নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আপাতত নস্টালজিক

আমার এ ঘর ভাঙ্গিয়াছে যেবা, আমি বাঁধি তার ঘর

পি কা চু

লেখার সপ্নে বিভোর এক নাদান পাঠক

পি কা চু › বিস্তারিত পোস্টঃ

হাদী ভাই দি গ্রেট!!

২৩ শে জুন, ২০১৩ সকাল ১০:৩৩



হাদী ভাই, আমি, আর ইদ্রিস চায়ের দোকানে বসা , কিছুক্ষন পরই হাদী ভাই তার গুরু গম্ভীর আলোচনা শুরু করবেন।

উনি যখন তখন আলোচনা করেন না, শুধু মাত্র পেটে খাবার পরলেই করেন আজকের আলোচনাটা গম্বীর হবে বলে

মনে হচ্ছে কারন তিনি এর মধ্য গোটা পাচেক ডাল পুরি আর আধা ডজন সিংগারা হজম করে ফেলেছেন, একটা ঢেকুর

তুলে হাদী ভাই তার আলোচনা শুরু করলেন



-বুঝলি সবুজ !!! পৃথিবীর সবচাইতে গুরুত্ব পূর্ণ আবিস্কার গুলো কিভাবে হয়েছে????



-কিভাবে হাদী ভাই????



-খাবার থেকে!!



-বুঝলাম না হাদী ভাই, খাবারের সাথে আবিস্কারের সম্পর্ক কি????



-আমি জানতাম তুই বুঝবি না, ইদ্রিস বুঝেছিস???



-হ ভাই এক্কেরে পাক্কা বুঝছি!!!!



-কচু বুঝেছিস!!!! (মনে মনে বললাম আমি)



-হুম!!! আমি জানতাম ইদ্রিস তুই বুঝবি!!! ওর মাথায় তো সব গোবর( আমার দিকে মাছি তাড়ানোর মত হাত নাড়িয়ে

বললেন হাদী ভাই)



-হাদী ভাই তুমি না বুঝালে আমি কি কখনো বুঝি!!!!! (পাম্পটা মেরে দিলাম চান্সে)



-আমি জানতাম, সে জন্যই তো তোকে পাশে পাশে রাখি যাতে তোকে সব শিখাতে পারি!!!



-ভাই আমি??? ( ইদ্রিসের দরদ চাগিয়ে উঠল এই সময়)



-তুই তো হাদী ভাইয়ের খবারে ভাগ বসাতে থাকিস!!!!!!!!! ( বুঝেছি বলার প্রতিশোধটা নিয়ে নিলাম চামে)



-আহ!!!!সবুজ!!!!!! সব সময় সত্য বলতে নেই( আদুরে গলায় আমাকে ধমক লাগালেন হাদী ভাই)



-আমি তাইলে যাই ভাই!!!!! (ইদ্রিসটা বরাবরি ইমোশনাল ড্রামা করার উস্তাদ!!!!!)



-বস!!!!!!!!!!!!!( হটাত গর্জে উঠল হাদী ভাই, সুরসুর করে বসে পড়ল ইদ্রিস)



-হাদী ভাই বাদ দাও এসব তোমার আবিস্কারের পেছনের যুক্তিটা বল!!!



-হুমম!!! যা বলছিলাম, ধর তুই কিছু আবিস্কার করতে চাস কিন্তু তোর পেটে কোন খাবার নেই

তাহলে দেখবি তোর আবিস্কারের নেশা ছুটে গেছে খাবারের জন্য



যুক্তি টা দিয়ে চোখ চকচক করছিল হাদী ভাইয়ের আমার ভ্রম হল বুঝি অকাট্য যুক্তি বলেই চোখ চকচক করছে হাদি ভাইয়ের কিন্তু উনার চোখের রেখা সোজাসুজি জিলাপী তৈরি করতে দেখে আমার ভ্রম ভেঙ্গে গেল!!!!



-ইদ্রিস যা জিলাপী নিয়ে আয়!!!!



-কয়টা????



-হারামজাদা!!! আমি হিসাব করে খাই নাকি যে কয়টা আনবি বলব!!!!



-না ভাই, আমার কাছে ট্যাকা কম তো!!!!



- কিপটা!!!!!! সবুজ তোর কাছে টাকা আছে???



-আছে ভাই!! তবে কম!!!



-সমস্যা নাই!!! কম কম যোগ হয়ে বেশি হয়ে যাবে টাকাটা ইদ্রিসকে দে!!!!



সাধের টাকা গুলো পকেট থেকে বের হতে আমার আরা ইদ্রিসের দুজনেরই মন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাচ্ছে!!!..................



দুই।



হাদী ভাইয়ের বাসায় আমি আর ইদ্রিস আসছি উদ্দেশ্য হাদী ভাইয়ের বউ দেখতে যাওয়া। হাদী ভাই নাকি

মুরুব্বি নিয়ে বউ দেখতে যাবেনা তাতে উনাকে বয়স্ক লাগতে পারে তাই আমাকে আর ইদ্রিসকে নেওয়া।

ইদ্রিস প্রথমে আসতে চাইনি কিন্তু যখন শুনল আজকেই এঙ্গেজমেন্ট হয়ে যেতে পারে ভেবে মেয়ে পক্ষ ভাল

খাবার দাবারের ব্যাবস্থা করেছে তা শুনেই ইদ্রিসের আসা হাদী ভাই তার বিখ্যাত টিয়া কালার শার্ট টা পরে বের হয়েছে

ওটাকে তিনি কোন স্পেশাল অকেশনে পরেন শার্ট টার একটা শানে নজুল আছে কোন এক সময় নাকি শার্ট টা পরে

হাটার সময় কোন এক সুন্দরী তাকে দেখে মুচকি হাসি দিয়েছিল। সুন্দরি টির বর্ণনা হাদী ভাই এতবার এত ভাবে দিয়েছিল

মাঝে মাঝে অবাক হয়ে ভাবতাম সুন্দরী একটা ছিল না কয়েকটা!!! সেই সুন্দরির নাক চোখের বর্ণনা মিলাতে গিয়ে

হ-য-ব-র-ল অবস্থা হতো, আচমকা হাদী ভাইয়ের গলা শুনে ধ্যান ভাংগল!!!



-ইদ্রিস, কেমন লাগে বল???? গাধাটার কাছে জিজ্ঞেস করব না উলটাপালটা বলে মেজাজ বিগড়ে দেবে!!!



গতবার মেয়ে দেখার আগে আমাদের কাছে এই শার্ট পরে আমাদের কাছে গিয়েছিল, আমি বলেছিলাম মেয়ে এই

শার্ট দেখে ঢিলাবে!!!! আমাকে তাড়া করেছিল সেদিন হাদী ভাই পরে নাকি সত্যি সত্যি মেয়ে হাদী ভাইকে যা তা বলে

অপমান করে তাকে!! যত দোষ নন্দ ঘোষ টাইপ সব দোষ আমার কাঁধে চাপিয়ে দিয়েছিলেন হাদী ভাই, সেবার প্রায়

পনেরে দিন হাদী ভাইয়ের আশপাশে ভিড়তে পারিনি শেষে বিরিয়ানী খাইয়ে রফা করি। পেট ভরে বিরিয়ানী খাওয়ার

পরে হাদী ভাই ঢেকুর তুলে বলেছিলেন............।



-তোর সাথে রাগ অনেক আগেই পানি হয়ে গিয়েছিলরে!!!! জাস্ট বিরিয়ানীটা খেতে নাটকটা করেছিলাম



আমি একটা তেলতেলে হাসি দিয়েছিলাম.......................................।



-চখের লাহান লাগে ভাই!!!! পুরাই হিরো।



-কপালে দুঃখ আছে আজও (মনে মনে বললাম আমি)



-তুই কি ভাবছিস!!!! গতবারের মত বাজে চিন্তা করলে এবার ঠ্যাং ভাংগা হবে



-না না আমি ভাবছিলাম আজকে ভাল ভাল খাবার খেতে পারব(সত্যি বলে ঠ্যাং কে খোয়াবে?)



-তুই ?????খাবার??? হা হা হা হা তোকে নিয়ে দাওয়াতে যাওয়া বেকার। মুরগির ঠ্যাং চিবুতে চিবুতে দিন

পার করে দিবি!!!!



-হ ভাই!!! এক্কেরে উচিত কথা কইসেন!!!! হেতে এক্কেরে শুটকি মাছ কি এম্নেই অইছে?????



-তার পরেও তোর মত রাক্ষ..................(পুরো কথাটা শেষ করতে পারলাম না হাদী ভাইয়ের ধমক খেয়ে চুপ মেরে গেলাম)



-খামোশ!!!!!!!!!!!!!!!! খাবার খাওয়া হল একটা আর্ট !!!! যে কেউ পারে না বুঝলি!!!! বিশেষ করে

তোর মত যাদের মাথায় গোবর আছে তারা কখনোই পারবেনা!!!



-হুম আর্ট ????? (মনে মনে মুখ ভেংচিয়ে বললাম)



-ওরে বুঝাইয়া লাভ নাই ভাইজান!!! গোবর মাথায় কিছু ঢুকব না!!!!(সকালের প্রতিশোধটা ভাল ভাবেই নিল ইদ্রিস!!!!)



-আহ!!!!!! ভ্যাজর ভ্যাজর করিস নাতো!!!!! শুভ কাজে এসব ভাল্লাগে না চল বেড়োয়............



-চলেন!!!!!!!



অগ্যতা হাটা দিলাম ইদ্রিসটা আজ বেশ ভুগিয়েছে, পরে শোধ করা হবে..........................................



তিন।



হাদী ভাইদের এলিয়ন টা নিয়ে মেয়ে দেখতে যাচ্ছি , পিছনের সিটে দাত মুখ কিচিয়ে বসে আছি, হাদী ভাই ড্রাইভিং করছেন

আর পাশে ইদ্রিস বসা ,আমাকে সামনে বসতে দেওয়া হয়নি আমি নাকি কারের সাউন্ড সিস্টেম নস্ট করে ফেলব ঘুম আসা গান বাজিয়ে,হাদী ভাইয়ের আবার রবীন্দ্র সংগীত পছন্দ না উনি তার প্রিয় শিল্পীর গান বড় করে বাজাচ্ছেন সাউন্ড এর জন্য কথা বলা যাচ্ছেনা তার মধ্য শিল্পীর গলাটা নাকি গলা



"তেরা পিয়ার পিয়ার পিয়ার

হোক্কা মার মার মার

তেরা পিয়ার পিয়ার পিয়ার

হোক্কা মার.................."



পিয়ার কিভাবে হোক্কা মারে চিন্তাটা আমাকে পেয়ে বসল। হয়তবা শিল্পির বন্ধু যার সাথে পিয়ার করত থাকে হোক্কা মেরে দিতে বলতেসে, নিশ্চয় তার বন্ধু বেচারা ব্যপক কস্ট পেয়েছে নাহলে হুক্কা ছুড়ে মারার চিন্তা করত না, বেচারার জন্য আফশোশ!!!



-এই তোর ভাবির জন্য কবিতা লিখেছিস?????



হাদী ভাই আবার কবিতার বিশেষ ভক্ত, কবিতাও লেখেন মাঝে মাঝে!! এইতো সেদিন একটা একটা কবিতা লিখেছেন উনি সেটার অনেক প্রশংসা করলেন!!!! কবিতাটা এরকম,



"ঝাল ঝাল ভাত

আহ!! কি স্বাদ!!!

খেয়ে মজা পায়!!"



আমাকে দেখাতে এনেছিল, আমি মনে মনে আরো দুইটা লাইন যোগ করলাম



"টয়লেটে যাই!!!

ভীষন কস্ট পাই!!!!"



-লিখছি হাদী ভাই!!! (মনে মনে বলছি, তোমার বউ আর লিখি আমি????)



অনেক চিন্তা করে দুইটা লাইন খুজে পেলাম, সেগুলো লিখে ইদ্রিস কে দেখালাম, হাদী ভাই ইদ্রিস কে কবিতা পড়ার ভার দিয়েছেন



"তুমি আমার আকাশ নীল

আমি সেই আকাশের গাংচিল"



হাদী ভাই গাড়ী স্লো করে আমার দিকে পিছন ফিরে চাইলেন, সেরেছে রে!!! এখন না আবার রাস্তায় নামিয়ে দেই তাহলে আবার হেটে হেটে বাড়ি যেতে হবে,



-তোকে না অনেকবার বলেছি এই ঘোড়ার ডিম মার্কা লেখা না লিখতে!!!! আরেকটা লেখ!!!



ঠান্ডা এসিতে ও ঘাম বেরুল আমার!!!



_হাদী ভাই আরেকটা মাথায় আসছে!!



সাউন্ড কমিয়ে দিল হাদী ভাই



-মুখে বল, লিখে খাতা বরবাদ করার কোন মানে নেই!!!



-আচ্ছা!!!



"আমি তেলে ভাজা ডিম

তুমি ডিশ ওয়াশিং ভিম



তুমি চিকেন স্যুপ

আমি জিলাপী ডুব ডুব"



হাদী ভাই আমার দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে আছেন!!! এবার কি হয় আল্লাহ মালুম!!!



-এই কারনে!!!! ঠিক এই কারনে তোকে আমার পাশে পাশে রাখি!!

ইদ্রিস তুই বের হয়ে পিছনে বসে গান চেঞ্জ কর, সবুজ এখানে বসুক!!!!



আচমকা ডিমোশনে ইদ্রিস তার ইমোশনাল ড্রামার ক্ষমতা হারাল । আমি খুশি মনে পাশে গিয়ে বসলাম...............

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.