| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
বাংলাদেশের সরকারী চাকুরিজীবি চিকিৎসকদের একটি বদনাম আছে তারা গ্রামে থাকতে চান না। এই নিয়ে অনেককে দেখি অনেক কথা বলতে। ঢাকার এসি ঘরে বসে তারা শব্দচয়ন করে যান নানা রূপে । এই নিয়ে অনেকদিন থেকে লিখতে চাচ্ছিলাম।![]()
বাংলাদেশের সরকারী চাকুরিজীবি চিকিৎসকদের একটি বদনাম আছে তারা গ্রামে থাকতে চান না। এই নিয়ে অনেককে দেখি অনেক কথা বলতে। ঢাকার এসি ঘরে বসে তারা শব্দচয়ন করে যান নানা রূপে । এই নিয়ে অনেকদিন থেকে লিখতে চাচ্ছিলাম।
আজ ১৪ জানুয়ারি ২০১৩ দৈনিক তে প্রথম আলোর প্রথম পৃষ্ঠাতে ছাপা হল তাদের প্রতিবেদন, ‘ ঢাকায় চিকিৎসক উপচে পড়ছে, গ্রামে পদ শূন্য’(লিঙ্কঃ Click This Link)
হেডিং দেখেই বোঝা যাচ্ছে প্রতিবেদকের জ্ঞানের বহর! সাধারণত ডাক্তারদের পোস্টিং ইউনিয়ন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে। গ্রামে গ্রামে আলাদা করে পোস্টিং হয় না!
এরপর প্রথম আলো লিখেছে, “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০০ শয্যার স্ত্রীরোগ বিভাগে চিকিৎসক আছেন ২৮৪ জন। আর ঢাকার বাইরে ভোলা জেলায় চিকিৎসকদের ৭০ শতাংশ পদ খালি। ” মন্তব্যঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্বায়ত্ব শাসিত। তার সকল স্টাফই স্বায়ত্ব শাসিত প্রতিষ্ঠানের অধীনে। সরকারী কর্মকর্তারা সেখানে পদায়ন নিবেন কিভাবে?
প্রথম আলো লিখেছে, “স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালে স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিভাগে শয্যা ৭৯টি। এখানে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপক আছেন ১৬ জন। রেজিস্ট্রার ও সহকারী রেজিস্ট্রার ১১ জন। মেডিকেল কর্মকর্তা ৩০ জন। এ ছাড়া অবৈতনিক চিকিৎসা কর্মকর্তা আছেন ৩০ জন। এসব চিকিৎসকের সঙ্গে কাজ করেন ৪৫ জন শিক্ষানবিশ চিকিৎসক। মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পদস্থ কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ৭৯টি শয্যার জন্য ১৩২ জন চিকিৎসকের দরকার নেই। ”![]()
মন্তব্যঃ এর ভিতর অবৈতনিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ৩০ জন (এই বর্বর প্রথার নাম অনারারি সিস্টেম:চার বছর বিনাবেতনে সেবা দিতে হবে হাসপাতালে নয়তো এফসিপিএস পার্ট টু দেওয়া যাবে না, না করেও লাভ নাই মানুষ এমবিবিএস ডাক্তারকে কে মানুষ বলেই গণ্য করে না ডাক্তার তো দূরের কথা, পাড়ার মুদি দোকানদার জিজ্ঞাসা করে আপনি কি শুধু এমবিবিএস ডাক্তার?) আর ৪৫ জন শিক্ষানবিশ চিকিৎসক-মোট ৭৫ জন সরকারী চাকুরীজীবী না। বাকি ৫৭ জন সরকারী চাকুরীজীবী। একটা টারসিয়ারি হাসপাতাল (মেডিকেল কলেজে ) একটি বিভাগে ৫৭ জন থাকা কি অস্বাভাবিক? সেখানে বিভিন্ন মেডিকেল ইউনিট আছে এবং কাজ সেভাবে ভাগ করে দেওয়া হয়। টারসিয়ারি লেবেলে রোগীর চাপ কেমন হয় সেটা প্রথম আলোর এই রিপোর্টারের জানা আছে? আরও বড় কথা হচ্ছে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপকের কাজ রোগী দেখা নয়, তাদের কাজ স্টুডেন্ট পড়ানো, রাউন্ড দেওয়া এবং তখন জুনিয়রদের দেওয়া চিকিৎসাপত্র দেখে তা মূল্যায়ন করা এবং দরকার হলে রিএসেস করা। চিকিৎসা মূলত করে আইএমঅ, এইচএমও এবং শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা। এছাড়া প্রথম আলোর রিপোর্টে আরও গলদ আছে। এখানে বলা হয়েছে মেডিকেল কর্মকর্তা ৩০ জন। এর ভিতর কয়জন ইনডোরে কাজ করেন? কয়জন আউটডোরে কাজ করেন সেই সম্পর্কে কিছু বলা হয় নাই। একটি টারসিয়ারি প্রতিষ্ঠানে আউটডোরে কি পরিমাণ রোগীর চাপ থাকে সেটা কি প্রথম আলোর এই রিপোর্টার জানেন না?
এই বিষয়ে ডাক্তার নুরুল আজিমের বিশ্লেষণ প্রণিধানযোগ্য, “ রিপোর্টের প্রথমে বলা হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্ত্রীরোগ বিভাগে চিকিত্সক ২৮৪ জন যার মধ্যে ১৯০ জন চিকিত্সক ডিপ্লোমা, এম.এস এবং এফ.সি.পি.এস শিক্ষার্থী। আমার প্রথম প্রশ্ন এই চিকিত্সকের সবাই কি সরকারী চিকিত্সক? উত্তর হবে না। কোর্সের সবাই সরকারী নয়। এখানে ৫০-৬০ ভাগ চিকিত্সক বেসরকারী। আর যারা সরকারী কোটায় সুযোগ পেয়েছে তারাও নিয়ম অনুযায়ী কমপক্ষে ২ বছর উপজেলা পর্যায়ে চাকুরী করে, পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তারপর এসেছে কোর্সে। এরা এসেছে শিক্ষার্থী হিসেবে, কোন রাজনৈতিক পদায়নে নয়। আর বাকি যেসকল চিকিত্সক এখানে কর্মরত আছেন তারা কেউই সরকারী চাকুরজীবি নয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান।এখানকার সব চাকুরিজীবি বিসিএস নয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়ে তারপর চাকুরী করছেন। তাহলে এই চিকিত্সকরা কেন উপজেলা পর্যায়ে কাজ করবেন এটা কি ঐ সাংঘাতিক উত্তর দিবেন? হাস্যকর তথ্য উপস্হাপন করে আর কতদিন রিপোর্ট করবেন? এবার আসা যাক স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ এর স্ত্রীরোগ বিভাগের বিষয়ে এখানে বলা হয়েছে চিকিত্সক ১৩২ জন যার মধ্যে ৩০ জন্য চিকিত্সক অবৈতনিক মেডিকেল অফিসার যারা সরকারী চিকিত্সক নন এবং এখানে কাজ করার জন্য কোন রকম ভাতা উনারা পাননা। বিনা বেতনে কাজ করাও তাহলে এখন অপরাধ? আর ৪৫ জন হচ্ছেন ইন্টার্ণ অর্থাত্ শিক্ষানবিস চিকিত্সক যারা ঐ মেডিকেল কলেজ থেকে পাশ করে হাসপাতালে কাজ করছেন শেখার জন্য।আর এই সংখ্যা ৪৫ জন হওয়ার কারন আমি যতদূর জানি ২ ব্যাচ একসাথে ওভারলেপিং হওয়ার কারনে হয়েছে। এটা সাময়িক। কয়েকদিনের মধ্যে এই সংখ্যা কমে আসবে।এটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার এদের কেউই কিন্তু সরকারী চিকিত্সক নন। এই চিকিত্সক বৃন্দ এখানে কাজ করার বিনিময়ে সম্মানি পান যা একজন বড়লোকের ড্রাইভারের বেতন থেকেও কম।না জানি আবার ঐ সাংঘাতিক বলে বসেন বেতন নিয়া এখানে কেন কাজ করছে? উপজেলায় নয় কেন? ঐ সাংঘাতিক মহোদয়ের উদ্দেশ্যে বলা এরা শিক্ষানবিস চিকিত্সক, এমবিবিএস সার্টিফিকেট পাওয়ার এবং বিএমডিসির রেজিস্ট্রেশন পাওয়ার শেষ পর্যায়ে আছে। উনারা সরকারী নন।এখানে ১ বছর শিক্ষানবিস হিসেবে কাজ করবেন এরপর সরকারি চাকুরি না হলে এই চিকিত্সকরাই হয়ে যান অবৈতনিক চিকিত্সা কর্মকর্তা। এখন প্রশ্ন এই একটি বিভাগে এত চিকিত্সক কেন? আমি যতদূর জানি এই দেশে চিকিত্সকদের বেশীরভাগই মহিলা চিকিত্সক এবং এদের অধিকাংশই আবার স্ত্রী রোগ এবং প্রসুতি বিদ্যা নিয়েই পড়ালেখা করেন। এক্ষেত্রে এই বিভাগে চিকিত্সকের সংখ্যা বেশি হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। শুধু ঢাকা নয় সারা বাংলাদেশের বেশিরভাগ মেডিকেল কলেজেই এই বিভাগে চিকিত্সকের সংখ্যা বেশী হয়ে থাকে। আবার কিছু বিভাগে চিকিত্সক অপর্যাপ্ত থাকে।এবার আসা যাক এডহক চিকিত্সকদের কথায়। যারা এডহক নিয়োগ পেয়েছেন তাদের সরকারী চাকুরীর মেয়াদ প্রায় ২ বছর ৭ মাস। তারা নিয়ম অনুযায়ী কোর্সে যাওয়ার এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ট্রেনিং পোস্টে যাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। এই ট্রেনিং না করলে উচ্চশিক্ষা গ্রহন করা সম্ভব নয়।এটা উচ্চশিক্ষারই একটা অংশ।এখন আমার প্রশ্ন না বুঝে না জেনে এইরকম একটি রিপোর্ট করার মানে কি? ঐ শিশির নামক সাংঘাতিক কতটুকু পড়ালেখা করেছেন? উনাদের লেখাগুলো পড়লে মনে হয় বাংলাদেশে এমবিবিএস এর পরে আর কোন ডিগ্রিধারী চিকিত্সকের প্রয়োজন নাই। সব চিকিত্সক গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পড়ে থাকবে,যেখানে থাকার কোন ব্যবস্হা নেই।আজব এই দেশ আর আজব এই দেশের সাংঘাতিকবৃন্দ। আসুন এইসকল হলুদ সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই। যদি এভাবে চলতেই থাকে তবে সাংঘাতিক নামধারীদের চিকিত্সা না করাটাই মনে হয় চিকিত্সকদের পক্ষ থেকে সবচেয়ে উপযুক্ত জবাব হবে। তাই আসুন আমরা সবাই সোচ্চার হই এসকল হলুদ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধ। এখনই সময়।”
প্রথম আলো লিখেছে, “ রাজধানী থেকে কত দূরে: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, সারা দেশে ৪৮১টি উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসকের পদ আছে নয় হাজার ১৫০টি। ১ জানুয়ারির হিসাবে দুই হাজার ২৯৪টি পদে চিকিৎসক নেই। অর্থাৎ উপজেলা পর্যায়ে ২৫ শতাংশ পদ শূন্য। এটা গড় হিসাব। কিন্তু রাজধানী থেকে উপজেলার অবস্থান যত দূরে, সেখানে শূন্য পদের সংখ্যা তত বেশি। ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে চিকিৎসকের পদ আছে ৩০টি, এর মধ্যে ২৫টিই শূন্য। ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের পদ ২১টি। কোনো পদ শূন্য নেই। ”
মন্তব্যঃ মানে উপজেলা পর্যায়ে ৭৫% পদেই ডাক্তার কর্মরত আছেন। আর যত দুর্গম অঞ্চল ততই সেখানে উপস্থিতি কমবে এটাই স্বাভাবিক। সেখানে সুযোগ সুবিধা অপ্রতুল।
এই ভোলার একটি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে থাকার একটি অভিজ্ঞতা বলেছিলেন ডিএমসিয়ান এক বড় ভাই। বিসিএস নামক সোনার হরিণ পেয়ে তিনি যান সেখানে। সেখানে চিকিৎসকদের থাকার কোন জায়গা নাই। তিনি রাতে ঘুমান সেখানে স্বাস্থ্য সরকারীরা ঘুমায় সেখানে। গোসল করার জন্য বাথরুম নাই। গোসল করেন খোলা ছাদের উপর। একজন প্রথম শ্রেণীর সরকারী কর্মকর্তা এই সুবিধা পান তাঁর প্রজাতন্ত্রের কাছ থেকে। তাহলে কিভাবে তার কাছে আপনি আশা করেন এই প্রজাতন্ত্রকে তিনি ঠিকভাবে সার্ভিস দিয়ে যাবেন? তার সাথে যারা পুলিশ বা প্রশাসনে যোগ দিয়েছেন তারা নিজস্ব কোয়ার্টারে বা সার্কিট হাউজে থাকেন। গাড়ির প্রোটোকল পান। কেন এই বৈষম্য?
এই তো এক চিত্র। উপজেলাতে চিকিৎসকরা কি নিরাপত্তাহীনতায় থেকে কাজ করছেন তা ঢাকাতে এসিরুমে গা এলিয়ে থাকা ধনীর দুলালরা বুঝবেন না। কয়েকদিন আগে ঢাকাতে একটি ডা.ইভার মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের কথা সবাই জানেন। খোদ ঢাকাতেই এই অবস্থা বাইরে কি অনুমান করেন।
একজন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবারপরিকল্পনা কর্মকর্তার যোগ্যতা হলঃ ১। তিনি একজন ডাক্তার। ২। একজন বিসিএস ক্যাডার। ৩। সরকারি চাকরিতে গড়ে দশ পনেরো বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। ৪। একটি উপজেলার স্বাস্থ্য খাতের প্রধান। উপজেলার অরগানোগ্রাম অনুযায়ী ইউএনও বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে এই বেচারা ডাক্তারের স্যার বলে সম্বোধন করতে হয়। ইউএনও তো বটেই এমনকি অশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত চেয়ারম্যানও পঞ্চাশ ষাট লক্ষ টাকার সরকারি পাজেরো গাড়িতে চড়ে। আর UH&FPO এর জন্য টমটমের ব্যবস্থাও করেনা সরকার। উপজেলা পর্যায়ে বিশেষত খুব দুর্গম অঞ্চলগুলোতে যেখানে শিক্ষাদীক্ষার আলো তেমন পৌঁছেনি সেখানে ডাক্তাররা সর্বদা ফাইভ পাস নামকাওয়াস্তের লোকাল সাংবাদিক (অবশ্যই সনদবিহীন), পাতি নেতা, এলাকার মাতবরদের ভয়ে তটস্থ থাকেন। হার্ট অ্যাটাক নিয়ে এক রোগী আসলো। ডাক্তার বলল উন্নততর হাসপাতালে নিতে হবে, অমনি মাতবর সাহেবের চেলা চামুণ্ডারা ডাক্তারকে ধরে মার শুরু করে। "ব্যাটা তুই কিসের ডাক্তার হইছশ? সরকার তোরে ক্যান বেতন দেয়? চিকিৎসা তোরই করন লাগবো! রোগী কোনহানে নিবার পারুম না" এসব সহ্য করেই চলছে এই কঠিন পেশার নিরীহ লোকগুলি। কই এতা নিয়ে তো সাংবাদিকদের কিছু লিখতে দেখি না? এক সরকারী স্বাস্থ্য ক্যাডারের চিকিৎসক আক্ষেপ করে বলেছিলেন, “ ভাই প্রত্যেকদিন যেই পরিমান পাতি নেতা আর সাংবাদিক এর ঝামেলা সামলাতে হয় ইচ্ছা করেনা আর চাকুরী করি। মারামারি করে আইসা তাদের মন মত সার্টিফিকেট দিতে বলবে , না দিলে গায় হাত দিতেও কার্পণ্য করেনা। ৮ পাশ পোলাপাইন আইসা যখন তখন আইসা যা তা কয়। আর ভালো লাগে না। ”
শুধু চিকিৎসকেরা গ্রামে যায় না গ্রামে যায় না বললে কখনই তারা গ্রামে যাবেন না। আপনারা কি তাদের কষ্টের কথা গুলো কখনও লিখেছেন? কেন তারা গ্রামে যান না সে কথা অনুসন্ধান করেছেন। গুটিকয় ডাক্তার আছেন যারা বেতন তোলার দিন ছাড়া কর্মস্থলে যান না। মূলত টাকা এবং অংশত প্রভাব খাটিয়ে এরা পার পেয়ে যায় বলেই সাধারণ মানুষ সব ডাক্তারকেই দোষী ভাবে। বাংলাদেশে ঢাকা বাদে অন্য শহরগুলোই তো ঠিকঠাক গড়ে ওঠেনি। উপজেলাগুলোর অবস্থা ভয়াবহ। আর আমাদের দেশের গ্রাম আর শহরের ভিতর বৈষম্য অত্যধিক। কেউ তা অস্বীকার করতে পারবেন না। গ্রামের মানুষ এখন শহরমুখী। অবকাঠামোর কোন উন্নতি নাই। একা চিকিৎসকদের ধাক্কা মেরে গ্রামে পাঠাবেন আর সবাই শহরে বসে পা নাচাবে তা কি হয়? চিকিৎসকরা সেখানে পরিবার নিয়ে থাকবেন সেখানে স্কুল সুবিধা কেমন? সেখানে বিনোদনের সুবিধা কেমন? সেইগুলোর দিকে নজর দিয়েছেন? ডাক্তারদের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা ভার রাষ্ট্র যেহেতু নেয়নি, তাহলে কি এই সাংবাদিক সাহেব নেবেন? তাহলে সব্বাইকেই গ্রামে পাঠানো যাবে। ঢাকার কালো ধোঁয়া আর জ্যাম কে সাধ করে সহ্য করে!
আগে বাংলাদেশী অনেক চিকিৎসক ইরানে যেতেন। সেখানেও নিয়ম আছে যে তেহরান থেকে যত দূরে যাবে তার বেতন তত বেশি। এই ধরণের সুবিধা আমাদের দেশে আছে?
প্রথম আলো আরও লিখেছে, “ সারা দেশে সরকারি চিকিৎসকের পদ ২৪ হাজার ৩০০। এর মধ্যে আট হাজারের কিছু বেশি (৩৩ শতাংশ) পদ শূন্য। ”
যদি সরকারী ডাক্তারের পদ ২৪৩০০ হয় তাহলে এ দিয়ে ১৬ কোটি মানুষের চিকিৎসা সুষ্ঠুভাবে করা প্রায় অসম্ভব ব্যাপার - মোদ্দা কথা- রাউন্ড ফিগারে ৬৫৮৪ জনের জন্য একজন মাত্র সরকারী ডাক্তার! গাছের গোড়া কেটে আগায় পানি দিয়ে কী লাভ? এরপর আবার সরকার চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষায় নানা বাঁধার সৃষ্টি করছে। (http://www.prothom-alo.com/detail/news/267687) এখন আরও কম চিকিৎসক সরকারী চাকরিতে আসতে চাইবেন। এখন সরকারী হাসপাতালে নামমাত্র মূল্যে সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যসেবা পান। এমন একদিন হয়ত আসবে যখন চিকিৎসকরা আর সরকারী চাকরিতে আসতে চাইবেন না। ইঞ্জিনিয়ারদের মত তারাও বিদেশে চলে যাবেন। আর কত অপমান সহ্য করা যায়? সেই সময় স্বাস্থ্যসেবার মেরুদণ্ডও ভেঙ্গে যাবে। চিকিৎসা করাতে গেলে যেতে হবে কবিরাজ বা হাতুড়ে ডাক্তারদের কাছে(এখনও গ্রামে হাতুড়ে ডাক্তারদের রমরমা ব্যবসা) কিংবা কারওয়ানবাজারের ‘ডাক্তারদের’ কাছে (বুঝতে পারছেন কাদের কথা বলছি?)। ঠেকায় না পড়লে আসলে বাঙ্গালী শিখে না।
লেখকঃরজত দাস গুপ্তা
ফেবু লিঙ্কঃ এইখানে ক্লিক করুণ
©somewhere in net ltd.
১|
১৫ ই জানুয়ারি, ২০১৩ সকাল ৯:৩৭
জানকিরান বলেছেন: গাঞ্জা কি বেশি খাইসিলেন নাকি মিয়া???