| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
তসলিমাকে আমি সর্বপ্রথম চিনেছি মাগী হিসেবে। ক্লাসের স্যার তসলিমাকে মাগী হিসেবে তুলে ধরেন আমাদের মাঝে। সেদিন অনেকেই ঠাট্টা করেছিল তনাকে নিয়ে। আর আমারও কৌতুহল জাগে তসলিমাকে জানার। অথচ আমি নিশ্চিত, সেদিন স্যার কিংবা ক্লাসের কেউই তসলিমার কোন বই কিংবা ক্ষুদ্র চিরকুট ছুঁয়েও দেখেনি।।
আমার মাও বলতেন, তসলিমা খারাপ মেয়ে। রাস্তায় দাড়িয়ে প্রস্রাব করে। ছেলেদের কাপড় পড়ে, বুক খোলা রাখে। বিশ্রী বিশ্রী কথা লিখে বইয়ে। আর এজন্যই তাকে দেশ থেকে বের করে দেয় একেবারে।
খুব গোপনেই পড়তাম তনার বইগুলো। যদিও আমার কাছে সংগৃহীত অধিকাংশ বই ই সফট কপি। প্রথম প্রথম যখন তনার লেখা পড়ি, লিখি, শেয়ার করি, বলি, খুব নিকটাত্মীয়রা আমার চরম সমালোচনা করত। কড়া কথা বলত। কতবার ঘর ছেড়েছি তা তো বলার বাইরে। যদিও পরবর্তীতে ধীরে ধীরে মানিয়ে নিই নিজেকে।
আকাশ ইকবাল, খবরিকা পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টটার। কাজ করেন জাতীয় ইংরেজি দৈনিকেও। বয়সে তরুন উদীয়মান এই সাংবাদিকের চোখে আলোর ছটা। লেখালেখি করেন নিজের ফেসবুক ওয়ালেও। তার প্রথা ও কুসংস্কার বিরোধী লেখাগুলো নজরে আসে খবরিকার শীর্ষ ব্যক্তিদ্বয়ের। বার বার সতর্ক করা হয় এসব না লিখার জন্য। ক্যারিয়ারের কথা চিন্তা করে ছেলেটা থেমেও যায়। কিন্তু কাল হয়ে দাড়ায় তনার ফেসবুক পোস্টের কমেন্ট। আর হারিয়ে ফেলেন খবরিকার স্টাফ রিপোর্টারের পদ।
শুধুই আকাশ ইকবালই নয়। প্রতিনিয়ত প্রথা বিরোধী কিংবা সংশয়বাদী হওয়ার কারণে কতজন যে প্রতিনিয়ত হেনস্থা হচ্ছেন, পদ কিংবা চাকুরী হারাচ্ছেন তার কোন ইয়ত্তা নেই। পদে পদে হতে হচ্ছে হয়রানি। এই কিছুদিন আগেও একিভাবে চাকুরীচ্যুত আর গ্রাম্য সালিসের মুখোমুখি হন কিশোর গঞ্জের মিঠামন থানার জুলহাস উদ্দিন।
এভাবে আর কত??
©somewhere in net ltd.