নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

And miles to go before I sleep...।

আমি সাজিদ

প্রিয় মানুষদের সাথে চা ছাড়া ঘন্টার পর ঘন্টা কাটিয়ে দিতে পারি।

আমি সাজিদ › বিস্তারিত পোস্টঃ

প্রিয়দর্শিনীকে লেখা নেহেরুর চিঠি, বিশ্ব ইতিহাস প্রসঙ্গ- ৩

৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ৯:৪৯


নাইনি জেলে বসে লেখা শেষ চিঠিগুলোতে নেহেরু তার বলা ইতিহাসের সময়কালকে টেনে নিয়ে এসেছিলেন খ্রিস্টপূর্ব চারশোতে৷ সে সময়কালের বর্ণনায় ইন্দিরাকে তিনি জানিয়েছেন পারশ্য ও গ্রীসের যুদ্ধগুলো সম্বন্ধে। 'রাজাদের রাজা' দারিয়ুসের ব্যর্থতার পর জেরিক্সিসের পারশ্য সম্রাট হওয়া এবং গ্রীস দখল করতে যুদ্ধ ঘোষণা, এই পুরো সময়টিকে কয়েকটি দৃষ্টিকোন থেকে দেখেছেন নেহেরু। ক্ষুদ্র এথেন্স নগর রাষ্ট্রটির ম্যারাথনের যুদ্ধে পারশ্য সেনাদলকে হারিয়ে দেওয়ার ঘটনাটিকে তিনি তুলনা করেছেন ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের সাথে। আবার দারিয়ুসের ব্যর্থতার পরেও জেরিক্সিসের গ্রীসে পুনরায় অভিযান চালানোর ঘটনাকে সংগ্রামের বৃহৎ উদ্দেশ্যের সাথে মেলাতে দেখা যায় তাঁকে। ইন্দিরাকে নেহেরু শুনান হিরোডটাসের বিবরণ থেকে নেওয়া জেরিক্সিসের বিখ্যাত সেই উক্তি -

"..... প্রত্যেক কার্যেই সফলতা এবং বিফলতার সম্ভাবনা সমপরিমানে থাকে। ভবিষ্যতের দাঁড়িপাল্লাটা কোনদিকে ঝুকবে মানুষ তা কেমন করে জানবে? তার পক্ষে সেটা জানা সম্ভব নয়। কিন্তু সফলতা তারাই অর্জন করে যারা এগিয়ে গিয়ে কাজে হাত দেয়"।


নেহেরু ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অনুপ্রেরণা পান গ্রীক বীর লিওনিডাসের উৎসর্গকৃত জীবন থেকেও-

"লিওনিডাস এবং থার্মোপলি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে, সুদূর ভারতবর্ষে আমরাও যখন সে কথা ভাবি আমাদের প্রানেও রোমাঞ্চ জাগে।"


যুদ্ধজয়ী গ্রীসদের নগর রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ঘোরতর বিরোধ যেমন দেখিয়েছেন নেহেরু, তেমনভাবে মানব সভ্যতার অগ্রগতিতে জ্ঞানবিজ্ঞানে গ্রীসের অবদানকেও স্বীকার করে নেন তিনি। তবে ইন্দিরাকে গ্রীক বীর আলেকজান্ডারের পরিচয় দিতে দিয়ে তিনি বলেন 'দিগ্বিজয়ী বীর কিন্তু গর্বান্ধ যুবক' বলে। পৃথিবী জয় করতে করতে সিন্ধুনদের উপত্যকায় এসে আলেকজান্ডারের পুনরায় ফিরে যাওয়ার ঘটনায় স্বস্তিবোধ করেন নেহেরু। নেহেরুর মতে স্বল্পস্থায়ী জীবনে যুদ্ধজয় ছাড়া আলেকজান্ডারের অন্য অর্জন মূল্যহীন। শুধুমাত্র বশ্যতা না মানার জন্য গ্রীসের থিবস নগরী ধ্বংসের ইতিহাস কে ভুলতে পারে!

আলেকজান্ডারের মৃত্যুর পরবর্তী সময়ে ভারতে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের সাম্রাজ্য দখল ও উন্নত শক্তিশালী শাসন ব্যবস্থা পরিচালনা ভারতীয় ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। চন্দ্রগুপ্তের মন্ত্রী চাণক্যের 'কৌটিল্যের অর্থ-শাস্ত্র' গ্রন্থটিও খৃস্টপূর্ব ভারতবর্ষের শক্তিশালী প্রজাবান্ধব শাসনব্যবস্থার প্রমাণ দেয়।

নাইনি জেল থেকে শেষ চিঠি পাঠানোর চৌদ্দমাস পর কন্যার জন্যে ইতিহাসের পাঠ নিয়ে জওহরলাল নেহেরু দ্বিতীয় কিস্তিতে লেখা শুরু করেন। এর মাঝের একটি বছরে তাঁর পিতা গত হোন। এরপর জেল থেকে মুক্ত হয়ে লংকা দ্বীপ ও দক্ষিণ ভারত ভ্রমন করেন তিনি। এরপর তাঁর ঠিকানা হয় বেরিলী ডিস্ট্রিক্ট জেলে। মূলত সেখান থেকেই ইন্দিরাকে দ্বিতীয় দফায় চিঠিগুলো লেখেন নেহেরু। এর পরিধি ছিল মৌর্য সাম্রাজ্যের সময়কাল থেকে ঠিক খৃস্টের জন্মের আগের সময় পর্যন্ত।

আমরা বেরিলি থেকে লেখা প্রথম চিঠিতে মৌর্য সাম্রাজ্যের সম্রাট অশোকের প্রতি নেহেরুর দুর্বলতা দেখতে পাই। কলিঙ্গ বিজয়ের পর অশোকের মনে যে বিষাদ উপস্থিত হয় তা নেহেরুকে প্রভাবিত করে। অশোকের শাসনামলে তাঁর কীর্তিকথার যে বিবরণ লিপি খন্ডগুলোতে দেখতে পাওয়া যায় তার গভীরতা নিয়েও ইন্দিরাকে জানান জওহরলাল। আমরা আগেই বিভিন্ন চিঠিতে বৌদ্ধ ধর্ম নিয়ে নেহেরুর আগ্রহ দেখতে পাই। এখানেও তিনি অশোকের সময়ে ভারতবর্ষে কিভাবে বৌদ্ধ ধর্ম দ্রুত প্রসারিত হল সে প্রেক্ষাপট নিয়ে লেখেন। অশোক যেভাবে সুশাসনের মাধ্যমে ভারতবর্ষ জুড়ে রাস্তাঘাট, হাসপাতাল, কুয়ো, বাগান, বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করেন, তার ইতিহাস জানাতে গিয়ে আমরা গর্বিত নেহেরুকে দেখতে পাই।

অশোকের সময়ের পৃথিবী অর্থাৎ খৃস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে প্রাচীন সভ্য পৃথিবী বলতে প্রধানত বোঝানো হত ইউরোপ ও ভূমধ্যসাগরীয় দেশগুলো, পশ্চিম এশিয়া, চীন ও ভারতবর্ষকে। এইসময়ে বাকি সভ্যতা সমন্ধে খুব গভীর কিছু জানা যায় না। নেহেরু এই নিয়ে বলেন-

"বিশ্বের যে ইতিহাসটি আমরা জানি তা মোটেও স্বয়ং সম্পূর্ন নয় কারন সমসাময়িক পুরো চিত্রটি আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়।"

অশোকের সমসাময়িক রাজা ছিলেন চীনের শি হুয়ান টি। শি চীনে শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শাসনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন এবং চীনের বিখ্যাত প্রাচীর নির্মান শুরু করেন। প্রাচীন ভারত থেকে হান বংশকালে চীন, কোরিয়া ও পরবর্তীতে জাপানে কিভাবে বৌদ্ধ ধর্ম প্রভাব বিস্তার করে তার ব্যখ্যাও মেয়েকে দেন নেহেরু।

খৃস্টপূর্ব অষ্টম শতাব্দীতে রোম নগরের সাথে সমসাময়িক ফিনিশীয় নাবিকদের কার্থেজ নগরীর যুদ্ধ উঠে আসে নেহেরুর বর্ণিত ইতিহাসে। রোমের সিনেট ও কন্সালের ভিত্তিতে চলা শাসনব্যবস্থা অবাক করে নেহেরুকে। প্রসঙ্গ ক্রমে চলে আসে প্রাচীন রোমে অভিজাত প্যাট্রিসিয়ান ও গরীব পিলবিয়ানদের মধ্যের রক্তাক্ত সংঘর্ষ ইতিহাস। নেহেরু দাবী করেন, রোম নগরের ঐশ্বর্যের মূলে ছিল ক্রীতদাস ব্যবসা। প্রাচীন মিশর ও গ্রীসের উত্থানের পেছনেও ছিল এই ক্রীতদাস ব্যবসা। একই সময়ে ভারতবর্ষ ও চীনে জঘন্য দাস-ব্যবসার অস্তিত্ব ছিল না তা নিশ্চিত করেন।

আমরা নেহেরুকে দেখি, আধুনিক ইউরোপের অহংকার মেনে নিতে পারলেও রোমের প্রজাতন্ত্রের সময়টিকে তিনি আধুনিক ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলোর জন্মদাতা বলে স্বীকার করেন। কিন্তু সে সেময় পৃথিবীর ইতিহাসে শুধু রোমানরাই একমাত্র অধিপতি ছিল না সেটিও মনে করিয়ে দেন। জুলিয়াস সিজারের মৃত্যুর পরে অগাস্টাস সিজারের ক্ষমতা দখলই রোমে আনুষ্ঠানিক ভাবে রাজতন্ত্রের সূচনা হয়। ঠিক এটাই ভারতে মৌর্য সম্রাট অশোকের মৃত্যুর পরের সময়কাল। ভারতের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই, তখন মৌর্য সাম্রাজ্যের পতন ঘটেছে। দৃশ্যপটে এসে দাঁড়ায় সনাতন ধর্মের পুনরুত্থান এবং অশোকের সময়ে বিকশিত বৌদ্ধ ধর্মের ছন্দপতন। মধ্য এশিয়ার নানা জাতির আক্রমনে উত্তর ভারতের অধিবাসীরা স্বেচ্ছায় রওয়ানা দেয় দক্ষিণ ভারতে। নেহেরুর মতে এই ঘটনার পরে ইতিহাসের পরবর্তী সময়ে, যখন উত্তর ভারতের বাসিন্দারা এক মিশ্র সংস্কৃতিতে মিশে গিয়েছিল, তখন দক্ষিণ ভারত পরিণত হয় খাঁটি ইন্দো- আর্য প্রথার কেন্দ্রে। দক্ষিণের অধিবাসীরা শত শত বছর ধরে প্রাচীন এই আর্য সভ্যতার ধারা বজায় রেখেছিল।

আগেই আমরা জেনেছি, উত্তরভারত তখন নানা মধ্য এশিয়ান জাতির আক্রমনে বিপর্যস্ত। এই সুযোগে জাতিগুলোর মধ্য থেকে কুষানরা সাম্রাজ্যের বিস্তার করতে সক্ষম হয়। কনিষ্ক তখন সিংহাসনে বসেন। দক্ষিণ ভারতেও সমসাময়িক অন্ধ্র সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়। অশোকের পর কনিষ্ক বৌদ্ধ ধর্মকে আরও প্রসারিত করেন। মহাযান ও হীনযান এই দুটি বৌদ্ধ ধারা এসময়ই আসে। কুষান শাসিত পূর্ব ভারতবর্ষ ও দক্ষিণের অন্ধ্র সাম্রাজ্য উভয়ের সাথেই ইউরোপ ও ভূমধ্যসাগরীয় দেশগুলোর সম্পর্ক ছিল তখন।

নেহেরু কন্যা ইন্দিরা এক পর্যায়ে বৌদ্ধ ধর্মের স্বরুপ তাঁর নিজের দৃষ্টিকোন থেকে জানান এভাবে -

" গৌতম ছিলেন মূর্তিপূজার বিরোধী। তিনি নিজেকে দেবতা বলে দাবী করেন নি। তিনি ছিলেন জ্ঞানী, বুদ্ধ। এই মনোভাবের দিক থেকে বুদ্ধ কোনো মূর্তিতে প্রকাশ পাননি। কিন্তু ব্রাহ্মণরা হিন্দু আর বৌদ্ধ ধর্মের বিভেদ ঘোচাবার উদ্দেশ্যে বৌদ্ধ ধর্মের মধ্যে হিন্দু আদর্শ প্রবর্তন করতে চেয়েছে। গ্রীস- রোম থেকে যেসকল কারিগর এ দেশে এসেছিল তাদের দিয়ে দেবমূর্তি গড়ানো হত। এভাবেই ক্রমে বৌদ্ধ মন্দিরে মন্দিরে মূর্তি গড়ে উঠতে লাগলো। "

( চলবে)

মন্তব্য ৪১ টি রেটিং +১০/-০

মন্তব্য (৪১) মন্তব্য লিখুন

১| ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১০:০৫

করুণাধারা বলেছেন: ভালো লাগলো এই পর্বও। পরপর পর্ব গুলো দিয়ে যাচ্ছেন দেখে পড়তে আগ্রহ বাড়ছে।

৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১০:০৯

আমি সাজিদ বলেছেন: ধন্যবাদ করুণাধারা আপি। এ সিরিজ লিখে আমি নিজেও সমৃদ্ধ হচ্ছি।

২| ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১০:১২

নেওয়াজ আলি বলেছেন:
ভীষণ ভালো লাগলো।

৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১০:৫৯

আমি সাজিদ বলেছেন: ধন্যবাদ নেওয়াজ ভাই। আশা করি পরের পর্বগুলোতেও সাথে থাকবেন।

৩| ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১০:৪৫

মনিরা সুলতানা বলেছেন: ধন্যবাদ চমৎকার এই অনুবাদের জন্য।

৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১০:৫৬

আমি সাজিদ বলেছেন: আমি অনুবাদের সারসংক্ষেপ নিজের ভাষায় অনুবাদ বইটি সাহায্য নিয়ে লেখছি। অনুবাদ করি নি। মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ আপি।

৪| ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১০:৪৭

রাজীব নুর বলেছেন: আপনি কি নিজে অনুবাদ করেছেন?

৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১০:৫৫

আমি সাজিদ বলেছেন:

না, আমি অনুবাদ করি নি। এই বইটি আগে থেকেই অনূদিত। আমি শুধু পাঠক হিসেবে নেহেরুর দৃষ্টিকোন থেকে ইতিহাসকে তুলে ধরছি। এই বইটির সাহায্য নিয়েই।

৫| ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১০:৫৫

চাঁদগাজী বলেছেন:



নেহেরু এ্ত পুরানো দিনে কথা বলেছিলেন? ইন্দিরা অল্প বয়সে ইউরোপের রিপাবলিক রাষ্ট্রীয় ব্যবস্হা দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন।

৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১০:৫৮

আমি সাজিদ বলেছেন: জ্বি৷ জেলে বসে প্রচুর পড়াশোনা করেছেন বুঝা যাচ্ছে৷ একেকটি চিঠি লিখতে তাকে বেশ ঘাঁটাঘাঁটি করতে হয়েছে সে সময় আমি নিশ্চিত।

৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১১:০৩

আমি সাজিদ বলেছেন: ইন্দিরার পড়াশুনার একটা অংশ সুইজারল্যান্ডে কিন্তু।

৬| ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১১:০১

শায়মা বলেছেন: এইগুলো তো চিঠি নাকি ইতিহাস?

৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১১:০৪

আমি সাজিদ বলেছেন: এই সিরিজের আপনাকে স্বাগতম। এগুলো চিঠিতে লেখা ইতিহাস।

৭| ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১১:১৬

ইলি বলেছেন: খুব ভাল লেগেছে। ধন্যবাদ।

০৩ রা অক্টোবর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৪৩

আমি সাজিদ বলেছেন: ধন্যবাদ ইলি ভাইয়া। পরের পর্বগুলোতেও সাথে থাকবেন আশা করি।

৮| ০১ লা অক্টোবর, ২০২০ সকাল ১০:৪৩

দেশ প্রেমিক বাঙালী বলেছেন: চমৎকার তথ্যসমৃদ্ধ লেখা। পরের পর্বের অপেক্ষাতে থাকলাম।

০৩ রা অক্টোবর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৪৫

আমি সাজিদ বলেছেন: ধন্যবাদ দেশ প্রেমিক ভাই। একটা কৌতুহল ছিল, দেশ প্রেমিক বাংলাদেশী এবং দেশ প্রেমিক বাঙ্গালী এই দুটোর মধ্যে পার্থক্য কি?

৯| ০১ লা অক্টোবর, ২০২০ দুপুর ১২:০১

কাজী ফাতেমা ছবি বলেছেন: ভালো লাগলো

০৩ রা অক্টোবর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৪৬

আমি সাজিদ বলেছেন: ধন্যবাদ ছবি আপু। পরের পর্ব দিবো জলদিই।

১০| ০১ লা অক্টোবর, ২০২০ বিকাল ৩:১৮

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: ১২ বা ১৩ বছরের একটা কিশোরীকে এত কিছু শেখানোর চেষ্টা করাটা একটু অস্বাভাবিক লাগে। আসলে পণ্ডিত ব্যক্তিদের দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের মতো হয় না। ইন্দিরা চিঠির জবাবে কি লিখতেন এটা জানার আগ্রহ হচ্ছে। রাজা বাদশাহ আর এরকম পণ্ডিত ব্যক্তিদের ঘরে যে কিশোর- কিশোরী জন্মায় এরা মনে হয় কিশোর বয়সের চপলতার, মনের আনন্দে যা কিছু করার সুযোগ পায় না।

০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২০ দুপুর ২:৫০

আমি সাজিদ বলেছেন: : জ্বি৷ বিষয়টি অদ্ভুত বটে। তবে নেহেরু বোধহয় ভাবেন নাই যে ইন্দিরা এইসব চিঠির সবটাই সে বয়সে বুঝতে পারবে। ভবিষ্যতের ইঙ্গিতও আছে কয়েকটা চিঠিতে। রাজা বাদশাহ আর এরকম পণ্ডিত ব্যক্তিদের ঘরে যে কিশোর- কিশোরী জন্মায় এরা মনে হয় কিশোর বয়সের চপলতার, মনের আনন্দে যা কিছু করার সুযোগ পায় না।, আমারও তাই মনে হয়।

১১| ০১ লা অক্টোবর, ২০২০ বিকাল ৪:৫০

রাজীব নুর বলেছেন: আমার মন্তব্যের উত্তর দেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ।

০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২০ দুপুর ২:৫১

আমি সাজিদ বলেছেন: সামান্য কারনে ধন্যবাদ দিয়ে আমাকে একটা বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দিচ্ছেন।

১২| ০১ লা অক্টোবর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৫০

অনল চৌধুরী বলেছেন: নেহেরু নিশ্চয় স্মৃতি থেকে সব লেখেননি।
কারাগারের গ্রন্থাগারে বসে পড়াশোনা করেছেন।

০৭ ই অক্টোবর, ২০২০ বিকাল ৫:১৯

আমি সাজিদ বলেছেন: অবশ্যই পড়াশুনা করতে হয়েছে। সেটা তিনি বেশ কয়েকবার উল্লেখ করেছেন।

১৩| ০২ রা অক্টোবর, ২০২০ রাত ১০:৫০

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: কারাগারে বসে একজন দায়িত্বশীল বাবার কন্যাকে সমাজ সংস্কৃতি বহির্বিশ্ব সম্পর্কে পরিচয় করানোর জন্য ছটফট করছেন বিভিন্ন চিঠিতে তারা আকুতি যেন ফুটে উঠেছে। আপনিও ভালো মুল্যায়ন করেছেন।চলতে থাকুক।
পরের পর্বের অপেক্ষায়।
পোস্টে ষষ্ঠ লাইক।
শুভকামনা জানবেন।

০৭ ই অক্টোবর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:২০

আমি সাজিদ বলেছেন: আমি আমার দৃষ্টিতে মূল্যায়নের চেষ্টা চালাচ্ছি। পরের পর্বের জন্য ধীর স্থির হয়ে বসবো সে সময়টা পাচ্ছি না। ব্লগে এমনেই এসে কমেন্ট করা হয় কিন্তু লিখতে গেলে বসা লাগে।

ধন্যবাদ পদাতিক দা।

১৪| ০৩ রা অক্টোবর, ২০২০ বিকাল ৪:০২

ঢুকিচেপা বলেছেন: গত পর্বের ধারাবাহিকতায় এই পর্ব পড়ে কিছু জানা হলো।
আপনি লিখতে থাকুন আর আমি পড়তে থাকি।

০৭ ই অক্টোবর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:২৯

আমি সাজিদ বলেছেন: ধন্যবাদ। উডবার্ন পাবলিক লাইব্রেরিতে গেছিলেন কখনও?

১৫| ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২০ দুপুর ১:৫৭

জাহিদ হাসান বলেছেন: নেহেরু, মহাত্না গান্ধী, মোদির প্রতি আমার কোন ইন্টারেষ্ট নাই।

এদের নাম দেখলেই Skip করি।

০৭ ই অক্টোবর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৩০

আমি সাজিদ বলেছেন: আচ্ছা। যেসব বিষয়ে আগ্রহ নেই সেগুলো স্কিপ করাও ভালো।

১৬| ০৭ ই অক্টোবর, ২০২০ বিকাল ৫:১১

কল্পদ্রুম বলেছেন: নেহেরু সবরকম উপায়েই প্রিয়দর্শিনীর ভিতরে জাতীয়তা বোধ জাগাতে চেষ্টা করেছিলেন মনে হচ্ছে। উত্তর ভারতের মিশ্র সংস্কৃতির ব্যাপারে নিজের পছন্দ বা অপছন্দ জানিয়ে কন্যার উদ্দেশ্যে আরো কিছু কি লিখেছিলেন?

০৭ ই অক্টোবর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৩৬

আমি সাজিদ বলেছেন: হ্যাঁ কল্পদ্রুম ভাইয়া। ওইটুকুন বয়সেই জাতীয়তা বোধের দীক্ষা দিচ্ছিলেন ইন্দিরাকে। যদি আমরা সময়টার দিকে তাকাই, সেটাও বড় অশান্ত সময় ছিল। যতদূর বুঝেছি, দক্ষিণ ভারতে বিশুদ্ধ আর্যাচারের স্বকীয়তার গুনগান কিন্তু আকারে ইঙ্গিতে গেয়েছেন জওহরলাল। সেভাবে সরাসরি উত্তরের মিশ্র সংস্কৃতি নিয়ে কিছু বলেননি। আমি কিন্তু বইটি পুরো শেষ করি নি এখনও। যতটুকু পড়েছি তার উপর ভিত্তি করে বললাম আর কি।

তামিল ভাষার শব্দ ভান্ডারের সাথে বিশ্বের অনেক ভাষার শব্দ ভান্ডারের মিল আছে, একটা ভিডিও দেখেছিলাম। এই বিষয়ে আপনার ধারনা জানাবেন।

১৭| ০৭ ই অক্টোবর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:২৫

জুন বলেছেন: জানেন আমি সাজিদ গ্রীক ও রোমানদের ইতিহাস আমি পরেছি এইচ এস সিতে। নেহেরুর লেখা চিঠিতে সেই ইতিহাসের কথা মনে পরে যায়। ম্যারাথনের ময়দানে পারস্যের ডেরিয়াসের সৈন্যদের বিরুদ্ধে গ্রীসের ঐতিহাসিক যুদ্ধ জয়ের সংবাদ ২৬ মাইল দূরে এথেন্সে বয়ে নিয়ে গিয়েছিল ফিডিপাইডিস । স্পার্টান রাজা লিওনিডাস এর পরাজয় । আপনি ইংলিশ ম্যুভি 300 দেখেছেন ? কি ভাবে মাত্র তিনশ জন্য সৈন্য নিয়ে লিওনিডাস পারসিয়ান কিং জেরাক্সেসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল। হেরেছিল যেমন হেরেছিল টিপু সুলতান , সিরাজউদ্দৌলা নিজের দলের লোকের প্রতারনায় তেমনি হেরেছিল লিওনিডাস ।
ইতিহাস বইয়ের প্রথম পাতাতেই লেখা আছে হিস্ট্রি রিপিটস ইটসেলফ । কিন্ত কেউ তা থেকে শিক্ষা নেয় না । তাই একই পরিনতি হয় কারো কারো ।
লিখতে থাকেন আমিও মেয়েকে নেহেরুর লেখা চিঠির মাধ্যমে আবার মনে করে নেই আমার পুরনো পড়াগুলোকে ।
+

০৯ ই অক্টোবর, ২০২০ রাত ১২:৪২

আমি সাজিদ বলেছেন: ডেরিয়াস এত শক্তিশালী হয়েও পুঁচকে নগররাষ্ট্র গ্রীসের কাছে হারলো, বিষয়টা বেশ ভাবায়। ভ্রমনজনিত ক্লান্তি ডেরিয়াসের সৈন্যদের হারার অন্যতম প্রধান কারন ধরা হয় । এরপর জেরিক্সিস তো স্থল আর সমুদ্র দুই পথেই বিশাল বাহিনী পাঠিয়েও গ্রীকদের হারাতে পারলো না৷ এথেন্স জ্বালিয়েছে বটে কিন্তু সমুদ্রে তো হারলোই! ৩০০ দেখেছিলাম। তবে অনেক পেছনের ইতিহাসই তখন জানতাম না আপি। বেশ ছোট ছিলাম কিনা! বাটলারকে ভালো লেগেছিল লিওনিডাস চরিত্রে।

উচ্চ মাধ্যমিকে আমাদের সিলেবাসে ছিল না বিধায় কিনা অমূল্য ইতিহাসগুলো অজানা রয়ে গেল, এখন অজানা জেনে নেওয়ার চেষ্টা করছি।

ইতিহাস বইয়ের প্রথম পাতাতেই যেন সব ইতিহাসের গন্তব্য বলে দেওয়া আছে। ইতিহাস ফিরে আসে, ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে কিন্তু একই পরিনতি নিয়ে!


মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ জুন আপু।

১৮| ০৮ ই অক্টোবর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:১২

জুন বলেছেন: নেহেরু যে তার মেয়েকে চিঠিতে বিশ্ব ইতিহাস বলেছে তার উদ্দেশ্য ছিল মেয়ে যেন এখানে যে ভুল গুলো ঘটেছিল তা থেকে শিক্ষা নেয়। টিপু সুলতানের এক সৈন্য বিশ্বাসঘাতকতা করে শ্রী রংগপত্তম দুর্গের দেয়াল ফুটো করে রেখেছিল যার ফলে টিপু সুলতান ইংরেজ দের কাছে পরাজিত হয়েছিল। সেই একই কাজ করেছিল বহু বছর আগে স্পার্টার এক বিকলাংগ ব্যাক্তি। যার ফলে লিওনিডাস তার সৈন্য সহ জেরাক্সেসের কাছে অসহায় ভাবে পরাজিত ও মৃত্যুবরণ করেছিল।
নেহেরু বিজ্ঞ ব্যাক্তি ছিলেন তাই ছোট বেলা থেকেই তার মেয়েকে প্রকৃত একজন রাস্ট্র নায়ক হিসেবে শিক্ষা দীক্ষা ছাড়াও বাস্তব জ্ঞ্যানে জ্ঞ্যানী হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছেন।

০৯ ই অক্টোবর, ২০২০ রাত ১২:৫৩

আমি সাজিদ বলেছেন: আমি তো ইন্দিরার শাসন আমল নিয়ে খুব গভীরভাবে পড়িনি। তাই ইন্দিরাকে নিয়ে আপনার মতামত জানতে চাচ্ছি। আপনি ইন্দিরাকে কেমন ভাবে মূল্যায়ন করবেন? বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করেই কি রাজনৈতিক সফলতা ও রাষ্ট্র পরিচালনায় দূরদর্শিতা দেখিয়েছেন?

লিওনিডাস বা টিপু সুলতান, নবাব সিরাজ বা স্বাধীন বাংলাদেশের বঙ্গবন্ধু সবাই কাছের মানুষদের বিশ্বাসঘাতকতায় হেরেছেন! এ যেন ইতিহাসের ভিন্ন ভিন্ন মঞ্চে একই নাটকের মঞ্চায়িত হওয়া!

১৯| ০৮ ই অক্টোবর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৩০

মা.হাসান বলেছেন: গ্রীস- রোম থেকে যেসকল কারিগর এ দেশে এসেছিল তাদের দিয়ে দেবমূর্তি গড়ানো হত। এভাবেই ক্রমে বৌদ্ধ মন্দিরে মন্দিরে মূর্তি গড়ে উঠতে লাগলো।

আমার জন্য এই বিষয়টি একেবারেই নতুন।

নেহেরু জানতেন ভারত একদিন স্বাধীন হবে। ইতিহাস না জানলে দেশ গড়া যাবে না। নেহেরু সম্ভবত জানতেন ভারত স্বাধীন হলে স্বাধীন দেশের রাষ্ট্র পরিচালনায় তিনি সম্পৃক্ত হবেন। কিন্তু তিনি কি তার কন্যার ভবিষ্যতও দেখতে পেয়েছিলেন?

পরের পর্বের অপেক্ষায় থাকলাম।

০৯ ই অক্টোবর, ২০২০ রাত ১:১১

আমি সাজিদ বলেছেন: তাহলে যে সনাতন ধর্ম এখন প্রচলিত তা বৌদ্ধ ধর্ম থেকে কিছু মতাদর্শ আপন করে নিয়েছে আবার এখন যে বৌদ্ধ ধর্ম আছে তাও বিভিন্নভাবে পরিবর্তিত হয়েছে! আমিও বিষয়টি আগে এভাবে ভেবে দেখি নাই। আরও কিছু প্রশ্নও মনের মাঝে চলে আসে, বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার রোধে সনাতন মতাদর্শের লোকেরাই যে হীনযান ও মহাযান এই দুটিভাগ করে নি, তা কিভাবে নিশ্চিত হই?

এতো বিষয় থাকার পরেও ইতিহাস নিয়ে মেয়েকে আয়োজন করে চিঠি লেখা ইঙ্গিত দেয় যে, কোন একসময় এগুলো বই আকারে ছাপানো হোক এমনটাই তিনি চেয়েছিলেন। আর বইটি তো বিশ্বের নানা ইতিহাসের সাথে ভারতবর্ষকে এক সুতোয় গাঁথার একটা প্রচেষ্টা। ইন্দিরার কাছ থেকে নেহেরুর কি প্রত্যাশা ছিল তা এখনও অস্পষ্ট আমার কাছে।

পরের পর্ব লিখে ফেলার চেষ্টা করবো জলদিই ।

২০| ০৯ ই অক্টোবর, ২০২০ রাত ১১:৩৬

ঢুকিচেপা বলেছেন: “ উডবার্ন পাবলিক লাইব্রেরিতে গেছিলেন কখনও?”

উডবার্নে খুব ছোটবেলা থেকেই যাওয়া আসা ছিল। তখন ছিল পার্কের মধ্যে। এখনতো পার্কের পশ্চিম পার্শ্বে নতুন করে করেছে, ওখানে যাওয়া হয় না।

১০ ই অক্টোবর, ২০২০ সকাল ১১:০৯

আমি সাজিদ বলেছেন: জ্বি আচ্ছা।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.