| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
.......সুন্দর সময় সবার জন্য অপেক্ষা করে ....কেউ তা ডেকে আনে আর কেউ আনে না........
সার্ক ঃ
অখন্ড আকাশে নিচে মানচিত্রগুলো আলাদা আলাদা বটে। কিন্তু মানুষের মৌলিক প্রবণতা একমুখী। মানুষ মিলতে চায় মানুষের সঙ্গে ; আর এই ঐক্যেই মানুষের জয়। এমনিভাবে রাষ্ট্রের কর্ণধাররাও মিলতে চায় আবার স্বার্থের নেশায় বৈরীও হয়ে ওঠেন। তবে দেশে দেশে সাধারণ মানুষের সব সময়ই বুনে চলে মানবিক মহামিলনের স্বপ্ন। মানুষের এই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার জন্য সারা বিশ্বে ‘গ্লোবাল ভিলেজের’ শ্লোগান উঠেছে। এর ধারাবাহিকতায় অঞ্চলে অঞ্চলে গড়ে ওঠে আঞ্চলিক সহযোগিতা ফোরাম। আর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নানা মঞ্চ। পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর আর্থ সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করার জন্য যে আঞ্চলিক সহযোগিতার সংস্থার জন্ম হয়েছে তার নাম সার্ক।
সার্ক গঠনের পটভুমি ঃ
১৯৫০-১৯৮০ সাল পর্যন্ত বিশ্ববাণিজ্যের প্রবৃদ্ধির হার ছিল প্রায় ৬%। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার বাণিজ্য প্রবৃদ্ধির হার ছিল এই সময় মাত্র ৪%। এই প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোর নিজেদের মধ্যকার বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৯৮০ সালের মে মাসে প্রথম বাংলাদেশের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশগুলোর নিকট আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রস্তাব পেশ করেন। এ সময় দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানদের কাছ থেকে আশানুরূপ সাড়া পেলে তিনি তাদের সাথে সময় সময় যোগাযোগ রক্ষা করেন এবং তিনি তাদের একটি আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার তৈরির গুরুত্ব উপলদ্ধিতে সহায়তা করেন। জিয়াউর রহমানের এ প্রস্তাব বিবেচনার উদ্দেশ্যে ১৯৮১ সালের এপ্রিল মাসে শ্রীলংকার কলম্বোতে দক্ষিণ এশিয়ার সাতটি দেশ বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকা, মালদ্বীপ এর পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে একটি বৈঠক হয়। এ বৈঠকের একটি সংস্থা গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ১৯৮২-১৯৮৩ সালে ও যথাক্রমে ইসলামাবাদ ও ঢাকার সাতটি দেশের সচিব পর্যায়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পারে ১৯৮৩ সালের আগষ্ট মাসে ভারতের রাজধানী দিল্লীতে দক্ষিণ এশিয়ার সাতটি দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের মধ্যকার স্বাক্ষরিত চুক্তির মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক সহযোগিতা চুক্তি তৈরি হয়। মূলত এখানে সার্ক এর আনুষ্ঠানিক জন্ম। ১৯৮৫ সালের মার্চ মাসে ভুটানের থিম্পুতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ঝঅঅজঈ এর প্রথম সম্মেলন ঢাকাতে হবে। তার ফলশ্র“তিতে প্রথম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৫ সালের ৭ ও ৮ ডিসেম্বর ঢাকায়। এই সম্মেলনেই দক্ষিণল এশিয়া আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হয়। সম্মেলনে সাতটি দেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপ্রধানরা অংশগ্রহণ করেন।যদিও শুরুতে সার্কের সদস্য রাষ্ট্র ছিল সাতটি তবে বর্তমানে আফগানিস্তানের অন্তর্ভুক্তির কারণে এর দস্যা রাষ্ট্রের সংখ্যা এখন আটটি ।
সার্কের সদস্য রাষ্ট্রগুলো হলো :-
১. বাংলাদেশ
২. ভারত
৩. পাকিস্তান
৪. নেপাল
৫. ভুটান
৬. শ্রীলংকা
৭. মালদ্বীপ
৮. আফগানিস্তান
সার্কের মূলনীতি ঃ
সার্ক সনদে ‘সার্ক’ সংস্থাটির তিনটি মূলনীতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ক) একটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব সমতা, ভৌগলিক অখন্ডতা, রাজনৈতিক স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন ;এক রাষ্ট্র কর্তৃক অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীন বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং পারস্পরিক সুবিধার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের ভিত্তিতে সার্কের কাঠামোরা ভিত্তিতে সহযোগিতার নীতির বাস্তবায়ন।
খ) এ ধরনের সহযোগিতা দ্বিপক্ষীর না হয়ে বরং সম্পূরক হবে।
গ) এ ধরনের সহযোগিতা দ্বিপক্ষীয় বাধ্যবাধকতার সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হবে না।
সার্কের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যঃ-
সার্ক গঠনের বিভিন্নমূখী উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হলোঃ-
ক) দক্ষিণ এশিয়ার জনগনের জীবনের মান উন্নয়ন করা।
খ) দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে যৌথ স্বনির্ভরতাকে উন্নত ও জোরদার করা।
গ) দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর আর্থনৈতিক উন্নতি , সামাজিক প্রগতি ও সাংস্কৃতিক বিকাশকে তরান্বিত করা ।
ঘ) এ অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলোর সাধারণ স্বার্থে সহানুভূতি ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।
ঙ) অন্যান্য আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থার সাথে সহযোগিতার সম্পর্ক স্থাপন।
সার্ক ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ঃ
সার্ক যদি ও একটি আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা তবে এটি কখনোই কোন দ্বিপক্ষীর বিষয়ে সহযোগিতার অঙ্গীকার করে না। সার্কের মূলনীতি অনুসারে সার্ক দ্বিপাক্ষিক আলোচনা বৈঠক বা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রক্ষায় তেমন কোন উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেনি। এমনকি সার্ক সম্মেলনের মূল আলোচ্যসূচিতে কোন দ্বিপাক্ষিক বিষয় আলোচিত হয় না। সার্ক গঠনের শুরুতেই এর উদ্যোক্তারা দ্বিপাক্ষিক ও রাজনৈতিক বিষয়াদিকে সতর্কতার সাথে পরিহার করেছে।
বিশ্বব্যবস্থার প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ এশিয়া এমন একটি অঞ্চল সেখানে আন্তঃ রাষ্ট্রীয় ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক অত্যন্ত সমস্যা ভারাক্রান্ত। ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষকে স্বাধীন করে দিয়ে ইংরেজরা এ অঞ্চল থেকে বিদায় নিলেও রেখে যায় তাদের শোষণ করার পদ্ধতি উবারফব ধহফ জঁষব রয়েছে , যার ফলে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মাঝে বিদ্যমান আছে অনেক দ্বিপাক্ষিক সমস্যা। ভারতের সাথে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীংলকা এ দেশগুলোর বেশ কিছু দ্বিপাক্ষিক জটিলতা রয়েছে।
ভারতের পাকিস্তানের মধ্যকার কাশ্মীর বিরোধ ,ভারত শ্রীলংকার মধ্যে তামিল সমস্যা , বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে র,েছে সীমান্ত সমস্যা , গঙ্গার পানিবন্টন সমস্যা। তবে সার্কের মূলনীতি অনুসারে সার্কের কোন সম্মেলনে এ সকল দ্বিপাক্ষিক সমস্যা সমাধানের কোন উদ্যোগ গৃহীত হবে না। তথাপি এ ধরনের দ্বিপাক্ষিক বিরোধের কারণে ১৯৮৮ সালে চুতর্থ শীর্ষ সম্মেলন যা কলম্বোতে অনুষ্ঠিত হবার কথা ছিল তা পন্ড হয়ে যায়। তবে পরে তা পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৮৯ সালে পঞ্চম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনটিও শ্রীলংকা সরকারের অনমনীয় নীতির কারণে ভেস্তে যায়। দ্বিপাক্ষিক সমস্যাগুলোর কারণেই ২৪ বছরে সার্কের শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে মাত্র ১৬টি।
অনেক মনে করে দ্বিপাক্ষিক সমস্যাগুলোকে সার্কের আওতাভুক্ত না হওয়াটি যুক্তিযুক্ত কারণ দ্বিপাক্ষিক জটিল ও কঠিন সমস্যাগুলো সার্কের আওতাভুক্ত করলে গোটা কাঠামোটিই ধসে যাবার আশঙ্কা থাকতো। তবে সার্কের অগ্রগতি অনেকটা নিশ্চিত হতো যদি দ্বিপাক্ষিক বিষয়সমূহ সার্ক ফোরামে আলোচনা করার সুযোগ থাকতো। পাকিস্তান, মালদ্বীপ ও বাংলাদেশ সার্কে এ বিষয়ে প্রস্তাব করলে, দক্ষিণ এশিয়ার পরাক্রমশালী দেশ ভারত বরাবরই তা প্রত্যাখান করেছে। ভারতের যুক্তি এ পর্যন্ত যতটুকু অগ্রগতি সার্কের হয়েছে তার কারণ হলো দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলো পরিহার করা। তবে সময়ের প্রয়োজনে এবং দক্ষিণ এশিয়ার সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের জন্য সার্ক সনদে দ্বিপাক্ষিক বিষয় অন্তর্ভূক্ত করা উচিত আর সেই জন্য সার্কের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অধিকারী হওয়া প্রয়োজন এবং পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নের জন্য হওয়া দরকার বদ্ধপরিকর।
তবে সার্ক কাঠামোর অভ্যন্তরে যদিও দ্বিপাক্ষীয় বিষয়গুলো আলোচনার সুযোগ নেই তথাপি সার্ক সর্বদাই দ্বিপাক্ষিক আলোচনার বিকল্প সুযোগা করে দিচ্ছে। যা সার্কের অন্তর্নিহিত ইতিবাচক দিক। যেখানে কোন রাষ্ট্রীয় সফরের জন্য আলাদাভাবে আয়োজন করতে হয় সেখানে সার্কের শীর্ষ সম্মেলন উপলক্ষে রাষ্ট্রপ্রধানরা একত্রিত হয়। তারা সার্কের বদৌলতে দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলো নিয়ে এক বা একাধিক ইনফরমাল আলোচনার সুযোগ পেয়ে যায়। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ভারত পাকিস্তান ও ভারত শ্রীলংকার মধ্যে বেশ কিছু দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হয়েছে। এমনকি সার্কের অধিবেশন চলাকালীন সময়ে ভারত বাংলাদেশ ও একাধিকবার এ রকম দ্বিপাক্ষিক আলোচনার আয়োজন করেছে।
সার্কে ভারত - বাংলাদেশ ঃ
ভারত ও বাংলাদেশ হলো দক্ষিণ এশিয়ার দুইটি প্রতিবেশী রাষ্ট্র এবং দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা এর দুইটি সদস্য। সার্কের স্বপ্নদ্রষ্টা দেশ হলো বাংলাদেশ। বাংলাদেশই প্রথম সার্ক গঠনের প্রস্তাব করে। যার উপর ভিত্তি করে পরে সার্ক গঠিত হয়। এরই সম্মানে প্রথম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনটি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়।
আর সার্কের সাত ভাইয়ের এক ভাই হলো ভারত। তবে এই ভাই সর্বদাই বড় ভাইয়ের ভুমিকায় অবতীর্ণ। আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপটে বাকিদের চেয়ে সমৃদ্ধিশালী হবার কারণেই ভারতকে সর্বদাই সার্কে পরাশক্তি হিসেবে ভূমিকা পালন করতে দেখা যায় ভারতকে। যেমনঃ- ভারতের স্বার্থে আঘাত আসতে পারে সেই আশঙ্কায় সবসময় ভারত সার্কে দ্বিপােিক্ষক বিষয়াবলী অন্তর্ভূক্ত করার বিরোধিতা করেছে। কঠিন বাস্তবতা হলো- পাকিস্তান ছাড়া সার্কের বর্তমান বাকি ৭টি সদস্য দেশগুলো কার্যত ভারতের পরিশিষ্ট। সার্কে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বলতে গিয়ে ১৯৮৮ সালের সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে শ্রীলংকার সাবেক রাষ্ট্রপতি জুলিয়াস জয়বর্ধন ঘোষণা করেছিলেন-
“সার্কভুক্ত দেশসমূহের মধ্যে ভারত হলো প্রধান শক্তি। এটাই হলো কঠিন বাস্তবাতা। এই সত্যকে অস্বীকার করে লাভ নেই।”
সার্কের একজন সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ সবসময় সার্কের মূলনীতিসমূহ অনুসরণ করলেও ভারত তা প্রায়ই ভঙ্গ করে । সার্কের সদস্যগুলো পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়ন করবে বদ্ধপরিকর কিন্তু ভারত নিজের স্বার্থ রক্ষায় ক্ষুদ্র দেশগুওেলা অভ্যন্তরীন বিষয়সহ নানা বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে যা সার্কের মূলনীতির পরিপন্থী।
সার্কের বাংলাদেশ - ভারত সম্পর্ক ঃ-
সার্কের সনদ অনুসারে সার্ক সম্মেলনে কোন দ্বিপাক্ষিক বিষয় আলোচিত না হলেও সার্ক সম্মেলন দ্বিপক্ষিক আলোচনার একটি মঞ্চ তৈরি করে দেয়। এভাবে বাংলাদেশ ভারতের সম্পর্ক রক্ষা ও দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলো নিয়ে দুই দেশের আলোচনার সুযোগ হয়েছে অধিবেশন চলাকালীন সময়ে। নিম্নে তা ব্যাখ্যা করা হলো ঃ-
১. প্রথম সার্ক শীর্ষ সম্মেলন ঃ-
১৯৮৫ সালের ৭ ও ৮ ডিসেম্বর ঢাকা সার্কের প্রথম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলন চলাকালীন সময়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর সাথে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বৈঠক হয় , সেখানে বাংলাদেশ ভারত সীমান্তে কাটাতারের বেড়া ও গঙ্গার পানি বন্টন নিয়ে আলোচনা হয়।
২। দ্বিতীয় সার্ক শীর্ষ সম্মেলন ঃ-
১৯৮৬ সালের ১৬-১৭ নভেম্বর তারিখে ভারতের বাঙ্গালোরে সার্কের দ্বিতীয় শীর্ষ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলন চলাকালীন ১৭ নভেম্বর তারিখে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এরশাদ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর এক ঘন্টা দীর্ঘ একটি বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে গঙ্গার পানি বন্টন ও তিনবিঘা করিডোর নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে রাজীব গান্ধী বাংলাদেশের প্রেসিডেন্টকে জানান তিনবিঘা করিডোর হস্তান্তরের কাজে কলকাতায় হাইকোর্টের রায়ের আলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।
৩. তৃতীয় সার্ক শীর্ষ সম্মেলন ঃ-
নেপালের রাজধানী কাঠমুন্ডুতে ১৯৮৭ সালের ২-৪ নভেম্বর তৃতীয় সার্ক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ৩ নভেম্বর তারিখে দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের একটি যৌথ বৈঠক হয়। বৈঠকে রাজীব গান্ধী এরশাদ গঙ্গার নদীর পানি বন্টন বিষয়ে আলোচনা করে। এ সময় সচিব পর্যায়ের বৈঠকের ব্যাপারে ও তারা সমঝোতায় পৌছায়। যার ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে অভিন্ন নদীর পানি বন্টন নিয়ে সচিব পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।,সেখানে উভয় দেশের অমীমাংসিত সমস্যা সমাধানে অগ্রগতি সাধনের প্রয়োজনীয়তা , তিনবিঘা করিডোর হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে অবহিত করা হয় । বাংলাদেশ রাজীব গান্ধীর নিকট ভারতে আশ্রিত চাকমা শরনার্থীদের ফিরিয়ে আনার সদিচ্ছায় কথা জানায়।
৪. চতুর্থ সার্ক শীর্ষ সম্মেলন ঃ-
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে চতুর্থ সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ১৯৮৮ সালের ২৯-৩১ ডিসেম্বর তারিখে। এ সময় ৩০ ডিসেম্বর ১৯৮৮ তারিখের সকালে সিন্ধু ভরবে ভারত ও বাংলাদেশে দুই নেতা এক প্রাাতঃরাশ বৈঠকে মিলিত হয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী রাজীবগান্ধী ও বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান এরশাদ দুদেশের দ্বিপক্ষির ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
৫. পঞ্চম সার্ক শীর্ষ সম্মেলন ঃ-
মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে ১৯৯০ সালের ২১-২৩ নভেম্বর তারিখে পঞ্চম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। এসময় সাথে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধানের হোটেলে একটি বৈঠকে অংশগ্রহণ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী চন্দ্রশেখর। তারা উভয়ে দ্বিপক্ষীর সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করে ও তা জোড়দার করার উপর গুরুত্ব আরোপ করে। এ সময় গঙ্গার পাানি বন্টন ও তিন বিঘা করিডোর নিয়ে আলোচনা হয় এবর্ং পারস্পরিক স্বার্থে শিগগির সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা উচিত বলে উভয়েই একমত হয়। এ সময় উভয় দেশের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন।
৬. ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলন ঃ-
শ্রীলংকার রাজধানী কলম্বোতে এক দিনের জন্য এই সার্ক শীর্ষ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। দিনটি ছিলো ১৯৯১ সালের ২১ নভেম্বর। মাত্র একদিনের এ সম্মেলনে কোন দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়নি।
৭. ৭ম সার্ক শীর্ষ সম্মেলণ ঃ-
সপ্তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনটি দুইবার স্থগিত ঘোষণার পর ঢাকায় ১৯৯৩ সালে ১০ ও ১১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয়। মূলত ভারতের হিন্দু মৌলবাদী গোষ্ঠী কর্তৃক বাবরী মসজিদ ধ্বংস করার কারণেই দুবার সম্মেলন স্থগিত করার ঘোষণা দেয়া হয়। এখানে দু’দেশের মাঝে বৈরী সম্পর্কের আভাস মেলে যদিও সম্মেলন চলাকালীন সময়ে দুই দেশের সরকারেরর শীর্ষ পর্যায়ে পানি , অর্থনীতি , বাণিজ্য যোগায়োগ , সন্ত্রাস নিয়ে আলোচনা হয়।
৮. অষ্টম সার্ক শীর্ষ সম্মেলন ঃ-
অষ্টম সার্ক শার্ষ সম্মেলনকে অনেকে সফল হিসেবে ঘোষণা করেছেন কারণ এই সম্মেলনে সার্ক সদস্যভুক্ত রাষ্ট্রীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে অনেক দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও সৌজন্য কুশল বিনিময় ঘটেছে। এ সম্মেলনে যে বিষয়টি প্রাধান্য পায় তা হলো দ্বিপক্ষীয় সমস্যার সমাধান কারন পাকিস্তানের নির্ধারিত প্রধানমন্ত্রী এ সম্মেলনে যোগ দেয়নি। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ফারুক আহমদ লেখারীকে সম্মেলনে প্রেরণ করে পাকিস্তান ক‚টনৈতিক কৌশলেরৈ মাধ্যমে ভারতকে বোঝাতে চেয়েছে দ্বিপক্ষীয় সমস্যার সমাধান আগে দরকার। এ সম্মেলনে বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরসীমা রাও এর আলোচনা হয়। যার ফলাফল হিসেবে সম্মেলনে পরস্পরই পানিবন্টন সমস্যা নিয়ে আবার দুদেশের আলোচনা শুরু হয় এবং ভারত চাকমা শরণার্থীদের পুনর্বাসনের বিষয়টি দেখবে বলেও আশ্বাস দেয়।
৮ম সার্ক শীর্ষ সম্মেলন ১৯৯৫ সালের ২ থেকে নয়া দিল্লীতে অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিপক্ষীয় আলোচনা নিয়ে ভারতের বিদেশমন্ত্রী প্রণব মুখার্জী সম্মেলনের পরে বলেন-
“এমন কোন কথা হয়নি কিন্তু এটা ঠিক যে আলোচনা হয়েছে। অর্থাৎ সার্কের কারণেই আলোচনার সুযোগ হয়েছে।”
৯. নবম সার্ক শার্ষ সম্মেলন ঃ-
নবম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজনে ছিল মালদ্বীপ। ভারত মহাসাগরের ছোট দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে ১৯৯৭ সালের ১২-১৪ সে এই সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গঙ্গা পানি বণ্টনের ঐতিহাসিক চুক্তির জন্য ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানা এবং এই চুক্তিত দ্বিপক্ষিক সম্পর্কের কোন অনুক‚ল প্রাভাব ফেলবে বলে দাবি করেন। সম্মেলন চলাকালীন একটি যৌথ বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী আইকে গুজরালের সাথে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় বিষয়াবলী নিয়ে আলোচনা করা হয় ।
১০. দশম সার্ক শীর্ষ সম্মেলন ঃ-
এই শীর্ষ সম্মেলনটি শ্রীলংকার রাজধানী কলম্বোতে ১৯৯৮ সালের ৩০ ও ৩১ জুলাই অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিপক্ষীয় সমস্যার কারণে প্রথমে এ সম্মেলনটি না হবার আশঙ্কা দেখা দিলেও পরে সম্মেলনের মাধ্যমে যে দ্বিপক্ষীর সমস্যার সমাধান করার জন্য আলোচনার দ্বার উন্মুক্ত করা হয়। এই সম্মেলন সাফটা বাস্তবায়নে তরান্বিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশি পণ্যকে কম খরচে ভারতে প্রবেশের সুযোগ করে দেয়। সম্মেলনের কিছুদিন পরই ভারত বাংলাদেশকে ব্যাপক হারে শুল্ক মুক্ত সুবিধা প্রদানের ঘোষণা করে, যা দু’দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। তবে পরবর্তীতে বাংলাদেশ আশানুরূপ কোন সুফল পায় না ।
১১. একাদশ সার্ক শীর্ষ সম্মেলন ঃ-
২০০২ সালে ৫ ও ৬ জানুয়ারী নেপালের রাজধানী কাঠমুন্ডতে অনুষ্ঠিত হয়। কাঠমুন্ডুর হোটেল সোয়ালটি ক্রাউন প্লাজায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ির সাথে ৪৫ মিনিট ব্যাপী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বৈঠক হয়। তারা অভিন নদীর পানি ন্যায্যতার ভিত্তিতে বন্টন অচিহ্নিত সীমানা চিহ্নিত করন নিয়ে আলোচনা করে। এ সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে সংখ্যালঘুকে উপর নির্যাতনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ বৈঠকে বাংলাদেশ ভারতকে পাকিস্তানের সাথে বিরোধ মেটানোর জন্য ও বাংলাদেশের সাথে বিপুল বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার জন্য ভারতের নিকট আহবান জানান।
১২. দ্বাদশ শীর্ষ সম্মেলন ঃ-
দ্বাদশ সার্ক শীর্ষ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয় পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ২০০৪ সালে ৪-৬ জানুয়ারী তারিখে। ২০০৩ সালে অপরাধী দমনে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশের নিকট ভারত প্রস্তাব করলেও বাংলাদেশ তাতে রাজি হয়নি। কিন্তু এই দ্বাদশ সম্মেলনে জঙ্গী ও সন্ত্রাস নিয়ে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে বৈঠক হয়।
১৩. ত্রয়োদশ সার্কশীর্ষ সম্মেলন ঃ-
২০০৫ সালের ১০-১৩ নভেম্বর তারিখে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় ত্রয়োদশ সার্ক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তবে এর আগে ভারত বাংলাদেশে নিরাপত্তার অভাব আছে এমন কারণ দেখিয়ে সম্মেলন স্থগিত করে। ভারতের এমন সিদ্ধান্ত বাংলাদেশকে মর্মাহত করে এবং দু'দেশের সম্পর্ককে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তবে সম্পর্ক জোরদার করতেই যেন সম্মেলন চলাকালীন সময়ে (১২ নভেম্বর) বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাথে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ৩০ মিনিটের বেশি সময় ধরে বৈঠক করে। তারা এই আলোচনার দু’দেশের দ্বিপক্ষীর বিষয় ও সার্ক প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করে।
১৪. চতুর্দশ শীর্ষ সম্মেলন ঃ-
২০০৭ সালের ৩ এপ্রিল ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে এ সার্ক শীর্ষ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলন চলাকালীন বিরতিতে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দিন আহমদ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এর বৈঠক মনমোহন সিং এর বাসভবনে অনুষ্ঠিত হয়। তাঁরা বাংলাদেশ ভারত বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা দূর করা, সীমানা চিহ্নিত করণ সমস্যা সমাধানে একমত প্রকাশ করেন। এমনকি যৌথ অর্থনৈতিক কমিশন ও যৌথ নদী কমিশনের মাধ্যমে দু দেশের মধ্যকার বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেয়ার ক্ষেত্রে সম্মত হয়। এমনকি বাংলাদেশ উপদেষ্টা ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
১৫. পঞ্চদশ সার্ক শীর্ষ সম্মেলন ঃ-
পঞ্চদশ সার্ক শীর্ষ সম্মেলনটির আয়োজক ছিল শ্রীলংকা। ২০০৮ সালের ২-৩ আগষ্ট তারিখে দুই দিন ব্যাপী শ্রীলংকার রাজধানী কলম্বোতে এ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় কলম্বোর একটি হোটেলে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দিন আহমদ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হয়। এই বৈঠকে প্রধান্ উপদেষ্টা শুল্ক মুক্তভাবে ভারতে ৮০ লাখ তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে সকল প্রশাসনিক বাঁধা দূর করার জন্য ভারত সরকারকে আহবান জানায়। তাঁরা উভয়ে সন্ত্রাস দমন ও খাদ্য নিরাপত্তাসহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করে। মনমোহন সিং বাংলাদেশের নিকট সন্ত্রাসবাদ দমনে একযোগে কাজ করার জন্য অনুরোধ জানায় যার ফলশ্র“তিতে সন্ত্রাসদমন বিষয়ে বাংলাদেশ-ভারত তিনটি চুক্তি ও ২টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
১৬. ষোড়শ সার্ক শীর্ষ সম্মেলন ঃ-
২০১০ সালের ২৮ ও ২৯ এপ্রিল ভুটানের রাজধানীঅ থিম্পুতে আট সদস্য রাষ্ট্রসমূহ ষোড়শ সার্ক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সম্মেলন চলাকালীন শেখ হাসিনা মনমোহন যৌথ বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারতের প্রধানমন্ত্রী এন শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময়ে গৃহীত দুদেশের মধ্যকার চুক্তি ও যৌথ ষোষনা পর্যালোচনা করেন। এছাড়া দুদেশের মধ্যে ঋণ সহায়তা, সমুদ্র নৌবন্দর ব্যবহার, ত্রিপুরা পন্য পরিবহন ছাড়াও বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়ে ভারতের সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়। এ বৈঠকে শেখ হাসিনা তিস্তার পানি বন্টন বিষয় অন্তবর্তী চুক্তির জন্য মনমোহনকে অনুরোধ জানান। এর ফলশ্র“তি সতম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার ও তিস্তার পানি বন্টন চুক্তি নিয়ে উভয় দেশের জন্য আলোচনা হয়।
সাফটা ও ভারত বাংলাদেশ ঃ-
সার্ক দেশগুলো পরস্পরকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাণিজ্যিক সুবিধা প্রদানের যে নীতিগত সিদ্ধান্ত ৭ম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে গৃহীত হয় তাই চুক্তি নামে পরিচিত। এর মাধ্যমে সার্কভুক্ত দেশগুলো নিজেদের মধ্যেকার বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা অপসারণে একমত হয়েছে। তবে চুক্তি বাস্তবায়িত না হবার দরুন ১২তম শীর্ষ সম্মেলনে সাফটা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তবে এখনো দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় পৌণে দুইশ কোটি মানুষ দক্ষিণ এশিয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (সাফটা) সুফল পায়নি। সাফটা চুক্তির অন্যতম বিষয়বস্তু ছিলো শুল্কমুক্ত বাজার সুুবিধা ,রুলস অফ অরিজিন , সেবা খাত উন্মুক্ত করণসহ নানামুখী বাজার খাত সৃষ্টি। মূলত ১২ তম শীর্ষ সম্মেলনে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে সাফটা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কিস্তু বড় অর্থনীতি দেশ ভারত সদস্য দেশগুলোর সাথে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে বেশী উদ্যোগী হবার দরুন থমকে যায় সাফটা চুক্তি কার্য়করের প্রক্রিয়া। তাই গত চার বছরেও সাফটার নূন্যতম বাজার সুবিধা নিশ্চিত করতে পারেনি সার্কভুক্ত দেশগুলো। তবে ভারত তার সুফল পুরোটাই ভোগ করছে। তারা বাংলাদেশে বৈধ ও অবৈধ পথে পণ্য প্রবেশ করাচ্ছে। তারা বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সাফটার নীতিমালা ও দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা কোনটিই আমলে নিচ্ছে না। সাফটাকে সফল করার জন্য বাংলাদেশের শীর্ষ বণিক চেম্বার ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ভারতের সাথে বাণিজ্য ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য অনেক আলোচনা ও সমঝোতার করার প্রয়াস চালায়। কিন্তু ভারত সরকার আশ্বাস দেয়ার পরেও তার সমাধান না করে বরং স্পর্শকতার পণ্যের তালিকায় বাংলাদেশ প্রধান রপ্তানিপণ্য তৈরি পোশাককে অন্ততর্ভূক্ত করে বানিজ্যিক সমস্যাটি আরও ব্যাপকতা লাভ করছে । সাফটার নীতি অনুসরনে ভারতের পণ্য অবাধে বাংলাদেশে প্রবেশ করে কিন্তু বাংলাদেশীর জন্য ভারতে প্রবেশের সময় ভারতীয় সীমান্ত শুল্ক বন্দরগুলো বাংলাদেশী পণ্যের উপর সর্বোচ্চ শুল্ক বসায়। এমনকি ভারতের এই অনুমতীর নীতির কারণে নেপাল ও ভুটানও বাংলাদেশের সাথে কোন বাণিজ্যিক সম্পর্কে আবদ্ধ হতে পারছে না।
সার্ক ও বাংলাদেশ - ভারত দ্বিপক্ষিক সমস্যা ঃ-
সার্কের অধীনে বাংলাদেশ ভারত মধ্যকার যে সকল দ্বিপাক্ষিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে তা হলো ঃ-
- গঙ্গা নদীর পানি বন্টন বিষয়ে
- তিনবিঘা করিডোর হস্তান্তরা
- চাকমা শরনার্থীদের পুর্ণবাসন
- সীমানা চিহ্নিত করণ
- শুল্কমুক্ত পণ্য রপ্তানি
- সন্ত্রাস দমন
- সীমান্তে রেড়া নির্মাণ
- ঋণ সহায়তা,
- সমুদ্র নৌবন্দর ব্যবহার,
- ত্রিপুরা পন্য পরিবহন
- খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ
সার্কে ভারত বাংলাদেশ সম্পর্ক বিশ্লেষন ঃ-
দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার অধীনে বাংলাদেশ ভারতের সম্পর্ক বিশ্লেষণ সার্ক শীর্ষ সম্মেলন চলকালীন দু দেশের নিজ উদ্যোগে আয়োজিত যৌথ বৈঠকের ভিত্তিতে করা যায় কারণ সার্ক সনদ অনুসারে সার্কে কোন দ্বিপক্ষীর আলোচনা হয় একটি মঞ্চ তৈরি করতে দেয়। বিগত ১৬টি সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের সময় বাংলাদেশ ভারত এ ধরনের দ্বিপাক্ষিক আলোচনার অংশগ্রহণ করেছে। এ সকল বৈঠকের আলোচনার সূচিতে মূলত এই দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক ও অমীমাংসিত সমস্যাগুলো স্থান পেয়েছে। এ সকল বৈঠকে একটি বিষয় নিয়ে একাধিকার আলোচনা হলেও তার ফলাফল হিসেবে পরবর্তীতে শুধু একাধিকার আলোচনার উদ্যোগ গৃহীত হয়েছে। তবে আজ অবদি ইতিবাচক কোন দৃশ্যমান ফলাফল দেখা যায় নি। প্রথম দিকের বৈঠকগুলোতে তিনবিঘা কারিডোর হস্তান্তরে ভারতের ইতিবাচক সাড়া লক্ষ্য করা গেলেও মূলত তা কখনোই কার্যকর হয়নি। সার্কের অধীনে দুদেশের সম্পার্ক উন্নয়নে ভারত কখনো গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে নি শুধুমাত্র আশ্বাস দিয়ে সম্পর্ক জিইয়ে রেখে নিজেদের স্বার্থ হাসিলে উদ্ভত হয়েছে। উদাহারণ, সাফটার সুফল ভারত নানাভাবে বাংলাদেশ থেকে নিলেও বাংলাদেশকে উপকৃতত করার ক্ষেত্রে আগ্রহী হতে দেখা যায় নি।
তাই তো ৮০ লাখ পিস তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উপর অর্পিত বাঁধাগুলো এখনো দূর করে নি। অন্যদিকে বাংলাদেশ ভারতকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়ে বাংলাদেশকে ভারতীয় পণ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজারে পরিণত করেছে। আর পক্ষান্তরে ভারত বাংলাদেশকে সে ১ হাজার ১৮০টি পণ্যের উপর শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদান করে সেখানে প্রকৃত অর্থে বাংলাদেশে উৎপাদনশীল পণ্যেগুলো স্থান পায়নি। আবার ভারতের কাছে বাংলাদেশ সে ২৫ ক্যাটাগরির পণ্য শুল্কের সুবিধা চাইছে তা ভারত ট্রানজিট ও ট্রান্তশিপমেন্ট আদায়ের বেড়াজালে আবদ্ধ করে রেখেছে। এসকল ঘটনা পর্যবেক্ষণ করওেল দেখা যায় ভারত সার্কের অধীনে বাংলাদেশ ভারতের নিকট যে সকল দ্বিপক্ষীর সুবিধা পাবার ক্ষেত্রে সন্ধান পায় তাতে নানা বাঁধা নিচে ও প্রতিবন্ধকতার কারণ দেখায়। সে কে এখন পর্যন্ত ভারত বাংলাদেশের দ্বিপক্ষী য় সমস্যা সমাধানে কোন অগ্রগতি ঘটে নি।
সার্কে বাংলাদেশ ভারত সম্পকোন্নয়ন না হবার কারণ ঃ-
সার্ক প্রতিষ্ঠার দুই যুগ অতিবাহিত হলেও তা ভারত বাংলাদেশ সম্পর্ক উন্নয়নে বা বাংলাদেশ ভারত অমীসাংসিত সমস্যা সমাধানে আজও কোন সফলতা অর্জন করেনি। আলোচনার ভিত্তিতে নিম্নে এর কারণগুলো ব্যাখ্যা করা হলো :-
সার্ক গঠনের শুরুতেই এর উদ্যোক্তরা দ্বিপক্ষীর আলাপ আলোচনাকে এর কার্যক্রমের অধীনতা থেকে মুক্ত করেছেন। প্রথম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে সার্কের যে মূলনীতি নির্ধারণ করা হয় তাতে দ্বিপাক্ষিক বিষয়াবলী বর্জন করা হয়। যদিও সার্ক দ্বিপাক্ষিক আলোচনার একটি মঞ্চ তৈরি করে তবে তা কেবল দুদেশের সদিচ্ছার কারণে সংগঠিত হয়। তবে এসব দ্বিপাক্ষিক আলোচনা মূল অধিবেশনের অন্তভূক্ত না হবার কারণে প্রায়ই এ সকল আলোচনা একটি সৌজন্য বৈঠক হিসেবেই থেকে যায়।
দক্ষিণ এশিয়ার পরাক্রমশালী দেশ ভারতকে কখনোই বাংলাদেশের সাথে অমীমাংসিত সমস্যাগুলো সমাধানে নমনীয় ভাব পোষণ করবে দেখা যায় নি। তাই সার্কে বিষয়গুলো নিয়ে একাধিকবার আলোচনা হলেও তা কোন ইতিবাচক সমাধান দিতে পারেনি।
সার্কের সদস্যরা দ্বিপাক্ষিক বিষয়াবলী সার্কের আলোচনাসূচির অন্তর্ভূক্ত করতে চাইলেও ভারতের অসম্মতির কারণে আজ পর্যন্ত বিষয়টি সার্কের মূল সনদের বাইরে আজ এই কারণেও ভারত বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীর সম্পকোন্নয়ন ঘটে নি।
সার্কে বাংলাদেশ ভারত সম্পকোন্নয়ন জন্য গৃহীত উদ্যোগ ঃ-
সার্কের ভেতরে যে কোন দ্বিপক্ষীয় সমস্যা সমাধানের জন্য সার্কেও সদস্য রাষ্ট্রগুলো বেশ কিছু ্ উদ্যোগ নেয় । কাশ্মীর নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সার্ক অধিবেশন চলাকালীন সময়ে একাধিকবার ভারত-পাকিস্তান বৈঠক সংগঠিত হয় । তেমনি বাংলাদেশ – ভারত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বাংলাদেশ সার্কেও অধীনে বেশ কিছু উদ্যোগ নেয় । নিম্নে এ নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো ঃ-
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দ্বিপাক্ষিক বিষয়াবলী সার্ক সনদেও অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে , কিন্তু ভারতের অস্বীকৃতির কারণে তা বাস্তবায়িত হয় নি ।
সার্ক অধিবেশন চলাকালীন দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আয়োজন করে পারস্পরিক অমীমাংসিত সম্যাবলী নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করা হয়েছে ।
সার্ক সম্মেলনের উদ্বোধনী ভাষণে ভারত ও ভারত সরকারের নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কওে বাংলাদেশ এই দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সুসম্পর্ক রক্ষার প্রয়াস চালায় ।
সার্ক ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ঃ
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি অনুসারে বাংলাদেশ সবসময় আর্ন্তজাতিক সংগঠনগুলোর সনদ অনুসরণ করে তার কার্যকলাপ পরিচালনা করবে যে নীতি অনুসরনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি সার্কের মূলনীতির সাথে সামঞ্জস্যপুর্ণ হবে। নিম্নে তা ব্যাখ্যা করা হলো ঃ-
সার্কের মূলনীতি অনুসারে সার্কভুক্ত দেশগুলো একে অপরের অভ্যন—রীন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতেও একথা বলা আছে, তাই বাংলাদেশ কখনো সার্কভুক্ত দেশগুওেলার অভ্যন্তরীন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে না। ভারতের অভ্যন্তরীন বিষয়েও বাংলাদেশ হস্তক্ষেপ করে না কিন্তু বাবরী মসজিদ বিতর্কের কারণে একবার ষষ্ঠ সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে তবে তা ভারতে অভ্যন্তরীন বিষয়ে হস্তক্ষেপের কারণে নয় বরং দেশের সাধারণ মানুষের আবেগ ও মতামতকে সমর্থন জানাতে।
সার্কের মূলনীতি অনুসারে প্রত্যেক সদস্য রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগলিক আর প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি অনুচরে বাংলাদেশেও সার্কভুক্ত দেশগুলোর ভৗগলিক অখন্ডতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধ প্রদর্শন করে। কিন্তু ভারতের বৃহৎ শক্তি হবার কারণে এ ধরনের মানসকিতার অভাব লক্ষ্য করা যায়। উদাহরণ হিসেবে ভারত নেপাল ও ভুটানকে তা স্যাটেলাইট রাষ্ট্রে পরিণত করেছে।
সার্ক গঠনের উদ্দেশ্য ছিল দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্বোর সম্পর্ক তৈরি করা। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি অনুসারে বাংলাদেশও এর সার্কভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর সাথে এমনকি ভারতের সাথে বন্ধুত্বপুর্ণ সম্পর্ক রাখে।
মতামত ঃ-
সার্ক নামে এই আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা গঠনের মূল উদ্দেশ্য ছিল দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে একটি সহযোগিতাপূর্ণ মানসিকতার বিকাশ করা যার আলোকে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে এ অঞ্চলের উন্নয়ন ঘটবে । কিন্তু তা সম্ভব হয় নি কারণ এ অঞ্চলের দেশগুলোর দ্বি-পাক্ষিক সমস্যায় জর্জরিত । আর সার্ক সনদে দ্বি- পাক্ষিক বিষয়াবলী বর্জন করা হয়েছে । সার্কেও মূল অধিবেশনে কোন দ্বি-পাক্ষিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয় না । অষ্টম ও একাদশ সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে ভারত - পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সমস্যা সমাধানে সার্কভুক্ত দেশগুলোর প্রধান ভারতকে অনুরোধ করে । এমনকি সার্কেও মূল অধিবেশনের বাইরে নানা দ্বি-পক্ষীয় আলোচনা হয় যা দু দেশের সম্পর্কোন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখে । তেমনি বাংলাদেশ - ভারত দ্বিপাক্ষিক নানা বিষয় নিয়ে সার্ক সম্মেলনগুলোতে একাধিক আলোচনা হয় যদিও ভারতের সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাবের অভাবে আলোচনার কোন ইতিবাচক ফলাফল আজো ার্জিত হয়নি। আলোচনার আলোকে বলা যায় সার্ক ভারত - বাংলাদেশ সম্পর্ক রক্ষায় সফ
২|
১২ ই নভেম্বর, ২০১০ রাত ৯:২৬
মানুষ বলেছেন: সংবিধান অনুযায়ী বাংলদেশ বানান ভুল লিখছেন।
১২ ই নভেম্বর, ২০১০ রাত ৯:৩১
রকি সপ্নচারী বলেছেন: অনাকাঙ্খিত ভুলের জন্য ক্ষমাপ্রার্থী।
©somewhere in net ltd.
১|
১২ ই নভেম্বর, ২০১০ রাত ৮:৪৭
সফটকোন আইসক্রীম বলেছেন: ভালো লেগেছে বন্ধু। কুন্ন কথা নাই প্রিয়তে................