নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভাবছি ব্যবসা করবো। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

রাজীব নুর

আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি। কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।

রাজীব নুর › বিস্তারিত পোস্টঃ

চায়ের দোকান

০৭ ই অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১১:৫৪



আমি মাঝে মাঝে খিলগাও, একটা চায়ের দোকানে যাই।
এই চায়ের দোকানটা অন্য দশটা চায়ের দোকানের মতোন নয়। এই দোকানে ওয়াইফাই আছে। এই ওয়াইফাই যারা এই দোকানের রেগুলার কাস্টমার শুধু তারাই ব্যবহার করতে পারে। ওয়াইফাই ছাড়াও এই দোকানে একটা বিশ ইঞ্চি টেলিভিশন আছে। সারাক্ষন এই টিভিতে হিন্দি সিনেমা চলতেই থাকে। কেউ টিভির দিকে ফিরেও তাকায় না। সবাই মোবাইল টিপাটিপিতে ব্যস্ত। তবে আমি লক্ষ্য করেছি, কাবিল ভাই চা বানানোর ফাঁকে ফাঁকে টিভি দেখেন।

এই চায়ের দোকানটি রাস্তার পাশের চায়ের দোকান নয়।
এই দোকানের মাসিক ভাড়া তের হাজার টাকা। বহু লোক এই দোকানে চা খেতে আসে। এই দোকানের চা মোটেও ভালো না। একবার খেলে আর খেতে ইচ্ছা করে না। দুই রকমের চা পাওয়া যায়। দুধ চা এবং রং চা। দু’টাই অতি অখাদ্য। কাঁচের বোতলে দুই তিন রকমের বিস্কুট আছে। সেটাও অতি অখাদ্য। একটা ফ্রজ আছে। ফ্রিজে কিছুই নাই। তবে এক আধদিন কোক ফানটা পাওয়া যায়। এলাকার পোলাপানরা ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকে।

নেট বিল চায়ের দোকানের মালিক দেয় না।
এখানে চা খেতে আসে অনেক গুলো গ্রুপ। সেই গ্রুপের লোকজন মিলে নেট বিল দেয়। মাসে এগারো শ’ টাকা। আমি এখানে যাই বিনামূল্যে নেট ব্যবহার করি। হে হে...! এই চায়ের দোকানের মালিকের নাম কাবিল। চায়ের দোকানে এবং দোকানের আশে পাশে কমপক্ষে বসার জন্য সাতটা টুল আছে। লোকজন ঘণ্টার পর ঘন্টা এখানে বসে থাকে। কত রকমের লোকজন যে আসে এখানে! আমি সবাইকে মন দিয়ে খেয়াল করি।

সকাল থেকে রাত পর্যন্ত-
পনের বিশটা গ্রুপ এই চায়ের দোকানে আসে। সবাই সবার দল নিয়ে ব্যস্ত। সবাই বক বক করতেই থাকে। মানুষের কথা মৃত্যু পর্যন্ত চলতেই থাকে। এক গ্রুপ আরেক গ্রুপের দিকে তাকায় না। তবে হায় হ্যালো করে। হাত মিলায়। গ্রুপের মধ্যে ছাত্র আছে, বেকার আছে, চাকরীজীবি আছে, ব্যবসায়ী আছে, এলাকার বড় ভাই আছে, ছোট ভাই আছে, বাড়িওয়ালার ছেলে আছে, বুড়োদেরও একটা গ্রুপ আছে, আছে আরো নানান পেশার মানুষ। সবাই এসে যে যার টুলে বসে। প্রতিটা গ্রুপে পাঁচ সাত জন করে।

কুকুরের নাম টাইগার। টাইগার ল্যাংড়া।
টাইগার তিন পায়ে হাঁটে। দেখলে বেশ মায়া লাগে। বাংলাদেশের সব চায়ের দোকানে সামনে একটা বা দু’টা কুকুর থাকে। কাবিল ভাইয়ের চায়ের দোকানের সামনে থাকে টাইগার। টাইগার এখানে অন্য কোনো কুকুর আসতে দেয় না। ঘেউ ঘেউ করে তাড়িয়ে দেয়। এখানে যারা চা খেতে আসে, আড্ডা দিতে আসে তারা সবাই টাইগারকে বিস্কুট খেতে দেয়। বিস্কুট ছুড়ে দিলে, টাইগার সেই বিস্কুট খাবে না। পরিস্কার কাগজ বিছিয়ে টাইগারকে খেতে দিতে হয়। আমি নিজেও টাইগারকে বিস্কুট কিনের দিয়েছি।

ডাল পুরি ও আলু পুরি।
কাবিল ভাইয়ের চায়ের দোকানের পাশেই আছে দুইটা পুরির দোকান। এই পুরির দোকানে সব’ই পাওয়া যায়। আলুর চপ, বেগুনি, পিয়াজু। এমন কি দুপুরবেলা ভাত মাছও পাওয়া যায়। আমি মাঝে মাঝে এখানে ডাল পুরি খাই। সাথে কি একটা ঝোল দেয়, খেতে ভালোই লাগে। এই সব চায়ের দোকানে আমি বেশিক্ষন থাকি না। প্রতিটা গ্রুপ উত্তেজিত। কখন ধূমধাম লেগে যায়! অবশ্য এ যুগের পোলাপানদের মানসিকতা আমি বুঝি না। ওদের সাথে আমার মিলে না।

মন্তব্য ১৬ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (১৬) মন্তব্য লিখুন

১| ০৮ ই অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১২:০২

ভুয়া মফিজ বলেছেন: তিন পায়ে হাটা টাইগার হলো বাংলাদেশের আসল প্রতিচ্ছবি। তার স্বভাব-চরিত্রও এই ভাবনার সাথে যায়! :D

০৮ ই অক্টোবর, ২০১৯ দুপুর ১২:৫৫

রাজীব নুর বলেছেন: টাইগারের পা টা ভেঙ্গেছে গাড়ির চাকা। ড্রাইভার খেয়াল করে নাই। সীমাহীন কষ্ট এখন টাইগারের।

২| ০৮ ই অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১২:০৭

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন: মজার গল্প লিখলেন। টাইগারের জন্য শুভেচ্ছা।

০৮ ই অক্টোবর, ২০১৯ দুপুর ১২:৫৬

রাজীব নুর বলেছেন: গল্প নয় বাস্তব।

৩| ০৮ ই অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১২:১৩

ইসিয়াক বলেছেন: আজকের পোষ্টটা ঠিক ধরতে পারছি না দুবার পড়লাম। তবে তিন ঠ্যং এর কুকুর প্রায়ই দেখতে পাওয়া যায় ।
এ সংক্রান্ত একটা গল্পও পড়েছিলাম পাঠ্য বইতে । সৈয়দ মুজতব্ আলীর লেখা মনে হয় ........।মনে করতে পারছিনা

০৮ ই অক্টোবর, ২০১৯ দুপুর ১২:৫৭

রাজীব নুর বলেছেন: আমি একটা চায়ের দোকানে মাঝে মাঝে যাই। সেই চায়ের দোকানের গল্প। ব্যস। এতটুকুই। ক্লিয়ার?

৪| ০৮ ই অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১২:১৯

চাঁদগাজী বলেছেন:


আপনি এই ধরণের একটা দোকান দিলে, অনেক মানুষ আসবেন আপনার দোকানে।

০৮ ই অক্টোবর, ২০১৯ দুপুর ১২:৫৯

রাজীব নুর বলেছেন: আমিও চাই এই রকম একটা দোকান দিতে।

৫| ০৮ ই অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১২:৩৪

জুনায়েদ বি রাহমান বলেছেন: পোস্ট পড়ে আমি যে দৃশ্যচিত্রগুলো দেখলাম।

খিলগাঁও। কাবিল ভাইয়ের চায়ের দোকান। ১৫-২০ ব্রেঞ্চ পাতা। কয়েকটা ব্রেঞ্চে ৫-৭ জনের দু'তিনটে গ্রুপ বসে আড্ডা দিচ্ছে। একটা ব্রেঞ্চে সামনে চায়ের কাপ নিয়ে একা একা বসে বসে সামুতে ব্রাউজ করছেন আমাদের রাজীব নুর ভাই। দোকানের সামনে ঘোরাফেরা করছে ল্যাংড়া টাইগার। লেংড়া টাইগারের দিকে চোখ পড়গে নুর ভাইয়ের ব্লগ লিখতে ইচ্ছে করেছে। কিন্তু তিনি লিখেছেন না; আসলে এখানে লেখার পরিবেশ নেই। মানুষের হাউকাউ, গাড়ির হর্ণ... টিভির সাউন্ডে বসে বসে লিখা যায় না। রাজিব নুর ভাই দোকান থেকে বেরুলেন। দোকানের সামনে পাশাপাশি দুটি ডালপুরির দোকান। এই দোকানগুলোর ডালপুরি বেশ ভালো হয়। নুর ভাইর খেতে ইচ্ছে করলেও খেলেন না; বাসায় সুরভী ভাবী চা নিয়ে অপেক্ষা করছেন। তিনি টাইগরকে বিস্কুট দিয়ে আস্তে আস্তে বাসার পথে হাটা শুরু করলেন। চারিপাশে সন্ধ্যা নেমে আসছে। সন্ধ্যার সময় হাটতে উনার মন্দ লাগে না।
হা হা....

কিছু মনে কইরেন না ভাই। আপনার লিখা পড়লে আমি এমন অনেক কিছুই দেখি.....

০৮ ই অক্টোবর, ২০১৯ দুপুর ১:০১

রাজীব নুর বলেছেন: একদম সঠিক হয়েছে। দশে দশ পেয়েছেন।
বাইরে কিছু খাওয়া সুরভি পছন্দ করে না। পুরি টুরি খেলে আমার গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হয়।

৬| ০৮ ই অক্টোবর, ২০১৯ ভোর ৫:৪১

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:

ভুয়া মফিজ বলেছেন: তিন পায়ে হাটা টাইগার হলো বাংলাদেশের আসল প্রতিচ্ছবি। তার স্বভাব-চরিত্রও এই ভাবনার সাথে যায়!

মফিজ ভাই সঠিক ধরেছেন। আমি উনার মন্তব্য পড়ে পুলকিত হলাম।

০৮ ই অক্টোবর, ২০১৯ দুপুর ১:০৩

রাজীব নুর বলেছেন: ব্লগাররা ন্যায্য কথা বলে।

৭| ০৮ ই অক্টোবর, ২০১৯ দুপুর ১২:২৬

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন:
মাসিক ভাড়া ১৩,০০০ টাকা ।
চায়ের মান খুব খারাপ। বিক্রয়ের জন্য আর কোনও মূল্যবান পণ্য নেই।কোথা থেকে এবং কীভাবে সে দোকান ভাড়া দেয়,
কেউ জানে না???(অর্থ উত্স কি?)
তবে এই দোকানটি সর্বদা নিখরচায় ওয়াইফাইয়ের জন্য ব্যস্ত থাকে ।।একটি কুকুর আছে যার তিন পা রয়েছে। ।।যা সর্বদা ঘেউ ঘেউ করে যাতে অন্য কোনও কুকুর এখানে এসে না থাকতে পারে।।

আপনি আমাদের বর্তমান সমাজের আসল চিত্রটি ই দেখিয়েন ।।।।

০৮ ই অক্টোবর, ২০১৯ দুপুর ১:০৪

রাজীব নুর বলেছেন: আড্ডা দেওয়ার সময় লোকজন প্রচুর চা সিগারেট খায়।
আমি একবার সাড়ে তিন শ' টা চা সিগারেটের বিল দিয়েছি। প্রতিটা গ্রুপ এরকম বিল দেয়।
চা সিগারেট বেচা কেনা মন্দ নয় সারাদিনে।

৮| ০৮ ই অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১১:০৭

সুবোধ বালক বলেছেন: ওদের সাথে আমার মিলে না। তারপর জানতে চাই চালায়ে যান.....

০৯ ই অক্টোবর, ২০১৯ দুপুর ১:১৫

রাজীব নুর বলেছেন: বেঁচে থাকার তাগিদে সব কিছু চালিয়েই যাচ্ছি।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.