| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সাঈফ জামান
একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার, সারা বিশ্বের বিশ্বয় তুমি আমার অহংকার
একদিন খুব ভোরে উঠেছি। সচরাচর এত সকালে ঘুম ভাঙ্গে না আমার। সেদিন হঠাৎ করেই ঘুম ভেঙে গিয়েছিলো। অবশ্য ঘুম ভাঙ্গার একটা বিশেষ কারনও আছে। সেদিন অদ্ভুত একটা স্বপ্ন দেখেছিলাম। “একটি গ্রাম, গ্রামের মধ্যে বিশাল এক বাজার বসেছে। সেই বিশাল বাজারের মাঝখানে প্রায় সব মানুষ জটলা পাকিয়ে আছে। আমি তার পাশ দিয়েই যাচ্ছিলাম। প্রত্যেকটা মানুষেরই জানার কৌতুহল থাকে। আমারও ঠিক তাই। সেই জটলা পাকানো মানুষের ভিড়ে ঢুকে গেলাম জানার জন্য, কি হয়েছে? ভিড় ঠেলে ভেতরে ঢুকেই ধাক্কা খেলাম। আমাদের দেশের দুই নেত্রী দুইটি চেয়ারে বসে আছেন। দুইজন দুইজনকে দোষারোপ করছেন। আর চারপাশের মানুষগুলো তাদের ঘিরে রেখেছে। সবাই তাদের এই তর্কবিতর্ক চুপচাপ দাঁড়িয়ে দেখছে। কেউ কিছু বলছেনা। আমার মেজাজ খুব খারাপ হলো। হঠাৎ করেই আমি তাদের দুইজনকে উদ্দেশ্য করে বললাম, আপনারা পেয়েছেনটা কী? আপনারা যা ইচ্ছে তা করে যাবেন। আর আপনাদের ভুলের কারনে আমরা সাধারণ মানুষ কষ্টে থাকবো। আর কতকাল এমন নোংরা খেলায় মেতে থাকবেন? আপনাদের জন্য আজ আমাদের দেশের কি অবস্থা সেদিকে কি খেয়াল রেখেছেন? আপনারা কি চোখের মধ্যে টিনের চশমা পরে থাকেন? এভাবে আর কত দিন দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করবেন? এই কথা বলতে বলতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলো। যারা এখন আমার লেখা পড়ছেন তারা হয়তো ভাবছেন, কি সব লিখছি। কিন্তু এটাই সত্যি। বেশ কিছু দিন ধরে দেশের যে পরিস্থিতি, আমার মনে হয় দেশের প্রত্যেকটা মানুষই এমন স্বপ্ন দেখে।
সে দিনকার আকাশে ছিল ঝকঝকে রোদ, রোদ আমার বরাবরই প্রিয়। রোদে স্নান করতে আমার ভীষণ ভালো লাগে। শীতের সকালের মিষ্টি রোদ হলেতো আর কথাই নেই। অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছি। প্রতিদিনই গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু ঐদিন খুব বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হলো না। বুঝতে পারলাম না।
সেদিন সারা দেশে সরকারি ভাবে অবরোধ চলছিলো। বিরোধী দলের ছিলো দ্বিতীয় দিনের “মার্চ ফর ডেমোক্রেসি।” সে দিন বের হয়েছি অফিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে। কিন্তু এত সহজে যে গাড়ি পেয়ে যাবো ভাবতে পারিনি। তারপরও ভয় কাটলো না। আমাকে আরও একটা স্টেশনে যেতে হবে। সেখান থেকে অফিসের উদ্দেশ্যে গাড়িতে উঠতে হবে। আমি খুব ভালোভাবেই স্টেশনে গিয়ে পৌছলাম। সেখান থেকে গাড়িও পেয়ে গেলাম। খুবই অবাক লাগছিলো। সরকারি দলের অবরোধেও গাড়ি চলছে। কিন্তু না, অল্প কিছুক্ষণ যাওয়ার পরই পুলিশের বাধা। পুলিশ বললো-
“আর যাওয়া যাবেনা।”
“কি অদ্ভুত, তাহলে অফিস পর্যন্ত কি ভাবে যাবো?” পুলিশের কাছে প্রশ্ন করলাম।”
পুলিশ বললো, “হেঁটে চলে যান।”
“এতদূর হেঁটে কি করে যাবো?”
“তাতো জানি না। তবে গাড়ি আর যাবে না।”
গাড়ি ভাড়া মিটিয়ে একদল পুলিশের কাছাকাছি গেলাম। পুলিশদের উদ্দেশ্য করে বললাম-
“ভাই এমন অবস্থা আর কত দিন চলবে?”
এক পুলিশ দূর থেকেই আমাকে উত্তর দিল, “সরকারি দল আর বিরোধি দল যতদিন চালায়”
এর পর আমার কি বা বলার থাকে। ঐ পুলিশ আমার সামনে এসে কিছু কথা বললো, “এই দুই সরকার দেশটাকে পঞ্চাশ বছর পিছিয়ে নিয়ে গেছে। ওখান থেকে উঠার ক্ষমতা হয়তো বাংলাদেশের আর থাকবেনা।”
কি ভয়াবহ একটা কথা। ভীষণ খারাপ লাগছিলো তখন। আমি আরও কয়েকজন পুলিশকে উদ্দেশ্য করে বললাম,
“আমরা একবার ৭১ এ যুদ্ধ করেছি। দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করে আমরা সোনার বাংলা পেয়েছি। কত মা, বোন ইজ্জত দিয়েছে, কত ভাই প্রাণ দিয়েছে। সেই প্রাণের, ইজ্জতের বিনিময়ে আমরা আমাদের স্বাধীনতা অর্জন করেছি। অথচ আজ আমরা ঘর থেকে বের হতে পারিনা, কাজের জন্য কর্মস্থলে যেতে পারিনা, পেট্রোল বোমায়, কক্টেলে প্রাণ হারাবার ভয়ে। আমাদের দেশটাকে সারা বিশ্বের কাছে কলঙ্কিত করে ফেলেছে এই নোংরা স্বার্থপরের রাজনীতি। কোথায় আমরা সারা বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাড়াবো। তা নাকরে আমাদের দেশ আজ বিশ্বের বুকে ছোট থেকে ছোট হয়েই চলেছে। এর থেকে পরিত্রাণ কি কখনো পাবো না?”
আমাকে এক পুলিশ জবাব দেয়, “ভাই আমরা সবই বুঝতে পারি। কিন্তু আমাদের মুখ বাঁধা। সারকার আমাদের যা নির্দেশ দিবে তাই করতে হবে। এই যে আপনি কিছু কথা বললেন, সবই ঠিক কিন্তু বেশি কিছু বলতে গেলেই দেখবেন, কোন দিন আপনাকেও ধরে নিয়ে গেছে। তাই আর কিছু না বলে, যান কাজে যান।”
আমি সেদিন হেঁটে হেঁটেই অফিসে এসেছিলাম। এইতো আমার দেশ, আমার সোনার বাংলাদেশ।
(যখন ছোটখাট একজন সাংবাদিক ছিলাম, তখনকার ঘটনা।)
-----সাঈফ জামান
©somewhere in net ltd.