নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

রাজীব নুর

আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি। কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।

রাজীব নুর › বিস্তারিত পোস্টঃ

দেশভাগ, উদ্বাস্তু এবং রোহিঙ্গা

০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪২



দেশভাগের অনেক পরে আমার জন্ম।
আমি দেশভাগের ইতিহাস জানি। দেশভাগের পরে যা হয়েছে, অতি মন্দ সব ঘটনা ঘটেছে। লাখ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং হাজার হাজার নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছে। দেড় কোটি মানুষ তাদের ঠিকানা হারিয়েছে। হিন্দু মুসলিম মিলেমিশে থাকতে পারলে দেশভাগ হতো না। তাই বলা যেতে পারে- দাঙ্গা থেকে দেশভাগ। যে দুটো দেশের জন্মই হয়েছে ধর্মকে কেন্দ্র করে, সেসব দেশে সাম্প্রদায়িকতা থাকবে না কেন? মসজিদ ভাঙ্গো, মন্দির পুড়ো। হায়রে ধার্মিক! ৪৭ এ কয়েক মাস ধরে মানুষ বাস, ট্রেনে করে দেশ ছেড়েছে। যারা বাস বা ট্রেন পায়নি তারা নিজের শেষ সম্বলটুকু পোটলা বেধে মাথায় নিয়ে দেশ ছেড়েছে। খালি পায়ে। ছাগল হাঁস মূরগী পর্যন্ত সাথে নিয়েছে। আবার পাকিস্তান থেকে হিন্দুরা এসেছে দলে দলে ভারতে। প্রাচীন গঙ্গা নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিলো- আমাদের এই ভূখন্ড। ভূখন্ড ভাগ হয়ে গেছে। আশার কথা হচ্ছে- অনেক কিছুর পরও আজ এই ভূখন্ড টিকে আছে।

দেশভাগ হলো আর স্বাধীন হলো- ভারত।
পরাধীনতার গ্লানি মুছলো। কিন্তু ভারত এত এত রিফিউজিকে কোথায় আশ্রয় দেবে? কিভাবে দেবে খাবার? এদিকে উদ্বাস্তু'রাও ভালো নেই। ভারত ধনী দেশ নয়। তাদের থাকা এবং খাওয়ার সুন্দর ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়। ভারত তাদের আশ্রয় দিয়েছে, এটা তারা মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছে। এত এত উদ্বাস্তু'র কোনো দেশ নেই। তারা অভাগা। নিজের দেশ ছেড়ে ভাগ্যের নির্মম পরিহাস! সারা কলকাতা রিফিউজি দিয়ে ভরে গেছে। ইলিয়ট রোড, মার্কুইস স্ট্রিট, রিপন স্ট্রিট, বেন্টিঙ্ক স্ট্রিট, হাওড়া স্টেশন যেদিকে তাকাও শুধু রিফিউজি আর রিজিউজি। নাঙ্গা ভূখজা মানুষ। এরা কেউ ভিক্ষা করে, কেউ স্টেশনের কুলি হয়েছে। মেয়েরা কাজ করছে বাসা বাড়িতে। কেউ কেউ বিক্রি হয়েছে পতিতা পল্লীতে। এদের সামলাতে সরকার হিমিশিম খাচ্ছে। কোনো এক বিচিত্র কারনে- এইসব রিজিউজিরা কলকাতা ছেড়ে কোথাও যেতে চায় না। সরকার তাদের প্রস্তাব দিয়েছে উড়িষ্যা যাও, দন্ডকারন্যে যাও। যেখানে রিফিউজিরা যাবে না। জঙ্গলে যেয়ে তারা করবে কি? ৪৭ এর রিফিউজিদের চেয়ে আমাদের দেশের রোহিঙ্গারা কিছুটা ভালো অবস্থানে আছে। তাদের সবার হাতে স্মার্টফোন।

মুসলিমলীগ ও তার নেতা মহম্মদ আলি জিন্না-
তারা যদি নমীনিয় হতো, তাদের যদি মানুষের প্রতি ভালোবাসা থাকতো- তাহলে কোটি কোটি মানুষ দেশহারা হতো না। বাড়িঘর ছেড়ে চলে যেতে হতো না। হারাতে হতো না তাদের বাপ-দাদার বসতভিটা। করতে হতো না মানবেতর জীবনযাপন। নেতারা ভুল সিদ্ধান্ত নিলে- দূর্ভোগ পোহাতে হয় দেশের জনগনের। আমার ভাবতে ভালো লাগে- মানুষ কোনো একক দেশের নাগরিক হবে না। মানুষ হবে বিশ্ব নাগরিক। ভিসা পাসপোর্ট ছাড়াই মানুষ চলে যাবে অন্য দেশে। কোনো বর্ডারে থাকবে না কাঁটাতার। কলকাতার বৈঠকখানা রোডে আমাদের একটা বাড়ি ছিলো। দোতলা বাড়ি। আমার দাদা কলকাতায় গেলে সে বাড়িতে উঠতেন। আমি নিজেও কলকাতা গিয়ে সেই বাড়িটা দেখে এসেছি। বাড়ির কাগজপত্র আছে। কয়েক বছর আমার ছোট চাচা মামলা লড়েছেন। দেশ ত্যাগের সময় যাদের আর্থিক অবস্থা ভালো ছিলো এবং যারা শিক্ষিত ছিলো- তারা খেয়েপরে বেচে ছিলো, ভালো ছিলো। এমনকি শিক্ষিতরা ভালো চাকরি পেয়েছে। তারা ভালো পরিবেশে বাড়ি ভাড়া করে থেকেছে।

কলকাতার রানাঘাট এলাকায় বিশাল এক বটগাছ আছে।
বটগাছ থেকে কিছু দূরে আছে একটা অশ্বত্থ গাছ। এই অশ্বত্থ গাছের কাছেই কুপার্স ক্যাম্প। আরো কিছু দূরে আছে রুপশ্রী কলোনি। বিশাল এক গুদাম ঘরকেই কলোনি বানানো হয়েছে। এই গুদামঘর বহু বছর ধরে তালা বন্ধ ছিলো। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এই গুদামঘর সচল ছিলো। এখানে আশ্রয় নিয়েছে কয়েক হাজার রিফিউজি। হাজার হাজার উদ্বাস্তু'র জন্য আছেন মাত্র একজন পল্লী চিকিৎসক। সব উদ্বাস্তু অসুস্থ। তাদের সবারই কোনো না কোনো সমস্যা আছে। টাকা দিয়ে চিকিৎসা করাবে এমন রিফিউজি নেই বললেই চলে। ডাক্তার রোগি দেখতে দেখতে দিশেহারা। ডাক্তার সবাইকে এক ওষুধ দিচ্ছে। মাথা ব্যথার জন্য যে ওষুধ দিচ্ছে, পাইলসের জন্যও সেই একই অষুধ দিচ্ছে। ওষুধ নিতে হলে- এক আনা দিয়ে কাচের বোতল কিনতে হয়। যার কাচের বোতল নেই, সে ওষুধ পাবে না। রিফিউজিদের ফেলা যাওয়া বাড়িঘর, গরু ছাগল দখল করে নিয়েছে চতুক লোকেরা।

মন্তব্য ১১ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (১১) মন্তব্য লিখুন

১| ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৯

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:




দেশ ভাগের সময়ে অনেক নামকরা পরিবার ভারত ছেড়ে আমাদের দেশে আশ্রয় নেন।
সেই সময়ে অনেককে অনেক দুঃখ দূর্দশার সম্মুখীণ হতে হয়।

০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:৩৩

রাজীব নুর বলেছেন: অথচ তারা কোনো অন্যায় করেনি।

২| ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ইতিহাস পড়তে ভালো লাগে ।

০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩৩

রাজীব নুর বলেছেন: ইতিহাসে মজা আছে।

৩| ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩২

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:



শিলং-এ আমার দাদার একটি বড় বাসা ছিলো।
সে কেয়ারটেকারের কাছে তা রেখে আসা হয়, তারাই সেটা দখল করে নেয়।

০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৫

রাজীব নুর বলেছেন: শিলং সালাদিনের সাথে যোগাযোগ করুন।

৪| ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০৩

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:



চিনি না।
উনার মোবাইল নাম্বার দিন।

৫| ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৮

মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ বলেছেন: আমার ধারনা, ভারতের বাঙ্গালী অবাঙ্গালী নির্বিশেষে যেসব সকল মুসলমান মাটি কামড়ে ভারতে থেকে গিয়েছিলো, তারা হলোই প্রকৃত অর্থেই বাপের ব্যাটা, মেরুদন্ডী প্রানী।

ভারতীয় এই মুসলমান জনগোষ্ঠীর যে বিষয়টা ভালো লাগে তা হলো এরা এদের নাগরিকত্ত্বের পরিচয়কে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্ব দেয়, এরপর দেয় এদের জাতিস্বত্তার পরিচয়কে আর সর্বশেষে তাদের ধর্মীয় পরিচয়কে। তারা খুবই বাস্তবমুখী। ধর্মের আবেগে ভেসে বিবেক-বাস্তবতাকে বিসর্জন দেয় না।

দেশ ভাগের সময় পশ্চিম বঙ্গ থেকে আসা ঘটিদের (ওপার বাংলার বাঙ্গালী মুসলিম) মনে অনেক দুঃখ যেমন দুঃখ বিহারীদের…। এই দুই জাতিই দাঙ্গায় তাদের স্বজন হারিয়েছে, পৈতৃক জমি-জমা ও বসত ঘর হারিয়েছে। তাদের পরিচিতি পরিবেশ ও জন্ম স্থানকে বিসর্জন দিতে হয়েছে। একদিকে দাঙ্গার trauma আর অন্যদিকে মুসলমানদের আবাসস্থল পাকিস্তানে অভিবাসী হওয়ার স্বপ্ন।

কিন্তু ২৪ বছরের মধ্যেই স্বপ্নের promised land পাকিস্তান ভেঙ্গে যাওয়া ছিলো তাদের জন্য trauma ‘র ওপর trauma.

এখন প্রশ্ন এটাই যে পূর্ব বঙ্গে জন্ম নেয়া বাঙ্গাল তথা বাঙ্গালী বাংলাদেশীরা কোন trauma'র শিকার হয়েছিলো যে, যে কারণে তারা বাঙ্গালী পাকিস্তানিতে রূপান্তরিত হলো……

৬| ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৬

অধীতি বলেছেন: অথচ ভারত, পাকিস্তানের কোন অংশই আমরা হতাম না। আমরা স্বতন্ত্র হতাম যদি তৎকালীন নেতারা ভুল না করতেন।

৭| ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:১১

নাহল তরকারি বলেছেন: দেশ ভাগের আগে হিন্দুরা নাকি মুসলিমদের অত্যাচার করিতো? তাই নাকি জিন্নাহ ও মুসলিম নেতারা আলাদা দেশ চাইছে।

সংখ্যা গরিষ্ঠ্য হিন্দু নাকি সংখ্যা লঘু মুসলিমদের পিটাতো, মারতো? তাই লক্ষ্ণৌ চুক্তি তে সাইন করতে বাধ্য হউন জিন্নাহ। কিন্তু সেই চুক্তি কনগ্রেস সাইন করলেও পরে সেটা নাকি ওরা চক্তিভঙ্গ করছে। তাই নাকি জিন্নাহ দেশ ভাগের পরিকল্পনা করেছে? আপনি কি বলেন?

৮| ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:৩৩

মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন:



লেখাটি পড়লাম। দেশভাগকে আমরা অনেক সময় শুধু রাজনৈতিক মানচিত্রের পরিবর্তন হিসেবে দেখি; কিন্তু আপনার লেখাটি সেই মানচিত্রের পেছনে থাকা মানুষের কান্না, উদ্বাস্তু জীবনের অনিশ্চয়তা এবং হারিয়ে যাওয়া শিকড়ের কথাই বেশি করে মনে করিয়ে দিল।

বিশেষ করে আপনার নিজের পরিবারের কলকাতার বাড়ির প্রসঙ্গটি লেখাটিকে অন্যরকম একটি মানবিক মাত্রা দিয়েছে। একটি বাড়ি শুধু ইট-পাথরের স্থাপনা নয়—তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে স্মৃতি, শৈশব, পূর্বপুরুষ এবং একটি পরিবারের ইতিহাস। দেশভাগের মতো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত যখন মানুষের সেই শিকড় ছিন্ন করে দেয়, তখন তার ক্ষত কয়েক প্রজন্ম পরেও থেকে যায়।

রোহিঙ্গাদের প্রসঙ্গটিও যথার্থভাবে এসেছে। সময়, স্থান ও পরিস্থিতি ভিন্ন হলেও উদ্বাস্তু মানুষের মৌলিক কষ্ট একই—নিজের ঘর হারানো, নিরাপত্তা হারানো এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে যাত্রা। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত এখানেই যে, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মূল্য অনেক সময় সাধারণ মানুষকেই সবচেয়ে বেশি দিতে হয়।

আপনার ‘মানুষ কোনো একক দেশের নাগরিক হবে না, মানুষ হবে বিশ্ব নাগরিক’—এই আকাঙ্ক্ষাটিও খুব মানবিক। বাস্তবে রাষ্ট্র ও সীমান্তের প্রয়োজন থাকলেও মানুষের প্রতি মানুষের সহমর্মিতা, মানবিক মর্যাদা ও নিরাপদে বেঁচে থাকার অধিকার যেন সীমান্তের কাছে পরাজিত না হয়—এই বোধটিই সবচেয়ে জরুরি।

তবে দেশভাগের ইতিহাসকে শুধু কোনো একটি সম্প্রদায় বা নেতার ভুল দিয়ে ব্যাখ্যা না করে সেই সময়ের সামগ্রিক রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাম্প্রদায়িক বাস্তবতার আলোকে দেখা দরকার। তাহলেই ইতিহাস থেকে বর্তমানের জন্য সত্যিকার শিক্ষা নেওয়া সম্ভব।

ইতিহাসের একটি বেদনাদায়ক অধ্যায়কে ব্যক্তিগত স্মৃতি ও মানবিক অনুভূতির সঙ্গে মিলিয়ে তুলে ধরেছেন। লেখাটি ভাবনার খোরাক জোগাল।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.