নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

জীবনের স্বপ্নগুলো স্বপ্নেই ভেসে বেড়ায়...বাস্তবে ধরা দেয় না!, তবুও স্বপ্ন দেখি...ঘুম থেকে জেগে উঠি, আশায় বুক বাঁধি ...ভুল-ত্রুটি শুধরে নতুনে পথ চলার।

কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত)

আমি ভালবাসি কবিতা, গান, আবৃত্তি------- আর ঘুরে বেড়ানো।জীবনের স্বপ্নগুলো স্বপ্নেই ভেসে বেড়ায়...বাস্তবে ধরা দেয় না!, তবুও স্বপ্ন দেখি...ঘুম থেকে জেগে উঠি আশায় বুক বাঁধি ...ভুল-ত্রুটি শুধরে নতুনে পথ চলার।

কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত) › বিস্তারিত পোস্টঃ

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো প্রয়োজন নেই! আপনি কি মনে করেন?

১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৪



বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে শিক্ষাগত যোগ্যতাবিহীন বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাবঞ্চিত কোনো ব্যক্তির পক্ষে এককভাবে স্থানীয় সরকারকে প্রযুক্তিনির্ভর এবং 'স্মার্ট বাংলাদেশ' বা 'ডিজিটাল বাংলাদেশ'-এর লক্ষ্য অনুযায়ী আধুনিকায়নের দিকে এগিয়ে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং।

তাত্ত্বিকভাবে উন্নত দেশগুলোর মতো কাঠামো ও শক্তিশালী সিভিল সার্ভিসের সুবিধা বাংলাদেশে পুরোপুরি কার্যকর না থাকায়, এখানে জনপ্রতিনিধির নিজস্ব শিক্ষার অভাব সার্বিক উন্নয়নে বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে।

নিচে এর কারণ, চ্যালেঞ্জ এবং উত্তরণের উপায়গুলো বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:

১. কেন বাংলাদেশে শিক্ষাগত যোগ্যতা এখন অপরিহার্য?

ডিজিটাল সিস্টেম পরিচালনা: বর্তমানে স্থানীয় সরকারের অধিকাংশ কাজ (যেমন: ই-টেন্ডারিং, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, অনলাইন ট্যাক্স, এনআইডি সংশোধন, এবং বিভিন্ন ভাতা বণ্টন) ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সম্পন্ন হয়। একজন প্রতিনিধি নিজে এগুলো বুঝতে না পারলে অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন।

বাজেটিং ও পরিকল্পনা: স্থানীয় সরকারের বরাদ্দ ও বাজেট প্রণয়ন অত্যন্ত জটিল একটি প্রক্রিয়া। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলে বাজেট বিশ্লেষণ, সরকারি আইন ও নীতি বোঝা এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

আমলাতন্ত্রের সাথে সমন্বয়: শিক্ষিত সরকারি কর্মকর্তাদের (যেমন: ইউএনও বা প্রকৌশলী) সাথে নীতিগত আলোচনা ও যুক্তি-তর্কের মাধ্যমে নিজের এলাকার জন্য বরাদ্দ আদায় করতে একজন প্রতিনিধির নূন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ও আত্মবিশ্বাস প্রয়োজন।

২. প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো না থাকার সংকট

আমলাতান্ত্রিক নির্ভরতা: উন্নত দেশে সিস্টেম বা কাঠামো শক্তিশালী হওয়ায় জনপ্রতিনিধি কম শিক্ষিত হলেও ক্ষতি হয় না। কিন্তু বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এখনো ব্যক্তি-কেন্দ্রিক। প্রতিনিধি অশিক্ষিত হলে তিনি পুরোপুরি আমলা বা তাঁর সহকারীদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, যা দুর্নীতি ও সিদ্ধান্তহীনতা বাড়ায়।

স্বচ্ছতার অভাব: প্রযুক্তির জ্ঞান না থাকলে ডিজিটাল পোর্টাল বা অ্যাপের মাধ্যমে এলাকার উন্নয়ন ট্র্যাকিং করা জনপ্রতিনিধির পক্ষে সম্ভব হয় না। ফলে সিস্টেমের ভেতরে ফাঁকফোকর তৈরি হয় এবং নাগরিক সেবা ব্যাহত হয়।

৩. মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা বনাম প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা (ব্যতিক্রমী দিক)

জনসংযোগ ও নেতৃত্ব: শিক্ষার অভাব থাকলেও অনেক প্রার্থীর দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার, সততা এবং মাঠপর্যায়ে মানুষের সাথে শক্তিশালী সংযোগ থাকে। তারা জনগণের সুখ-দুঃখের ভাষা ভালো বোঝেন, যা অনেক সময় কেবল উচ্চশিক্ষিত কিন্তু জনবিচ্ছিন্ন প্রার্থীর পক্ষে সম্ভব হয় না।

সদিচ্ছা ও নৈতিকতা: উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিও দুর্নীতিগ্রস্ত হতে পারেন, আবার কম শিক্ষিত ব্যক্তিও সৎ ও জনবান্ধব হতে পারেন। তবে আধুনিক যুগে সততার পাশাপাশি কাজ সম্পন্ন করার জন্য ন্যূনতম প্রযুক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান থাকতেই হবে।

৪. বর্তমান প্রেক্ষাপটে করণীয় ও উত্তরণের উপায়

বাংলাদেশকে আধুনিক ও স্মার্ট করে গড়ে তুলতে হলে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় কিছু জরুরি সংস্কার প্রয়োজন:

ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ: বর্তমান বাস্তবতায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য অন্তত এসএসসি (SSC) বা সমমান পাসের আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি করার সময় এসেছে।

বাধ্যতামূলক আইটি ও লিডারশিপ ট্রেনিং: নির্বাচিত হওয়ার পর শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্বিশেষে সকল প্রতিনিধির জন্য সরকারি ই-সেবা, ডিজিটাল ফাইলিং এবং প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর বাধ্যতামূলক ক্র্যাশ কোর্স চালু করা উচিত।

স্বাধীন বিশেষজ্ঞ সেল: প্রতিটি ইউনিয়ন বা পৌরসভায় জনপ্রতিনিধিকে কারিগরি ও আইনি সহায়তা দেওয়ার জন্য তরুণ আইটি বিশেষজ্ঞ ও পলিসি অ্যাডভাইজারদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে।

উপসংহার:মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও জনভিত্তি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে ২০২৬ সালের এই আধুনিক প্রযুক্তি-নির্ভর যুগে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান ছাড়া কোনো জনপ্রতিনিধির পক্ষে এককভাবে একটি এলাকাকে সম্পূর্ণ আধুনিক বা স্মার্ট করে গড়ে তোলা প্রায় অসম্ভব।

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:০৯

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: বাস্তবতায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য অন্তত এসএসসি
(SSC) বা সমমান পাসের আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি করার সময় এসেছে।

........................................................................................................
অবশ্যই যোগ্যতার প্রয়োজন, বিশেষ করে সততার ।

২| ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩২

নিমো বলেছেন: জ্বি দরকার নাই। জমৈক পিএইচডি নো-বেল ইউনূস দেশকে যেভাবে জঙ্গীস্তানে পরিণত করেছে, তাতে কোন শিক্ষাগত যোগ্যতাই এখন আর দরকার নেই।

৩| ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩২

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:



আমাদের দেশে এসএসসি পাশ হতে শুরু করে বিবিএ করা একজন কতোটুকু কি জানেন? একটি সিভি লেখার জন্য একজন এমবিএ পাশ ছাত্র যদি ননমেট্রিক কম্পিউটার অপারেটরের কাছে বসে থাকে, তাহলে আর কি বলার আছে বলুন।

স্থানীয় সরকারে অশিক্ষিত লোকবল আমি চাই না ! তবে আমি জানতে চাই - শিক্ষিত হয়ে কি করছে দেশের মানুষ?

৪| ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: লিডারের পর সবচেয়ে পাওয়ারফুল মানুষ হলেন ছবির মানুষটি । উহাকে নিয়ে কথা বলতে গেলেই হাঁটু কাপাঁকাপি শুরু হয়ে যায় । তাই চুপচাপ লেখা পড়ে গেলাম ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.