| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রাজীব নুর
আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি। কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।
ফারাজা তাবাসসুম খান-
ব্যস্ততার কারনে অনেকদিন ধরে তোমাকে নিয়ে কিছু লেখা হচ্ছে না। তোমার জ্বর হলো। কয়েকদিন তুমি জ্বরে ভূগলে। এরপর তোমার পা ব্যথা। আবার ডাক্তার। আবার ওষুধ। এর আগে সমস্যা হলো তোমার চোখে। ডাক্তার, ওষুধ এবং চশমা। রোগ, শোক, হাসি, কান্না, রাগ, অভিমান আর আনন্দ নিয়েই মানুষের জীবন। তোমার জীবন কেমন কাটছে? সকাল সাড়ে টায় তোমাকে ঘুম থেকে জাগাতে হয়। তোমাকে ঘুম থেকে জাগাতে পনের মিনিট সময় লাগে। আমি কিছুক্ষন ডাকাডাকি করি, এরপর তোমার মা তোমাকে ডাকে। সকালে যেন তোমার ঘুম থেকে উঠতে সমস্যা না হয়, এজন্য তোমাকে রাত ৯/১০ টার মধ্যে ঘুম পাড়িয়ে দেওয়া হয়। তবু তুমি সকালে ঘুম থেকে উঠতে চাও না। ঘুম থেকে তোলার পর ব্রাশ হাতে নিয়ে তুমি দশ মিনিট বসে থাকো। আমি আর তোমার মা সমানে বলতে থাকি, ফাজ্জা ব্রাশ করো, ব্রাশ করো। দেরি হয়ে যাচ্ছে। স্কুলের ইউনিফর্ম পরা, জুতো পরা। ৭টা ১৫ মিনিটের মধ্যে বাসা থেকে বের না হলে সমস্যা। ৮ টা বেজে গেলে স্কুলে আর প্রবেশ করতে দেয় না। রামপুরা পার হয়ে হাতিরঝিল হয়ে গুলশান যেতে হয়। এদিকে রাস্তায় জ্যাম তো থাকেই। এছাড়া ড্রাইভার আসে না, ফোন ধরে না। শেষ ভরসা সিএনজি। সিএনজি পাওয়া বিরাট দিকদারি। প্রতিদিন একই রুটিন।
প্রিয় কন্যা আমার-
স্কুল থেকে ফিরতে ফিরতে তোমার দেড়টা থেকে দুটা বেজে যায়। বাসায় এসে তুমি গোছল করো। তোমার মা রান্না চড়ায়। এদিকে বুয়া নাই। অনেকদিন ধরে আসে না। ঘরের সকল কাজ তোমার মায়ের একা করতে হয়। আমার সময় সুযোগ হলেই আমি ঘরের কাজে তোমার মাকে সহযোগিতা করি। কাপড় ধুই। এক বালতি কাপড়। আমার মা আমাকে দিয়ে কোনো দিন কাপড় ধোয়ায় নাই। ঠিক করে জানিও না, কিভাবে কাপড় ধুতে হয়। তুমি হোমওয়ার্ক করতে বসো। হোম ওয়ার্ক করতে গিয়ে তুমি খুব তাড়াহুড়ো করো। কারন তুমি টিভি দেখতে বসবে। টিভি দেখা তোমার অনেক পছন্দের। তোমার মার রান্না শেষ হলে- তোমাকে খাইয়ে দেয়। এখনও তুমি নিজের হাতে খাও না। ক্লাস ওয়ান থেকে হয়তো তুমি নিজ হাতে খাবার খাবে। এখন তুমি কেজি ওয়ান। এর আগে প্লে গ্রুপ, নার্সারী শেষ করেছো। আগামী বছর কেজি টু-তে উঠবে। তারপর ওয়ান। আজকাল তুমি বিকেলে ঘুমাও না। পাচ তলায় যাও রোহার সাথে খেলতে। সন্ধ্যা পার হয়ে যায়, তোমার খেলা শেষ হয় না। তুমি এতই ব্যস্ত যে আমি ফোন করলেও তুমি আমার সাথে কথা বলো না। দুঃখ হয়। কষ্ট লাগে। বাবা ফোন দিবে, কিন্তু মেয়ে কথা বলবে না!
ফারাজা তাবাসসুম-
আগামীকাল তুমি নানা বাড়ি যাবে। স্কুল পূজোর বন্ধ দিয়েছে। ৩/৪ দিন থাকবে। আমি এমন এক চাকরি করি- আমার কোনো বন্ধ নেই। আমি সময় পেলে তোমাকে গিয়ে দেখে আসিব। ফাজ্জা, গতকাল সারারাত এক ফোটা ঘুম হয়নি। অথচ ঘুম না হওয়ার কোনো কারন নেই। এমন না যে দিনের বেলা আমি খুব ঘুমিয়েছি। চা মাত্র তিন কাপ খেয়েছি। আমার পাশে তুমি আর তোমার মা গভীর ঘুমে। আমার ঘুম নেই। আমি এপাশ ওপাশ করে যাচ্ছি। ভোরের দিকে সামান্য ঝিমুনি এলো। তখন মোবাইলে এলার্ম বেজে উঠলো। লাফ দিয়ে উঠে গেলাম। কাজে যেতে হবে। আমি কখনও দেরি করি না। ঝড় হোক, বৃষ্টি হোক। বাংলাদেশের মানুষের সময় জ্ঞান নেই বললেই চলে। কেউ তাদের গন্তব্যে সময় মতো যায় না। নানান রকম উছিলা দেখায়। রাস্তায় জ্যাম, বৃষ্টি হয়েছে, সিএনজি/বাস পাইনি, বাসায় মেহমান এসেছিলো, শরীর খারাপ। কিন্তু আমি জানি- কেউ যদি তীব্র ভাবে চায়- সে সময় মতো অফিসে যাবে। তাহলে সেটা কঠিন কিছু নয়। আজ আমি পর্যন্ত কোনোদিন অফিস যেতে দেরি করিনি। এটা আমি গর্ব করে বলি। একবার আমাদের এলাকায় কোমর সমান পানি জমে গেলো। আমার অফিসের কাছেও কোমর সমান পানি। প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। সেদিনও আমি অফিস যেতে দেরি করিনি। অফিসে সময় মতো যাওয়া, এটা নিজের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে।
প্রিয় কন্যা আমার-
সৌদি দেশটা খুবই বর্বর। জাতি হিসেবে ওরা মূর্খ, উন্মাদ ও মগজহীণ। ওদের আছে তেল আর হজ্ব থেকে ইনকাম করা টাকা। মুসলমানদের সৌদির প্রতি দুর্বলতা কারন কাবাঘর। কাবাঘরের ইতিহাস ভয়াবহ। কাবা ঘরে আগে মূর্তি রাখা হতো। মূর্তি পূজা করা হতো। সে ইতিহাস আমি ঘাটতে চাই না। যাইহোক, কয়েকদিন আগে দুজন বাংলাদেশী নারী পুরুষকে সৌদি সরকার গলা কেটে হত্যা করেছে। তারা এমন কোনো অন্যায় করেনি যে তাদের গলা কেটে হত্যা করতে হবে। বড়জোর সৌদি সরকার দুজনকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দিতে পারতো। এবং তাদের জন্য সৌদি আজীবন নিষিদ্ধ করে দিতে পারতো। দুজনের মানুষের মধ্যে ভালোবাসা থাকলে তারা হাত ধরাধরি করে হাটতে পারে। চুমু দিতে পারে। হাগ করতে পারে। ইহা অন্যায় নয়। এজন্য তাদের শিরচ্ছেদ করতে হবে! গত কয়েক মাসে সৌদি থেকে কয়েক শ' নারী শ্রমিকের লাশ এসেছে দেশে। সৌদি আজ থেকে এক শ' বছর আগেও বর্বর ছিলো, আজও ঠিক তাই। আফগানিস্তানও বর্বর দেশ। মুসলিম দেশ গুলোর নারইরা ভালো নেই। বেশীরভাগ ধার্মিক পৃথিবী সম্পর্কে জানে না। সভ্যতা কোথায় আছে বুঝে না। ধার্মিকদের চিন্তা ভাবনা এখনও পেছনেই পড়ে আছে।
ফারাজা তাবাসসুম খান-
ডায়বেটিস হওয়ার পর থেকে বেশ কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে আমার। প্রেসার বাড়ে, বাড়তেই থাকে। চোখে ঝাপসা দেখি। ছোট লেখা পড়তে পারি না। হঠাত করে ভীষন দুর্বল লাগে। মাথা ঘুরায়। হাত পা চাবায়। স্কীনেও কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। আমাদের দেশে কেউ সুস্থ না। যে শারীরিক ভাবে সুস্থ, সে মানসিক ভাবে অসুস্থ। প্রতিটা হাসপাতালে রোগী দিয়ে ভরা। আজকাল হাসপাতালে সিট পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। শিক্ষা এবং চিকিৎসা খাত নিয়ে আমাদের দেশে সবচেয়ে ভালো ব্যবসা হয়। সন্ধ্যার পর ওষুধের দোকান গুলোতে পা রাখার জায়গা পাওয়া যায় না। হুহু করে বাড়ছে ওষুদের দাম। ডাক্তারের ভিজিট বাড়ছে। ডাক্তারের কাছে গেলেই কমপক্ষে ৪/৫ টা টেস্ট দিবেন। ডাক্তার আবার মায়া দেখিয়ে প্রেসক্রিবশনে লিখে দেন, ২৫ পার্সেন্ট ডিসকাউন্ট। অর্থ্যা ডাক্তার যে টেস্ট গুলো দিয়েছেন, সেগুলো তার ঠিকানা দেওয়া, ওখানে করলে ২৫% কম পাবো। একজন মানুষ ডাক্তার হবে, মানুষের সেবা করার জন্য, তাদের টাকার প্রতি এত লোভ হবে কেন? ওষুধ কোম্পানী গুলো যেন ডাক্তারদের কিনে নিয়েছে। 
২|
২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:১৪
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আপনার ও আপনার পরিবারের জন্য রইলো শুভকামনা ।
©somewhere in net ltd.
১|
২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৮
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: আগামীকাল তুমি নানা বাড়ি যাবে। স্কুল পূজোর বন্ধ দিয়েছে।
....................................................................................
এবার নানা বাড়ী গিয়ে কি কি দেখবে ?
কি কি শিখবে
কি কি খাবে ?
জানার আগ্রহ থাকল, সেই সাথে ভ্রমন শুভেচ্ছা থাকল ।