নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

যে জল জ্বালায় আলো

যে আমি লেখার জন্য জ্বালায় প্রদীপ, তেল ফেলে ঐ জলে।

েমাঃ আব্দুর রউফ

I am a man who want to make you happy.

েমাঃ আব্দুর রউফ › বিস্তারিত পোস্টঃ

লাইভ টেলিকাষ্ট না কি লাইভ বিবেক বর্জন

২৭ শে মে, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:০৪

জানি না ক’জন The Condemned মুভিটা দেখেছেন । গতকাল বিবিস এর পাতায় বৌদ্ধ ভিক্ষুকের নিজ গায়ে আগুন জ্বেলে আত্মহুতির খরবটি পড়ে এই মুভিটির কথা মনে পড়ে গেল। ২০০৭ সালের আমেরিকান এই একশন মুভিটি তখনই আমাকে খুব বেদনাহত করেছিল। Scott Wiper কে ধন্যবাদ তার চমৎকার লেখা ও পরিচালনার জন্য। আধুনিক সভ্যতা ও মিডিয়ার দুনিয়ায় লাইভ অনুষ্ঠান দেখানো এক মস্তবড় কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে । কতটা মানুকে বিনোদন দেওয়ার জন্য, কতটা সত্য ঘটনা বলার জন্য কিংবা কতটা বস্তুনিষ্ঠর জন্য তা বড় কথা নয় বড় কথা হচ্ছে এক্সক্লুসিভ করা, টিআরপি বড়ানো। মানবতা,বিবেকবোধ শব্দটি সেখানে অতি অনর্থক। The Condemned মুভিতে কয়েকজন কয়েদিদের পায়ে বোমা সেট করে একটা দ্বীপে ছেড়ে দেওয়া হয় ৪০ ঘন্টা সময় বেঁধে দিয়ে।এই সময়ের ভেতরে এক জন আর একজন কে মেরে টিকে থাকতে হ্বে। অবশেষে যে কিটে যাবে তাকে মুক্তিদেওয়া হবে। পুবো দ্বীপজুড়ে ক্যমেরা সেট করে লাইভ দেখনো হবে একজন মানুষ আর একজন মানুষকে কিভাবে , কত নিষ্ঠুরভবে মেরে নিজে বেঁচে থাকার চেষ্টা করে। হাজার হাজার মনুষ ইন্টারনেটে এটার লাইভ দেখছে আর প্রোডিউসাররা এর রেটিং করছে। ক্রিকেট খেলা দেখার সময় একটা উইকেট পড়ে গেলে যেমন হর্ষধ্বনি ও চিৎকারে গ্যলারী ফেটে পড়ে তেমনি একজন মানুষ যখন মারা যাচ্ছে তখন আনন্দ চিৎকারে গগণ বিদীর্ণ হচ্ছে। সিনেমার এই মর্মান্তিক দৃশ্যই আমাকে খুব নাড়া দিয়েছিল। শেষ পযন্ত মনে হয়েছিল সিনেমা ত সিনেমাই। কিন্তু সিনেমা যে বাস্তবেই হয় এবং তা বাংলাদেশ ও তার আশেপাশের দেশগুলোতেও হয় হচ্ছে কিংবা হতে পারে তা মাথায় আসেনি। এই সিনেমার দৃশ্যপট গুলো আমারা বাস্তবে দেখলাম যখন বিশ্বজিৎকে রড, চাপাতি, কুড়াল দিয়ে কুপানোর সময় এর এক্সক্লুসিভ ছবি আর লাইভ করে কতটা টিআরপি বাড়ানো যায় তার প্রতিযোগীতা দেখে- রানা প্লাজার ধ্বংসস্তুপ থেকে বের করে আনা অর্ধমৃত মানুষগুলো উপরে ক্যামেরার ফোকস আর মুখের ভেতর একফোটা জলের পরিবর্তে মাউথস্পিস ঠেলে দিয়ে তার অনুভূতি কি তা জানতে চাওয়া দেখে। এমনি অনেক উদাহরন শেষে গতকালের বিবিসি তে পড়লাম শ্রীলঙ্কার এক বৌদ্ধ

ভিক্ষুক পশু জবাই করার প্রতিবাদে নিজ গায়ে আগুন জ্বেলে আত্মহুতি দিয়েছে এবং তার এই সিদ্ধান্তের কথা আগেই একটি প্রাইভেট টিভি চ্যানেলকে জানায়। সেই টিভি চ্যানেল মানুষটি বাঁচানোর চেষ্টার পরিবর্তে লাইভ এবং এক্সকøুসিভ করাকেই প্রাধান্য দেয়। অবশেষে হাসপাতালে ভিক্ষুকটি মারা যায়। ধিক ধিক শত ধিক এই সব সাংবাদিক , মিডিয়া ও টিভি চ্যানেলকে, যাদেও কাছে মানবতার চেয়ে অর্থ, পেশাদারিত্ব ও সুনাম ই বড় হয়ে দাঁড়ায়। আমার শুধু মনে হয় ঐ সমস্ত লোকগুলো কথা যারা ক্যামেরা পেছনে চোখ দিয়ে এই সমস্ত বিভষ্য চিত্র গুলো দেখে তাদের স্বপ্নে কি ঐ সমস্ত দৃশ্য এক বারের তরেও ভেসে উঠেনা; তাদের কি একবারের তরেও মনে হয় না একটু চেষ্টা করলে আমি হয়ত একজনকে বাঁচাতে পারতাম; নাকি তাদের ঘুম তাদের মনের মতই কালো যেখানে কোন স্বপ্নই দেখা সম্ভব না।

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ২৮ শে মে, ২০১৩ রাত ১:০৪

ল্যাটিচুড বলেছেন: তাদের ঘুম তাদের মনের মতই কালো

২| ২৮ শে মে, ২০১৩ সকাল ১১:১৭

েমাঃ আব্দুর রউফ বলেছেন: Thank you.ল্যাটিচুড

৩| ২৮ শে মে, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:৫৯

উচ্ছল বলেছেন: রউফ ভাই, লেখাটা ভাল লেগেছে।
ভাল আছেন আপনি?

৪| ২৯ শে মে, ২০১৩ দুপুর ১:০৬

েমাঃ আব্দুর রউফ বলেছেন: উচ্ছল ভাই অনেক অনেক ভাল লাগল আপনার মন্তব্যে। আলহামদুল্লাহ ভাল আছি। আপনার সুস্বাস্থ্য কামনা করি।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.