নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

রাজীব নুর

আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি। কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।

রাজীব নুর › বিস্তারিত পোস্টঃ

আমাদের শাহেদ জামাল- ১০০

২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৮



মাঝে মাঝে খুব অবিশ্বাস্য ব্যাপার সহজ ভাবে ঘটে যায়।
এই যে আমি শাহেদ। শাহেদ জামাল। রমিজ উদ্দীনের ছেলে। আমাকে একটা ঘরে বন্ধী করে রাখা হয়েছে। ছোট ঘর। ঘরে কোনো জানালা নেই। শুধু মাত্র একটা দরজা। হালকা আলো জ্বলছে। কতদিন ধরে আমি এখানে বন্ধী আছি, জানি না। কি অপরাধে বন্ধী সেটাও জানি না। হয়তো নিজের অজান্তেই কিছু অপরাধ করেছি, নইলে এখানে আমাকে বন্ধী করে রাখবে কেন? আমি ভাবতাম, চালচুলাহীন মানুষ আমি। আমার কোনো বন্ধু নেই, আমার কোনো শত্রু নেই। নিরীহ মানুষ বলেই নিজেকে ভাবতাম। আমাকে চোখ বাঁধা অবস্থায় এখানে নিয়ে আসা হয়েছে। বলা হয়েছে, কঠিন মৃত্যু হবে আমার। বিষাক্ত সাপের ছোবলে মৃত্যু হবে। আমি বলেছি, প্লিজ সাপ নয়। সাপ আমি ভীষন ভয় পাই। লোকটা বলল- তাহলে কি ইদুর দিয়ে তোমার মৃত্যু নিশ্চিত করবো? না আমি ইদুর দ্বারা মৃত্যুও চাই না। বড় বড় উদুর গুলো মারাত্মক ভয়ংকর হয়। পাকিস্তানের কারাগারে ভয়ংকর আসামীদের ছোট একটা কাঠের বাক্সে রাখা হয়। বাক্সের মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়। বাক্সে কিছু ক্ষুধার্ত ইঁদুর ছেড়ে দেওয়া হয়। সেই ক্ষুধার্ত ইঁদুর গুলো বন্ধী থাকা লোকটা কামড়ায়। কামড়ে কামড়ে মাংস খুবলে খায়। এক সপ্তাহ এভাবে রাখা হয়। উদুরের অসংখ্য কামড় খেয়ে লোকটা ক্ষতবিক্ষত।

আপনাদের ওপর শান্তি বরশিত হোক।
আজ শনিবার, ৮ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ। পূজো শেষ। এ বছর পূজো হিন্দু সম্প্রদায় শান্তিতে করেছে। কোথাও কোনো অপ্রতিকর ঘটনা ঘটেনি। পূজা মন্ডপ গুলো দেখার মতো হয়েছে। এত সুন্দর সুন্দর পূজা মন্ডপ কলকাতাতেও খুব বেশি হয় না। একটা পূজা মন্ডপ দেখলাম- সোনালী আঁশ দিয়ে করা হয়ছে। আমার কাছে পূজা মন্ডপের চেয়ে বেশি ভালো লাগে, মেয়েদের। মেয়ে গুলো সুন্দর করে সেজে মন্ডপে আসে। সবাই পূজা উপলক্ষ্যে শাড়ি পড়ে। প্রতিটা মেয়েকেই সুন্দর লাগে। সরকার পূজা উপলক্ষ্যে লম্বা ছুটি দিয়েছে। লম্বা ছুটি পেয়ে লোকজন কক্সবাজার গিয়েছে। সেখানে এত এত লোক হয়েছে, যে হোটেলে কামরা পাওয়াই মুশকিল। বেশি টাকা দিয়েও রুম পাওয়া যাচ্ছে না। মুসলিম মেয়েরা পূজা মন্ডপ গুলো ঘুরে ঘুরে দেখছে। তারা বেশ আনন্দ পাচ্ছে। এক সাংবাদিক তাদের প্রশ্ন করলো- আপনি তো মুসলিম, তাহলে কেন হিন্দুদের পূজা মন্ডপে এলেন? মেয়েটা হাসতে হাসতে বললো- আমার গুনাহ হলে হোক। এত সুন্দর করে সাজিয়েছে! এটা দেখলে গুনাহ কেন হবে? আজিব! এযুগের মেয়েরা ধর্মকর্ম কম করে।

আমার নাম শাহেদ। শাহেদ জামাল।
এই মুহুর্তে আমার মেজাজ অত্যাধিক খারাপ। কারণ- ''রিকশাচালক হত্যা মামলায় রিমান্ড শেষে কারাগারে দীপু মনি''। দীপু মনি রিকশা চালক কে হত্যা করবে, এটা বাংলাদেশের কোনো রিকশা চালক বিশ্বাস করবে না। হাস্যকর একটা মামলা। ১৯৬৫ সালে চাঁদপুরের কামরাঙ্গা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। আমেরিকা থেকে তার একটা পিএইচডি ডিগ্রী আছে। উনি সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী। জুলাই আন্দোলনে দীপু মনি রিকশা চালককে মারলো কি করে? গুলি করে মেরেছে? কুপিয়ে মেরেছে? রিকশা চালককে মারার ভিডিও কি কারো কাছে আছে? এত দুর্বল মামলা! যে এই মামলা করেছে, সে একটা ছাগল। ছাগল দিয়ে ভরে গেছে দেশ। এখন যারা ক্ষমতায় আছেন। চ্যাটাং চ্যাটাং কথা বলছেন, তাদের কপালেও দুঃখ আছে। আসলে বাংলাদেশে যে-ই রাজনীতিতে নামবে তার কপালেই দুঃখ আছে। এই যে হাসনাত, সারজিস, সজীব ভূঁইয়া এত লাফাচ্ছে, ভবিষ্যতে এদের জীবন কাটবে জেলে। হ্যা বাংলাদেশের রাজনীতি এরকমই। শেখ মুজিব, জিয়ার করুন মৃত্যু হয়েছে। শেষ জীবনে খালেদা জিয়ার করুন অবস্থা হয়েছে। এখন করুন অবস্থা শেখ হাসিনার। আমি তো রাজনীতি করি না। তবুও তো আজ আমার করুন অবস্থা। জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।

সিটি করপোরেশন চাচ্ছে- ঢাকার ফুটপাত দখলমুক্ত করতে।
এটা বাংলাদেশে সম্ভব নয়। বাংলাদেশে একটা সরকারের পতন ঘটানো সম্ভব। কিত্নু হকার মুক্ত ফুটপাত সম্ভব নয়। সরকারি হাসপাতাল থেকে দালাল মুক্ত করা সম্ভব নয়। এবং সিএনজি চালকদের মিটারে চলা সম্ভব নয়। এরচেয়ে অনেক সহজ সরকার হটানো। প্রতি বছর দুই তিনবার সিটি করপোরেশন ফুটপাত দখল মুক্ত করতে যায়। ফুটপাতে থাকা দোকান পাট ভেঙ্গে, ঘুটিয়ে দেয়। বিকেলে আবার দোকান বসে। এরকমই দেখে আসছি, গত ত্রিশ বছর ধরে। ফুটপাত থেকে যে পরিমান চাঁদা উঠে, সেটা অনেক বড় এমাউন্ট। সরকারি দলের লোকজন সেই টাকা ভাগ বাটোয়ারা করে নেয়। ফুটপাতের টাকা দিয়ে ছয় লাখ লোক খেয়েপড়ে বেঁচে আছে। বাংলাদেশে ফুটপাত দখলমুক্ত হবে না। নো নেভার। আমি শাহেদ জামাল, এই মুহুর্তে বন্ধী। ক্ষুধার্ত। মৃত্যুর প্রহর গুনছি। এরা আমাকে হত্যা না করে, যদি আমার কিডনী দুটা কাউকে দান করে দিতো, চোখ দুটা কাউকে দিয়ে দিতো, গায়ের চামড়া গুলো কাউকে দিয়ে দিতো- তাহলে কেউ উপকার পেতো। কিন্তু নির্বোধ গুলো আমাকে হত্যা করে লাশ বুড়িগঙ্গায় ফেলে দিবে। আফসোস! বিরাট আফসোস।

আমি শাহেদ জামাল মরে গেলে-
কারো কোনো ক্ষতি হবে না, কারো কোনো উপকার হবে না। আমার মৃত্যুতে কেউ শোক পালন করবে না। কেউ ফেলবে না চোখের জল। পৃথিবীর জন্য, দেশের জন্য, সমাজের জন্য- কারো জন্য আমার কোনো অবদান নেই। বেশির ভাগ মানুষ মুসজিদ করে, মাদ্রাসা করে। এ দুটাই অপ্রয়োজনী। পুরো বাংলাদেশের এমন কোনো এলাকা নেই, যেখানে মসজিদ বা মাদ্রাসা নেই। তবু মানুষ সমানে মসজিদ মাদ্রাসা করেই যাচ্ছে। ঢাকা চিড়িয়াখানার ভিতরেও একটা মসজিদ আছে। পার্কের ভেতরও মসজিদ আছে। আমেরিকার লাস ভেগাসেও মসজিদ তৈরি করা হয়েছে। সেখানকার বাঙ্গালীরা নিজেদের টাকায় মসজিদ করেছে। অথচ একজন কৃষক টাকার অভাবে সার কিনতে পারছে না, বীজ কিনতে পারছে না, সেদিকে কেউ নজর দেয় না। মাদ্রাসা হলো- বালাৎকারের আস্থানা। প্রতিটা মাদ্রাসা গুড়িয়ে দেওয়া উচিৎ। সৌদিতে এক বাঙ্গালী নারী পুরুষকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। তাদের অপরাধ তারা দুজন দুজনকে জড়িয়ে ধরে চুমু দিয়েছে। ভালোবেসে চুমু দেওয়া কি অন্যায়? এটা কেমন ইসলামী নিয়ম? আমাদের নবীজি কি কখনও তার স্ত্রীদের ভালোবাসে নি? ভালোবেসে জড়িয়ে ধরেন নাই? চুমু দেন নাই? আমার সময় শেষ। মৃত্যু দুয়ারে। হোক মৃত্যু। চলে যাই অন্য দুনিয়ায়। ভালো থাকুন আপনারা। সুস্থ থাকুন। ধার্মিক নয়, মানবিক মানুষ হোন।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.