| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
জৈব উৎস বিশেষ করে উদ্ভিদ/উদ্ভিদাংশ থেকে উৎপন্ন বালাইনাশক জৈব বালাইনাশক বলে। আমাদের দেশ আয়তনে ছোট হলেও উদ্ভিদ বৈচিত্র্যে খুবই সমৃদ্ধ। আবহমানকাল থেকেই মানুষের স্বাস্থ্য সেবায় গাছ-গাছালি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এমনকি কৃষি ফসল উৎপাদন ও সংরক্ষণেও গাছ-গাছড়ার ব্যবহার ঐতিহ্য সুদীর্ঘকালের।
সবুজ বিপ্লবের হাত ধরে ফসল উৎপাদনে বিপ্লব ঘটলেও রাসায়নিক উপকরণ বিশেষ করে রাসায়নিক বালাইনাশক যথেচ্ছ ব্যবহারে আমরা বর্তমানে এক জটিল পরিবেশিক সমস্যার দুষ্টচক্রে বন্দী হয়ে পড়েছি। রাসায়নিক কৃষি উপকরণের এলোপাথাড়ি ব্যবহারের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় জলে, স্থলে-অন্তরীক্ষে বাড়ছে দুষনের মাত্রা। জনস্বাস্থ্য হচ্ছে মারাত্বক হুমকির সম্মুখীন। এ অবস্থা থেকে উত্তরনের জন্য সারা পৃথিবীতে এখন জৈব কৃষির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।
ভেষজ বালাইনাশক সমুহঃ
১. নিমের পাতা, ছাল ও কাপড় কাচা সাবান দ্বারাঃ দুই কেজি নিমের পাতা, ১.৫ কেজি নিমের ছাল শিল পাটায় একটু থেতলে নিন। থেতলানো পাতা, ছাল এবং ৫০ গ্রাম গুড়া সাবান একটি পাত্রে দিয়ে ৫ লিটার পানি মিশ্রিত করুন। জ্বাল দিয়ে ৫ লিটার পানিকে কমিয়ে ১ লিটার বানিয়ে ঠান্ডা করে ছেকে নিন। ৯ লিটার পানি যোগ করে স্প্রে করুন। এতে সকল প্রকার মাছি পোকা, বিটল জাতীয় পোকা, কীড়া ও বিছা পোকা দমন করা যায়।
২. নিম পাতার গুড়া দ্বারাঃ
নিম পাতা ছায়ায় বিছিয়ে দু /এক সপ্তাহ শুকাতে হবে। শুকনা পাতা ভাল করে গুড়া করতে হবে। প্রতি ৫০ কেজি বীজ সংরক্ষণের জন্য ১ কেজি গুড়া মিশাতে হবে। সংরক্ষণের মেয়াদ বাড়াতে হলে সমপরিমান ধুতরা পাতার গুড়া একই রকম মিশাতে হবে। এতে গুদামজাত ফসলের পোকা দমন হয়।
৩. নিম বীজ দ্বারাঃ
এক কেজি নিম বীজ ছায়ায় শুকিয়ে খোসা ছড়িয়ে নিন। বীজ পিষে মলমের মত তৈরী করুন। এর সাথে ৭৫ গ্রাম গুড়া সাবান মিশান। মিশ্রণটি ১০০ লিটার পানি মিশালে ১% দ্রবণ তৈরী হবে। দ্রবণ এক রাত রেখে দিন। এরপর ৭০-৮০ সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় ২/৩ ঘন্টা ফুটিয়ে ঠান্ডা করে ছেঁকে জমিতে ব্যবহার করুন। এতে পাতা মোড়ানো পোকাসহ বিভিন্ন ধরণের কীড়া ও গান্ধী পোকা দমন করা যায়। ইহা কৃমিনাশক এর কাজ করে।
৪. মেহগনি বীজঃ
৮-১০ টি কাচা ফলের সাদা অংশ কুচি কুচি করে কেটে ৭ দিন ভিজিয়ে রেখে ছেকে ৫০ গ্রাম কাপড় পরিস্কার করা পাউডার মিশিয়ে স্প্রে করুন। বাদামী গাছ ফড়িং, মাজরা, পাতামোড়ানো ও ডায়ামন্ড ব্যাকমথ দমন করা যায়।
৫. তামাক পাতা দ্বারাঃ
এক কেজি কাচা তামাক পাতা ১০ লিটার পানিতে সারা রাত ভিজিয়ে রেখে কচলিয়ে নিন। ছেকে ব্যবহার করুন অথবা বড় আকারের ১০ টি শুকনা পাতা ১০ লিটার পানিতে সারারাত ভিজিয়ে ছেকে নিয়ে ব্যবহার করুন। মাইট ও জেসিড দমন করা যায়।
৬. বিষকাটালী ও ঢোল কলমী দ্বারাঃ
বিষকাটালী বা ঢোল কলমীর পাতা, কান্ড (পেষানো) ১ কেজি, ১০ লিটার পানিতে ভিজিয়ে ঢেকে স্প্রে করুন। এতে এফিড, মাছি, পাতা ও ফলখেকো কীড়া দমন করা যায়।
৭. টমোটো গাছ দ্বারাঃ
এক কেজি কান্ড ও পাতা ৫ লিটার পানিতে মিশিয়ে ১৫-২০ মিনিট জ্বাল দিন। ছেকে নিয়ে স্প্রে করুন। এতে কান্ড পাতার পোষক পোকা, লার্ভা দমন হয়।
৮. কালো কচুর পাতা দ্বারাঃ
এক কেজি কালো কচুর পাতা ৫ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৩০ মিনিট সিদ্ধ করম্নন। ঠান্ডা করে ছেকে ব্যবহার করুন। এতে কীড়া, বাদামী গাছফড়িং, পাতা শোষক পোকা দমন হয়।
৯. আতা ও শরীফার পাতা দ্বারা
এক কেজি পাতা পিষানো (বাটা) ১০ লিটার পানিতে গুলিয়ে ছেকে স্প্রে করুন। এত কুমড়ার পোকা, ডায়মন্ড ব্যাক মথ, জাব পোকা, জ্যাসিড দমন করা যায়।
১০. শুকনা মরিচের গুড়া দ্বারাঃ
১০০ গ্রাম শুকনা মরিচের গুড়া ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে ভিজিয়ে রাখুন। একে ৫০ গ্রাম গুড়া সাবান মিশিয়ে ৫ লিটার পানি যোগ করুন এবং ছেকে স্প্রে করুন। এতে শশার মোজাইক ভাইরাস রোগের বাহক, পিপড়া, জাব পোকা দমন হয়।
১১. পাট বীজের দ্বারাঃ
এক কেজি বীজ আস্তে আস্তে কড়াইতে ভেজে নিন। ভাজা বীজ পিষে নিন এবং ৬০ লিটার পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। ছেকে নিয়ে ১ বিঘা জমিতে স্প্রে করুন। এত মাজরা, বাগ, পাতা শোষক পোকা দমন করা যায়।
১২. রসুনের রস দ্বারা বীজ শোধনঃ
এক কেজি কালো কচুর পাতা ৫ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৩০ মিনিট সিদ্ধ করুন। ঠান্ডা করে ছেকে ব্যবহার করুন। এতে কীড়া, বাদামী গাছফড়িং, পাতা শোষক পোকা দমন হয়।
১৩. পিয়াজঃ
২০ মি. লি. রস ২ লি পানিতে মিশিয়ে মিশিয়ে স্প্রে করুন। এতে ঢলে পড়া রোগ দমন হয়।
১৪. নিশিন্দা পাতাঃ
দুই কেজি নিশিন্দা পাতা, ১.৫ কেজি নিশিন্দার ছাল শিল পাটায় একটু থেতলে নিন। থেতলানো পাতা, ছাল এবং ৫০ গ্রাম গুড়া সাবান একটি পাত্রে দিয়ে ৫ লিটার পানি মিশ্রিত করুন। জ্বাল দিয়ে ৫ লিটার পানিকে কমিয়ে ১ লিটার বানিয়ে ঠান্ডা করে ছেকে নিন। ৯ লিটার পানি যোগ করে স্প্রে করুন। এতে সকল প্রকার লীফ ফিডার, বিছা ও সেমিলুপার দমন হয়।
১৫. ইপিল ইপিল পাতা ও জবা ফুলের পাতাঃ
১ কেজি ইপিল ইপিল পাতা ও ১ কেজি জবা ফুলের পাতা বেটে ১০ লিটার পানিতে গুলিয়ে নির্যাস তৈরী করে স্প্রে করতে হবে।
১৬. পেঁপে পাতার নির্যাসঃ
১ কেজি পেঁপে পাতা কুচি কুচি করে কেটে ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে ভালভাবে ঝাঁকিয়ে নিতে হবে এবং এক রাত রেখে উহাতে ১০ লিটার পানি যোগ করে ছেকে নিতে হবে এবং স্প্রে করতে হবে। এতে পাউডারি মিলডিউ রোগ নিরাময় হয়।
১৭. গাঁদা ফুলের শিকড়ঃ
১ কেজি পরিমান শিকড় টুকরা টুকরা করে কেটে উহাতে ১ কেজি পানি অল্প অল্প করে যোগ করে ছেকে নিতে হবে। জমিতে বীজ বপনের সময় স্প্রে করতে হবে। এতে কৃমি মারা যাবে।
©somewhere in net ltd.