| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
.......সুন্দর সময় সবার জন্য অপেক্ষা করে ....কেউ তা ডেকে আনে আর কেউ আনে না........
বন্দরনগরী ও দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে চট্টগ্রামকে অভিহিত করা যায়। তবে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী হিসেবে এখানে গণমাধ্যমে বিকাশ যেমনটি হওয়ার প্রয়োজনে ছিল তা হয় নি। অথচ পুরো বাংলাদেশের ভূখন্ডে সাংবাদিকতা ও সংবাদপত্রের আদিপর্বের ইতিহাস এই চট্টগ্রামকে ঘিরেই আবর্তিত। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়- ব্রিটিশ ভারতে বাংলাদেশ ভূখন্ড থেকে বের হওয়া প্রথম তিনটি পত্রিকারই প্রকাশ স্থান এ চট্টগ্রাম [ সুলতানা, ২০০৮] । কিন্তু কালপরিক্রমায় সবকিছু ঢাকা কেন্দ্রিক হয়ে গেছে। ফলে সাংবাদিকতার আদিকেন্দ্র চট্টগ্রামে গড়ে উঠেছে শুধু টেলিভিশনের একটি কেন্দ্র। আর বর্তমানে অনুমোদনপ্রাপ্ত বিজয় টিভি সম্প্রচারিত হলে চট্টগ্রাম থেকে তা প্রথম টিভি চ্যানেল হবে।
তবে চট্টগ্রামের জন্য বর্তমানে একমাত্র ভরসা মুদ্রন মাধ্যম। কারণ চট্টগ্রাম থেকে নিয়মিত প্রকাশিত হয় বাংলাদেশের অন্যতম পুরানো সংবাদপত্র ‘দৈনিক আজাদী’। চট্টগ্রামের প্রভাবশালী এ পত্রিকাটি প্রতিদিন স্থানীয় ও আঞ্চলিক ইস্যু প্রকাশ করার পাশাপাশি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রকাশ করে। বর্তমানে ৫১ বছরে পা দেয়া এ পত্রিকাটি সেই ১৯৬০ সালের জন্মলগ্ন থেকে অভ্যন্তরীন ও জাতীয় নানা সমস্যার সাথে লড়াই করে এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ভূমিকা রেখে আজও তার প্রকাশনা কার্য চালিয়ে যাচ্ছে। একটি আঞ্চলিক পত্রিকাকে যে সব দিক বা বিষয়ে লড়াই করে টিকে থাকতে হয় চট্টগ্রামের পত্রিকা ‘দৈনিক আজাদী’ এ অর্ধশতাব্দী ধরে সে সব সমস্যার প্রায় সবগুলোর সাথে লড়াই করে আজও টিকে আছে।
‘দৈনিক আজাদী’-র জন্মকথা ঃ
ধর্মের ভিত্তিতে ইংরেজরা ভারতবর্ষকে দ্বিখন্ডিত করে জন্ম দিলো দুইটি স্বাধীন দেশের ভারত ও পাকি¯Íান। যার দরুন আমাদের আজকের বাংলাদেশ পাকি¯Íান নামক রাষ্ট্রের অন্তর্ভূক্ত হলো, আর এর নামকরণ করা হয় পূর্ব পাকি¯Íান। পাকি¯Íান প্রতিষ্ঠার কিছু সময়ের মধ্যেই পাকি¯Íানের দুই অংশের মধ্যে তিক্ততা সৃষ্টি হয়। প্রথমদিকে সংঘর্ষের কারণ ছিল ‘ভাষা’। পূর্ব পাকি¯Íানের জনগণের দাবিকে সেই সময়ের জাতীয় দৈনিক ও সাময়িকীগুলোতে তুলে ধরা হয়। উদাহরণস্বরূপ সেই সময় ‘দৈনিক আজাদ’ ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর পাকি¯Íানের রাষ্ট্রভাষা সমস্যা” শীর্ষক প্রবন্ধ প্রকাশ করে। এর ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন পত্রিকাগুলো বাঙালীর দাবিকে তুলে ধরে। তখন বাঙালি উপলব্দি করে বাংলা ও বাঙালির অধিকার সম্পর্কে কথা বলতে হলে স্বাধীন সংবাদপত্রের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। এ সত্য উপলব্দির মাধ্যমে দৈনিক সংবাদপত্র হিসেবে ‘দৈনিক আজাদী’ আত্মপ্রকাশ করে ২৯৬০ সালের ৫ সেপ্টেম্বর।
জাতীয় দুর্দিনের সেই সময়ে যখন রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে চট্টগ্রামের স্বার্থে কোন বলিষ্ঠ বক্তব্য দেয়ার মত নেতৃত্বের অভাব চলছিল আর আইয়ুবি শাসনের যাঁতাকলে পিষ্ঠ জাতি কোন দিক নির্দেশনা পাচ্ছিল না তখনই আবদুল খালেক ইঞ্জিনিয়ার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক হিসেবে ‘দৈনিক আজাদী’ পত্রিকাটি প্রকাশের কাজ শুরু করেন।
সেদিন দৈনিক আজাদীর প্রকাশনা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের তৎকালীন শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ এ.কে.এম ফজলুল কাদের চৌধুরী বলে ‘খবঃ অুধফর নৎরহম ধৎধফর ভড়ৎ ঁং.” তবে তাঁর এমন বক্তব্য ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় সত্যতা পায়।
জন্মলগ্নেই শুরু হওয়া বেঁচে থাকার লড়াই ঃ
দৈনিক আজাদী যখন প্রকাশিত হয় তখন অবাঙালি মালিকানায় ঞযব ঊধংঃবৎহ ঊীধসরহবৎ নামে একটি ইংরেজি দৈনিক প্রকাশিত হতো। সেখানে সাধারণ মানুষের বা গ্রামীণ জনগণের কথা প্রকাশ না পেলেও বাংলা দৈনিকে অনিয়মিত প্রকাশের জন্য জনগণ ঐ পত্রিকাই বেছে নিতো। আর বাংলা দৈনিক হিসেবে মাহবুব উল-আলম সম্পাদিত দৈনিক জামানা এবং আব্দুস সালাম সম্পাদিত দৈনিক পূর্ব পাকি¯Íান অনিয়মিতভাবে প্রকাশিত হতো। তবে এ পত্রিকাগুলো সংবাদের চেয়ে সাহিত্যচর্চায় বেশি মনোযোগী ছিল। এমন সময় চট্টগ্রামবাসীর সংবাদ চাহিদার প্রতি লক্ষ্য রাখার পাশাপাশি চট্টগ্রামের গ্রামগঞ্জের সংবাদকে প্রাধান্য দিয়ে দৈনিক আজাদী সংবাদ প্রকাশ করা শুরু করে। এর পাশাপাশি আইয়ুবি শাসনামলে জারি করা রুলের (প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন অর্ডিন্যান্স) কারণে ‘দৈনিক আজাদী’ কে সবসময় ঝুঁকি ও চাপের মধ্যে থেকে সংবাদ প্রকাশের দায়িত্ব পালন করতে হয়। অর্থাৎ চট্টগ্রামের দশম ও বাংলাদেশের ২০তম দৈনিক আজাদী (সূত্র: সাখাওয়াত হোসেন মজনু, মহাত্মা আব্দুল খালেক ইঞ্জিনিয়ার) কে সূচনাতেই টিকে থাকার লড়াইয়ে নেমে পড়তে হয়।
‘দৈনিক আজাদী’ নিয়ে কিছু সমসাময়িক তথ্য ঃ
বর্তমানে দৈনিক আজাদী চট্টগ্রামে সর্বাধিক পঠিত একটি পত্রিকা, যার প্রধান কার্যালয় ৯, সি.ডি.এ, মোমিন রোড চট্টগ্রাম ৪০০০ এ অবস্থিত। এছাড়াও ঢাকায়ও পত্রিকাটির একটি কার্যলয় আছে। এবিসি এর একটি জরীপে দেখা যায় এর প্রচার সংখ্যা প্রতিদিন গড়ে ৩২,৯২০ টি তবে পত্রিকা অফিসে জানতে চাইলে বলা হয় পত্রিকার প্রচারসংখ্যা প্রতিদিন গড়ে ৪০,০০০ এর উপরে। পত্রিকার কর্মকর্তারা পত্রিকাটিকে কোন রাজনৈতিক পত্রিকা নয় বলে দাবি করেন তবে এটি সম্পূর্ণ স্বাধীনতার পথে অবস্থান করছে। এই পত্রিকাটির বর্তমান পরিচালক ও সম্পাদক হলেন ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল খালেকের সন্তান এম এ মালেক। এখন পর্যন্ত পত্রিকাটিতে প্রায় ২০০ জন সাংবাদিক নিয়োজিত আছেন। তবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীর পাশাপাশি অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীরাও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই পত্রিকায় শিক্ষানবিশ সাংবাদিক হিসেবে নিয়োজিত আছেন।
জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দৈনিক আজাদীর ভূমিকা ও লড়াই ঃ
৬০ এর দশকে অস্থির রাজনৈতিক পরিবেশে জন্ম নেয়া চট্টগ্রামের আঞ্চলিক পত্রিকা ‘দৈনিক আজাদী’ দেশের বিবিধ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে জনস্বার্থে ভূমিকা রাখতে দেখা যায়। স্বাধীনতার আগে হাজারো বিধিনিষেধ ও আইনি ভয়ভীতির মধ্যেই দেশের সাধারণ মানুষের দাবিগুলো এই পত্রিকার সাংবাদিকের লেখনীতে উঠে আসে।
ক্স ১৯৬৬ এর সময়কালে দৈনিক আজাদীর সংগ্রাম :
১৯৬৬ সালে ঐতিহাসিক ৬ দফা আন্দোলনের সময় দৈনিক আজাদী বাংলার সাধারণ মানুষের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করে। তৎকালীন প্রাদেশিক সরকারের চাপে সকল দৈনিকগুলো ৬ দফা আন্দোলনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশে অংশ নেয় এবং সরকার কর্তৃক সরবরাহকৃত পত্রিকাগুলো প্রচার করে। অন্য সবার মত সরকারের চাপে ‘দৈনিক আজাদী’ ও ঐ প্রবন্ধগুলো প্রকাশ করে তবে পরের দিন তার জবাবে বলিষ্ঠ যুক্তির অবতারণা করে পাল্টা প্রবন্ধ ছাপায়। যার ফলশ্র“তিতে গোয়েন্দা রিপোর্টে আজাদী সম্পর্কে বলা হয়- “অ ইবহমধষর ফধরষু ভৎড়স ঈযরঃঃধমড়হম যধারহম ষবধহরহম ঃড়ধিৎফং ড়ঢ়ঢ়ড়ংরঃরড়হ.”
ক্স আগরতলা ষড়যন্ত্র ও উনসত্তরের গণ অভ্যুত্থান ও দৈনিক আজাদীর সংগ্রাম ঃ
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা আর উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের সময় ও দৈনিক আজাদী প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক শক্তির পক্ষে ভূমিকা রাখে।
ক্স ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ ও দৈনিক আজাদীর সংগ্রাম ঃ
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে দেশ পাকি¯Íানী বাহিনীর দখলে চলে গেলে দৈনিক আজাদীর প্রকাশনা বন্ধ থাকে। মুক্তিযুদ্ধের প্রথমদিকে প্রায় তিন মাস দৈনিক আজাদীর প্রকাশনা বন্ধ ছিলো। তখন ওবায়দুল হক পত্রিকা পুন: প্রকাশের উদ্যোগ নেন। তিনি পরিচালনা সম্পাদক আবদুল মালেক সহ বিভিন্ন মহলের সাথে যোগাযোগ করেন। পত্রিকা পুন: প্রকাশের জন্য তারা তৎকালীন শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাহমুদুন্নবীর সাথেও যোগাযোগ করেন। তবে পুন: প্রকাশের উদ্যোগ নেয়া হলে স্বাধীনতা বিরোধী একটি মহল বাধা দিলেও আলহাজ্ব মাহমুদুন্নবী চৌধুরী সহ কয়েকজনের চেষ্টায় ১৮ জুন ১৯৭১ তারিখে আজাদী পুনরায় প্রকাশিত হয়। এ সময় সংবাদপত্রের ক্ষেত্রে দৈনিক কাজগুলো ছাড়াও প্রতিদিন শান্তি কমিটির দপ্তর আদালত ভবন জেলা জনসংযোগ অফিসে গিয়ে সরকারকে বক্তব্য খবর সংগ্রহ করতে হতো। আর তা প্রকাশ করতে হতো। এছাড়াও এ সময় সান্ধ্য আইন বলবৎ থাকায় সন্ধ্যা ৬টা বাজতেই অফিসের ফটক বন্ধ করে দেয়া হতো। আজাদীর অফিসের প্রধান ফটক ও বন্ধ করে দেয়া হতো। কিন্তু প্রতিদিন একটি বিশেষ বাহিনীর লোকমুখে কাপত বেধে গেলে এসে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে যেত আর পরদিন তা প্রকাশ করতে হতো। তারপরও পাকি¯Íানী বাহিনী দৈনিক আজাদীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার উদ্যোগ নিত। কিন্তু মাহমুদুন্নবীল কারণে আজাদীর প্রকাশনা বন্ধ হয় নি।
তবে এমন অবস্থায়ও দৈনিক আজাদী সংবাদ প্রকাশে বস্তুনিষ্ঠতার প্রমাণ দেয়, যখন বিহারিরা ঝাউতলা পাঞ্জাবি লেন ও ষোলশহরের মাঝামাঝি স্থানে ট্রেন থামিয়ে বাঙালি যাত্রীদের নামিয়ে গণহত্যার খবরটি সুকৌশলে প্রকাশিত হয়।যুদ্ধের সময় বাংলাদেশের পত্রিকাগুলো স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রকাশের কোন সুযোগ ছিল না বিধায় পত্রিকা পাঠে পাঠকের আগ্রহ ক্রমেই কমে যাচ্ছিল। এ সময় বা¯Íব চিত্র তুলে ধরার জন্য দৈনিক আজাদী করাচি থেকে প্রকাশিত দি লিডার ও অন্যান্য টেবলয়েড পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদগুলো অনুবাদ ও সম্পাদনা করে ছাপানো হয়। ফলে তৎকালীন পূর্বপাকি¯Íানের পরিস্থিতি অনেকাংশে ফুটে ওঠে। আর পাঠকের মাঝে পত্রিকার গ্রহণযোগ্যতা বেড়ে যায়। তবে এর কারণে যুদ্ধ চলাকালীন সময় আজাদী পত্রিকার সাংবাদিকরা দু’বার স্বাধীনতা বিরোধীদের আক্রমনের মুখোমুখি হয়। তারপরও প্রকাশনা বন্ধ হয়নি, এমনকি মুক্তিযুদ্ধের সময় আজাদীর সম্পাদকীয়গুলো এমনভাবে লেখা হতো যে তাতে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে কোন বক্তব্য থাকতো না-যা সকল প্রতিক‚লতার মধ্যে দেশের স্বাধীনতার পক্ষে দৈনিক আজাদীর দৃঢ় অবস্থানের প্রতীক।
ক্স ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ ও দৈনিক আজাদীর ভূমিকা ঃ
দৈনিক আজাদী স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পত্রিকা ছিল, কারণ হানাদার বাহিনী মুক্ত স্বাধীন বাংলাদেশের ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ এ কোন দৈনিক প্রকাশিত হয় নি কিন্তু দৈনিক আজাদী লাল কালিতে ব্যানার হেড লাইন করে পত্রিকা প্রকাশ করে।
৭১ এর স্বাধীন বাংলাদশেে প্রকাশতি দনৈকি আজাদীর প্রথম কপটিার একটা ইমজে কপি
সামাজিক উন্নয়নের জন্য দৈনিক আজাদীর লড়াই ঃ
চট্টগ্রামের আনাচে কানাচের খবরা খবর নিয়ে চট্টগ্রামবাসীর চাহিদার প্রতি লক্ষ্য রেখে দৈনিক আজাদীর প্রকাশনা শুরু হয়। সময়ের পরিক্রমায় চট্টগ্রাম তথা সারা দেশের সামাজিক অগ্রগতিতে এই দৈনিকটি প্রত্যক্ষ ভূমিকায় অবতীর্ন হয়।
ক্স প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রে ঃ
দৈনিক আজাদী প্রকাশিত হবার মাস দুয়েকের ও কম সময়ের মধ্যে এক সর্বগ্রাসী প্রলয়ংকারী সামুদ্রিক ঘুর্নিঝড়ে ১৯৬০ সালের ৩১ অক্টোবর তারিখে দেশের দক্ষিণাঞ্চল বিশেষত চট্টগ্রাম জেলা সম্পূর্ণ বিধ্ব¯Í হয়ে যায়। তখন চট্টগ্রামের বিদ্যুৎসংযোগ প্রায় এক সপ্তাহের জন্য বন্ধ থাকে। তখন চট্টগ্রামে কোন পত্রিকা প্রকাশ সম্ভব হয় নি, পাশাপাশি ঢাকার সাথে চট্টগ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে দৈনিক পত্রিকা আসা বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু চট্টগ্রামের সার্বিক অবস্থা তুলে ধরার তাগিদে আজাদীর কর্মীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে সংবাদ সংবাদ সংগ্রহ করেন আর কায়িক শক্তিতে প্রেসের চাকা ঘুরিয়ে পত্রিকা প্রকাশনা অব্যাহত রাখে। এটি ছিল প্রচন্ড প্রতিক‚ল পরিবেশে ও সংবাদ সরবরাহের একটি অপ্রত্যাশিত দৃষ্টান্ত। সেই থেকে দৈনিক আজাদী চট্টগ্রামবাসীল জনপ্রিয় মুখপত্র হিসেবে নিবেদিত হয়ে থাকে। (সূত্র: হাজার বছরের চট্টগ্রাম)
শুধু ১৯৬০ এর ঘূর্নিঝড় নয়, পরবর্তীতে যে কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ সহ ঝড়ের পূর্বাভাসের ক্ষেত্রে দৈনিক আজাদী দক্ষতার সাথে সংবাদ প্রকাশ করে থাকে। যার দরুণ প্রায় ঢাকাসহ অন্যান্য এলাকার পত্রিকাগুলো দৈনিক আজাদীর সাথে যোগাযোগ করে প্রতিবেদনের তথ্য সংগ্রহ করে।
ক্স শিক্ষার ক্ষেত্রে ঃ
শিক্ষার ক্ষেত্রে আজাদীর বড় আদান রয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে। আয়ুব খানের শাসনামলের প্রথম দিকে প্রাদেশিক গভর্নরকে চট্টগ্রামের কৃতী সন্তান জাকির হোসেন চট্টগ্রাম কলেজ সংলগ্ন বিস্তৃত এলাকা নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার যে প্র¯Íাব করেন তাকে দৈনিক আজাদী সমর্থন জানায় এবং এর পক্ষে জন্মগত গড়ে তোলার জন্য খবর প্রকাশ করতে থাকে। কিন্তু চট্টগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা নিয়ে বিভিন্ন অঞ্চলের মন্ত্রী ও বিশেষজ্ঞদের মাঝে বাদানুবাদের সৃষ্টি হয়। কিন্তু দৈনিক আজাদী সংবাদ, প্রবন্ধ সম্পাদকীয় উপসম্পাদকীয় এসব প্রকাশের মাধ্যমে চট্টগ্রামেই একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার যৌক্তিকতা বলিষ্ঠভাবে তুলে ধরে। আর অধ্যাপক আহমদ হোসেন ও কবি আলাদীন আলী নূরের তথ্য সমৃদ্ধ একাধিক নিবন্ধও দৈনিক আজাদীতের প্রকাশিত হয়, যার ফলশ্র“তিতে পরে সরকার চট্টগ্রামেই নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি মেনে নেয়। এ কারণে কুমিল্লা ও সিলেটে দৈনিক আজাদী পত্রিকাটি পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানানো হয় এবং পত্রিকা প্রচারে বাঁধাও দেয়া হয়। কিন্তু এসবের পরও দৈনিক আজাদী চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নয়নের ব্যাপারে অতন্ত্র প্রহরীর ভূমিকা পালনে পিছ পা হয় নি।
শুধুমাত্র চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নয় বরং চট্টগ্রামের জন্য আলাদা শিক্ষাবোর্ড প্রতিষ্ঠার সংগ্রামেও দৈনিক আজাদী অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। এসময় দৈনিক আজাদী “চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটি গঠনের মাধ্যমে চট্টগ্রামে পৃথক শিক্ষাবোর্ড প্রতিষ্ঠার সংগ্রামটি পরিচালনা করে। দৈনিক আজাদীর প্রচারনার কারণে শিক্ষা বোর্ড তৈরির দাবিটি জনগণের দাবিতে রূপ নেয়। আর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদও এ দাবি মেনে নেবার প্রতিশ্র“তি দেন। দৈনিক আজাদীর সেই চেষ্টার কারণে ৯০’এর দশকে চট্টগ্রামে পৃথক শিক্ষা বোর্ড প্রতিষ্ঠা পায়।
আজো চট্টগ্রামের শিক্ষার মানোয়ন্ননের দৈনিক আজাদী আলোকাজ্জ্বল ভূমিকা রাখছে। সম্প্রতি এসএসসির রেজাল্টের পড় চট্টগ্রামের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি তার প্রমাণ বহন করে।
ক্স সংস্কৃতি ও সাহিত্যের ক্ষেত্রে ঃ
চট্টগ্রামের সংস্কৃতি ও সাহিত্যের বিকাশে দৈনিক আজাদীর ভূমিকা অপরিসীম। চট্টগ্রামের আজকের খ্যাতনামা কবি সাহিত্যিকদের প্রায় সকলেই দৈনিক আজাদীতে লিখেছেন। অন্নদাশঙ্কর রায়, অধ্যক্ষ যোগেশচন্দ্র সিংহ, ড. অতুল সুর, ড. মনিরুজ্জামান, চৌধুরী জহুরুল হক প্রমুখ জ্ঞানীগণ দৈনিক আজাদীর সাহিত্যের পাতাকে সমৃদ্ধ করতেন। আর “সাহিত্য সাপ্তাহিকী'তে সৃজনশীল লেখকরা বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করার তাদিদেই লেখালেখি করতেন, যাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের অমিতাভ দীলগুপ্ত, সুব্রত বড়–য়া, আল মাহমুদ, খ্যাতনামা কবি হাসান আজিজুল হক সহ অনেকে।
স্বাধীনতার আগে দৈনিক আজাদীতে ‘পর্দা ও মঞ্চ’ নামে একটি ফিচার পাতা ছিল। যেখানে বাংলা ভাষার ও চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষার নাটকের আলোচনা-সমালোচনা প্রকাশিত হতো। তৎকালীন পাকি¯Íানী শাসক কর্তৃক গৃহীত বাংলার প্রতি নিপীড়নমূলক নীতির মাঝেও দৈনিক আজাদী।
বাংলায় সাহিত্য চর্চার সুযোগ বাঙ্গালীদের প্রদান করে। এখনও তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করছে ‘সাহিত্য সাময়িকী’ পাতার মাধ্যমে।
নৈতিক লড়াইয়ে দৈনিক আজাদী ঃ
জন্মলগ্ন থেকেই ‘দৈনিক আজাদী’-র নীতিকথা ছিল জনগণের অভাব অভিযোগকে জনসম্মুখে তুলে ধরা। প্রথম উদ্যোগ হিসেবে দৈনিক আজাদীর পাতায় স্থান পায় ‘চিঠিপত্র’ কলাম। যার মাধ্যমে জনগণের দাবিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষে গোচরে আনার প্রয়াস চালানো হয়। পরে “সিটি কর্পোরেশনের সমীপে কলাম যোগ করার মাধ্যমে নারবাসীর অভাব অভিযোগ মেয়রের নিকট তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়। আর নীতির প্রশ্নে সবচেয়ে আকর্ষণীয় উদ্যোগটি নেয়া হয় “মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সমীপে” কলাম লেখার মাধ্যমে, যার মাধ্যমে নগরীর অপরাধমূলক অভিযোগগুলো প্রকাশিত হয় এবং মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার পত্রাবলির জবাবও দেন। এভাবেই পত্রিকাটি তার নীতি প্রতিষ্ঠায় প্রতিনিয়ত লড়াই করছে।
নিপিড়নমূলক আইনের বিরুদ্ধে লড়াই করে বেঁচে থাকা দৈনিক আজাদী ঃ
১৯৬০ সালের ২২ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান জারি করেন প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স অর্ডিন্যান্স। ফলে দেশে স্বাধীন সংবাদপত্রের প্রকাশ ও বিকাশ সম্পূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। তার পাশাপাশি ব্রিটিশ যুগে জারি করা বিধিবিধান ও পাকি¯Íান পেনাল কোড ও সিআরপিসির কিছু ধারা ও কার্যকর ছিল। এমন প্রতিক’ল পরিবেশেও মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সমস্যাও দুঃখ দুর্ধাশাকে তুলে ধরার জন্য ১৯৬০ এর ৫ সেপ্টম্বর প্রকাশিত হয় দৈনিক আজাদী। এমন দমন-নিপীড়নমূলক আইনের মধ্যেও দৈনিক আজাদী ১৯৬১ সালের ২০ অক্টোবর “এক পাকি¯Íান” শীর্ষক সম্পাদকীয়তে পাকি¯Íানের দুই অংশে মধ্যে বিবাদকে তুলে ধরে যারা পূর্বাঞ্চলের অগ্রগতিকে বাধা দিচ্ছে তাদের দেশদ্রোহী বলে আখ্যায়িত করা হয়। এটি সেকালের পত্রিকাগুলোর নেয়া পদক্ষেপের মধ্যে অন্যতম দুঃসাহসিক পদক্ষেপ।
এছাড়াও ১৯৬১ সালের ২০ ডিসেম্বর প্রকাশিত ‘পিআইডিসি’, ১৯৬২ সালের ২৫ মে প্রকাশিত ‘ব্যয় বরাদ্দ’, ১৯৬২ সালের ২২ জুন প্রকাশিত ‘জাতীয় ঐক্য প্রসঙ্গে’, ১৯৬২ সালের ২৩ জুন প্রকাশিত ‘শ্বেতপত্র’ শীর্ষক সম্পাদকীয়গুলোতে সবসময়ই পশ্চিম পাকি¯Íান কর্তৃক পূর্বপাকি¯Íানকে দমন-নিপীড়নকে ও বৈষম্য ও বঞ্চিত রাখার সমালোচনা করা হয়। পাশাপাশি সবশ্রেণীও দলের মতামতকে তুলে ধরা হতো বলে আজাদীকে বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সংবাদপত্র হিসেবে সকল শ্রেণীর পাঠক গ্রহণ করতো। কিন্তু পাকি¯Íান সরকার বিনা নোটিশে এ সময় দৈনিক আজাদ বন্ধ করে দেয়। কিন্তু প্রবল প্রতাপশালীদের হুংকারে বিচলিত না হয়ে সাম্প্রদায়িকতা ও রূপমুন্ডকতার বিরুদ্ধে মানবতার ও মানুষের মর্যাদা, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের পক্ষে দৈনিক অবস্থান নেয়া দৈনিক আজাদী সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই”- এমন নীতি নিয়ে পুন:রায় প্রকাশিত হয়।
পরে ১৯৬৬ সালের ১৬ জুন প্রাদেশিক গভর্নর আব্দুল মোনায়েম খান যখন দৈনিক ইত্তেফাকের কণ্ঠ রোধ করে তখন পূর্ব পাকি¯Íানের সাংবাদিক ইউনিয়ন কোথাও কোন সংবাদপত্র প্রকাশিত হবে না ঘোষণা দিয়ে ধর্মঘট ডাকে। কিন্তু সরকারের প্রবল চাপে সীমিত আকারে সংবাদপত্র প্রকাশিত হলেও চট্টগ্রামের দৈনিক আজাদী সরকারের ইচ্ছা পূরণে এগিয়ে আসে নি। যার কারণে সরকার পুরো একটি বছর এই পত্রিকাকে কালো তালিকাভূক্ত করে রাখে। এছাড়া বাকশাল এর সময়ে এই পত্রিকাটি কিছুকাল তার প্রকাশনা বন্ধ রাখে । তবে প্রেসিডেন্ট এরশাদেও সময়ে পত্রিকাটির উপর রাজনৈতিক প্রভাব থাকায় তা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে বাধাগ্রস্থ হয় । এর বাইওে প্রত্রিকাটি তেমন কোন আইনি বাঁধার সমানে নীরব হয়ে যায় নি ।
প্রযুক্তির লড়াইয়ে দৈনিক আজাদী ঃ
দীর্ঘ ৫১ বছরের জীবনকালে দৈনিক আজাদী মুদ্রন শিল্পের অগ্রগতির সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলেছে। প্রথমে ক্রাউন সাইজ পরে ডিমাই সাইজ পাশাপাশি ফাউন্ড্রি টাইপ থেকে মনোটাইপ ও লাইনোটাইবেপর হাত ধরে ৯০ এর দশকে আধুনিক প্রযুক্তির ফটোকম্পোজ ও কম্পিউটার ব্যবহার শুরু হয়। তবে ৯০ এর দশকে পত্রিকার নিজস্ব ফটো প্রসেসিং ব্যবস্থা না থাকায় তখন কালেভদ্রে দু’একটি প্রসেস ব্লক তৈরি করে এনে পত্রিকায় ছাপানো হতো। তবে পরবর্তীতে এই ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটলে সব গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ নিজস্ব প্রসেসিং ব্যবস্থায় ছবিসহ অফসেট রোটারি মেশিনে ছাপা হয়ে প্রকাশ হয়।
তবে বাংলাদেশের আঞ্চলিক সংবাদপত্র গুলোর মধ্যে ‘দৈনিক আজাদী’-ই প্রথম কম্পিউটার কম্পোজ করে ‘মডেম’ এর মাধ্যমে ঢাকা-চট্টগ্রামের মধ্যে সংবাদ আদান-প্রদানের ব্যবস্থা করে। এমনকি চট্টগ্রাম জেলার প্রতিটি থানা শহরের সংবাদদাতাদের সাথে ফ্যাক্সে খবর আদান-প্রদান শুরু করে। তাই যখন অন্যান্য পত্রিকাগুলোতে কোন ঘটনা ঘটার পর দু-একদিন পর পত্রিকায় প্রকাশিত হতো যেকোন দৈনিক আজাদীতে দিনের খবর দিনেই প্রকাশিত হয়। ফলে পত্রিকাটির গ্রহণযোগ্যতা চট্টগ্রাম বাসীর কাছে আরও বেড়ে যায়।
আর বর্তমানে দৈনিক আজাদীর অনলাইন সংস্করণ ও প্রতিদিন ইন্টারনেটে প্রকাশিত হয়েছে িি.িফধরহরশধুধফর.পড়স এই ঠিকানায় প্রতিদিন পৃথিবীর যে কেউ আজাদী পত্রিকার পাঠক হতে পারেন। তবে এখনো পত্রিকাটি তথ্য সরবরাহ ব্যবস্থা তেমন উন্নত হয়নি। কিন্তু এই পত্রিকার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আশার বাণী শুনিয়েছেন যে পত্রিকাটি এ বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন, তাই তাদের একটি ফেইসবুক গ্র“প এমনকি ই-মেইল অ্যাড্রেস তাদের ওয়েব সাইটে বলা আছে।
এভাবে প্রযুক্তির ক্রমাগত উন্নয়নের সাথে তাল মিলিয়ে অগ্রসর হওয়ার কারনে অর্ধ শতাব্দী ধরে টিকে আছে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক পত্রিকা ‘দৈনিক আজাদী’।
দৈনিক আজাদীর অর্থনৈতিক লড়াই ঃ
বর্তমানে দৈনিক আজাদী চট্টগ্রামের একটি বহুল প্রচলিত পত্রিকা। তাই এখন আর তেমন কোন আর্থিক সংকটে পড়তে হয় না। তবে শুরু আর্থিক সংকটের মধ্যে প্রতিনিয়ত লড়াই করে আবদুল খালেক ইঞ্জিনিয়ার পত্রিকাটি প্রতিনিয়ত প্রকাশিত করেন। তখন সিনিয়র সাংবাদিকদের বেতন ছিল মাত্র ১০ টাকা। আর পত্রিকায় কোন সরকারি বিজ্ঞাপন ছিল না ফলে যারা কাজ করতে আসতেন তারা দু’মাস কিংবা ৩ মাস চলে যেতেন ফলে প্রতিনিয়ত পত্রিকাটিতে সাংবাদিক সংকট থাকতো। এছাড়া অন্য বিভাগের কর্মচারীদের সংকটও বিদ্যমান ছিলো, পত্রিকাটিতে একজন মাত্র মেশিনম্যান ছিলেন যার নাম ছিল আবদুর রহমান। সেই মেশিনম্যানকে প্রতিনিয়ত সহায়তা করতেন সম্পাদক নিজেই। এভাবে আর্থিক সংকট মোকাবিলা করার চেষ্টা করেছে পত্রিকাটি।
এছাড়াও পত্রিকাটি স্বচ্ছল ছিল না বিধায় হকার নিয়োগ করে পত্রিকা বিক্রিও সম্ভব ছিলো না। তখন আব্দুল খালেক ইঞ্চিনিয়ার প্রতিদিন আন্দরকিল্লা জামে মসজিদের সামনে থেকে কিছু ফকিরকে ১০ কপি করে পত্রিকা দিয়ে তা বিক্রি করতে বলতেন আর পত্রিকা বিক্রির টাকাগুলো তাদের হাতে দিতে। এভাবে পত্রিকাটি নিজস্ব সংকটকে মূল্যায়ন না করে কিছু বেকার অসহায় ব্যক্তির কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেন। সেই সময়ের পত্রিকায় নিয়োজিত কর্মচারী-কর্মকর্তাদের সেই ত্যাগই আজকের জনপ্রিয় “দৈনিক আজাদী”- পত্রিকাটির সাফল্যের মূল কারণ।
বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দৈনিক আজাদীর অবস্থা ঃ
যদিও দৈনিক আজাদী কোন জাতীয় পত্রিকা নয় একটি আঞ্চলিক পত্রিকা। কিছু ২০০৬-২০০৮ দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকাকালীন পত্রিকাটির উপর অদৃশ্য চাপ ছিল। সরকারের বিপক্ষে যায় এমন কোন সংবাদ পত্রিকাটি প্রকাশ করতো না। তবে কোন আইনি চাপ কিংবা মামলায় পত্রিকাটি জড়ায়নি, কিন্তু সেনা শাসন ও এর দুর্বলতা নিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করতে গেলে এ পত্রিকার একজন প্রতিবেদক শুক্লাল দাসকে চট্টগ্রামের এম এ আজিজ সেনাক্যাম্পে নিয়ে মৌখিকভাবে সাবধান করা হয়। পরে সেই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি প্রকাশে থেকে পত্রিকাটি বিরত থাকে। পত্রিকার অস্তিত্ব ও সাংবাদিকের নিরাপত্তার তাগিদে দৈনিক আজাদী এরপর থেকে সচেতনভাবে ভূমিকা রাখে। ফলে আর কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেনি।
উপসংহার ঃ
আমাদের দেশের জাতীয় সংবাদপত্রগুলোর সবগুলোই ঢাকা কেন্দ্রীক। এই পত্রিকাগুলোতে বিশেষত স্থানীয় ইস্যুগুলো রূপায়ন তেমন দেখা যায় না। আর এই স্থানীয় বিষয়াবলীর রূপায়নের জন্যই আঞ্চলিক পত্রিকাগুলোর আবির্ভাব। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ঘটনাবলীর রূপায়নের জন্য ‘দৈনিক আজাদী’-র আবির্ভাব ঘটে ১৯৬০ এর দশকে। জন্মলগ্নে দেশের স্বাধীনতার স্বপক্ষে পাকি¯Íানী শোষণ-নিপীড়ন নীতির সাথে লড়াই পরে স্বৈরশাসকের দমননীতির বিপক্ষে লড়াই করে এখনো পত্রিকাটি চট্টগ্রামের সাধারণ জনগণের প্রতিদিনের কণ্ঠস্বর হয়ে তার প্রচারণা কার্য অব্যাহত রেখেছে। এখানেই ‘দৈনিক আজাদী’-র স্বার্থকতা, কারণ হাজারো সমস্যার সাথে লড়াই করে পত্রিকাটির বয়স পঞ্চাশ পেরিয়েছি; আর সময়ের সাথে সাথে হয়ে ওঠেছে আরও যুক্তিবাদী আর জনপ্রিয় পাশাপাশি চট্টগ্রামের ইতিহাসের এক নীরব স্বাক্ষী।
©somewhere in net ltd.
১|
২৯ শে জুলাই, ২০১১ বিকাল ৪:৪২
মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন: বেঁচে থাকুক আজাদী।