নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আক্রামনামা

মাঝেমধ্যে লেখতে ইচ্ছা করে।

রিদওয়ান আক্রাম

মাঝেমধ্যে লেখতে ইচ্ছা।

রিদওয়ান আক্রাম › বিস্তারিত পোস্টঃ

প্রায় আড়াই হাজার পুরনো চীনের টেরাকোটা সেনাবাহিনী(Terracotta Army) আর আমার সংগ্রহ

০১ লা অক্টোবর, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:১১

আজ থেকে দুই হাজার ২২১ বছর আগে চীন ছিল সাত রাজ্যে বিভিক্ত। এসব রাজ্যের রাজারা নিজের মধ্যে লড়াই করতেন। আর সেসব লড়াই চলতো দীর্ঘদিন ধরে। এসব রাজ্যের লড়াইয়ে জনগণকে পড়তে নানা বিড়াম্বনার মধ্যে। শক্র দেশের আক্রমণে মরলে তো কপাল ভালো, না হলে মরতে হতো দুর্ভি।ে তো এসব লড়াইয়ে বিরক্তি হয়ে ‘শিয়েন’ রাজ্যের রাজা ‘শিয়েন শে হুয়াং’ (২৬০-২১০ খ্রিষ্টাপূর্বাব্দ) চিন্তা করলেন কীভাবে জনগণকে এইসব লড়াই থেকে মুক্তি দেয়া যায়। মাথায় চিন্তা আসলো এক রাজ্য হলেই তো আর কোনো ঝামেলা থাকে না। যেহেতু একের বেশি কোনো রাজ্য থাকবে না। ফলে রাজ্যে রাজ্যে লড়াইয়ের তো কোনো চিন্তাই আসে না। সেই ভাবনা থেকে অন্যান্য রাজ্য দখল করা শুরু করে দিলেন রাজা ‘শিয়েন শে হুয়াং’। একে একে দখল করে নিলে বাকি ছয় রাজ্য। আর এভাবেই পুরো চীন প্রথমবারের মতো একত্রিত হলো এক রাজার শাসনে। তখন অবশ্য রাজা শিয়েন নিজেকে পুরো চীনের ‘সম্রাট’ হিসেবে ঘোষণা করেন। রাজা হলেন সম্রাট। আর তিনিই হচ্ছেন চীনের প্রথম কোনো সম্রাট। তাঁর হাত ধরেই শিয়েন রাজ বংশের শুরু।সম্রাট হিসেবে তিনি ২২০-২১০ খ্রিষ্টাপূর্বাব্দ পর্যন্ত পুরো চীন প্রচন্ড প্রতাপের সঙ্গে শাসন করেন।
তো যুদ্ধ শেষ হয়ে যাওয়ার পর সময় কেটে যায়। সম্রাটের বয়স বাড়ে। মাথায় ঢুকলো মৃত্যুভয়। মরতে হবেই। কিন্তু মৃত্যুর পরে জীবনে যদি ঝামেলা হয়? সম্রাটকে পাহারা দিবে কে? সম্রাট ঠিক করলেন মৃত্যুর পর তাঁকে পাহারা দিবে মাটির তৈরি এক সেনাবাহিনী। দীর্ঘ দশ বছর চললো সেই সেনাবাহিনী তৈরির কাজ। তৈরি হলো টেরাকোটার ৮ হাজারের এক সেনাবাহিনী। এতে একটি সেনাবাহিনীর সেনাপতি থেকে শুরু করে সব পদের সেনাই ছিল। সৈন্যদের ঘোড়া লাগবে। তৈরি হলো ৬৭০টা ঘোড়াও। সব মাটির তৈরি। এসব ঘোড়ার মধ্যে ১৫০ ঘোড়া আবার অশ্বরোহী সৈন্যের জন্য। এসব টেরাকোটা সেনার সঙ্গে বেশ কিছু জীবন্ত মানুষকে হত্যা করে দেয়া হলো মৃত্যুর পরে সম্রাটকে সেবা করার জন্য। তবে কেউ কেউ খুশি মনেই আÍহত্যা করলেন সম্রাটের সঙ্গী হওয়ার জন্য। আর সেটা আর্সেনিক খেয়ে।
সম্রাটের সমাধি ত্রেটি চীনের ‘শাহশি’ প্রদেশের লিংকটন জেলায়। ১৯৭৪ সালে ওখানকার কৃষকরা চাষের জন্য একটা কুয়া কাটছিলেন। ওটা খুড়তে গিয়েই এই সমাধি ত্রেটির কথা জানতে পারে বিশ্ববাসী। যদিও কুয়া কাটার জায়গাটা ছিল সম্রাটের মূল সমাধি ত্রেটির ১.৬ কিলোমিটার পূর্বে। মাটি খুড়ে বের করা সেনাদলকে ওখান থেকে আর সরানো হয়নি নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ে। মাথার উপরে ছাদ দিয়ে ওখানেই একটা জাদুঘর করা হয়। তো সেই টেরাকোটার সেনাবাহিনীর চারজন সেনা আর একটা ঘোড়ার সুভিনিয়র
গতকাল (৩০/০৯/২০১৪) আমার হাতে এসেছে। কষ্ট করে সেসব সুদূর চীন থেকে নিয়ে এসেছে আমার স্কুল ফেন্ড সাদিক। ব্যাটাকে অশেষ ধন্যবাদ। ধন্যবাদ পুরোটা দিচ্ছি না। কেননা ‘চীনের মহাপ্রাচীর’টা হাতে পাওয়া এখনো বাকি আছে। যদিও ও কথা দিয়েছে পরে নাকি এনে দিবে। সেই হিসেবে সাদিককে আরেকটা আগাম ধন্যবাদ দিতেই পারি।
রিদওয়ান আক্রাম
(০১/১০/২০১৪)

মন্তব্য ২ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ০১ লা অক্টোবর, ২০১৪ রাত ৮:১১

অপূর্ণ রায়হান বলেছেন: আপনার সংগ্রহ দেখে আসলেই ভালো লাগলো :)

শুভেচ্ছা নিবেন :)

২| ০২ রা অক্টোবর, ২০১৪ সকাল ৭:৫৭

কলমের কালি শেষ বলেছেন: :|| :|| :|| অদ্ভুদ সব কান্ড । ইতিহাসভিত্তিক লেখা পড়ে ভাল লাগলো ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.