নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

যানা থাকলে বলতাম

সায়েম হাসান

কিছুই লেখার নাই

সায়েম হাসান › বিস্তারিত পোস্টঃ

কাছে আসার গল্প

১৪ ই মার্চ, ২০১৬ রাত ৮:৪৮

সজল দেখতে তেমন সুন্দর না। ছাত্র হিসেবে ও তেমন মনযোগী না। তবে চমৎকার চমৎকার কথা বলতে পারে। সব সময় না- শুধুমাত্র নীড়া সামনে এলেই ওর কথা বলা বেড়ে যায়। বানিয়ে-বানিয়ে চমৎকার চমৎকার কথা বলে। নীড়া শুনে পাত্তা না দেওয়ার ভান করলেও সজলের বানিয়ে বানিয়ে কথা বলা ওর (নীড়ার) ভাললাগে। সজল আর নীড়া একই ভার্সিটিতে পড়ায় এবং ক্লাসে পড়ায় মোটামুটি তাদের প্রতিদিনই দেখা হয়। নীড়ার সাথে দেখা হলেই সজল বিভিন্নভাবে বুঝতে চায় তার ভাললাগার কথা। নীড়া বুঝেও না বোঝার ভান করে। কিন্তু নীড়া যতই ভাব বা অভিনয় করুক নীড়ার সজলের আশে-পাশে থাকতে ইচ্ছে করে। সজলের কথা শুনতে ইচ্ছে করে। মনের অজান্তেই সে ক্লাসে এলে সজলকে খুজে। কিন্তু কাউকে বলেও না বা বুঝতেও দেয় না। কারণ নীড়া একটু আত্মকেন্দ্রিক ও সংরক্ষনশীল টাইপের মেয়ে। কথা ও কম বলে। তবে- দেখতে খুব ভালই সুন্দরী। এদিকে সজলের আগে একটি ব্যাড হেবিট ছিল। সে ড্রাগ এ্যাডিকটেড ছিল। যা নীড়া জানে না। তাছাড়াও সজলের দ্’ুহাতে ব্লেডে কাটা অনেকগুলো দাগ। যা সজল নেশা যখন করে তখন নিজেই ব্লেড দিয়ে কেটেছিল। তাই সজল নীড়ার সামনে এলে যে কোন ভাবে তার হাত ঢেকে রাখার চেষ্টা করে। যেন নীড়া তার হাতের দাগগুলো না দেখে। দেখলে যদি নীড়া ওকে মানোষিক ভারসম্যহীন ও খারাপ ভাবে সে জন্য। নিজের হাতের কাটা দাগের দিকে তাকালে নিজেকে খুব ছোট মনে হয়। সজল মনে- মনে ভাবে কেন যে নীড়ার সাথে আগে দেখা হল না। আগে দেখা হলে সে কখনো এ কাজ করতো না। এ ব্যাপারগুলো ছাড়াও সজলের মনে হয় নীড়ার সাথে তার মানায় না। নীড়া দেখতে সুন্দর, সজল দেখতে তেমন একটা ভাল না। শুধু দেখতে ভাল-খারাপ এর জন্যই না- সজল মনে করে নীড়ার আরো অনেক গুন আছে যা সজলের নেই। সজলের মনে হয় নীড়া যতই চাপা স্বভাবের হোক নীড়া একটি বুদ্ধিমতি এবং সাহসী মেয়ে। কারন নীড়া একদিন বুদ্ধি করে সজলকে পুলিশের হাত থেকে উদ্ধার করেছিল। সেই থেকে সজলের ধারনা হয় যে নীড়া বুদ্ধিমতি ও সাহসী মেয়ে। তবে বাস্তবতা কিন্তু তা না। ব্যক্তি হিসেবে নীড়ার ও কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। নীড়ার বাবা কিছুদিন আগে মারা গেছে। সে তার ভাই, ভাবি আর মায়ের সাথে থাকে। মিরপুর, কালসিতে ওদের নিজেদের বাড়ী। ওদের বাড়ীর পাশের বাড়ীর বাড়ীওয়ালার সাথে পাশের একখন্ড জমি নিয়ে কিছুদিন আগে বিবাদ তৈরি হয়। পরে থানা-পুলিশের মাধ্যমে রায় নীড়াদের পক্ষে আসে। সেই থেকে নীড়াদের সাথে তাদের শত্র“তা শুরু হয়। তার জের ধরে পাশের বাড়ীওয়ালার ছেলে একদিন নীড়ার সাথে রাস্তায় খারাপ ব্যবহার করলে-নীড়ার ভাই ছেলেটিকে চড়-থাপ্পর মারে। ফলে ওদের শত্র“তা আরো শক্ত হয়। যদিও পরে সেই ছেলেটি নীড়ার ভাই ও নীড়ার কাছে ক্ষমা চায়। কিন্তু মনে মনে প্রতিশোধ নেওয়ার চিন্তায় থাকে। তাই একদিন নীড়ার সাথে সজলকে দেখে ছেলেটি সজল সম্পর্কে খোজ নিয়ে জানতে পারে যে, সজল অ্যাডিকটেড ছিল এবং তার হাতে ব্লেডের দাগ আছে। ফলে ছেলেটি সুযোগ পেয়ে যায়। সে আবার একদিন রাস্তায় নীড়াকে আজ-বাজে কথা বলে তার ভাইকে বিচার দেয়। নীড়ার ভাই ছেলেটিকে জিজ্ঞাস করতে গেলে ছেলেটি তা অস্বীকার করে এবং নীড়া একটি অ্যাডিকটেড ও মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলের সাথে প্রেম করছে বলে নীড়ার ভাইকে সাবধান করে। ছেলেটা নীড়ার ভাইকে দুর থেকে সজলকে দেখিয়েও দেয়। সজলকে দেখে এসে নীড়ার ভাই নীড়াকে বাসায় ধমকা- ধমকি করে। ছেলের ধমকা ধমকি শুনে নীড়ার মা বলে বকা-ঝকা না করে ওর বিয়ের ব্যবস্থা কর। নীড়ার ভাই তাতে সম্মতি জানায় ওদিকে সজল মনে মনে ঠিক করে যেভাবেই হোক সে নীড়াকে ভালবাসার কথা বলবে। পরের দিন নীড়া ভার্সিটিতে এলে সজল তার মনের কথা নীড়াকে বলে। কিন্তু নীড়া তার ভাইয়ের ধমকা-ধমকির সময় সজল সম্পর্কে বলা কথা- সজলের অ্যাডিকটেডের কথা, হাতে কাটা- দাগের কথা শুনে। তাই সে চাপ অভিমান করে সজলকে ফিরিয়ে দেয়। সজল মনে কষ্ট পায়। তার থেকে ও বেশি কষ্ট পায় নীড়া। এদিকে নীড়ার ভাই তার এক জুনিয়ার অফিসারকে নীড়াকে দেখানোর জন্য বাসায় নিয়ে আসে । নীড়াকে ওনার পছন্দ ও হয়। বিয়ের কথাও চলতে থাকে। সজল বুঝতে পারে না-নীড়া কেন তাকে ফিরিয়ে দিল। সে নীড়াকে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখতে থাকে। মাঝে মাঝে নীড়ার বাসার সামনের রাস্তায় রাতে দাড়িয়ে থাকে। নীড়া ব্যাপারটা বুঝতে পারে কিন্তু কিছু বলে না। এর মধ্যে একদিন রাতে সেই পাশের বাড়ীর ছেলেটা নীড়াকে রাস্তায় আবার বাজে কথা বলে। নীড়ার গাল জোর করে স্পর্শ করে, ওড়না টেনে কুটুক্তি করে। আত্মরক্ষার জন্য নীড়া মাটিতে বসে পড়ে। যাবার সময় ছেলেটি বলে যে- এবার আর তোর ভাইকে বিচার দিয়ে লাভ নেই। কারন তোর ভাই এখন তোর থেকে আমাকে বেশি বিশ্বাস করে। নীড়া কান্না-কাটি করতে থাকে। সজল লুকিয়ে লুকিয়ে সম্পূর্ন ব্যাপারটা দেখে কিন্তু নীড়া তা জানে না। পরের দিন সজল ছেলেটির পিছু নেয় এবং একটা পর্যায়ে একটি নির্জন স্থানে পায়। ছেলেটার সাথে যে আরো ৪/৫ জন আছে তা সজল লক্ষ করেনি। সজল আচমকা ছেলেটির কাছে গিয়ে ছেলেটিকে মারতে শুরু করে এবং একটা পর্যায়ে পকেট থেকে একটি কেচি বের করে ছেলেটার হাতে ঢুকিয়ে দেয়। দু-তিনবার কেচিটা বের করে আবার ঢুকায়। ছেলেটা আর্তনাথ করে উঠে এবং ছিনতাইকারি- ছিনতাইকারি বলে চিৎকার করে। চিৎকার শুনে ও সাথে থাকা লোক এবং আশে পাশের লোক এসে জড়ো হয়। তারা সজলকে ছিনতাইকারি হিসেবে ধরে এবং প্রচুর মারে। পরে পুলিশ এসে সজলকে আহত অবস্থায় প্রথমে থানায় নিয়ে যায় এবং পরে হাসপাতালে পাঠায়। এদিকে নীড়া সব জানতে পেরে হাসপাতালে সজলকে দেখতে আসে এবং সজলকে দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। কাঁদতে কাঁদতে নীড়া বলে- তোমাকে ফিরিয়ে দিয়ে আমি ভুল করেছি। আমি নিজেও কষ্ট পেয়েছি তোমাকে ও কষ্ট দিয়েছি। আমি আর কখোনো তোমাকে ফেরাবো না। সারা জীবন তোমাকে ভালবাসবো। :-0

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.