| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রাজীব নুর
আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি। কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।
যাদের চরিত্র খারাপ তারাই দ্বিতীয় বিয়ে করে।
দ্বিতীয় বিয়ে করা অন্যায়। একজন নীতিবান মানুষ কখনও দ্বিতীয় বিয়ে করে না। দ্বিতীয় বিয়ের ফল তো ভালো হয় না। আমাদের দেশের লোকজন দ্বিতীয় বিয়ে করে আগ্রহ নিয়ে। কারণ ধর্ম তাকে সেই সুযোগ দিয়ে রেখেছে। আমাদের নবীজি অনেক গুলো বিয়ে করেছিলেন। আপনার দশ জন মেয়ের ভরনপোষণের ক্ষমতা থাকলেও আপনার দ্বিতীয় বিয়ে করা উচিৎ নয়। বিয়ে মানে শুধু সহবাস করা নয়। বিয়ে মানে দায়িত্ব। বিয়ে একজন অগোছালো মানুষকেও লাইনে নিয়ে আসে। একজন মানুষের জন্ম হয়। তারপর ধীরে ধীরে বড় হওয়া। লেখাপড়া। পড়াশোনা শেষ করে চাকরি। এরপর বিয়ে। বিয়ের পর সংসার। সংসারে ছেলেমেয়ে। এটা যেন একটা চক্র। যুগ যুগ ধরে এই চক্র চলছে। যারা বিয়ে করেন না অর্থাৎ সাধু সন্ন্যাসীদের জীবন আবার আলাদা।
নানান রকম কারণে মানুষ দ্বিতীয় বিয়ে করে।
যেমন প্রথম বউয়ের বাচ্চা হয় না, এই কারণে দ্বিতীয় বিয়ে। প্রথম বউ খারাপ এই কারণে দ্বিতীয় বিয়ে। প্রথম বউকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য দ্বিতীয় বিয়ে করে। প্রথম বউ যৌন চাহিদা মিটাতে অক্ষম, তাই দ্বিতীয় বিয়ে। আসলে দ্বিতীয় বিয়ে করার আসল কারণ হচ্ছে, যে পুরুষের চরিত্র খারাপ, জ্ঞানহীন এবং নির্বোধ তারাই দ্বিতীয় বিয়ে করে। প্রথম বউয়ের সাথে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেলে, দ্বিতীয় বিয়ে করে। প্রথম বউ মরে গেলে, দ্বিতীয় বিয়ে। রবীন্দ্রনাথ একটাই বিয়ে করেছিলেন। আমি একটাই বিয়ে করেছি। আমার দাদা অনেক ধনসম্পত্তির মালিক। তবু একটাই বিয়ে করেছেন। দাদা দাদীকে মুগ্ধ করার জন্য গান শোনাতেন। দাদী দাদার মুখে পান গুজে দিতেন। সহজ সরল স্বচ্ছ পবিত্র ভালোবাসা। আজকাল স্বচ্ছ পবিত্র ভালোবাসা দেখা যায় না। স্বামী স্ত্রীর সাথে চালাকি করে। স্ত্রী স্বামীর সাথে চালাকি করে। স্বচ্ছতা ও সততা নেই। অতীতের মানুষ গুলো সহজ সরল ছিলো। এযুগের মানুষ জটিল এবং কুটিল।
ইসলামে দ্বিতীয় বিয়ে জায়েজ।
সূরা নিসার ৩ নম্বরে আয়াতে স্পষ্ট লেখা আছে, "তোমরা বিবাহ করিবে, যে সব নারীকে ভালো লাগে। দুই, তিন অথবা চার। তবে তোমার টাকা পয়সা থাকতে হবে। এবং দুই বউকে সমান চোখে দেখতে হবে। নইলে গুনাহ হইবে। ভরনপোষণ দিতে না পারলে, একের অধিক বিয়ে করা অন্যায়। পুরুষ লোক মূলত ইতর ধরনের হয়। এরা ধর্মের অন্যান্য নিয়ম কানুন না মানলেও একের অধিক বিবাহ করার নিয়মটা আগ্রহ নিয়ে মানেন। রাস্তার কুকুর আর পুরুষ মানুষ একই রকম। ঘরে হাজার ভালো খাবার থাকলেও বাইরের গু-তে মুখ দিবেই। এই আধুনিক যুগে এসে মানুষের মধ্যে বিশ্বাস নেই। কেউ কাউকে বিশ্বাস করে না। আমরা এক অবিশ্বাসের যুগে বাস করছি। বিশ্বাস, ভরসা ও ভালোবাসা নেই বলেই, তালাক হচ্ছে, পরকীয়া হচ্ছে, একের অধিক বিবাহ হচ্ছে। একটা মেয়েকে দেখেছি, মেয়েটার চটক আছে। বিয়ে করা তার পেশা। বিয়ের পর স্বামীকে মিথ্যা অজুহাতে ডির্ভোস দেয়। কাবিনের টাকা নিয়ে নেয়। কাবিনের টাকা ইনকাম করাই তার ব্যবসা।
বর্তমান যুগটা অন্য রকম। এটা ৫৭০ সাল না।
এ যুগের জীবন যাপন সম্পূর্ণ আলাদা। তাই জীবনকে সুন্দর করার জন্য পুরোনো চিন্তা ভাবনা ধ্যান ধারনা বাদ দেওয়াই উত্তম। বুদ্ধিমানরা যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলে। আমার ধারণা নবীজি অনেক গুলো বিয়ে না করলে, কোরআনে একের অধিক বিয়ের কথা আসতো না। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, একজন ভালো মানুষ এই যুগে একের অধিক বিবাহ করে না। হ্যা প্রথম বউ মারা গেলে দ্বিতীয় বিয়ে করা যেতেই পারে। বউ থাকতে আবার আরেকটা বউ কেন? এক বউ সামলানো মুশকিল। সেখানে দুটা বউ থাকলে সামলানো মুখের কথা নয়। একটা সত্য কথা বলি, একসময় সুরভি আমার সেবা যত্ন করতো। রাত দুটায় চা চাইলেও দিতো। আমার জামা কাপড় আয়রন করে দিতো। কিন্তু সংসারে সন্তান আসার পর সুরভি আমার দিকে কোনো নজর নাই। সেবা যত্ন নাই। চা চাইলেও দেয় না। কাপড় আয়রন করে দেওয়া তো দূরের কথা। রাতে না খেয়ে ঘুমালেও খোজ নেয় না। কিন্তু আগে আমি একবেলা ভাত না খেলে সে গাল ফুলিয়ে বসে থাকতো।
আমি একটা বিবাহ করেছি। আমার কন্যা আছে।
সব মিলিয়ে ভালো আছি। ঝামেলাহীন সংসার। লাখ লাখ মানুষের চেয়ে আমার আয় উন্নতি খারাপ না। আমি এখন কোন দু:ক্ষে দ্বিতীয় বিয়ে করতে যাবো? নো নিড। প্রশ্নই আসে না। স্বয়ং নবীজি যদি স্বপ্নে এসেও আমাকে দ্বিতীয় বিয়ে করতে বলেন, আমি বিয়ে করিব না। আমি দুষ্ট লোক নই। মন্দ লোক নই। যারা ধর্মের দোহাই দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করে তারা ভন্ড। ইতর। আমার এক চাচা দুই বিয়ে করেছেন। আমার চাচা ভালো মানুষ। মানবিক এবং হৃদয়বান। চাচার দ্বিতীয় বিয়ের কথা জেনে খুবই দুঃখ পেলাম। ম মনে ঠিক করলাম, চাচার সাথে বাকি জীবনে আর কথাই বলিব না। চাচার সাথে দেখা হলো। নতুন চাচী অত্যাধিক ভালো মানুষ। দেখতে সুন্দর। প্রথম চাচীর মধ্যে অহংকার ছিলো। কিন্তু নতুন চাচী মাটির মানুষ। সব সময় মুখে হাসি। সহজ সরল কিন্তু বুদ্ধিমতি নতুন চাচীর ভক্ত হয়ে গেলাম আমি। মনে মনে বললাম, চাচা আরেকটা বিয়ে না করলে এরকম ভালো মানুষ একটা চাচী পেতাম না।
আচ্ছা মানুষ দ্বিতীয় বিয়ে কেন করে?
অনেক কারণে মানুষ দ্বিতীয় বিয়ে করে। তবে যে কারনেই করুক সেটা অন্যায়। প্রথম স্ত্রী থাকলে দ্বিতীয় বিয়ে করা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। একসময় রাজা বাদশারা একের অধিক বিবাহ করতো। সেই সময় আর আজকের সময় এক না। অতীত দিয়ে বর্তমান বিচার করা যায় না। আমার পরিচিত অনেকেই দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। দ্বিতীয় বিয়ের পরে তাদের জীবন কাটছে কষ্ট ও যন্ত্রণায়। প্রেম ভালোবাসায় দায়িত্ব থাকে না। বিয়েতে আছে দায়িত্ব। মূলত যে মেয়ে আয় ইনকাম করে না, সে অসহায়। এজন্য স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করলেও বাঙালি মেয়ে গুলো শেষমেশ মেনে নেয়। মেনে নেওয়া ছাড়া তো আর কোনো উপায় নাই। শিক্ষিত মেয়েরা স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে মেনে নেয় না। মামলা করে। স্বামীকে জেলের ভাত খাওয়ায়। নারী নির্যাতন মামলা, খুবই ডেঞ্জারাস। জামিন পর্যন্ত পাওয়া যায় না। যাক, দ্বিতীয় বিয়ের চিন্তা বাদ দেন। সুখী ও আনন্দময় জীবন যাপন করুন। দ্বিতীয় বিয়ে করলে কখনো বলতে পারবেন না —লাইফ ইজ বিউটিফুল।
০৭ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৫
রাজীব নুর বলেছেন: যার ভাল লাগবে, সে করুক দুই বিয়ে। যদি সে সামলাতে পারে- তাহলে ভালো।
©somewhere in net ltd.
১|
০৭ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:০৯
কলিমুদ্দি দফাদার বলেছেন:

আপনাদের হুজুর-আলেমদের নিয়ে এতো সমস্যা কেন? হোটেল রুমে মেয়ে নিয়ে গেলে ও দোষ আবার গুনাহ থেকে বাঁচতে দ্বিতীয় বিয়ে করলে ও দোষ? হুজুররা কি এখন থ্রি-সাম করবে......