নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

খাটি আলাপ করুম

ক্লুজনার

ইচ্ছা ছিল আর্মি আর্টিলারিতে যোগ দিমু , ট্যাংক চালামু, কামান শেল মারমু। তা রে হইল না।

ক্লুজনার › বিস্তারিত পোস্টঃ

ইতালর মরিচিকা

০১ লা আগস্ট, ২০১৩ রাত ১১:৪৩

আমি গরিব ঘরের ছেলে । কোনভাবে ব্যাচেলর পাস করেছিলাম । দেশে ভাল একটা চাকরি করছিলাম । ইচ্ছা ছিল মাস্টার্স কমপ্লিট করব মেক্যানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ । লাখ টাকা খরচ করে বিদেশে পড়া আমার পক্ষে সম্ভব না। অ্যাপ্লাই করেছিলাম ইতালিতে এই শুনে যে তারা বাংলাদেশের ছাত্রদের এক্সটা টেইক কেয়ার করে। টেইক কেয়ার বলতে তাদের কাছ থেকে কোন টিউশন ফি নেয় না , থাকা ফ্রী ভারসিটি ডর্মে । খাওয়া বাবদ- পকেট খরচ বাবদ বাংলাদেশি টাকার ৫ লাখ টাকা করে দিবে বছরে । এক হিসেবে মন্দ না । ফ্রী পড়াবে আবার টাকাও দিবে । রোম , মিলান , ভেনিসে ওদের অনেক নামকরা ভারসিটি তে অ্যাপ্লাই করে ২ টা তে আডমিশন পেলাম । তারা অফের লেটার , স্কলারশিপ লেটার সব কিছু পাঠাই দিল । বাহ রে বাহ ।



এর আগে স্কুল , কলেজ , ভার্সিটির সব ডকুমেন্টস ভেরিফাই করা লাগছে IOM (http://www.iom.org.bd) থেকে । ১২০০০ টাকা তাদের ফি । সব ডকুমেন্টস ইতালিয়ান ভাষায় ট্রান্সলেট করা লাগছে ২৫০০ টাকা বাবদ । কিন্তু , আসল ফাকি এখনো বাকি ছিল ।



দুনিয়ার সব এমবাসি তে দেখলাম যারা স্কলারশিপ পায় তাদের জামাই আদরে ডেকে নিয়া ভিসা দেয়া হয় । ইতালিয়ান এম্বাসস্য তে তার নাম গন্ধ দেখলাম না । একটা নতুন নিয়ম তারা চালু করল । প্রী-এনরোলমেন্ট নামক এক বস্তুর কথা শুনলাম । সেই জিনিশের নিয়ম-কানুন আরও মারাত্মক । ভিসা তে অ্যাপ্লাই করার আগে এই

প্রী-এনরোলমেন্ট সব বাছেলর-মাস্টার্স ছাত্রদের করতে হবে , এক প্রকার রেজিস্ট্রাশেন এর মত । রবিবার দিন সকাল একদম পাক্কা ০৮ঃ০০ঃ০০ ঘণ্টায় সবাইকে ইমেইল করতে হবে এম্বাসী নিধ্রারিত একটা ইমেইল একাউন্টে। যার যার মেইল পাক্কা ০৮ঃ০০ঃ০০ মিনিটে যাবে শুধুমাত্র তারা এ এন্রোল করতে পারবে। এই সময় বেধে দেয়া হল ২১ এপ্রিল থেকে ২১ জুনে পর্যন্ত । টানা ৮ সপ্তাহ মেইল করে এম্বাসী থেকে কোন রেপ্ল্যই পেলাম না । প্রতি সপ্তাহে তারা ৩০ জন করে এন্রোল করে । এর মদ্ধে

৫ জুলাই পর্যন্ত তারা ডেডলাইন এক্সটেন্ড করল। ভাব্লাম এইবার পাওয়া যাইতে পারে, আবারও মেইল করলাম। একবারে লাস্ট সপ্তাহে মরিয়া হয়ে সপ্তাহের সব দিন-ই মেইল

করতে লাগলাম । উনাদের যদি একটু দয়া-মায়া হয় । না তা আর হল না। লাস্ট এক মাস ভারসিটি বরাবর অনেক মেইল করলাম , উনারা বলল তারা বাংলাদেশের ইতালি এম্বাসীতে ফোন, ফেক্স , মেইল করে কোন সাড়া পায় নি । আমিও এম্বাসী তে কল দিসি , উনাদের একটা ই কথা "আমরা কিছু জানি না / We know nothing".





পরে আমি আসল কাহিনি জানতে পারলাম । বাংলাদেশের কিছু এজেণ্ট ইতালিয়ান এম্বাসীর সাথে যুক্ত হয়ে তারা স্টুডেন্ট ভিসা তে কামলা পাঠাইতেছে । যাদের পাঠা চ্ছেতারা জেনুইন ছাত্র না , তারা যাচ্ছে কাজ করতে । কন্টাক্ট ৫-১০-১২ লাখ টাকা করে ।এরা বেশীরভাগি ব্যাচেলর ভিসা তে যাচ্ছে , মিলান, ভেনিস,রোমে। যার কাছ থেকে যা নিয়ে পারে আর কি । একজন শুনলাম উনার স্বামী থাকেন বেলজিয়ামে , কিন্তু তিনি তাহার স্ত্রিকে বেলজিয়ামে লিগাল উপায়ে নিতে ব্যার্থ হইছেন। তাই ইতালি দিয়ে স্টুডেন্ট ভিসা তে নিচ্ছেন, সেখান থেকে বেলজিয়াম নিয়া যাবেন। যেহেতু, সেঞ্জেন ভিসা তাই বেলজিয়াম যেতে উনার কোন ঝামেলা হবে না । আর , যারা জেনুইন স্টুডেন্ট তারা গুটিকতক লটারীর মতন ছারার এই pre-enrollment নামক জিনিসের দেখা পাচ্ছে না ।





এই বছর যারা নিজে নিজে ট্রাই করে চান্স পাইছে , ৩০০ এর ভিতরে এন্রল্ল করতে পারছে মাত্র ৩০-৪০ জন । এই ৩০-৪০ জন লটারীর মত পাইছে। বাকিগুলা সব এজেণ্ট।



যারা ইতালিতে উচ্চশিক্ষার কথা ভাবছেন , তারা ভেবে দেখুন এই মরিচিকার পিছন যাবেন কিনা ।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.