নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আক্রামনামা

মাঝেমধ্যে লেখতে ইচ্ছা করে।

রিদওয়ান আক্রাম

মাঝেমধ্যে লেখতে ইচ্ছা।

রিদওয়ান আক্রাম › বিস্তারিত পোস্টঃ

ক্যারিকেচারের ইতিহাস এবং আমার ক্যারিকেচার

০২ রা জুন, ২০১৪ বিকাল ৩:০৪

ক্যারিকেচারের ইতিহাস এবং আমার ক্যারিকেচার

‘ক্যারিকেচার’ এক ধরনের আর্ট। একটি চরিত্রের বিশেষ কোনো বৈশিষ্ট্যকে বেশ গুরুত্ব দিয়ে কোনো ব্যঙ্গচিত্র আঁকাকেই বলে ক্যারিকেচার। মোটামুটিভাবে আমি যা বুঝি আরকি। বলা যায় এই শিল্পটি অনেক আগে থেকেই চর্চা হয়ে আসছে। এক হিসেবে তো প্রায় দুইহাজার বছর আগেও যে ক্যারিক্যাচার হতো তার প্রামাণ্য নির্দশন পাওয়া যায় প্রাচীন পম্পেই শহরে। সেখানকার দেয়ালে একজন রাজনীতিবিদকে ব্যঙ্গ করে আঁকা হয়েছিল একটি ক্যারিকেচার। এই সূত্র ধরে বলা যেতে পারে শুধু পম্পেই নয়, পুরো রোম সাম্রাজ্যেও বিভিন্ন শহরে এই ধারার চল ছিল। উচ্চবিত্ত আর রাজনীতিবিদরাই বোধহয় ছিলেন এই শিল্পের প্রধান ‘শিকার’। সমাজের উচ্চ শ্রেনী আর মতাবান এইসব মানুষদের প্রতি ােভ জানানোর সেটাই ছিল একমাত্র সহজ এবং নিরাপদ উপায়। পরে আমরা পাই আরেক বিখ্যাত শিল্পী লিওনার্দো দা ভিঞ্চিকে। তিনিও বিভিন্ন মানুষের ক্যারিকেচার করেছেন তবে কোনো প্রতিবাদের অংশ হিসেবে নয়। তিনি এটা করতেন মানুষের প্রতিকৃতি আঁকার প্রাথমিক ধারণা নেবার জন্য। অনেকটা ‘ক্যারেক্টার স্টাডি’ করার মতো আরকি! তবে ক্যারিকেচার জনপ্রিয় হয়ে উঠে মধ্যযুগের ইউরোপে। বিশেষ করে বললে ফ্রান্স আর ইটালির অভিজাত শ্রেনীর মধ্যে। তাঁরা একে অপরের ক্যারিকেচার করে আনন্দ পেতেন। এটা নিয়ে নিজেদের মধ্যে একধরনের বোঝাপড়াও ছিল। বিষয়টা এতোটাই জনপ্রিয় হয়ে উঠলো যে, ইংল্যান্ডের এক ভদ্রমহিলা ম্যারি ডারলি তো একটা বই-ই বের করে ফেললেন এই ক্যারিকেচার নিয়ে। ১৭৬২ সালে প্রকাশিত সেই বইয়ের নাম দিলেন ‘আ বুক অব ক্যারিকেচার’। এর প্রায় চল্লিশ বছর পর আকাঁ হলো যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত একটি ক্যারিকেচার। ইংরেজ শিল্পী জেমস গিলরে এঁকেছিলেন ফ্রান্সের সম্রাট নেপোলিয়ান বোনাপার্ট আর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইলিয়াম পিটের একটি ক্যারিকেচার। এতে দেখা যায় এই দুইজনে মিলে পৃথিবীসাদৃশ্য একটি পডিং কেক কাটছেন। নেপোলিয়ানের ভাগে পড়েছে একট বড় অংশ। এভাবে রাজনৈতিক প্রতিবাদের অংশ হিসেবে ক্যারিকেচার একটা পরিচিতি পেয়ে যায়। ব্যঙ্গচিত্র বলে ক্যারিকেচারকে হালকাভাবে নেয়া যাবে না। কেননা এই চিত্রের মধ্যে দিয়ে শিল্পী অনেক বুদ্ধিদীপ্তভাবে অনেক কথাই বলেন যা হয়তো অনেকেই বলতে সাহস পান না। তো এবার কাজের কথায় আসি ‘ক্যারিকেচার’ নিয়ে এতো কথা বলার কারণ কী? কারণ অবশ্যই আছে। সেটা হচ্ছে কয়েকদিন আগে আমারও একখান ক্যারিকেচার করা হয়েছে। প্রশ্ন করতে পারেন সমাজের অভিজাত শ্রেনী কিংবা রাজনীতিবিদদের কেউ না হওয়ার পরেও কেন শিল্পীর এই হীন চেষ্টা। আসলে শিল্পীর কোনো দোষ নেই। বেচারাকে অনেক জ্বালা-যন্ত্রণা দিয়ে আমিই এই চিত্রখানা আঁকিয়েছি। এটা দিয়ে তিনি কোনো রকমে বিপদ থেকে উদ্ধার পেয়েছেন বলা যায়। এই দেখেন কথার ঠেলায় শিল্পীর নামটা হতো বলা হলো না। নাম তাঁর ‘বিপ্লব চক্রবর্তী’। ধন্যবাদ তাঁকে। এর আগেও তিনি আমার আরেকখান ক্যারিকেচার করেছিলেন। সেটা তাঁর মনপুতঃ না হওয়ায় পুনরায় এই চেষ্টা। আবারও ধন্যবাদ তাঁকে। তবে আমার প্রথম ক্যারিকেচারটা এঁেক আরেক শিল্পী ষুভ। না, নামের বানান আমি ঠিকই লিখেছি। তিনি এভাবেই নিজের নাম লিখে থাকেন। এঁেদর আঁকাআঁকির মাঝে সদ্য বিবাহিত আরেক শিল্পী মাসুমও আমার একটা ক্যারিকেচার করেছেন। আপাতত এখানে শুধু বিপ্লবের দ্বিতীয় চেষ্টাটাই স্থান পেলো। বাকিগুলো যে কোথায় রেখেছি দেখতে হবে? আশা করি সেগুলো খুঁজে পেলে পরে একসময় ওগুলোও ফেইসবুকে দিয়ে দিবো।

রিদওয়ান আক্রাম

০২/০৬/২০১৪





মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ০৩ রা জুন, ২০১৪ সকাল ৭:০১

তুসিন আহমেদ বলেছেন: জানা ছিল না অনেক তথ্য। জেনে ভাল লাগলো। :) আপনার ছবিটা চরম হয়েছে :পি
স্যামুতে স্বাগতম :)
প্রথম পোস্টে প্রথম মন্তব্যকারী হলাম ;)

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.