নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

void(0)

আগুনমুখা

আগুনমুখা › বিস্তারিত পোস্টঃ

কসাই ডাক্তার বনাম ক্লিনিক বানিজ্য (ডাক্তার এর টাকার লোভে এক কিশোরীর মৃত্যু)

০৭ ই নভেম্বর, ২০১৩ সকাল ৯:৫৭

পটুয়াখালী শহরে একটি ক্লিনিকে ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় এক কিশোরীর মৃত্যু



বুধবার বিকাল ৩টায় হিমিপলি ক্লিনিকে মারা যায় সদরের ছোটবিঘাই গ্রামের মো. আব্দুল লতিফ হাওলাদারের মেয়ে মাহমুদা বেগম (১৪)। সে ছোটবিঘাই আবেদিনা দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।



মাহমুদার বড়ভাই মো. আলমগীর হোসেন জানান,গত ২৯ অক্টোবর মাহমুদার তলপেটে ব্যথা দেখা দিলে তাকে হিমিপলি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।



ভর্তির পর ওই ক্লিনিকের মালিক ডা. মো. হাবিবুর রহমান রোগীকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই তার পিত্তে পাথর থাকার কথা বলে তড়িঘড়ি অপারেশন করার কথা বলেন।এ বাবদ তাদের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নেয়া হয়।



ওইরাতেই মাহমুদাকে অপারেশন করা হয়।



কিন্তু অপারেশনের পর ব্যথা না কমায় তারা বিষয়টি ডা.হাবিবকে জানান। হাবিব তাদের বলেন, এই ব্যথার কারণ অ্যাপেন্ডিসাইটিসের প্রদাহ।



এরপর ৩১ অক্টোবর মাহমুদাকে আবার অপারেশন করা হয়। কিন্তু অপারেশনের পর পেটের ব্যথা না কমায় ডা. হাবিব বলেন, মাহমুদার পেটের নাড়ি ছিদ্র হয়ে গেছে।



মাহমুদার বাবা লতিফ হাওলাদার জানান, ওই সংকটাপন্ন অবস্থায় মাহমুদাকে তৃতীয়বারের মত গত শনিবার (২ নভেম্বর)রাতে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়। কয়েকঘন্টা পর বের করা হলে দেখা যায় মাহমুদার অবস্থার আরো অবনতি হয়েছে।



তখন থেকে মাহমুদার প্রস্রাব ও পায়খানা বন্ধ হয়ে যায়, শরীর দুর্বল হতে থাকে এবং এক পর্যায়ে তাকে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস দেয়া শুরু হয় বলে জানান লতিফ।



এ অবস্থায় দুপুর সোয়া ২টায় মাহমুদাকে দেখতে আসেন পটুয়াখালী জেলা হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মাজহারুল ইসলাম। তিনিই দুপুর ৩টার দিকে মাহমুদাকে মৃত ঘোষণা করেন।



এর আগে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বুধবার দুপুরে মাহমুদাকে অক্সিজেন দেয়া হয়েছিল বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে নিশ্চিত করেছেন ক্লিনিকে কর্তব্যরত ব্রাদার আশুতোষ।



এ ব্যাপারে ডা. মাজহারুল ইসলাম মৃত্যুর কারন সম্পর্কে সাংবাদিকদের বলেন,“স্বল্প সময়ে তিনটি অপারেশনের ধকল সহ্য করার মত শারীরিক সামর্থ্য রোগীর ছিল না।”



মাহমুদার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে নিহতের বিক্ষুদ্ধ স্বজনরা ক্লিনিকের সামনে জড়ো হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।



এ সময় মৃত কিশোরীর বাবা ও বড়ভাইসহ আত্মীয়স্বজনরা তার মৃত্যুর জন্য হিমিপলি হাসপাতালের স্বত্বাধিকারী ডা. হাবিবকে দায়ী করেন।



তাদের অভিযোগ, মাত্র পাচঁ দিনে মাহমুদার শরীরে ভিন্ন ভিন্ন তিনটি অপারেশন করলে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়।



আত্মীয়স্বজনদের ক্ষোভের প্রেক্ষিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে র‌্যাব ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়।



এ প্রসঙ্গে পটুয়াখালীর সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আনছার উদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন,“আমরা ক্লিনিক পরিদর্শন করে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেছি।”



মামলা দায়েরের পর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে বলে তিনি জানান।



ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ প্রসঙ্গে ডা. হাবিবুর রহমানের সঙ্গে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সেল ফোনে বন্ধ পাওয়া যায়।



ক্লিনিকের ব্রাদার আশুতোষ এ প্রসঙ্গ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন,‍‍“তিনি (হাবিব) সর্বশেষ গত ২ নভেম্বর রাতে রোগীর অপারেশন করার পর আর ক্লিনিকে ফিরেননি।”



ডা. হাবিব বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক হিসাবে কর্তব্যরত বলে নিশ্চিত করেছেন পটুয়াখালী জেলা সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মদন জি পাল।



পাশাপাশি তিনি পটুয়াখালী শহরে হিমিপলি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করে সেখানেও নিয়মিত রোগী দেখতেন বলেও জানান তিনি।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.