নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

রাজীব নুর

আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি। কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।

রাজীব নুর › বিস্তারিত পোস্টঃ

আজকের ডায়েরী- ১৯০

০১ লা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৯



আমাদের ছোট্র বাংলাদেশে অনেক কিছু ঘটে।
সেই বিষয় গুলো পত্রিকায় আসে না। ফেসবুকেও আসে না। অতি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে মানুষ মাতামাতি করে না। কিন্তু তুচ্ছ বিষয় গুলো আমার ভালো লাগে। আনন্দ দেয়, মাঝে মাঝে কষ্টও দেয়। গতকাল ঢাকার এক গার্মেন্সে একলোক কে গার্মেন্সের মেয়েরা মেরেছে। কারণ লোকটা ইতর টাইপ। সুযোগ পেলেই মেয়েদের গায়ে হাত দেয়, বাজে ইঙ্গিত করে। তো মেয়েরা সবাই মিলে লোকটা ধোলাই দিয়েছে। বিষয়টা আমার ভালো লেগেছে। মেয়েদের উচিৎ চুপ না খেয়ে সাথে সাথে প্রতিবাদ করা। তাহলে অমানুষ গুলো লাইনে এসে যাবে। গতকাল এক মসজিদে সাপ ঢুকে যায়। কেউ খেয়াল করে নাই। সবাই নামাজ পড়ছিলো। নামাজরত মানুষ গুলো সাপ টের পেয়ে, পড়িমরি করে দৌড় শুরু করলো। বিষয়টা আমার ভালো লাগেনি। সাপ থাকলে থাকুক। তার জন্য নামাজ শেষ না করেই লাফাতে হবে? সাপ আগে না নামাজ আগে? একলোক নামাজ পড়ছিলো, আমাদের নবীজি দাঁড়িয়ে ছিলেন। লোকটার নামাজ শেষ হয়েছে, তারপর নবীজি গেছেন। নবীজি বলেছেন, যখন নামাজ পড়বে, মনে করবে আল্লাহ তোমার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। আমাদের দেশের লোকজন নামাজ পড়তে গিয়ে জুতা নিরাপদ জায়গায় রাখতে ব্যস্ত। কেউ কেউ তো চোখের সামনে জুতা রাখেন। সেজদা দিতে গেলে সেই জুতো মাথায় লাগে।

আমাদের দেশের লোকজন নামাজ নিয়ে ফাজলামো শুরু করেছে।
একটা ঘটনা বলি, তাহলে বিষয়টা পরিস্কার হবে। ঢাকা থেকে ট্রেন যাচ্ছে সিলেট। একটা বড় ষ্টেশনে ট্রেম থেমেছে। তখন একদল হুজুর ট্রেন থেকে নেমে প্লাটফর্মে নামাজ পড়তে শুরু করলো। এদিকে ট্রেন হুইসেল দিয়ে চলতে শুরু করলো। ওদের নামাজ তখনও শেষ হয় নাই। ওরা করলো কি নামাজ শেষ না করেই দিলো দৌড়। আরেহ বাবা, আগে কি ট্রেন? না নামাজ? চলে যাক ট্রেন। পরের ট্রেনে যাবি, নামাজটা সুন্দর করে শেষ করে নে। আমার নিজের চোখে দেখা একটা ঘটনা বলি। লঞ্চে করে চাঁদপুরের এক চর এলাকায় যাচ্ছি। পিকনিকে। লঞ্চ চলছে। এমন সময় এক হুজুর বলল, আমার নামাজ পড়তে হবে। সময় মতো নামাজ পড়তে না পারলে আমার অস্থির লাগে। এদিকে লঞ্চের লোকজন আসছে আনন্দ করতে। তারা সাউন্ড বক্সে উচ্চস্বরে হিন্দি গান বাজাচ্ছে। হুজুর নিরিবিলিতে নামাজ পড়ার জন্য চলে গেলো লঞ্চের ছাদে। একদম কোনার দিকে। সেজদা দিতে গিয়ে হুজুর চলন্ত লঞ্চ থেকে পড়ে যায় নদীতে। আরেকবার বাসে করে খুলনা যাচ্ছিলাম। আছরের নামাজের সময় হয়েছে। তিনজন লোক চিৎকার শুরু করলো। বাস থামাও। নামাজ পড়বো। ড্রাইভার বাস থামাবে না। সে বলল, সময় মতো পৌছাতে না পারলে কোম্পানি আমার জরিমানা করবে। তখন তিনজন হুজুর ড্রাইভারকে মারতে শুরু করলো। বলল তুই নাস্তিক। নইলে নামাজের জন্য বাস থামাবি না কেন?

গতকাল একদল ছাগল সমুদ্রের পাড়ে নামাজ পড়েছে।
নামাজ পড়া অন্যায় নয়। নামাজ পড়া ভালো কাজ। কিন্তু ছাগল গুলো মসজিদ রেখে ভেজা বালুর মধ্যে নামাজ পড়ছে। একটু পরপর সমুদ্রের ঢেউ আসছে। সমুদ্রের ঢেউ এসে তাদের ভিজিয়ে দিচ্ছি। নামাজ কি মশকরা করার জায়গা? কক্সবাজারে কি মসজিদ নেই? নামাজ যেহেতু পড়বি, তাহলে সেই সময় সমুদ্র পাড়ে আসার কি দরকার ছিলো। নামাজ শেষ করে, তারপর সমুদ্র পাড়ে আসতি। এজন্য লোকে ধার্মিকদের মগজহীণ বলে। ধরে নিলাম মসজিদ দূরে। তাহলে সমুদ্র পাড় থেকে একটু দূরে গিয়ে যেখানে শুকনা ও পরিস্কার জায়গা আছে, সেখানে নামাজ পড়লেই তো হয়। যাইহোক, ছোটবেলার এক ঘটনা বলি, আমি মসজিদে গিয়েছি। কারণ খবর পেয়েছি, নামাজ শেষে মিলাদ হবে। মিলাদে তবারকে ভালো জিনিস আছে। মিলাদের লোভে আমি অনেক মসজিদে নামাজ পড়েছি। এখনও পথে আসা যাওয়ার মাঝে যদি কোনো মসজিদে মিলাদ দেখি, আস্তে করে মসজিদে ঢুকে পরি। মিলাদে অংশ গ্রহন করি। সওয়াব আছে, সেই সাথে তবারকও পাই। তবে অনেকদিন মিলাদ পড়া হয় না। এখন মনে হয়- মসজিদে মিলাদ হয় না। একবার মিলাদ পড়তে গিয়ে ধরা খেলাম। মিরপুরের ফকিরবাড়ি মসজিদে মিলাদ হচ্ছে। আমি মসজিদে ঢুকে গেলাম। সেদিন জুম্মাবার ছিলো। মিলাদে হুজুর লম্বা দোয়া করছে। দোয়া আর শেষ হয় না। বাংলায় দোয়া শেষ করে, উর্দুতে দোয়া শুরু করেছেন। এদিকে আমার বিয়ের দাওয়াত আছে। আড়াইটা প্রায় বেজে গেছে। আমিও জিদ ধরেছি। তবারক না নিয়ে যাবো না। শেষমেশ তবারক পেলাম না। কারণ এই মসজিদে জুম্মা নামাজের পর মিলাদ হয় কিন্তু তবারক বিতরন করে না। লম্বা দোয়ায় শামিল হওয়ার জন্যই লোকজন আসে। এমন কষ্ট লাগলো!

যাইহোক, খারাপ লাগা একটা ঘটনাটা বলে, লেখাটা শেষ করি।
মসজিদে এক লোক ওজু করছে। হঠাত দেখলাম, একলোক উড়ে এসে ওজু করা লোকটাকে লাথথি মারলো। আর বলছে, নামাজ কি ছেলেখেলা? এই হারামজাদা তুই নামাজ কি পড়বি? তুই তো ওজু করাই শিখিস নাই! যে লোকটা ওজু করছিলো, সে একজন রিকশা চালক। এবং যে লোকটা লাথথি দিয়েছে, সে আমাদের এলাকার ধনী লোক। এবং ক্ষমতাবান। বিষয়টা আমার মোটেও ভালো লাগেনি। যে লোকটা লাথথি মেরেছে, সে আজও বেঁচে আছে। প্রায়ই তাকে দেখি। লোকটাকে দেখলেই আমার ঘটনাটা মনে পড়ে। মাঝে মাঝে ইচ্ছা করে এই বদকে একটা লাথথি দিয়ে দেই। আমি নিশ্চিত লোকটা এই ঘটনাটা মনে রাখেনি। কিন্তু আমি মনে রেখেছি। অন্য এক গল্প বলি- এক অফিসে বেসিনের আয়নায় কাগজ লাগিয়ে দিয়েছে। সেখানে লেখা- 'বেসিনে ওজু করবেন না'। অথচ লোকজন এই বেসিনেই ওজু করে। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো- বেসিনের উপর অনেক কষ্টে পা তুলে ধৌত করে। একজন নামাজি মানুষ কেন বেসিনের উপর পা তুলে ওজু করিবে? যাইহোক, আজকাল মানুষ নামাজ পড়তে গেলেও আরাম খুজে। কেউ কেউ চেয়ারে বসে নামাজ পড়েন। আমার এক আত্মীয় যে মসজিদে এসি নাই, সে মসজিদে নামাজ পরেন না। অথচ আমাদের নবী মরুভূমির বুকে কড়া রোদে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়েছেন। নামাজ পড়তে গিয়ে আরাম খুজেন নাই।

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ০১ লা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৯

নূর আলম হিরণ বলেছেন: মিলাদকে বেদাত ঘোষণা করার পর থেকে মিলাদ দেওয়া কমতে শুরু করেছে গত বেশ কয়েক বছর ধরে।

২| ০১ লা মে, ২০২৬ রাত ৮:৩৮

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: গতকাল একদল ছাগল সমুদ্রের পাড়ে নামাজ পড়েছে।
.................................................................................
নামাজের ওয়াক্ত হলে নামাজ পড়ার বিধান আছে
তবে সমস্যা থাকলে, পরে ও পড়া যায় ।
সে জন্য অন্যর অসুবিধা করা , মারধর করা
এসব বাড়াবাড়ি, সুস্ঠু সমাজ এর প্রতিবাদ করা উচিৎ ।

৩| ০১ লা মে, ২০২৬ রাত ৮:৪৭

ঢাকার লোক বলেছেন: আমাদের দেশে নামাজ সম্পর্কে সঠিক ধারণা নেই অনেকেরই। নামাজ সময় মতো পড়া ঠিক তবে, এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করা উচিত না। প্রত্যেক নামাজের একেকটা সময়সীমা নির্ধারিত আছে যার ভিতর পড়লে আপনার নামাজ হবে, যদিও প্রথম দিকে পড়া উত্তম। ট্রেন ছেড়ে দিলেও নামাজ পড়তে থাকতে হবে, সাপ - বাঘ সামনে এসে গেলেও নামাজে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে এমন ধারণাও সঠিক না ! আপনাকেতো আগে বাঁচতে হবে !
একটু দূরে শুকনো জায়গা থাকতে সাগরের পাড়ে পানিতে ভিজে নামাজ পড়াটা আমার কাছে অদ্ভুতই মনে হলো ! কেন তারা এভাবে নামাজ পড়ছে আমার মাথায় আসছে না !

৪| ০১ লা মে, ২০২৬ রাত ৯:৫৮

কলিমুদ্দি দফাদার বলেছেন:


ধর্মকে পুঁজি করে বদমাইশি করা ইতর সব ধর্মেই আছে। এদের কারনে কিছু মানুষ দিনকে দিন ধর্মের প্রতি বিশ্বাস হারাচ্ছে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.