল না, এদের মধ্য থেকেই প্রথম ইংরেজি শিক্ষিত দলটি বের হয় এবং বৃটিশ ছত্রছায়ায় ভারতের অন্যান্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। বাংলা বৃটিশ শাসনকে মেনে নেয়, বশ্যতা স্বীকার করে এবং এতে অভ্যস্ত হয় ভারতের বাকি অংশের অনেক পূর্বেই।'' ওমর আলী হচ্ছেন- আমার নানা। খুবই সহজ সরল একজন মানুষ। আমার যখন দুই বছর বয়স, তখন নানা মারা যান। মার কাছ থেকে নানার অনেক গল্প শুনেছি। সেই গল্পের কিছু কিছু অংশ এই লেখাতে আসবে।

জওহরলাল নেহ্‌রু সম্পর্কে কিছু কথা বলতে চাই। গঙ্গা নদীর তীরে এলাহাবাদ শহরে জওহরলাল নেহেরু জন্মগ্রহণ করেন ১৮৮৯ সালে। গান্ধীর দর্শন ও নেতৃত্ব জওহরলাল নেহেরুকে গভীরভাবে আকৃষ্ট করে। মহাত্মা গান্ধীর প্রভাবে নেহেরু পরিবার তাদের ভোগ-বিলাসের জীবন ত্যাগ করেন। তখন থেকে নেহেরু খাদির তৈরি কাপড় পড়তেন। ব্যক্তিজীবনে রূচিবান পুরুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন জওহরলাল নেহ্‌রু। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা এবং স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী দূরদৃষ্টিসম্পন্ন, আদর্শবাদী, পন্ডিত এবং কূটনীতিবিদ নেহেরু। তিনি মোট পাঁচবার ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হন। বৃটিশ সরকারের নীতির বিরোধিতা করায় এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্বদান করায় তিনি বহুবার কারারুদ্ধ হন এবং প্রায় ১৭ বছর জেল খাটেন। পন্ডিত জওহরলাল নেহেরু ১৯৪৭ সালের ১৫ আগষ্ট ভারত স্বাধীনতা লাভ করলে তিনি প্রথম সে-দেশের প্রধানমন্ত্রী মনোনীত হন এবং মৃত্যু পর্যন্ত ভারতের প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন ছিলেন। ১৯৬৪ সালের ২৭ মে ভারতের এই মহান নেতা তার নিজ কার্যালয়ে মৃত্যু বরণ করেন। জওহরলাল নেহেরু ও তার দুই বোন বিজয়া লক্ষ্মী ও কৃষ্ণা "আনন্দ ভবন" নামক বিশাল বাড়িতে পশ্চাত্য সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে বড় হযে উঠেন। তৎকালীন ভারতের সব থেকে আধুনিক স্কুলে পড়ার পর প্রায় ১৫ বছর বয়সে নেহেরু ইংল্যান্ডের হ্যারোতে চলে যান। এরপর তিনি কেমব্রীজেই ব্যারিস্টারি পড়া শুরু করেন। ইংল্যান্ডে পড়ার সময় নেহেরু ভারতীয় ছাত্র সংসদের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।

তাঁর শাসনামলে ভারতে ব্যাপক শিল্পায়ন হয়। এই সময়ে একটি ভারত-পাকিস্তান ও একটি ভারত-চীন যুদ্ধ সংগঠিত হয়। ভারত-পাকিস্তানের শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনের উদ্দেশ্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নেহেরু ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলি খান নেহেরু-লিয়াকত চুক্তি করেন। লেখক হিসেবেও নেহরু বিশেষ দক্ষ ছিলেন। জেলে বসেই তিনি কয়েকটি গ্রন্থ রচনা করেন। ইংরেজীতে লেখা তাঁর তিনটি বিখ্যাত বই- 'একটি আত্মজীবনী'(An Autobiography), 'বিশ্ব ইতিহাসের কিছু চিত্র' (Glimpses of World History), এবং 'ভারত আবিষ্কার' (The Discovery of India) চিরায়ত সাহিত্যের মর্যাদা লাভ করেছে। জওহরলাল নেহেরুও একজন রাজনীতিবীদ সুতরাং তার পক্ষে বিপক্ষে মন্তব্য থাকবে, কেউ শ্রদ্ধা আবার কেউ নিন্দাও জানাবে তাকে এটা অস্বাভাবিক নয়। জওহরলাল নেহ্‌রু'র সাথে বাংলাদেশের একজন রাজনীতিবিদ এর সাথে খুব মিল আছে, বলুন তো দেখি আমি কার কথা বলছি ?

১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রচন্ড শীতে এক বালক রাস্তা দিয়ে একা একা হাঁটছে। সে জানে না তার বাবা কে, মা কে ? ক্ষুধা পেলে একটা খাবার দোকানের সামনে গিয়ে দাঁড়ালে কেউ কেউ তাকে- ফেলে দেওয়া খাবার খেতে দেয়। বালকটি মানুষের নষ্ট করা খাবার এক আকাশ আনন্দ নিয়ে রাস্তার পাশে বসে খায়। খাওয়ার সময় বালকটিকে অনেক আনন্দিত দেখা যায়। বালকটির কোনো নাম নেই। যে বালকের বাপ মায়ের ঠিক নাই- ঘটা করে কে আবার সেই বালকের নাম রাখে। তাই আমি লেখার খাতিরে বালকটিকে একটি নাম দিলাম, টারজান। টারজান নাম দেওয়ার পেছনে কারন হলো- সে খুব সহজেই যে কোনো গাছে লাফ দিয়ে উঠতে পারে। এক গাছ থেকে আরেক গাছে যেতে পারে। এই কাজটি করতে তার কোনো ভয় হয়না। দেশ ভাগ হয়ে গেল, ইংরেজরা বিদায় নিলো- টারজান তার কিছুই জানল না, বুঝল না। টারজান এর সব চিন্তা- শুধু তিনবেলা খাবার সংগ্রহে। ইদানিং টারজানের সাথে একটা কালো রঙের কুকুর যুক্ত হয়েছে। ছোট বাচ্চা একটা কুকুর। টারজান বাচ্চা কুকুরটার নাম রেখেছে কাল্লু। কুকুরটা দেখতে কুচকুচে কালো রঙের, তাই নাম রাখা হয়েছে কাল্লু। কাল্লু সারাদিন টারজানের পায়ের কাছে ঘুর ঘুর করে। কাল্লুর উপর মায়া পড়ে গেছে টারজানের। টারজান সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে- কাল্লুকে সে পালবে। অনেক বড় করবে। এই কাল্লু একটু বড় হওয়ার পর- সহজ সরল মানুষ 'ওমর আলী' নামে একজনকে কামড় দেয়, টারজান এবং কাল্লুর কাহিনী পরে বিস্তারিত বলা হবে।

সারাদিন একটানা দুশ্চিন্তায় মানুষের মস্তিষ্কের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কোষসমূহে এক ধরনের বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ জমা হয়। শুধু দুশ্চিন্তা নয়, নিত্যদিনের যে কাজগুলো মানুষকে করতে হয় তা সুন্দরভাবে সমাধা করতে বহু কিছু চিন্তা করতে হয়, সিদ্ধান্ত নিতে হয়। রাতের বেলায় সুনিদ্রার তাৎপর্য নিয়ে বহু গবেষণা হয়েছে।... টাইমস অব ইন্ডিয়া ম্যাগাজিনে মানুষের মস্তিস্ক নিয়ে একটা আর্টিকেল ছাপিয়েছে। অলকা খুব মন দিয়ে আর্টিকেলটি দুইবার পড়ল । এই ধরনের আর্টিকেল তার বাবা শশীভূষন খুব পছন্দ করেন। যে কোনো বিষয়ের উপর বই পড়তে শশীভূষন অনেক আনন্দ পান। নতুন নতুন বিষয় জেনে শশীভুষন প্রচন্ড অবাক হোন। অলকার ধারনা তার বাবা পৃথিবীর এমন কোনো বিষয় নেই- যা তিনি জানেন না। দ্যা টাইমস অব ইন্ডিয়া ম্যাগাজিনটি সম্পর্কে কয়েকটি তথ্য দেওয়ার লোভ সামলাতে পারলাম না। উদার মতাদর্শ নিয়ে ১৮৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই পত্রিকার সদর দফতর ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লীতে। বৃটিশ শাসনামলে ১৮৩৮ সালের ৩ নভেম্বর বোম্বাই টাইমস হিসেবে প্রথমে এই পত্রিকা আত্বপ্রকাশ করে। প্রথমে প্রতি শনি ও বুধবার অর্ধ সাপ্তাহিক হিসেবে বের হতো। রায় বাহাদুর নারায়ণ দিনান্ত বেলকার পত্রিকাটির প্রতিষ্ঠাতা। তখন বৃটেনের সংবাদ বেশি গুরুত্ব পেতো। ১৮৬১ সালে বোম্বে টাইমস থেকে পরিবর্তন হয়ে নামকরণ করা হয় ইন্ডিয়ান টাইমস। ভারত স্বাধীনতার পর পত্রিকাটির মালিকানা লাভ করে ডালিয়াস শিল্পগোষ্ঠী। পরে এটি জৈন গ্রুপ মালিকানা লাভ করে। পরবর্তীতে এরপর নামকরণ করা হয় টাইমস অব ইন্ডিয়া। সহজ ও সাবলীল শব্দচয়ন ও অনলাইন সংস্করণে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যবহুল সংবাদের কারণে ভারতের উচ্চ ও মধ্য শিক্ষিত ইংরেজি জানা ব্যক্তিদের মাঝে পত্রিকাটির যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে।

জার্মানির একটি ছোট শহর উলমে এক সম্ভ্রান্ত ইহুদি পরিবারে একজন মহান বিজ্ঞানীর জন্ম হয়। স্কুলের শিক্ষকদের কাছ থেকে মাঝে মাঝেই অভিযোগ আসত পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়া ছেলে, অমনোযোগী, আনমনা। ক্লাসের কেউ তার সঙ্গী ছিল না। সকলের শেষে পেছনের বেঞ্চে গিয়ে বসতেন। দর্শনের বই তাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করত। পনেরো বছর বয়সের মধ্যে তিনি কান্ট, স্পিনোজা, ইউক্লিড, নিউটনের রচনা পড়ে শেষ করে ফেললেন। বিজ্ঞান, দর্শনের সাথে পড়তেন গ্যেটে, শিলার, শেক্সপিয়ার। অবসর সময়ে বেহালায় বিটোফোন, মোতসার্টের সুর তুলতেন। এই মহান বিজ্ঞানী বাইশ বছর বয়সে মিলেভা নামের এক হাসিখুশি তরুনীকে বিয়ে করে ফেলেন। একদিন গভীর রাতে মিলেভা ঘুম থেকে উঠে দেখেন তার স্বামী পাশে নেই। মিলেভা বিছানা থেকে নেমে দেখেন- তার স্বামী ব্যালকনিতে বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছেন। মিলেভা এক আকাশ ভালোবাসা নিয়ে আস্তে করে স্বামীর পিঠে হাত রাখেন। স্বামী ফিস ফিস করে বললেন- ‘আমি এই বিশ্বপ্রকৃতির স্থান ও সময় নিয়ে গবেষণা করছি।’

আইনস্টাইনের এই গবেষণায় ছিল না কোনো ল্যাবরেটরি, ছিল না কোনো যন্ত্রপাতি। তার একমাত্র অবলম্বন ছিল খাতা-কলম আর তার অসাধারণ চিন্তাশক্তি। অবশেষে শেষ হলো তার গবেষণা। তখন তার বয়স মাত্র ২৬ বছর। একদিন ত্রিশ পাতার একটি প্রবন্ধ নিয়ে হাজির হলেন বার্লিনের বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক পত্রিকা Annalen der physik-এর অফিসে।

( চলবে...)
০ Likes ০ Comments ০ Share ১৯৯ Views

১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:১৩

রাজীব নুর বলেছেন: হুম।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.