নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

রাজীব নুর

আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি। কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।

রাজীব নুর › বিস্তারিত পোস্টঃ

জল-জলন্ত

৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪



সময় তখন ১৯৫০ সাল।
অলকা থাকে আমেরিকার ফারগো নামক শহরে। খুবই ছোট শহর। শহরটি ছবির মতন সুন্দর। শীতের সময় প্রচণ্ড শীত পড়ে। এলিন নামের এক বৃদ্ধার কাছ থেকে অলকা দুই রুমের একটা ছোট ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছে। অলকা'র ঘরটি ছোট কিন্তু ঘুব সাজানো গোছানো। অলকা অনেক কষ্টে এই শহরকে আপন ভাবতে শিখেছে। তবে এ শহরে একাএকা ঘুরে বেড়াতে ভালো লাগে না। অলকারর পাশের ফ্ল্যাটে থাকে 'মেই' নামের একটি মেয়ে। মেই মানে সুন্দর। মেই ফারগো শহরে এসেছে চীন থেকে। অলকার সাথে সে মাইক্রোবায়োলজিতে পড়ছে। মেই খুব মিশুক, আন্তরিক এবং হাসিখুশি টাইপ মেয়ে। সবচেয়ে বড় কথা মেই'র সাহস অত্যাধিক। সেদিন ক্লাশ শেষে মেরি জোর করে অলকাকে নিয়ে গেল পার্কে। পার্কে হাঁটতে আসা এক বুড়ো মেই'র বুকে হাত দেয়। অলকা প্রচন্ড অবাক হয়ে বুড়োর দিকে তাকিয়ে রইল। বুড়োর এমন ভাব করল- যেন এটা কোনো ব্যাপার না। মেই রেগে গিয়ে বুড়োকে দিল পেটের মধ্যে এক লাথথি। বুড়ো ছিটকে পড়ল ঘাসের উপর। মেই বলল- আংকেল এক পা তো কবরে, একটু সাবধান হোন।

পত্রিকা হাতে নিয়ে ওমর আলী সকালবেলা বারান্দায় বসেছেন।
সে এখন আরাম করে পত্রিকা পড়বে এবং মগ ভর্তি করে চা খাবেন। এটা তার দীর্ঘদিনের অভ্যাস। ওমর আলীর স্ত্রীর নাম সরলা বিবি। সরলা বিবি তার স্বামীর উপর মহা বিরক্ত। সরলা বিবি মনে করেন- তার স্বামীর মতন অলস মানুষ এই পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি নেই। শুধু অলস হলেও চলতো- সাংঘাতিক বোকা। সরলা বিবির বিশাল ব্যবসা। ভারত থেকে কাসার থালা, প্লেট, মগ এনে এখানে বিক্রি করেন। তেরোটা বেবীটেক্সি আছে, ভাড়ায় খাটে। এবং শাড়ি কাপড়ের ব্যবসা আছে। সব তার একা সামলাতে হয়। একবার ওমর আলীকে পঞ্চাশটা শাড়ি দিয়ে ইসলামপুর পাঠিয়ে ছিলেন একজন বেপারীকে দেওয়ার জন্য। ওমর আলী বাসায় ফিরে কিছুই বলতে পারলেন না- শাড়ি কোথায়? কাকে দিয়েছেন?

ওমর আলী সব ভুলে যান। শুধু ভুলেন না অতীত দিনের সৃতি।
তার আছে সোনালী অতীত। সরলা বিবি এখন নিজেই সব ব্যবসা দেখাশোনা করেন। আর ওমর আলী বাসায় বসে বই-খবরের কাগজ পড়েন এবং রেডিও শুনেন। তাদের বড় মেয়ে ভানু'র বয়স দশ বছর আর ছোট কন্যা পুষ্প’র বয়স তিন মাস। তার দুই কন্যা উঠানে খেলা করছে। ওমর আলীর হাতে দৈনিক আজাদ পত্রিকা। পত্রিকার একটি খবরের দিকে তার চোখ আটকে গেল। সে তার স্ত্রীকে বলল- তাড়াতাড়ি এক কাপ চা নিয়ে এসে আমার পাশে বসো। ওমর আলী চা শেষ করে- তার স্ত্রীকে পত্রিকা পড়ে শোনাচ্ছন।

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের জলপাইগুড়ি নয়াবস্তি এলাকায়-
ছোট একটা বাচ্চা উঠানে একাএকা আপন মনে খেলছে। বাচ্চাটি নতুন হাঁটা শিখেছে। দু'পা হেঁটেই পরে যাচ্ছে আবার উঠে দাড়াচ্ছে- আবার পড়ে যাচ্ছে। উঠা আর পড়ে যাওয়ার খেলা খেলে শিশুটি বেশ মজা পাচ্ছে। এই বাচ্চাটির ডাক নাম পুতুল। দেশ ভাগের দুই বছর আগে পুতুলের জন্ম। তিন বোন এবং দুই ভাইয়ের মধ্যে পুতুল তৃতীয়। তাদের বাবা ইস্কান্দর মজুমদার একজন ব্যবসায়ী। ইস্কান্দর মজুমদার ১৯১৯ সালে ফেনী থেকে জলপাইগুড়ি যান। পুতুলের স্কুল জীবন শুরু হয় পাঁচ বছর বয়সে দিনাজপুরের মিশন স্কুলে। এরপর দিনাজপুর গার্লস স্কুলে ভর্তি হন। এই স্কুল থেকেই অস্টম শ্রেনী পাশ করেন।

১৯৬০ সালের আগস্ট মাসে পুতুলের বিয়ে হয়-
কমল নামের এক হাসি খুশি তরুনের সাথে। পুতুলের বয়স তখন সতের বছর বয়স। জিয়াউর রহমানের ডাক নাম কমল। জিয়া তখন ছিলেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন ক্যাপ্টেন। ডিএফআই এর অফিসার হিসাবে তখন দিনাজপুরে কর্মরত ছিলেন। পাঁচ ভাইদের মধ্যে জিয়াউর রহমান ছিলেন দ্বিতীয়। তাঁর পিতা কলকাতা শহরে এক সরকারি দপ্তরে রসায়নবিদ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর শৈশবের কিছুকাল বগুড়ার গ্রামে ও কিছুকাল কলকাতা শহরে অতিবাহিত হয়।

জিয়াউর রহমান পশ্চিম জার্মানি থেকে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
১৯৭০ সালে দেশে ফিরে আসার পর তাকে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের দ্বিতীয়-অধিনায়ক হিসেবে চট্টগ্রামে বদলি করা হয়। স্বভাবতই জনসাধারণের কাছে জিয়াউর রহমান নামটি অপরিচিত ছিল। কিন্তু তিনি একজন তাৎক্ষণিক জাতীয় ব্যক্তিত্বে রূপান্তরিত হলেন, যখন তিনি ২৭ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করলেন। তাঁর ঘোষণাটি ছিল: ''আমি মেজর জিয়া, বাংলাদেশ লিবারেশন আর্মির অস্থায়ী সর্বাধিনায়ক, এতদ্বারা শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি''।

মন্তব্য ১ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: মেজর জিয়ার ঘোষণার আগে এম এ হান্নান নামে জনৈক ব্যক্তি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন ? তাহলে কেন মেজর জিয়াকে আবার ঘোষণা দিতে হলো ?

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.