| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, দেশের যে অবস্থা দাঁড়িয়েছে, তাতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়টা অনেকটাই ভিন্ন খাতে প্রবাহিত। জামায়াত শিবির যে কাজটা করতে চেয়েছিল সেই কাজে তারা অনেকটাই সফল, আন্দোলন থেকে মানুষের দৃষ্টি একটু সরিয়ে নেওয়া। বিএনপি কে তারা এ কাজে চেয়েছিল, এবং তা পেয়েছেও, অত্যন্ত হতাশাজনক আমাদের জন্য যারা শাহবাগ আন্দোলনের পক্ষে ছিলাম শুরু থেকেই। জামায়াত শিবির যে তাণ্ডবলীলা চালাচ্ছে, মানুষ এখন তা নিয়েই চিন্তিত। সরকারও কি খানিকটা বেকায়দায় নয়? অবশ্য তারা যে এমনটা করতে পারে তার ধারনা শুরু থেকেই ছিল। কিন্তু বিএনপি যে নগ্ন ভাবে সমর্থন দিয়ে যাবে, এই ব্যাপারে আমার কিছুটা সংশয় ছিল। তার উপর এখন নতুন করে শুরু হয়েছে আরেক উৎপাত( বুঝিনা ছাগু রোগ টা কি সংক্রমক কি না) আন্দোলনকারীদের রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে অনর্থক প্যাকপাকানি। অনেকেই যারা আন্দলনটিকে সমর্থন দিয়ে আসছিলেন, তারা কেউ কেউ ভুগছেন এখন এই ছাগু ফোবিয়াতে। "অমুখ লীগ এর লিডার, তমুখ আওয়ামী লিগের সমর্থক, ঐ লোক জয় বঙ্গবন্ধু কইসে.।.। সো এই আন্দোলন লিগের আন্দোলন, হইব না, আমি নাই।" পুরাই আজিব !! তাদের এই ফোবিয়াটা চরম ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে গোলাপি ম্যাডামের সেই বক্তব্যের পর। বুঝিনা তারা আসলে চায় টা কী?? যুদ্ধাপরাধীদের বিচার?? নাকি চরম লিগ বিদ্বেষ থেকেই তাদের এই অবস্থান। হ্যাঁ, লিগ বিদ্বেষ থাকা টা মোটেও দোষের কিছু নয়, গত ৪ বছরে লিগ যা করেছে, তাতে জনগনের ক্ষোভ দিনকে দিন কেবল বেড়েছেই, কমেনি। কিন্তু এই অবস্থায় এসে যখন কিনা জাতি এক বেদনাময় কলঙ্ক থেকে মুক্তির একটা সুযোগ পেল, তখন জাতি আবারো হয়ে পড়ছে দ্বিখণ্ডিত। দ্বিখণ্ডিত হবার জন্যে চাঁদে সাঈদির মুখ পর্যন্ত দেখে ফেলছেন তারা। হায়রে! আসলেই, "রেখেছ বাঙালি করে মানুষ করনি।" তাদের জন্যে ইরেশ জাকের এর এই স্ট্যাটাসটি উৎসর্গ করছি,
"অনেকেই বলছে যে শাহবাগ এর কোন কথা মানি না কারন আওয়ামী লীগ তা সমর্থন করে। তাঁদের কে আহবান জানাই মল্ মূত্র ত্যাগ অতি শিগ্রি বন্ধ করে দিতে কারন বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে যে আওয়ামী লীগ এর অনেক নেতা নিয়মিত শৌচাগার এ যান।"
আমরা যেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবির বিষয়টি থেকে পিছিয়ে না আসি কোনভাবেই। আর কত? নোংরা রাজনীতির মারপ্যাঁচে আর যেন আমরা না পড়ি, যেখানে অস্তিত্বের প্রশ্ন, বাকি সব সেখানে গৌণ। ঐ হিংস্র পশুদের বিচারে যেন আর বিলম্ব না হয়। হোক না যত নাটক, আমরা এই নাটক ই চাই। নাটকের মাধ্যমেই যদি তাদের বিচার হয় তবে আমরা সেই নাটক ই দেখতে চাই। একটু ভেবে দেখুন, আমাদের বিভাজনে লাভ হচ্ছে কাদের? সেই যুদ্ধাপরাধী জারজগুলোরই তো, দয়া করে তাই কোন দলের বর্তমান অবস্থানে বিভ্রান্ত হবেন না। ৪২ বছর পর একটি শাহবাগ আমরা পেয়েছি, দয়া করে একে হারাবেন না। দেশ আমাদের একটাই, তিন লক্ষ শহীদ নাকি ৩০ লক্ষ শহীদ সেটা বিষয় না। রক্তের বিনিময়েই আমরা এই দেশ পেয়েছি। আমরা এই দেশের নাগরিক, কাজেই সব দলীয় ভেদাভেদ ভুলে শুধু দেশের স্বার্থেই যেন আমরা এক হই, গরজে উঠি ঐ বেজন্মাদের বিচারের দাবিতে।
আমি নিজে আওয়ামী লীগের অন্ধ ভক্ত না (ভক্তই না), আমার মনে হয় আমার সাথে যত জন শাহবাগে গিয়েছিল তাদের ৯৫ শতাংশই আমার মত অবস্থা। শাহবাগকে সমর্থন দিয়েই যাব কারণ শাহবাগের যে প্রধান দাবি সেইটা যে কোনো বাংলাদেশিরই দাবি হওয়া উচিত, যারা যুদ্ধাপরাধীর বিচার চান না সেইটা তাদের ছাগুময় সমস্যা। ৩০ লাখ শহীদ আর ২ লক্ষ মা-বোনের ধর্ষণের বিচার চাইতে হলে যদি আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিতে হয়, তবে আমি হাসিমুখেই তা দিতে চাই...
জয় বাঙলা।
©somewhere in net ltd.