| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
বাংলাদেশটা এগিয়ে যাচ্ছে, বিশ্বয়ানের পথে। উদ্যোক্তার হচ্ছে তরুন-তরুনীসহ নারীরাও, স্বপ্ন তাদের এখন আকাশ ছোঁয়া, প্রযুক্তিনির্ভর হচ্ছে বাংলাদেশ, তরুন-তরুনীদের অবসর সময়টুকুও এখন কাটে ফেইসবুক, টুইটারে, কবি, সাহিত্যিকরাও এখন আর কাগজে কলমে লেখেন না। হারিয়ে যেতে বসেছে চিঠি লেখার ঐতিস্যও, ছোটবেলায় এখন বাবার কাছে চিঠি লিখতাম মায়ের পাশে বসে তখন কতটুকুই না বাবাকে লিখতে চাইতাম। আর তখন একটি চিঠি আমার তিন পৃষ্ঠায়ও শেষ হতনা। এখন প্রযুক্তির ছোঁয়ায় আমাদের সেই আনন্দটা হারিয়ে যেতে বসেছে। এখন আর প্রেমিকার চিঠি বাড়িতে লুকিয়ে রাখার ঝামেলা নেই। সেটা থাকে এখন মোবাইলে বা কম্পিউটারে যা নিজে ছাড়া কারও দেখার জোঁ’নেই। তাই এখন আর ডাক পিয়নরা আসে না। ডাকঘরগুলো এখন জরাজীর্ন। প্রযুক্তির ভারে নুয়ে থাকা এই পৃথিবীতে হঠাৎ সাদমান ও রাকিবের ইচ্ছে হল একটু পিছনে ফিরে তাকানো। তাই তারা সিদ্ধান্ত নিল তারা দুজন দু’জনের কাছে চিঠি লিখবে। সাদমান থাকে ঢাকায়। আর রাকিব বরিশালে। শুরু হল তাদের চিঠি লেখা। সাদমান চিঠি পাঠায় বরিশালে আর রাকিব ঢাকায়। এভাবেই চলতে লাগল কিছুদিন। একদিন হঠাৎ করে ফুটপাত দিয়ে হাটার সময় একটি মেয়ের আইডিকার্ড কুড়িয়ে পায়। সাদমান আইডি কার্ডটি নিয়ে কি করবে ?
কিভাবে পাঠাবে তাই নিয়ে শেয়ার করে বন্ধু রাকিবের সাথে, রাকিব বলল, এটা একটা চিঠি লিখে খামে ভরে পাঠিয়ে দে। সাদমান একটা নীল খামে ভরে সেই ঠিকানায় পাঠিয়ে দেয়। মেয়েটির আইডি কার্ডের ছবিটি ছিল অস্পষ্ট। কিছুদিন বাদে ধন্যবাদ জানিয়ে মেয়েটিও সাদমানকে একটি চিঠি পাঠায় নীল খামে। সাদমান চিঠি পাঠানোর আরেকজন বন্ধুকে খুঁজে পেল। তাই সে আবারও চিঠি পাঠাল। আর মেয়েটিও তার চিঠির উত্তর দিতে থাকল। এক পর্যায় তাদের ভিতরে প্রেমের আকাশে ঘুড়ি উড়তে লাগল। কিন্তু কেউ কাউকে আজ পর্যন্ত দেখেনি। আর দেখবেওনা বলে সিদ্ধান্ত নিল। শুধু চিঠির প্রেমেই সীমাবদ্ধ থাক না।
এদিকে মেয়েটির বিয়ে ঠিক হল। বিয়ের কথা জানালও সাদমানকে। কিন্তু সাদমান ও মেয়েটি দু’জনেই খুব কষ্ট পেল। তবু তাদের সিদ্ধান্তেই তারা অটল রইল। তারা মেনে নিল তাদের অস্পর্দন প্রেমকে। এদিকে সাদমানও জানাল তারও বিয়ে ঠিক হয়েছে। দু’জনের প্রেম চিঠির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখে শুরু করল নতুন জীবনের যাত্রা। দু’জনেই ঘর-সংসার নিয়ে ব্যস্ত। সুখেই কাটছে দু’জনের সংসার। বিয়ের পরে সাদমান সেই মেঘবাড়ি ছেড়ে বউ নিয়ে চলে গেল অন্য ঠিকানায়। আর সেই মেয়েটিও তার বাপের বাড়ি ছেড়ে চলে গেল শ্বশুর বাড়িতে কিন্তু তাদের দু’জনের বিয়ে হলেও চিঠি লেখা থামেনি। মেয়েটিও সাদমানকে চিঠি লিখতে থাকল। কিন্তু কোন উত্তর পাচ্ছিল না। এদিকে সাদমান চিঠি লিখতে থাকল মেয়েটিকে। সেও কোন উত্তর পাচ্ছিল না। দু’জনের উত্তর না পাওয়া চিঠিগুলো জমা হতে থাকল যার যার পূর্বের ঠিকানায়। এদিকে স্বামীর কাছ থেকে লুকিয়ে চিঠি লিখতে গিয়ে ধরা পড়ে যায় মেয়েটি। তার স্বামী জেনে যায় মেয়েটির প্রেমিকার কথা। এ নিয়ে সন্দেহের বীজ ধীরে ধীরে চারাগাছে পরিণত হয়। সম্পর্কের ভাঙন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে। প্রতিদিন শুরু হয় ঝগড়া দিয়ে শেষও হয় আফসোস দিয়ে। আর পারছেনা এভাবে দুই নৌকায় পা দিয়ে জীবন কাটাতে। তাই সিদ্ধান্ত নিল স্বামীর সাথে ডিভোর্সের। তার স্বামীও মেনে নিল তাই। চলে আসল বাপের বাড়িতে। বাপের বাড়িতে এসে দেখে অনেকগুলো চিঠি এসে জমা হয়েছে। সেই চিঠিগুলো পড়ে নতুন ঠিকানার কথা জানতে পারল সাদমানের। নতুন ঠিকানায় চিঠি লিখল মেয়েটি। কিন্তু সেখান থেকে সাদমান চলে আসল। তাই সে চিঠিটিও আর সাদমান পেল না। এদিকে সাদমানের সাথে তার মেস বাড়ির পুরনো বন্ধুর সাথে দেখা। সে সাদমানকে অনেক গুলো চিঠি এসে জমার কথা জানাল। সাদমান তার বন্ধুর কাছ থেকে চিঠিগুলো নিয়ে ঐ মেয়েটিরও নতুন ঠিকানায় চিঠি পাঠালো। কিন্তু মেয়েটিওতো তার পুরনো ঠিকানায় চলে আসছে। দু’জনেই কেউই চিঠি পেল না। আবার উত্তরের অপেক্ষায়ও রয়েছে দু’জন। এভাবেই কেটে গেল প্রায় ৬ মাস। এবার সাদমান সিদ্ধান্ত নিল সে নিজেই মেয়েটির কাছে স্ব-শরীরে চলে যাবে। আর এদিকে মেয়েটিও ঢাকায় সাদমানের মেস বাড়িতে খুঁজতে গেল। সেখানে গিয়ে মেয়েটি সাদমানকে পেল না। আর এদিকে সাদমান মেয়েটির বাড়িতে এসে দেখে তার নিজের ডিভোর্স হয়ে যাওয়া স্ত্রীর বাবা-মা সাদমান তাদের দেখে অবাক হয়ে যায়। সে তখন জানতে পারে সে তার নীল খামে বন্দী প্রেমিকাই ছিল তার স্ত্রী। তারপর সেখানেই অপেক্ষা করে তার স্ত্রী তার প্রেমিকার জন্য। দু’জনেই আবার কাছাকাছি চলে আসে। 
২|
১৪ ই মার্চ, ২০১৬ রাত ৯:৩৪
আমিই মিসির আলী বলেছেন: একটু পড়েই বুঝতে পারছিলাম, ফিনিসিংটা এমনই হবে!
পূর্বের ধ্যান ধারনা আর যায় না।
©somewhere in net ltd.
১|
১৪ ই মার্চ, ২০১৬ রাত ৯:০৮
মাহমুদুর রহমান সুজন বলেছেন: গল্প ভালই লাগল।