নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

তোমার আর আমার দূরত্ব রাস্তার এপার ওপার।তুমি দাড়িয়ে আছো আমার আশায়আমি অপেক্ষায় আছি যাবো কখন!waiting for a loyal heart!

মেঘ প্রিয় বালক

একটা কৃষ্ণচূড়া গাছ। শুষ্ক অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে কৃষ্ণচূড়ার পাতা ঝরে গেলেও, নাতিষীতোষ্ণ অঞ্চলে এটি চিরসবুজ।

মেঘ প্রিয় বালক › বিস্তারিত পোস্টঃ

দেশ বনাম দূর পরবাস যোগ-বিয়োগের অংক।

২০ শে মে, ২০১৯ রাত ৮:৪৬


একজন প্রবাসীর জীবন।
প্রিয় পাঠক, ধৈর্য্য নিয়ে পড়বেন। আজ কোন ছন্দেভরা কবিতা,চিরকুট বা দৃশ্যপট লিখবোনা,আজ লিখবো একজন প্রবাসীর জীবন গল্প।
এ বিষয়ে লিখার ইচ্ছে ছিলোনা, তবুও লিখতে হলো বাধ্য হয়ে।
( ১) ইদানিং প্রবাসীদেরকে নিয়ে পত্রিকার পাতায়,ইন্টারনেট গণমাধ্যম ফেসবুক,ব্লগে, টিভি, চ্যানেলের নিউজে বলাবলি লিখালিখি হয়। আবার সে সব পোষ্টে বা ভিডিও পোষ্টে কিছু মানুষ প্রবাসীদের নানারকম কটু কথা বলে,তোরা কেন বিদেশ যাস,তোদের হৃদয়ে দেশের জন্য মায়া নেই ইত্যাদি । এইতো কিছুদিন আগের ঘটনা, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্মরতএকজন পুলিশ প্রবাসীকে কামলা বলে গালি দিয়েছিলো,আবার অন্য জায়গায় কিছু শিক্ষিত মেয়েরা বলতেছে, প্রবাসীদের বিয়ে করাই উচিৎ না। কয়েকদিন আগের ঘটনা ছাগলনাইয়ার ওসি মোর্শেদ ওনি তো স্কুলে গিয়েই বক্তব্য দিয়ে আসছেন প্রবাসীদের বিয়ে করা যাবেনা।
প্রবাসীর ফ্যামিলিতে নাকি নারী গৃহবধূকে নির্যাতন করা হয়।
কত সহজ করে এরা আমাদেরকে সমাজের সামনে কটু কথার মালা পড়িয়ে উপস্হাপন করলো ভাবা যায়?
আবার এরাই কিন্তু কিছুদিন পর তাদের বক্তব্য প্রত্যাহার করে জাতি ও প্রবাসীদের কাছ থেকে ক্ষমা চেয়েছিলো।
অথচ তাদের এতটুকুও বোধগম্য নেই যে দশ পাঁচজন মানুষের সামনে কিভাবে কথা বলতে হয়।
এরাই আবার সমাজে সুশীল বলে পরিচয় দেয়।
এখন আসেন আমার জীবনের গল্পে।
আমি বাংলাদেশ থেকে শুরু করতে চাই।
আমি একজন মিডেল ক্লাস ফ্যামিলির সন্তান। যারা পৃথিবীর বুকে বেঁচে থাকার জন্য প্রতিনিয়ত স্টাগল করে অর্থের জন্য।আমার পরিবারে যারা আছেন তারা হলেন আমার মা-বাবা, একজন বড় ভাই ওমান প্রবাসী, আমি ও আমার ভাতিজা। মোট ৫ জনের একটি সংসার। ভাইয়া ইচ্ছাকৃত পড়ালেখা ছেড়ে দিয়েছিলেন,পড়ালেখার দৌড়ে বলতে গেলে ওনাকে আমরা সঠিক বাংলা ভাষায় বলতে পারি এক ক্লাস কম মেট্রিক পাশ।
বড় ভাই আমার, এক ক্লাস কম মেট্রিক পাশ হয়ে তো আর কোন ব্যাংক বা আদালত তাকে চাকরী দিবেনা। কারণ বাংলাদেশে চাকরী হলো সোনার হরিন।
শেষমেষ উপায় না পেয়ে ভাই আমার গামেন্টসে নিন্ম বেতনের চাকরী নিলো,আলহামদুলিল্লাহ ভালোই চলছে জীবন,বাবার ব্যবসাও ভালো যাচ্ছে,ভাইয়াও এখন রোজগার করছে। আমার পড়ালেখার সাথে ভাতিজার পড়ালেখাও চলছে নির-বিচ্ছিন্ন গতিতে। সমস্যাটা তখন হলো যখন বাবার ট্রান্সপোর্ট ব্যবসা অচল হয়ে পড়লো। ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায় এখন আর গার্মেন্টেস পার্টিরা তাদের সাথে যোগাযোগ করছে না,কারণ গার্মেন্টেস কতৃপক্ষরা এখন তাদের নিজস্ব জাহাজ এবং নিজস্ব গাড়ী দিয়ে তৈরিকৃত পোশাক ট্রাসপোর্ট করে। এখন পুরো সংসারের দায়িত্ব ভাইয়ের উপর,ভাই তার সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যতটুকু পারছে আমাদেরকে চালিয়ে নিচ্ছেন,কিন্তু তার চাকরীটাও বেশিদিন টিকলো না,বিভিন্ন জায়গায় চাকরীর তালাশের তালাশি আমার ভাই চাকরী পেলেও চাকরীর বেতন অনেক কম।
উপায়ন্তর না পেয়ে ভাই আমার সংসারের আর্থিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার জন্য এদিক সেদিক ধারদেনা করে বৈধ পথে ওমান পাড়ি জমান। এদিকে আমি এস,এস,সি পরীক্ষা শেষ করলাম গ্রেড নাম্বার ৪.৮৮ পেয়ে। টংগী সরকারী কলেজে ভর্তি হয়ে গেলাম,আর উওরায় La bamba নামক রেষ্টুরেন্টে এক বন্ধুর সাহায্যে সহকারী শেফ বা বাবুচীর চাকরী নিলাম,সকালে কলেজে ক্লাস করি, আর বিকেল বেলায় বাবুর্চীর কাজ রাত ১১ টা পর্যন্ত।
আবার দিন ভালোই কাটছে আমাদের।
এখন আমরা দুই ভাই রোজগার করি। ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা শেষ করলাম মানবিক শাখা হতে গ্রেড নাম্বার ৩.৭৫ পেয়ে।

( ২ ) ভাই ওমানে পাড়ি জমানোর ২ বছর পর দূর পরবাস থেকে জানতে পারলাম ভাইয়ার পরবাস জীবন ভালো যাচ্ছে না,ওমানে থাকার বৈধতার উপর কর বৃদ্ধি করেছে সে দেশের সরকার,আগের মতন তেমন কাজ নেই,অর্থনৌতিক মন্দা চলছে। মাসে ১০ হাজার ঘর ভাড়া বাবদ, সাংসারিক খরচ,ভাতিজার পড়ালেখার খরচ, বাবার শ্বাস কষ্টের চিকিৎসা প্রতি মাসে ৩/৪ হাজার টাকার ঔষুধ ইত্যাদি মিলিয়ে আবার টানাহেঁচড়ায় পড়ে গেলাম আমরা।
আমার যে টাকার চাকরী তা দিয়ে আর হচ্ছে না।
এখন পরিস্হিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে আমি আর সামনে পড়তে পারছি না,ইন্টারের পরেই আমাকে থামতে হলো, লেখা পড়ার সুন্দর পৃথিবী থেকে ছিটকে পড়লাম,ভাইয়া অবশ্য বলেছে সামনে পড়তে,কিন্তু এ মুহুর্তে আর সবচেয়ে জরুরি হলো ফ্যামিলিকে সার্পোট দেওয়া। কারন আমি হলাম একটি মিডেল ক্লাস পরিবারের সন্তান, যাকে স্টাগল করতে হবে।
প্রথমত চাকরী জন্য আবেদনপত্র জমা দিলাম কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে,
আড়ং শপিং শপ,মিনা বাজার,আগোরা শপিং শপ,শ্যামলী পরিবহন,ওয়ারিদ ভয়েস টেলিকম সেন্টার। আড়ং, মিনা বাজার,আগোরা তে চাকরীর বেতন ৪ হাজার কি ৫ হাজার,যা দিয়ে চলছেনা।
শ্যামলী পরিবহনে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দিয়েও চাকরীটা পেলাম না। কারন আমার C V তে আমি ৬ টি ভাষায় কথা বলতে পারা,আর ৫ টি ভাষা বলতে পড়তে লিখতেও পারার এমন মেধা বিদ্ধমান ছিলো বলে তারা আমায় জঙ্গি সন্দেহ করে চাকরীটা দিলো না।
এয়ারটেল টেলিকম সেন্টারে সুযোগ পেলাম অ্যাকাউন্টিং ম্যানেজার পদে,বেতন ৬ হাজার, টার্গেট ফিল আপ করতে পারলে মাসে ৮/৯ হাজার পড়বে।
জয়েন দিলাম। চাকরী করে যা বেতন পাচ্ছি তা দিয়ে কোনরকম চলছে আমাদের সংসার।
কিছুদিন পর ওয়ারিদ বিক্রি হয়ে গেলে এয়ারটেলের কাছে,কর্মস্হলের প্রধান আমলা আমায় বললো শাহাদাত আমাদের কোম্পানী বিক্রি হয়ে গেছে এয়ারটেল নামক ভারতীয় কোম্পানীর হাতে। নতুন কোম্পানী এয়ারটেল আমাদের ৭০% শেয়াল ক্রয় করেছে, তাই তারা অতিরিক্ত লোক ছাঁটাই করবে। তখন আমি নতুন ছিলাম,তাই বিষ ছোবলটা আমার উপরেই পড়লো। বিধির লিখন মেনে নিয়ে হতভাগা আমি তখন বেকার,দু বছর এদিক ওদিক করে যখন দেখছি আমি চাকরী পাচ্ছি না,আর যে সব চাকরীর সুযোগ হচ্ছে সে সব চাকরী বেমানান আমার জন্য। চাকরীর সন্ধানে দিনের পর দিন ঢাকা শহরের তপ্ত গরম ও মরার যানজট টপকিয়ে ভাবতে লাগলাম আমরা কোন দেশে আছি,যে দেশে প্রতি বছর লাখ লাখ শিক্ষার্থী সার্টিফিকেট নিয়ে ঠিকি ভের হচ্ছে, অথচ সরকার এদের কর্মসংস্হানের জোগান করে দিচ্ছে না। রাগে ক্ষোভে মস্তিকের কঠিন শব্দ দিয়ে সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে ফেসবুকে পোষ্ট দিলাম,যে যার মতো করে ব্যর্থ সরকারকে ধুয়ে দিলো কমেন্ট বক্সে,তাদের মন্তব্যে পড়ে মনে হলো তারা সবাই আমার মত একি সমস্যার ভোক্তভোগী। আমার ব্যাথার সাথে তাদের ব্যাথার অনেক মিল রয়েছে। তারাও সবাই আমার মত হতভাগা। এদিকে আমার
সাথের বন্ধু বান্ধব এক একজন করে প্রবাসে পাড়ি জমাচ্ছে,কেউ ইতালি,কেউ পোল্যান্ড,কেউ বা আবার ইউরোপ। দিন দিন আমি ভেঙে পড়ছি,কেউ সার্পোট (ছায়া) দিচ্ছে না। বড় ভাই আগের মত টাকা দিতে পারছেনা,বাবা অসুস্হ,মা টানাপোড়ায় সংসার চালাচ্ছেন। ভাতিজার পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যাবে এমন লক্ষণ। চুর্তদিকে হতাশার মাঝে হঠাৎ আম্মুর কাছ থেকে জানতে পেলাম,আমার এক দূরের সম্পর্কে আত্তীয়, ওনি নাকি ভিসা সংক্রান্ত ব্যবসা করেন? আমি গিয়ে ওনার সাথে যোগাযোগ করে জানলাম, সৌদি এয়ারলাইন্স ক্যাটারিং কোম্পানীর ভিসা,বেতন ১ হাজার রিয়াল,যা বাংলার ২১ হাজার টাকা,থাকা খাওয়া যাবতীয় খরচ কোম্পানীর। কাজ হলো খাবার তৈরি করা,মানে বাবুর্চীর কাজ।
আমি চিন্তা করলাম, যদি মাস প্রতি আমি ২১ হাজার টাকার বাড়ীতে দিতে পারি,তাহলে সংসার ভালোই চলবে, সমস্যা হলো ভিসার দাম ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
এতটাকা কই পাবো এখন????
আত্তীয় স্বজন পাড়া প্রতিবেশীদের থেকে ধার দেনা করে ভিসাটা ক্রয় করলাম। আমার মা ও আমার দেশের মায়া পরাজিত হলো দারিদ্রতার কাছে। সৌদি আরব আসার পর জানতে পারলাম আমাকে যে কোম্পানীর কথা বলা হয়েছে সে কোম্পানী আমাকে হায়ার করেনি,অন্য একটি কোম্পানী আমাকে রিসিভ করেছে,তখন আর বুঝার বাকী রইলোনা যে আমি আমার নিজ দেশ থেকেই প্রতারণার স্বীকার হয়ে আরবের মরুুভূমি দেশে এসেছি,আমাকে যে কোম্পানী আর যে বেতনের কথা বলেছে তার কোনটাই আমি পাইনি,তবে কাজটা ঠিক পেয়েছি। বাংলাদেশ থেকে আমার ফ্যামিলি ঐ এজেন্সীর নামে মামলা দায়ের করলেও তা শেষমেষ কোন ফল পায়নি।
কারন এসব দালালদের হাতে টাকা চলে গেলে তা আর ফেরত পাওয়ার আশা থাকেনা।
কোম্পানীর বেতন ১৮ হাজার পাই আর আমি বাহিরে একটি ছোটখাটো পার্টটাইম জব করে মাস প্রতি ২০/২৫ হাজার করে বাড়ীতে রেমিট্যান্স পাঠাই।
কিছু টাকা ধারদেনা পরিশোধ করছি আর কিছু টাকা ফ্যামিলিকে দিচ্ছি।
এখন আমি সৌদি আরবে সরকারের অধীনে বাবুর্চীর কাজ করি,মানে আমি একজন শেফ। ৮ ঘন্টা ডিউটি করে রুমে এসে নিজের খাবার নিজেই রান্না করে খেতে হয়,এখানে রান্না করে দেওয়ার মত কেউ নেই। অসুস্হ হলে কেউ মাথায় পানি ঢেলে দিবে সে সৌভাগ্য হয়না একজন প্রবাসীর। ঈদের দিনেও আমাদের ডিউটি করতে হয়। আমাদের জন্য ঈদের দিন,রোযার দিন,শবে বরাত,জানুয়ারী ফেব্রয়ারী সব দিন একই। বিশেষ দিন বলে কিছু নেই।আমাদের মত প্রবাসীরা সংসারের বোঝা টানতে টানতে নিজেদের কোন পছন্দ থাকেনা। সবার আবদার পূরণ করতে করতে প্রবাসীর নিজের আবদার বলে কিছুই অবশিষ্ট থাকেনা। আলহামদুলিল্লাহ আমি এখানে মানবেতর জীবন যাপন করলেও আমার ফ্যামিলি সুখে আছে,ভাতিজার পড়ালেখা বন্ধ হয়নি,সামনের বছর সে এস,এস,সি পরীক্ষা দিবে। ভাইয়ার উপর চাপ কমছে। এখন আমার প্রশ্ন ঐ সব সুশীলদের কাছে, আমি কি স্বীয় ইচ্ছায় নিজ দেশের মায়া ত্যাগ করেছি?
নাকি একটি অন্ধকার ঘরে মোমবাতি হয়ে চারদিকে আলো ছড়ানোর জন্য দূর পরবাসে পাড়ি জমিয়েছি? মাঝ সমুদ্রে একটি নৌকা ডুবে যাওয়ার আগেই আমি সে নৌকাকে তীরে নিয়ে গিয়েছি নিজে সাঁতার কেটে। আমার দেশে আমি সার্টিফিকেট হাতে নিয়ে কি চাকরী পেয়েছি?? সরকার কতজনের কর্মসংস্হানের ব্যবস্হা করেছে??

( ৩ ) প্রবাসীদের রক্ত -ঘাম দিয়ে অর্জিত দেশে পাঠানো রেমিটেন্সের টাকায় দেশের জি,ডি,পি প্রবৃদ্ধি হার যদিও ১২ শতাংশ বেড়েছে।
বিদেশে কামলা কেউ পাঠায় না,আমরা নিজ দেশে চাকরী না পেয়ে হতাশা আর দারিদ্র থেকে মুক্তির জন্য বিদেশ আসি। জাতি যদি এটাকে গর্বের বিষয় না দেখে,তাহলে রেমিটেন্সের পাঠানো দেশের তালিকায় বাংলাদেশ নবম স্হানে এটা নিয়েও গর্ব করেছিলো দেশের বর্তমান সরকার আওয়ামী লীগ। প্রবাসী বাংলাদেশিরা চলতি অর্থবছরের (২০১৮-১৯) প্রথম ৮ মাসে ১০,৪১০ দশমিক ২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছে, ...তথ্য গুলো যাচাই করে দেখবেন। এসব কামলারাই কিন্তু দেশের অর্থনৌতিক চাকা সচল করেছে। ২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিটেন্স! একবার ভেবে দেখুন বাংলাদেশের জাতীয় বাজেট কত?? নিশ্চই আপনাদের জানা নেই তাহলে শুনুন ,২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন। এটি দেশের ৪৭তম ও আওয়ামী লীগ সরকারের ১৮তম এবং অর্থমন্ত্রীর দ্বাদশ বাজেট প্রস্তাব। ‘সমৃদ্ধ আগামী পথযাত্রায় বাংলাদেশ’ নাম দিয়ে প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। দেখুন প্রতিবছর প্রবাসীর রেমিটেন্সের টাকা আর জাতীয় বাজেটে কতটুকু দূরত্ব। তাহলে কোন প্রশ্ন ছাড়াই আমরা এ কথা বলতে পারি,দেশের জাতীয় বাজেটের চাইতে প্রতিবছর প্রবাসীদেরর পাঠানো টাকার অংক বেশি।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তির অন্যতম একটি খাতের নাম রেমিটেন্স। দেশের মানুষ শুধু প্রবাসীদের রেমিটেন্স টাই দেখলো।
তাদেরকে সম্মান দিতে শিখলোনা। রেমিটেন্স নিয়ে ঠিকি গর্ব করছে জাতি। যখন
এসব প্রবাসীরাই যখন দেশে আসে ছুটিতে,তখন তাদেরকে কাস্টমসে হয়রানী হতে হয়,পুলিশদের থেকে কামলা বলে গালি শুনতে হয়। নানা রকম ভাবে এরা অপমাণিত হয়। আমাদের দেশের সরকার এদের জন্য কি করেছে?? তাদের জন্য কোন ভি আই পি ব্যবস্হা আছে?? নেই,ভি আই পি ব্যবস্হা শুধু সরকারী আমলা কামলাদের জন্য যারা দেশকে লুটেপুটে খাচ্ছে। সরকার এসব প্রবাসীদের জন্য কিছুই করেনি বিগত ২০ বছরে। যারা দেশ ও নিজের পরিবারের জন্য দিন রাত এক করে দেশে টাকা পাঠায়। তারাই তাদের নিজ দেশে অবহেলিত।এমন ও ঘটনা আছে, প্রবাসে কেউ মারা গেলে তাহার লাশ ৩ মাসের আগে দেশে পৌছায় না বাংলাদেশ অ্যাম্বাসিতে কর্মরত সরকারী আমলা-কামলাদের গাফলতির জন্য।
বাংলাদেশকে প্রথম লুটতরাজ করেছে পাকিস্তান,এরপর দ্বিতীয় বারের মত লুট করছে সরকারের এসব চোর বাটপার দায়িত্বহীন আমলা কামলারা।
গরিবদের রক্ত চুষে এদের মত এক শ্রেণী এখন বিত্তবানদের তালিকায়।
(১)যদি শ্রম বাজারে বাংলাদেশকে উপরে দেখতে হয় তাহলে দেশে ভোকেশনাল বিভিন্ন শিক্ষা বাড়াতে হবে।
(২) দায়িত্বহীন আমলা কামলা ছাঁটাই করতে হবে অ্যাম্বাসি থেকে।
(৩) পরবাসে প্রবাসীদেরকে নায্য অধিকার আদায়ের জন্য ব্যবস্হা নিতে হবে।
(৪) ভিসা সংক্রান্ত বিষয়ে বিদেশ গমনেচ্ছু ব্যাক্তি থেকে যেন ভিসা ফি ইত্যাদি বাবদ টাকা বেশি আদায় না হয় সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
(৫) এজেন্সী ও এজেন্সীর দালালদের বে-আইনি কর্মের জন্য ধরপাকড় করে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিতে হবে।
(৬) বাহিরের দেশের সরকারী কর্মকর্তাদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।
(৭) পরবাসে কেউ মারা গেলে তাহার লাশ ১ মাসের ভিতর দেশে পাঠাতে হবে।
(৮)রেমিটেন্সের টাকার সঠিক ব্যবহার করতে হবে
ছবি: ছবিতে মাঝখানে আমি,আর আমার সহকর্মীরা,ছবিটি ১৮ মে বাংলাদেশ বিমান বন্দর বোডিং পাস হওয়ার সময় তোলা।

মন্তব্য ৫৬ টি রেটিং +৬/-০

মন্তব্য (৫৬) মন্তব্য লিখুন

১| ২০ শে মে, ২০১৯ রাত ৯:০৯

হাসান কালবৈশাখী বলেছেন:
আপনার নিজের কাহিনী?

২০ শে মে, ২০১৯ রাত ৯:১২

মেঘ প্রিয় বালক বলেছেন: জ্বি ভাই। গল্পটা আমার।

২| ২০ শে মে, ২০১৯ রাত ৯:৩৮

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:
আমার প্রথম কথা দেশের মানুষদের কে দেশেই কাজের ব্যবস্থা করতে হবে। নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দিতে যখন পেরেছেন
তখন কাজটাও দিতে হবে। বিদেশে কামলা পাঠানো কোন ভালো কাজ নয়। এটা কোন জাতির জন্য গর্বের বিষয় হতে পারে না।

২০ শে মে, ২০১৯ রাত ১১:২৪

মেঘ প্রিয় বালক বলেছেন: ধন্যবাদ সাজ্জাদ হোসেন আপনার মূল্যবান মন্তব্যের জন্য, বিদেশে কামলা পাঠানো ভালো কাজ নয়,এটা জাতির জন্য গর্বের বিষয় নয়। বিদেশে কামলা কেউ পাঠায় না,আমরা নিজ দেশে চাকরী না পেয়ে হতাশা আর দারিদ্র থেকে মুক্তির জন্য বিদেশ আসি। জাতি যদি এটাকে গর্বের বিষয় না দেখে,তাহলে রেমিটেন্সের পাঠানো দেশের তালিকায় বাংলাদেশ নবম স্হানে এটা নিয়েও গর্ব করেছিলো দেশের বর্তমান সরকার আওয়ামী লীগ। প্রবাসী বাংলাদেশিরা চলতি অর্থবছরের (২০১৮-১৯) প্রথম ৮ মাসে ১০,৪১০ দশমিক ২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছে, ...তথ্য গুলো যাচাই করে দেখবেন। এসব কামলারাই কিন্তু দেশের অর্থনৌতিক চাকা সচল করেছে। ২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিটেন্স! একবার ভেবে দেখুন বাংলাদেশের জাতীয় বাজেট কত?? নিশ্চই আপনার জানা নেই তাহলে শুনুন ,২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন। এটি দেশের ৪৭তম ও আওয়ামী লীগ সরকারের ১৮তম এবং অর্থমন্ত্রীর দ্বাদশ বাজেট প্রস্তাব। ‘সমৃদ্ধ আগামী পথযাত্রায় বাংলাদেশ’ নাম দিয়ে প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। দেখুন প্রতিবছর প্রবাসীর রেমিটেন্সের টাকা আর জাতীয় বাজেটে কতটুকু দূরত্ব। তাহলে কোন প্রশ্ন ছাড়াই আমরা এ কথা বলতে পারি,দেশের জাতীয় বাজেটের চাইতে প্রতিবছর প্রবাসীদেরর পাঠানো টাকার অংক বেশি।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তির অন্যতম একটি খাতের নাম রেমিটেনস দেশ শুধু প্রবাসীদের রেমিটেন্স টাই দেখলো।
তাদেরকে সম্মান দিতে শিখলোনা। রেমিটেন্স নিয়ে ঠিকি গর্ব করছেন আপনার।..

৩| ২০ শে মে, ২০১৯ রাত ৯:৪৮

চাঁদগাজী বলেছেন:



দেশের চাকুরী ও প্রবাস নিয়ে আপনার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা আছে; যারা ব্লগে ম্লগে লিখে, এদের বেশীর ভাগই এসব ব্যাপারে লেখার জন্য দক্ষ, কিংবা অভিজ্ঞ নয়; এরা হাউকাউ কিছু একটা লিখে।

২০ শে মে, ২০১৯ রাত ১১:২৬

মেঘ প্রিয় বালক বলেছেন: ধন্যবাদ চাঁদগাজী ভাই,আপনার মূল্যবান মতামত পেশ করার জন্য। প্রবাসীদের জন্য দোয়ার দরখাস্ত রইলো। আর উপরের মন্তব্যের দিকেও নজর দিবেন। শুভকামনা ও ভালবাসা আপনার তলে।

৪| ২০ শে মে, ২০১৯ রাত ১০:০০

মনিরা সুলতানা বলেছেন: মন ছুঁয়ে গেলো কথা গুলি ; একেবারেই কঠিন বাস্তবতা তুলে এনেছেন লেখায়। প্রশ্নগুলো আমাদের ও ভাবায়।

২০ শে মে, ২০১৯ রাত ১১:২৮

মেঘ প্রিয় বালক বলেছেন: দিল কলিজা থেকে ধন্যবাদ জানিবেন প্রিয় ব্লগার মনিরা সুলতানা। দেশ শুধু আমাদের রেমিটেন্স টাই দেখলো,আমাদেরকে একটু ভালবাসার নজরে সম্মান করলোনা। ভালো থাকবেন।

৫| ২০ শে মে, ২০১৯ রাত ১১:১৪

পথিক প্রত্যয় বলেছেন: বাংলাদেশের ভিসা ব্যবসায়ী একেকটা জানোয়ার । কিন্তু অন্য দেশের লোকেরা এমন না।
প্রবাসীদের মুখের দিকে কেউ তাকায় না। সবার চোখ থাকে লাগেজে।

২০ শে মে, ২০১৯ রাত ১১:৩৪

মেঘ প্রিয় বালক বলেছেন: প্রবাসীদের মুখের দিকে কেউ তাকায় না। সবার চোখ থাকে লাগেজে। সত্য কথা বলেছেন শ্রদ্বেয় ব্লগার পথিক প্রত্যায় ভাই। জেনে অবাক হবেন,আমাদের দেশে একটি ভিসা খরচ ৫ লাখের নিচে নয়,অথচ ইন্ডিয়ান,পাকিস্তানিরা,নেপালি,ফিলিপাইন এসব দেশে ভিসার দাম গড়ে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজারের ভিতরেই সব,তারা প্রবাসে এসে ভিসা বাবদ খরচ প্রথম ৫ মাসেই তুলে নেয়,একই জায়গায় আমাদের একটি ভিসা খরচ তুলতে প্রায় ১ বছরের উপরেও লেগে যায়, হিসাবটি সৌদি আরবের কারেন্সি থেকে হিসাব করা।

৬| ২১ শে মে, ২০১৯ রাত ১২:২৬

মুক্তা নীল বলেছেন: যদিও কথাগুলো মন খারাপের ,তারপরও ভালো লাগছে।
থেমে যাবেন না ,এগিয়ে যান । ইনশাআল্লাহ, অবশ্যই এর উত্তম প্রতিদান পাবেন।

২১ শে মে, ২০১৯ রাত ১:৫৫

মেঘ প্রিয় বালক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনার মূল্যবান মতামত ও উৎসাহ দেয়ার জন্য। ভালবাসা গ্রহন করিবেন।

৭| ২১ শে মে, ২০১৯ রাত ১২:৪৫

পথিক প্রত্যয় বলেছেন: আমিও ঐ সব জানোয়ারদের ফাঁদে পড়েছি। এদের কাছে আপন পর ভেদাভেদ নাই। এক ভারতীয় আমার ভিসার দাম শুনে হতবাক হয়েছিল

২১ শে মে, ২০১৯ রাত ১:৫৬

মেঘ প্রিয় বালক বলেছেন: বাঙালী দালালরা টাকা ছাড়া আপন পর চোখে দেখে না। তাদের কাছে মানুষের জীবনের চাইতে টাকাই সব। ধন্যবাদ পথিক প্রত্যায়।

৮| ২১ শে মে, ২০১৯ রাত ২:৪৩

মাহমুদুর রহমান সুজন বলেছেন: জীবন যুদ্ধের অপরাজিত লড়াকো সৈনিক আপনি। প্রত্যেকটি প্রবাসীও দেশেল মেহনতী ভাই ও বোনদের শ্রদ্ধা করি। সবার সেবায় দেশটি চলছে। আমরা হয়তো দেশের সুদিন দেখবনা একদিন আমাদের দেশের মানুষ আমাদের কষ্টার্জিত টাকায় সুন্দর আগামী সূচনা করবে। সেই দিন আত্না শান্তি পাবে। লুটেরা যতই বিনষ্ট করুক তাদের অধপতন হবেই। সত্য সবসময় সূর্যের আলোর ন্যায় উদয়গামী শত মেঘেও তাকে ঢেকে দেওয়া যায়না।
আপনার দাবীগুলোর সাথে একমত। প্রবাসীদের সম্মান করা হউক।

২১ শে মে, ২০১৯ ভোর ৪:০৬

মেঘ প্রিয় বালক বলেছেন: প্রিয় মাহমুদুর রহমান সুজন, আপনাকে ধন্যবাদ দিয়ে আমি ছোট করবোনা,আপনার অবস্হান সবসময় সম্মানিদের আসনে। আপনার কথাগুলো শুনে মনটা ভরে গেছে। সত্য কথা তিক্ত হলেও সহমত প্রকাশ করেছেন এতেই আমি আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ । ভালবাসা আপনার তলে নিরন্তর। আপনার সুস্হতা কামনা করি মনিবের কাছে, সবসময় যেন আল্লাহ আপনাকে ডে কোন জায়গায় ভালো রাখুক,বিপদমুক্ত রাখুক। এই প্রত্যাশা রইলো। আমিন।

৯| ২১ শে মে, ২০১৯ ভোর ৪:২৭

এমজেডএফ বলেছেন: ব্লগে অনেকদিন পরে ঢুকলাম আপনার লেখাটি পড়ে মন্তব্য করতে। আপনি যা লিখেছেন তা আমাদের দেশের রুঢ় বাস্তবতা। তবে এখানে আমার কিছু কথা আছে:
আমাদের দেশে সবচেয়ে বড় সমস্যায় আছে এস এস সি - এইচ এস সি-তে নিম্ন মানের পাশ বা ফেল করা তরুণেরা। কারণ এরা উচ্চ শিক্ষায়ও যেতে পারে না, দেশে সাধারণ মানের কোন চাকুরিও পায় না, আবার গায়ে-গতরে পরিশ্রমের চাকুরি করতেও লজ্জা লাগে! সবচেয়ে বড় দূর্ভাগ্য হলো এরা আবার কোন টেকনিক্যাল কাজকর্মও জানে না - শিখতেও চাই না। সুতরাং শেষ ভরষা ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা খরচ করে দালালের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়া। সেখানে বেশিরভাগই প্রতারিত হয় অথবা কম বেতনে অমানুষিক পরিশ্রম করে।

আমি একটা কথা হলফ করে বলতে পারি যে, ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা পুঁজি এবং বিদেশে গিয়ে যে পরিশ্রমটা আপনারা করেন সেটা যদি দেশে করেন, মাসে ২০ - ৩০ হাজার টাকা আয় দেশেই করা সম্ভব। ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা খরচ করে বিদেশে গেলেন, মাসে সবকিছু বাদ দিয়ে হাতে থাকে ২০ হাজার টাকা। আপনার সাড়ে ৫ লাখ টাকা উঠাতে লাগবে ৩ বছর! এর মধ্যে যদি একবার দেশে আসতে চান তাহলে আরো ১ বছরের আয় জমাতে হবে। অর্থাৎ সাড়ে ৫ লাখ টাকা পুঁজি দিয়ে ৫ বছর মা-বাপ আত্বীয়স্বজন ছেড়ে দিনরাত পরিশ্রম করে ফলাফল যোগ-বিয়োগে জিরো।
আমি জানি, আপনি বা অনেকে আমাকে এখন প্রশ্ন করবেন - ৫ লাখ টাকা দিয়ে ব্যবসা করে বাংলাদেশে মাসে ২০ - ৩০ হাজার টাকা আয় করা যায় কিভাবে? চোখ-কান খোলা থাকলে এবং ইচ্ছা থাকলে ও উদ্যোগী হলে আপনি নিজেই খুঁজে নিতে পারবেন। যেমন: ৫ লাখ টাকা দিয়ে বাংলাদেশে ভালো কন্ডিশনের একটি সিএনজি অটোরিকশা পাওয়া যায়। একজন সিএনজি চালকের মাসিক আয় কত জানেন? গাড়ি এবং চালকের লাইসেন্স না থাকার কারণে যারা শহরতলি ও উপজেলায় অটোরিকশা চালায় তারাও পরিবারের সাথে বাংলাদেশে বসবাস করে মাসে কমপক্ষে ২০ হাজার টাকা আয় করে। বাংলাদেশে একজন রাজমিস্ত্রির দৈনিক বেতন কত জানেন? ৭০০ থেকে ১০০০ টাকা। এরা আবার ভারী কাজ করে না, ভারী কাজ থাকলে আলাদা হেলফার দিতে হয়। অথচ এ মিস্ত্রিরা তিন সাইজের তিনটা দেয়ালের মাপ একসাথে বর্গফুটে বলতে পারে না। কারণ অঙ্ক জানে না! আর আপনারা যারা দেয়ালের মাপঝোপ করার মত অঙ্ক জানেন তারাতো লজ্জায় এ পেশায় আসেন না! অথচ ভিটা বিক্রি করে বিদেশে গিয়ে আরো কম বেতনে বেশি পরিশ্রমের কাজ করেন।

যাইহোক, কিছু মনে করবেন না। আপনার মত ভুক্তভোগী আমার অনেক নিকটাত্বীয়ও আছে। তাই আমি আপনার দুঃখটা অনেকের চেয়ে বেশি বুঝি। সরকার বা অন্যকারো দোষ দিয়ে লাভ নেই। সরকার, দালাল, বন্ধুবান্ধব, সামুর ব্লগার কেউ আপনার ভাগ্য পরিবর্তন করে দেবে না। আপনার ভাগ্য আপনাকেই পরিবর্তন করতে হবে। এজন্য দরকার বুদ্ধি, উদ্যোগ, দক্ষতা এবং পরিশ্রম।
আপনার প্রবাস জীবনের সফলতা কামনা করি - ভালো থাকুন।

২১ শে মে, ২০১৯ ভোর ৫:৫৫

মেঘ প্রিয় বালক বলেছেন: ব্লগার এমজেডএফ ব্লগে আপনাকে স্বাগতম। আপনার যুক্তির সাথে একমত হওয়ার পরেও অনেক প্রশ্ন বা কথা থেকেই যায়,আমি আপনাকে কয়েকটা কথা বলবো,কিছু মনে করবেন না,আপনার প্রথম কথা হলো,এস এস,সি,এইচ, এস,এস সি পাশ ফেল করা তরুুনরা নিম্ন মানের পাশের কারণে সাধারন মানের কোন চাকরী পায় না,আবার এরা উচ্চ শিক্ষায়য় যেতে পারেনা,গায়ে গতরে পরিশ্রমের কাজ করতে লজ্জা লাগে,শেষ উপায় ৫-৬ লাখ টাকা খরচ করে মধ্যপ্রাচ্য দেশে পাড়ি জমায় দালালের মাধ্যমে,প্রবাসে এসে কম বেতনে অমানবিক পরিশ্রম করে। আচ্ছা বাংলাদেশে তরুণদের বেকারত্বেরর হার কত আপনি জানেন?? অবশ্যই জানেন না,বাংলাদেশে তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার মাত্র সাত বছরে বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলও এর আঞ্চলিক কর্মসংস্থান সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এশিয়া-প্যাসিফিক এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল আউটলুক-২০১৮ শীর্ষক ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা এখন আর কাজ পাওয়ার নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। দেশে উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার সবচেয়ে বেশি বলে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে তরুণেরা যত বেশি পড়ালেখা করছেন তাদের তত বেশি বেকার থাকার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে বাংলাদেশে তরুণদের মধ্যে বেকারত্ব ২০১০ সালের তুলনায় দ্বিগুণ হয়ে ২০১৭ সালে ১২.৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এতে বলা হয় দেশটির উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্ব ১০ দশমিক ৭ শতাংশ, যা এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের যে ২৮টি দেশের তথ্য প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে তার মধ্যে মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। প্রতিবেদনে দেয়া তথ্য মোতাবেক বাংলাদেশের ওপরে আছে কেবল পাকিস্তান। এখন আপনি কি বলবেন?? মেনে নিলাম আপনার ধারনা অনুযায়ী যারা নিম্ন মানের পাশ ফেল রেজাল্ট নিয়ে সাধারন চাকরী পাচ্ছে না,নিজেদের অলসতার কারণে,তাহলে যারা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত, তাদের অবস্হান কোথায় রাখবেন??? আপনি হয়তো এও জানেন না,উচ্চশিক্ষিত বেকারত্বে বাংলাদেশ দ্বিতীয়। দেশে বেকারত্ব মহামারিতে রূপ নিয়েছে। আমার বানানো কথা না,বিশ্ব ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী দেশের শ্রমবাজারে প্রতি বছর ২৬-৩০ লাখ যুবক প্রবেশ করছে। কিন্তু সরকারি বেসরকারি মিলে চাকরি হচ্ছে মাত্র ২ লাখের মতো। আর সিংহভাগই থেকে যাচ্ছে বেকার। দেশে বর্তমানে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এখন এসব সিংহভাগ শিক্ষিত বেকারদের আপনি ঐ নিম্ন মানের পাশ ফেল বা অলসদের তালিকায় কোন যুক্তিতে ফেলবেন?? উওরটা দিয়ে যাবেন।
দ্বিতীয় কথা আপনার,আপনি বলছেন যে ৫/৬ টাকা পুজি খাটিয়ে দেশে ব্যবসা করতে,আপনি জানেন,সামান্য একটি দোকানের জন্য ৪০/৫০ হাজার টাকা এডভান্স দিতে হয়,সাথে দোকানের জিনিস পএ,দোকান ডেকুর ইত্যাদি মিলিয়ে খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি। ক্যালকুলেট করলে অনেক কঠিন। ধরে নিলাম আপনার এ ধারনাটাও সঠিক। সামান্য একটি দোকানের ভাড়া দিতে হয় ৫ হাজার টাকা,এখন আপনি ৫ হাজার টাকা দোকান ভাড়া আর যাবতীয় খরচ বাদ দিয়ে কত লাভ করবেন চোখ-কান খোলা রেখে????
সাথে আবার বিদু্ৎ বিল,বিদু্ৎ বিল এখন কত জানেন?? আরো ২ বছর আগেই পার ইউনিট ছিলো ৮ টাকা। এখন হয়তো বেড়েছে,জিনিসের দাম বাড়ার সাথে সাথে টাকার মূল্য হ্রাস পায় জানেন তো??? তাহলে ৫/৬ লাখ টাকা দিয়ে ব্যবসা করে কত লাভ করবেন???
সি এন জি অটোর কথা বলছেন,সেখানেও তো আপনার ৫ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে,কতদিনে মিটার মেপে ৫ লাখ টাকা উঠাবেন???
আর প্রবাসে এসে আমি ২০/৩০ হাজার ইনকাম করছি,এমন তো নয় সবাই প্রবাসে এসে ২০/৩০ হাজার ইনকাম করছে,তারা আরো বেশি রোজগার করছে,বহু প্রবাসী আছে,যারা বিদেশ এসে ছেলের পড়ালেখার খরচ,সংসার খরচ,মেয়ের বিয়ে, বাড়ী দালান পাকা করন ইত্যাদি কাজ সম্পূর্ণ করছে রেমিটেন্স পাঠিয়ে। আমি তো শুধু এসব প্রবাসীদের সম্মান জানানোর কথা বলছি,চামড়ার ঠোট দিয়ে অনেক কথাই বলা যায়,তবে তা বাস্তব রূপ দেয়া অনেক কঠিন।
আমি জানি সরকার,দালাল,বন্ধু বান্ধব,সামু ইত্যাদি প্রবাসীদের ভাগ্য পরিবর্তন করে দিবেনা,তবে আমার পোষ্ট দেওয়ার উদ্দেশ্য হলো আমার এসব কথার দ্বারা যদি ৫ জন মানুষের চোখে প্রবাসীরা সম্মান পায়,এতেই আমার লেখা স্বার্থক ভেবে নিবো।।
কারন এ ৫ জন আবার অপর ৫ জনকে আমাদের কথা বলবে,আর এভাবেই ছড়াতে থাকবে প্রবাসীদের ঘাম ঝরানো কষ্টের কথা,তাদের ত্যাগের কথা। আর এভাবেই হয়তো বাড়বে আমাদের মত প্রবাসীদের প্রতি ভালবাসা।।। শেষ কথা হলো,একজন পরিবর্তন হলেই আরেকজন হবে।। আমি পরিবর্তন না হলে আমার আশ পাশ পরিবর্তন হবেনা। আমার কোন কথায় যদি কষ্ট পেয়ে থাকেন,তাহলে এই কম বয়সি ছোট ভাইকে ক্ষমার দৃষ্টিতে রাখবেন।আপনার পরবর্তী যুক্তি,জবাবের আশায় রইলাম।।।

১০| ২১ শে মে, ২০১৯ ভোর ৪:৪৫

বলেছেন: অনেক দেরীতে হলেও জীবনের কিছু রুঢ়্ বাস্তবতার কাহিনি পড়লাম।
মনটা কিছুটা ভারী হয়ে উঠলো।।

এ জেড এফ যা বলেছেন তাতে দ্বিমত করারা উপায় নেই।।।।

তবে বুদ্ধি, উদ্যোগ, দক্ষতা এবং পরিশ্রম দিয়ে প্রতিষ্ঠান করে চাঁদ মামাদের বাজীর ভাগ মাসোয়ারা দিয়ে দিলে হবে কিভাবে তাই দরকার দক্ষ প্রশাসনিক কালচার।।।


ভালো লাগলো।।। আরো ছোট পর্ব করে দিলে ভালো হত।।।

২১ শে মে, ২০১৯ ভোর ৬:১৯

মেঘ প্রিয় বালক বলেছেন: ভাই ল,ধন্যবাদ গ্রহন করিবেন,আপনার মতামত প্রকাশ করার জন্য। সামনে আরো ছোট পর্ব করে লিখার চেস্টা করবো।

১১| ২১ শে মে, ২০১৯ ভোর ৫:৩৩

ভুয়া মফিজ বলেছেন: চমৎকার লিখেছেন।

যারা প্রবাসী শ্রমিকদেরকে 'কামলা' হিসাবে দেখে, তারাই এদের টাকায় স্যুট-কোট পরে ঘুরে বেড়ায়। এদের নীচু মানসিকতা নিয়ে কিছু বলার রুচি নাই। এসব হিপোক্রেটদের কাছ থেকে কিছু আশা করাই ঠিক না।

২১ শে মে, ২০১৯ ভোর ৬:২০

মেঘ প্রিয় বালক বলেছেন: প্রিয় ব্লগার মফিজ ভাই,আপনার মন্তব্যের সাথে সহমত প্রকাশ করছি,তিক্ত হলেও সত্য কথা বলার জন্য ধন্যবাদ।

১২| ২১ শে মে, ২০১৯ ভোর ৬:২৯

স্বামী বিশুদ্ধানন্দ বলেছেন: প্রবাসে বাংলাদেশে শিক্ষিত বা উচ্চশিক্ষিতের অদক্ষ শ্রমিক হিসাবে কাজ করার অন্যতম কারণ হচ্ছে আমাদের রেমিটেন্স যোদ্ধারা ইংরেজি ভাষায় কমিউনিকেশনে অসম্ভব দুর্বল | আমাদের সমান বা কম উচ্চশিক্ষিত হয়েও অনেক ভারতীয় প্রবাসে অফিস আদালতে কাজ করছেন তাদের চাঁপার জোরে | আমার প্রতিবেশী অনেকেই ফিলিপিনো এবং এদের অধিকাংশই কানাডাতে এসেছে তাদের নার্স বা স্বাস্থ্যকর্মী স্ত্রীর ওয়ার্কপারমিটের মাধ্যমে | স্বভাবতই ফিলিপিনো নার্সরা ইংরেজি কমিউনিকেশনে বাংলাদেশী নার্সদের চাইতে অনেক দক্ষ | আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় গ্রাজুয়েট বা পলিটেকনিক ডিপ্লোমাধারীরা যথেষ্ট দক্ষ হওয়া সত্ত্বেও বিদেশে গিয়ে তেমন সুবিধা করতে পারেন না তাদের ভাষাগত সমস্যার কারণে |

সরকার যদি আমাদের তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ ও সম্মানজনক কাজে বিদেশে পাঠাতে চায় তবে অবশ্যই ইংরেজি শিক্ষায় অনেক বিনিয়োগ করতে হবে | প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যথেষ্ট সম্মানজনক বেতন দিয়ে প্রফেশনাল ইংরেজি প্রশিক্ষক নিয়োগ করে শিক্ষার্থীদের নিবিড় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে | এই সকল ইংরেজি কমিউনিকেশনে পারদর্শী কর্মীবাহিনীর প্রবাসে শ্রম বাজারে দক্ষ কাজে নিয়োগ পেতে খুব একটা অসূবিধা হওয়ার কথা নয় |

২১ শে মে, ২০১৯ সকাল ৭:০০

মেঘ প্রিয় বালক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনার মূল্যবান মতামতের জন্য।

১৩| ২১ শে মে, ২০১৯ সকাল ৭:১৩

পথিক প্রত্যয় বলেছেন: সিএনজি এখন দশ লাখ টাকা । নতুন সিএনজির অনুমতি নাই মেট্রোতে। দেশে ব্যবসা করতে গেলে অনেক গোঁজামিল করতে হয়।

২১ শে মে, ২০১৯ দুপুর ১২:৪৫

মেঘ প্রিয় বালক বলেছেন: ১০০% সর্মথন জানাচ্ছি পথিক প্রত্যয়। ধন্যবাদ আপনার মূল্যাবান মতামত পেশ করার জন্য। ভালো থাকবেন।

১৪| ২১ শে মে, ২০১৯ সকাল ৭:৪৮

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন: ++++

২১ শে মে, ২০১৯ দুপুর ১২:৪৬

মেঘ প্রিয় বালক বলেছেন: ধন্যবাদ ভাই সাজ্জাদ হোসেন। আপনার জন্য অন্তহীন শুভকামনা।

১৫| ২১ শে মে, ২০১৯ সকাল ১০:০১

মোঃ মাইদুল সরকার বলেছেন:
জীবন মানেই যুদ্ধ।

প্রবাসীদের জন্য সময় খুবই কঠিন। জীবন যুদ্ধে জয়ী হন।

ভাল থাকবেন।

২১ শে মে, ২০১৯ দুপুর ১২:৪৯

মেঘ প্রিয় বালক বলেছেন: ধন্যবাদ ব্লগার মাইদুল ভাই। আমার এত কথার উদ্দেশ্য একটাই,জাতি যেন প্রবাসীদের সম্মান দেয়। শুভকামনা জানিবেন।

১৬| ২১ শে মে, ২০১৯ দুপুর ১২:১৫

নতুন নকিব বলেছেন:



আপনার জন্য অন্তহীন শুভকামনা। অশেষ দুআ। প্রবাসে ভালো থাকুন। পোস্ট বিষয়ে পরে কথা বলার ইচ্ছে থাকলো।

২১ শে মে, ২০১৯ দুপুর ১২:৫১

মেঘ প্রিয় বালক বলেছেন: ধন্যবাদ ব্লগার নতুন নকিব,আপনার জন্যও অশেষ দুঅা। আল্লাহ আপনাকে সুস্হ রাখুক সবসময়,হায়াতে তাইয়্যবা দান করুুক আমিন। ফিরে আসবেন, পোষ্ট বিষয়ে অবশ্যই কথা বলবেন,এমন প্রত্যাশা রাখছি।

১৭| ২১ শে মে, ২০১৯ দুপুর ১:৪০

রাজীব নুর বলেছেন: বাস্তব বড় কঠিন।

২১ শে মে, ২০১৯ রাত ৯:৩৩

মেঘ প্রিয় বালক বলেছেন: ধন্যবাদ রাজীব নূর, বাস্তবতা যত কঠিনয়ি হোক না কেন? আমাদের বরণ করে নিতেই হবে বাস্তবতাকে।

১৮| ২১ শে মে, ২০১৯ দুপুর ২:২০

এমজেডএফ বলেছেন: আমার মন্তব্যের জবাবে আপনার দীর্ঘ মন্তব্য পড়লাম। ধন্যবাদ। আপনার সাথে আমি সব ব্যাপারে সহমত।
বাংলাদেশে এখন শিক্ষিত বেকার বেশি। কারণ দেশে যেভাবে শিক্ষিতের হার বাড়ছে সে হিসাবে চাকুরি সৃষ্টি হচ্ছে না। দেশের কয়েকটি এলাকায় বড় ধরনের কয়েকটি ইকোনোমিক জোনের কাজ চলছে, এগুলো পুরোধমে চালু হলে কিছু নতুন চাকুরির সুযোগ হবে। তবে সেখানেও কারিগরি দক্ষতার প্রয়োজন হবে বেশি। দেশে কায়িক পরিশ্রমের কাজগুলো এখনো মান্ধাতার আমলের মতো মানুষ দিয়েই করা হয়। এসব সেক্টরে আধুনিক মেশিন/যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে পারলেও শিক্ষিত লোকের জন্য কিছু চাকুরির সৃষ্টি হতো।
প্রবাসী কর্মীদের অবজ্ঞা করা মোটেই উচিত নয়। এরা দেশে চাকুরি না পেয়ে সৎভাবে পরিশ্রম করে উপার্জন করতে বিদেশে গেছে এবং দেশে মূল্যবান রেমিটেন্স পাঠাচ্ছে। তাদেরকে আমাদের সবার সন্মান করা উচিত।
আমার মন্তব্যের মূল বিষয় বিষয়বস্তু ছিল: চাকুরি বা ব্যবসা যেটাই হোক - মধ্যপ্রাচ্যে এখন আগের মত সুযোগ-সুবিধা নেই। দেশে চাকুরি নেই - তাই বলে ৫ থেকে ৬ লক্ষ টাকা খরচ করে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা বেতনের চাকুরির জন্য মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়া আমি যৌক্তিকভাবে সমর্থন করতে পারি না। অন্তত পক্ষে এ ধরনের হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাদের দেশে কিছু একটা করে ঠিকে থাকার চেষ্টা করা উচিত। এটা হতে পারে যেমন - কম সময়ের মধ্যে কোন একটি টেকনিক্যাল শিক্ষা শিখার চেষ্টা, ছোটখাটো ব্যবসা, বিভিন্ন রকমের খামার ইত্যাদি উদ্যোগ নিয়ে দেখা।
যাই-হোক, যেখানেই থাকুন ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন - কামনা রইলো।

২১ শে মে, ২০১৯ দুপুর ২:৫৪

মেঘ প্রিয় বালক বলেছেন: ধন্যবাদ এমজেডএফ,পুনরায় আমার পোষ্টে এসে মন্তব্যে করার জন্য। আমি অনেক খুশি হয়েছি আপনি আমার সব ব্যাপারে সহমত প্রকাশ করেছেন জেনে। হাজার কোটি লাল গেলাপের শুভেচ্ছা জানিবেন। ভালবাসা নিরন্তর আপনার তলে। আপনার মন্তব্যের মূল বিষয় বিষয়বস্তু সাথে আমি একমত হয়েও আবার হতে পারছিনা। কারণ ৫/ ৬ লাখ টাকা দিয়ে আমাদের দেশে ব্যবস্য করে আমি ওই ২০/৩০ হাজার লাভ দেখতেছি না,এমনকি এটা নিয়ে আমি গতরাত আমার বন্ধুদের সাথে পরামর্শ করে একজন থেকে জানতে পারলাম,ওনি সর্বপ্রথম ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা দিয়ে ছোট খাটো দোকান দেয়,চাউল ডাউল বক্কর চক্কর এক কথায় ছোট একটা মুদির দোকান। প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যবসা ভালো গেলেও পরে নাকি বাকী বিক্রয়ের কারনে ব্যবসায় ধস,,,,এর পর দোকান বিক্রি করে লস দিয়ে আবার মাছের ব্যবসা শুরু করলো।মাছের ব্যবসায় সে ভালো করছে। আমি আপনার কথাগুলোকে একেবারে ফেলে দিচ্ছি না,,,,চেষ্টা করলে সবি হয়। তবে একটু বেশিই কঠিন,যেখানে সফলতার আশা অনেক কম।। হাতে গোনা আংশিক মানুষ য়ি এ ব্যবসার ধারনায় সফল। আপনি ১/২ বছর বেকার ঘরে বসে থাকবেন,ভালো বেতনের চাকরী পাবেন না,তখন আপনার আত্নহত্যা করার উপক্রম হবে। যখন আপনার পাশে কোন সার্পোট পাবেন না,তখন মনে হবে দুনিয়াটা জেলখানা। আপনার পূরিপূর্ন সুস্হতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

১৯| ২১ শে মে, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:২৯

করুণাধারা বলেছেন: আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন, ইনশাআল্লাহ, আপনার জন্য ভালো দিন আসবে। শুভকামনা রইল।

আপনার বক্তব্যের সাথে আমি একমত, কঠোর পরিশ্রম করে প্রবাসীরা এদেশে অর্থনীতির চাকা সচল রাখেন অথচ তাদের কোন মূল্যায়ন হয় না।

২১ শে মে, ২০১৯ রাত ৯:৩২

মেঘ প্রিয় বালক বলেছেন: প্রিয় ব্লগার করুণাধারা,ডিউটি শেষ করে ক্লান্ত হাতে আপনাকে লিখছি। আপনি মন্তব্যের মাধ্যমে ভালবাসা রেখে গেছেন আমার জন্য মন্তব্য বক্সে। আল্লাহ আপনাকে দীর্ঘায়ু করুুক আমিন। সহমত হওয়ার জন ধন্যবাদ জানিবেন।

২০| ২১ শে মে, ২০১৯ রাত ৮:২৮

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: মন ছুয়ে গেল। এক্কেবারে হৃদয় নিংড়ানো কথা। আপনি একজন অত্যন্ত পরিশ্রমী, সৎ এবং সচেতন নাগরিক। লেখাটির প্রতি পরোতে পরোতে পেলাম আপনার উদ্যমী শক্তির পরিচয়। জীবনের চলার পথ সকলের মসৃণ হয় না। আপনি সমস্ত বাধা বিঘ্ন অতিক্রম করে সাফল্য পাবেন এই কামনাই করি। কামনা করি যত দ্রুত সম্ভব আপনার এই কষ্টের জীবনের অবসান ঘটুক।

আপনার পরিবারের প্রতি রইলো আমার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

২১ শে মে, ২০১৯ রাত ৯:৩৭

মেঘ প্রিয় বালক বলেছেন: রমযানের পবিএ রোযার শুভেচ্ছা গ্রহন করবেন। ঘুম থেকে উঠে ব্লগে প্রবেশ করে আপনার রেখে যাওয়া ভালবাসার পরশে শীতল হলাম। আপনার জন্যও করবো হাজার প্রার্থনা। আপনার পরিবারের জন্যও রইলো আমার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

২১| ২১ শে মে, ২০১৯ রাত ১১:৪১

কাতিআশা বলেছেন: আপনার জন্য দোয়া রইল!..

২২ শে মে, ২০১৯ রাত ১২:২৫

মেঘ প্রিয় বালক বলেছেন: আপনার জন্যও রইলো দীর্ঘায়ু কামনা। আল্লাহ আপনাকে সকল বালা মসিবত হতে রক্ষা করুুক।

২২| ২২ শে মে, ২০১৯ ভোর ৬:০১

জগতারন বলেছেন:
এই প্রবন্ধটি আমি গতকাল পড়েছিলাম, ভেবেছিলাম সুন্দর একটি মন্তব্য করা দরকার। আমার কথাগুলো প্রিয় ব্লগার এমজেডএফ ও আরেক প্রিয় ব্লগার পদাতিক চৌধুরি বলে দিয়েছেন।
তাই আমি সৎ ও পরিশ্রমী এবং সত্য ভাষী মেঘ প্রিয় বালক শুভকামনা রাখি।

২২ শে মে, ২০১৯ সকাল ৭:১১

মেঘ প্রিয় বালক বলেছেন: শুরুতেই ধন্যবাদ জানিবেন জগতারন,এমজেডএফ ভাই অনেক কথাই বলেছেন,আমিও জবাব দিয়েছি। এমজেডএফ ভাই যা বলেছেন তাতে অনেক কথাই ধোঁয়াশাল জালে বন্দি। আপনি এমজেডএফ আর আমার মন্তব্য গুলো পড়লে হয়তো বুঝতে পারবেন। আর পদাতিক চৌধুরীর কথায় আমি মুগ্ধ হয়েছি। ভালো থাকবেন জগতারন, সময় করে আমি আপনারর ব্লগেও প্রবেশ করবো কিছু জ্ঞান আহরণ করার জন্য।

২৩| ২২ শে মে, ২০১৯ সকাল ৮:৪০

কালো যাদুকর বলেছেন: দেখুন হতাশ হবেন না। আপনার বিশ্লেষন করার ক্যাপাসিটি খুবই ইমপ্রেস করার মত। এটা একটা ভাল পোস্ট লিখেছেন। একটু ইংলিশ শিখলে ও একটা অনার্স পাশ করলে আপনি ইজিলি আরো সাকসেসফুল হবেন। যেহেতু এখন আপনাদের অবস্থা একটু ভাল, দেখুন একটা ডিগ্রী নেয়া যায় কিনা। তারপর একটা ব্যাবসা করার চেষ্টা করুন।উপদেশ দিচ্ছি না, অভিগ্ঞতা ঠেকে বলছি।
এখনকার অনেকের মত আমিও মনে করি, এই মানুষগুলো যদি দেশে সুযোগ পেত, তাহলে সবদিক দিয়েই ভাল হত, দেশের লাভ হত, এই মানুষ গুলো ও লাভবান হত, এরকম প্রবন্চনার শিকার হত না।

একজন প্রবাসী হিসাবে আমি আপনার সাথে
সম্পূর্ণ সমব্যাথী।

সবচে খারাপ লাগে যখন দেখি আমাদের বোনরা যৌণ নির্যাতনের শিকার হয়। এখানে মিডিল ইস্টের ভাই্য়েদের জন্য একটা গালি।

একটাই উপায় এ থেকে মুক্তির সেটা হল প্রকৃত শিক্ষা অর্জন করে সচেতন হওয়া, এবং যারা এরকম কথা বলে তাদের উপযুক্ত জবাব দেয়া।

২২ শে মে, ২০১৯ দুপুর ১:১৬

মেঘ প্রিয় বালক বলেছেন: ধন্যবাদ কালো যাদুকর,আপনি জেনে খুশি হবেন,আমি মোট ৬ টি ভাষায় অর্নগল কথা বলতে পারি,তার মদ্য হতে ৫ টি ভাষায় লিখতেও পারি, পড়তেও পারি। ৫/৬ জন ইংরেজদের সাথে কিভাবে কথা বলতে হয় তা আমার ভালো করেই জানা আছে। ডিগ্রি বা অনার্স সৌদি আরব থেকে কিভাবে করবো জানা নেই আমার,তবে আমি খোজ নিয়ে দেখবো। আপনার জন্য শুভকামনা নিঃশেষ।

২৪| ২২ শে মে, ২০১৯ সকাল ৮:৪২

কালো যাদুকর বলেছেন: ++ মিডিল ইস্টের ভাই্য়েদের বলতে যারা আমাদের বোনদের যৌণ নির্যাতন করে তাদের কথা বলেছি।

২২ শে মে, ২০১৯ দুপুর ১:১৬

মেঘ প্রিয় বালক বলেছেন: বুঝতে পেরেছি।

২৫| ২২ শে মে, ২০১৯ দুপুর ১২:১৪

তাজেরুল ইসলাম স্বাধীন বলেছেন: :(

২২ শে মে, ২০১৯ দুপুর ১:১৮

মেঘ প্রিয় বালক বলেছেন: তাজেরুল ইসলাম স্বাধীন ♥

২৬| ২২ শে মে, ২০১৯ বিকাল ৪:২৫

কালো যাদুকর বলেছেন: চেস্টা করুন আরব আমিরাতে ভর্তি হওয়ার। ওদের আন্ডার গ্রাড স্কুল ভাল। চেস্টা করুন কিছু টাকা জমিয়ে , ঐ স্কুলে চলে যান, সর্বোচ্চ তিনবছর লাগবে ডিগ্রী নিতে। ডিগ্রী থাকলে এবং ভাযা দখ্যতা থাকলে আপনি একটা "সাদা কালালের" জব পাবেন, চাইলে ব্যবসা ও করতে পারেন।

২২ শে মে, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:০৮

মেঘ প্রিয় বালক বলেছেন: ধন্যবাদ ভালো পরামর্শ দেওয়ার জন্য।

২৭| ২২ শে মে, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:২২

মাহমুদুর রহমান বলেছেন: যে মানুষগুলো অতি দেশপ্রেম দেখায় ওরাই প্রকৃত দেশদ্রোহী।

২২ শে মে, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:০৯

মেঘ প্রিয় বালক বলেছেন: আপনার কথার সাথে মিল রেখে একটা বাক্য মনে পড়ে গেলো,বাংলায় একটা প্রবাদ আছে,অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ।

২৮| ২৩ শে মে, ২০১৯ রাত ১০:২৬

আর্কিওপটেরিক্স বলেছেন: সরকারের উদাসীনতার কারনেই দালালদের এতোটা দুরাচার !

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি প্রয়োজন। কারিগরি শিক্ষার প্রসার দরকার। লেখাপড়াকে জীবন, কর্ম কেন্দ্রীক করলে ভালো হয়।

আপনি যেহেতু কয়েকটি ভাষা জানেন, তাই দেশে দোভাষীর কাজ করতে পারতেন। এতে দেশে আসা পর্যটকদের সুবিধা হতো। আপনি বিদেশে এমনটা করা যায় কিনা দেখুন !

বাইরে পড়াশোনার চেষ্টা করুন। সাথে কাজ করাটা অবশ্যই কষ্টদায়ক, তবে জীবন বড়ই নিষ্ঠুর !

আপনার জীবন কাহিনি পড়ে অনেক দুঃখ পেলাম :( আপনার উন্নতি কামনা করি !

২৩ শে মে, ২০১৯ রাত ১০:৫৪

মেঘ প্রিয় বালক বলেছেন: হৃদয় থেকে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করছি,আপনি আমার ব্যাথায় সম ব্যাথিত,সেজন্যও আমি দুঃখিত। আপনার প্রত্যেকটি কথার সাথে আমি সহমত। আমি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি,দুঅা করবেন যেন সফল হতে পারি।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.