| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রাকিব আহসান
ফেসবুকে আমি :http://www.facebook.com/rakib.ahsan.7
এদেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ কোন কাজ ছাড়াই প্রতিনিয়ত ঘুরে বেড়ায়। কোথাও রাস্তার ধারে হা করে দাঁড়িয়ে থাকবে। আপনি দেখলে ভাববেন লোকটা বোধ্যয় খুব মনোযোগের সাথে রাস্তায় বের হওয়া গাড়ি গুলো গুনছে!
কোথাও যৌন চিকিৎসার ঔষধ বিক্রি হচ্ছে, সেখানে প্রবল উৎসাহী বিভিন্ন বয়সী মানুষের আনাগোনা। ফুটপাথ ভরে গিয়ে মানুষ ঠাঁসাঠাসি করে রাস্তায় নেমে এসেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা হা করে বিক্রেতার মধুমাখা কথা শুনছে।
কেউ কেউ দেখবেন সংসদের সামনে দাঁড়িয়ে একনজরে তাকিয়ে আছেন, নাকের মধ্যে একটা আঙ্গুল ঢুকিয়ে। অনেক চেষ্টা করে কি যেন খুঁজতে চেষ্টা করছেন নাকের মধ্যে, কিন্তু সেটা খুঁজেই পাচ্ছেন নাহ!
আর ঢাকা শহরে মানুষরূপী ছাগল দেখতে চাইলে, ''রাস্তার কোন এক খোলা ম্যানহোলের দিকে ১০ মিনিট তাকিয়ে থাকুন।'' আশেপাশে দেখবেন বেশ কয়েক জন আপনার সাথে যোগ দিয়েছে। উনারাও খুঁজতেছে কিছু একটা।
কয়েক জন তো আপনাকে জিজ্ঞেস করে বসবে ''ভাই কি হারাইছে? বলেন, খুঁজে দেই!''
আমরা এমন একটা দেশে বাস করি যে দেশের কোন বিল্ডিং ধসে গেলে, আগুন লাগলে কিংবা বড় কোন দুর্ঘটনা ঘটলে সেখানে হাজার হাজার উৎসুক মানুষ জমা হয় উদ্ধার কাজ দেখার জন্য। কিন্তু এই মানুষ গুলোর ভিড় এড়িয়ে আম্বুলেঞ্চ অথবা ফায়ার সার্ভিস গাড়ি প্রবেশ করার সামান্যতম জায়গাটুকুও থাকে নাহ!
বিপুল জনসংখ্যা এদেশের অভিশাপ হলেও মুলত, জনসংখ্যা টা প্রধান সমস্যা নাহ। প্রকৃত সমস্যা হল বেশীর ভাগই অসচেতন, আর এই অসচেতনার মূল কারণ শিক্ষার অভাব। সমস্যা হলো এই মূর্খ মানুষগুলা।
জার্মানীতে ছাত্র জীবনের কোন না কোন সময় সেনাবাহিনীতে থাকতে হয়, যার ফলে তারা নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলতে শিখে। তাছাড়া বিভিন্ন দূর্যোগে কখন কি করতে হবে ভালো করেই বুঝে। বিপদ দেখলেই তাকায়ে না থেকে তারা নিজেরাই কাজ লেগে যায়।
বাংলাদেশেও এমনটা থাকলে ভালো হতো... এই যেমন, আগুন লাগলে, ঝড় আসলে কি করতে হবে এগুলা স্কুল পর্যায়েই শিখানো উচিত। বাংলাদেশ এমনিতেই দূর্যোগপ্রবন দেশ, কাজেই হাই স্কুল পর্যায়ে "ইমার্জেন্সী রেস্পন্স" নামে কোন সাবজেক্ট যোগ করা যেতে পারে। তাহলে অন্তত আগুন লাগলে তাকায়ে তাকায়ে দেখতে হবে না।
কারন, ফায়ার সার্ভিস আসতে আসতে যতটুকু সময় নেয়, ততক্ষনে হয়ত সব শেষ হয়ে যেতে পারে!
©somewhere in net ltd.