| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রাজীব নুর
আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি। কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।
বাঙ্গালীদের খাদ্যাভাস বদলে গেছে।
অদ্ভুত সব খাবার মানুষ এখন খায়। আগ্রহ নিয়েই খায়। ইউটিউব দেখে মানুষের চিন্তা চেতনা এবং ব্যবহার বদলে গেছে। বাংলাদেশে খাবারের ব্যবসায় লস নাই। মানুষজন পাগলের মতোই খায়। রেস্টুরেন্ট গুলোতে প্রচন্ড ভিড়। এমনকি রাস্তার পাশে মিজানের ভাতের হোটেলেও ভিড়। একবার কেউ ভাইরাল হয়ে গেলে, তার ব্যবসা রমরমা অবস্থা হয়। ইউটুবাররা নিজের ভিউ বাড়াতে গিয়ে সমাজের আগাছাদের ভাইরাল করে দিচ্ছে। এতে সমাজ কি উপকৃত হচ্ছে? একলোক রাস্তায় ছোলা, সিদ্ধ ডিম, আলুর দম, চানাচুর, মুড়ি, মূরগীর পা একসাথে মিশিয়ে বিক্রি করে। লোকজন পাগলের মতো এই খাবার খাচ্ছে। ফার্মের মূরগীর পা লোকজন আগ্রহ নিয়ে খাচ্ছে। এক মহিলা রাস্তায় কেক বিক্রি করে। লোকজন লাইন ধরে সেই কেক খাচ্ছে। তার দেখা দেখি আরো অই ফুটপাতে আরো পাচ জন কেক বিক্রি করছে। ফুটপাতের খাবারের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে।
সকালের নাস্তায় নেহারি মানুষ আগ্রহ নিয়ে খাচ্ছে।
একসময় খাওয়া দাওয়ার ব্যাপারে পুরান ঢাকার মানুষ ওস্তাদ ছিলো। ঢাকার লোকজন এখন পুরান ঢাকার লোকদের পিছিয়ে দিয়েছে। পুরান ঢাকার চেয়ে এখন ঢাকার বিভিন্ন অলিতে গলিতে গড়ে উঠেছে নানান রকম বাহারি রেস্টুরেন্ট। এদের খাবারের মানও ভালো। রাস্তার পাশের খাবারের দোকান গুলো সন্ধ্যার পর জমে উঠে। এখন ফুটপাতে পাওয়া যায় হাঁসের মাংস। রোস্ট পোলাউ। কাচ্চি তেহারি। এমনকি চায়নিজ খাবারও পাওয়া যায়। দামও সস্তা। পাওয়া যায় ফাস্টফুড আইটেম। নানা রকম শরবত। মানুষের কথা কি বলিব, আমি নিজেই সময় পেলে খাবারের ভিডিও গুলো দেখি। এবং সেই খাবার খেতে যাই। খেয়ে টেস্ট করে দেখি ফুড ব্লগারের কথা সঠিক কিনা। ফুড ব্লগাররা কখনই সঠিক কথা বলে না। ঢাকার কোনো কোনো ফুটপাতে রাত যত গভীর হয়, খাবারের দোকান গুলো তত জমে ওঠে। ফুটপাতের খাবারের দোকান গুলোর ট্রেড লাইসেন্স লাগে না।
রাস্তায় ডিম সিদ্ধ বিক্রি করে।
এখন সিদ্ধ ডিম মাঝখান দিয়ে কেটে পেঁয়াজ, শুকনা মরিচ আর সরিষার তেলের ভর্তা দেয়। লোকজন এখন মহুড়ি খেয়ে এভাবে সিদ্ধ ডিম খায়। চিপস কিভাবে খায় জানেন? চিপস গুড়ো গুড়ো করে- শশা কুচি, টোমেটো কুচি আর ধনেপাতা আর পেঁয়াজ দিয়ে মেখে খায়। এখন মানুষ শুধু মাছ ভাজা খেতে যায়- তিনশ' ফিট, নীলা মার্কেট। রাস্তায় দুধ বিক্রি করে। গরম দুধ। লোকজন এখন শুধু গরম দুধ খায় না। সাথে হরলিক্স মিশায়। কেউ কেউ দুধের মধ্যে কাচা ডিম মিশায়। এর মধ্যে এক মেয়ে ভাইরাল হওয়ার জন্য কাচা মাছ, মাংস খাচ্ছে। লোকজন পাগলের মতো তার ভিডিও দেখছে। ওয়াক থু ওয়াক থু করছে। এক মেয়ে অনলাইনে হজমি বিক্রি করে। তার দেখাদেখি এখন আরো ত্রিশজন হজমি বিক্রি করছে। পেয়ারা, বড়ই, চালতা, তেতুল, ভাত ইত্যাদি সব কিছুর সাথেই লোকজন হজমি মিশিয়ে খাচ্ছে। সব কিছু মিলিয়ে আমরা এক অদ্ভুত সময়ে বাস করছি।
সামান্য বার্গার পাওয়া যায়- ত্রিশ রকমের।
কোনোটা রেখে কোনটা খাই! সেদিন এক রেস্টুরেন্টে গিয়েছি। তাদের স্পেশাল খাবার হচ্ছে মাছ। সমুদ্রের মাছ। মাছটা নিলাম। বড় সাইজের একটা আস্ত মাছ। দেখতে আমাদের রুই মাছের মতো। লেবুর রসে ঢুবিয়ে রেখেছে। অতি অখাদ্য। একচিমটি মুখে দেওয়ার পর আমার দ্বিতীয় বার আর মুখে দিতে ইচ্ছা করেনি। লোকজন এখন রিভিউ দেখে রেস্টুরেন্টে খেতে যায়। কেউ যদি বলে অই রেস্টুরেন্টের খাবার ভালো, তাহলে সেই রেস্টুরেন্টে ভিড় লেগে যায়। তবুও দেশে ১২ কোটি মানুষ পুষ্টিকর খাবার খেতে পায় না। সুরভিও বাসায় প্রতিদিন কিছু না কিছু অদ্ভুত খাবার রান্না করে। সেগুলো আমি মুখে দিয়েও দেখি না। কিন্তু বাসার সবাই খায় এবং ভালো বলে। সবচেয়ে বেশি খাবার পছন্দ করে ফারাজা। সে তার মায়ের খাবারের দারুন ভক্ত। সুরভি লাল চালের ভাত খায়, লাল আটার রুটি খায়। এখনও ফাজ্জাও লাল চালের ভাত খায়। লাল আটা রুটি খায়।
২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২৯
রাজীব নুর বলেছেন: আসলে সুরভি সব কিছু অনলাইন থেকে কিনে। যাচাই বাছাই করেই কিনে।
২|
২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৭
কলিমুদ্দি দফাদার বলেছেন:
এতো এতো খাবারের মেলা কিন্তূ ঢাকা শহরে কোথায় একটু সুগার ফ্রি ড্রিংকস পাওয়া যায় না। নরমাল পানি যেন শেষ ভরসা। ১৮ কোটি মানুষের দেশ এতো বড় বাজার কোন কোম্পানি কি নেই সুগার ফ্রি কোন পানীয় বাজারে নিয়ে আসবে?
৩|
২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২৮
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: বেশিরভাগ খাবারই হলুদ আর ভেজাল । বাঙালির পিও ট্যাবলেট হলো সারজেল ২০ । ![]()
©somewhere in net ltd.
১|
২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৬
মুনতাসির বলেছেন: খাওয়া আমাদের স্বাধীনতার ঝামেলাহীন বহিপ্রকাশ। এর চল শুরু বেশ আগে থেকেই। খাবারের দোকানের সাসটেননিবিলিটি
অন্য ব্যবসার থেকে বেশি। তাই মনে হয় খাবারের দোকানও বেশি।
লাল চাল ভাল তবে এত প্রায় প্রতিবারই রং পেযেছি। আশাকরি আপনাদের টা ভাল ছিল।