| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রাত ১০ টা । এলাকার এক বড় ভাইয়ের লগে হাটতাছিলাম । বাপের সরকারী চাকরীর সুবাদে জন্মের আগ থিকা ঢাকায় থাকি । আমাগো সরকারী কোয়ার্টারটা খুবই সুন্দর । গ্রামের মত দেখতে। যাই হোক । অই বড় ভাইও তার বাবার প্রচেষ্টায় একটা সরকারী চাকরী নামক সোনার হরিন জুটাইয়া ফেলছে । তবুও নাকি ২ লাখ টাকা ঘুষ লাগছে। আমরা কোয়ার্টারের মধ্যেই হাটতাছিলাম । ওনার আম্মা বারবার ফোন দিতাছিল। আমিও কইলাম ভাই যান গা। কিন্তু উনি যাইতে চাইতাছেন না । আমার লগেই হাটতাছেন । একটু পর দেখি কাকী নিজেই বাসা থেকে বের হইয়া আসলেন । আইসাই কড়া ধমক , 'কিরে কয়বার ফোন দিছি তরে? বাসায় আয়ছ না কে? কয়টা বাজে? আমি কিছু বলার আগেই অই ভাই বইলা উঠল কি হইছে ? সমস্যা কি ? যান বাজারের থেইক্যা একটা ফিটার নিয়ে আসেন , সারাদিন বাসায় বসে বসে খাই । অই আয় বইলা আমারে একটা ডাক দিয়া আবার হাটা শুরু। আমি ত পুরাই চুপচাপ। কারে আর কি কমু , সবাই হট। কাকী একটু দূরে দাড়ায়া কাকারে ফোন দিয়ে কাহিনী শুনাইল। অই ভাই আমারে কইলো এখন দেখবি আব্বা ফোন দিব । ঠিকই ১ মিনিটের মধ্যে কাকার ফোন । কাকা আবার খুব ঠান্ডা মেজাজের লোক । সুন্দর কইরা বুঝাইলেন, অই ভাইও বললেন আইচ্ছা একটু পরে যাইতাছি। যাওয়ার আগে আমারে বললেনঃ বুজলি! ভাল্লাগেনা এই বয়সে বাপ-মার চিল্লা চিল্লি। মনে মনে ভাবতাছি আহ! কি সুখেই না আছি আমি । বাবা-মা থাকেন গ্রামে । সরকারী এই বাসায় আমি একা । আমাকে কেও শাসায় না রাত ১ টার পর বাড়ি ফিরলেও ।
পরদিন কাকির লগে রাস্তায় দেখা। এলাকার সব কাকীগো ডায়বেটিস, এর লিগা সবাই সকালে হাটতে বাইর হয়। আমাকে দেইখাই ডাক দিলেন বাবা এদিকে একটু আয়। তারপর বললেন তোর ক খ গ ভাইরে কালকে ডাইকা নিয়া গেছি কিল্লিগা , তুই ত জানছ দেশের এহন কি অবস্থা। আর অয় ত সহজ সরল, কিছু বুঝবনা বন্ধু বান্ধবের পাল্লায় পইরা যদি কোন ঝামেলায় জড়াইয়া পরে বা যদি কোন সমস্যা হয়ে যায়। তুই কিছু মনে করিছ না আবার । আমি কইলাম না কাকী ঠিকই আছে এহন যা অবস্থা রাত ১০টার পর বাইরে থাকলেই রিস্ক। কাকি বললেন দেখ তোর মা যদি এখানে থাকত তাহলে তোকেও কিন্তু রাত ১০ টার পর বাইরে থাকতে দিত না । আমিও বললাম হ কাকী ।
সবাই বলে দূরের ঘাস দেখতে নাকি একটু বেশি সবুজ দেখা যায় কিন্তু চক্ষু ওয়ালা লোকেরা তো কাছের ঘাসই বেশি সবুজ দেখে।
নিজের সুনাম নিজেই করলাম আসলে সবই তাঁর ( আল্লাহর) ইচ্ছা ।
©somewhere in net ltd.