| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আজকে যদি আমার হাত কাটে, মলম লাগালে কাল ব্যথা সেরে যাবে। কিন্তু যদি হাত ভাঙ্গে, তবে আশা করতে পারিনা কাল সেরে যাবে। ১ মাস সময় লাগতে পারে।
তেমনি একটা আন্দোলন করলেই যে সাথে সাথে সব পাল্টে যাবে এবং বাস্তবায়ন হয়ে যাবে এটা আশা করাও ঠিক না। কিছু আন্দোলনে চূড়ান্ত বিজয় বলে কিছু থাকে না। পরিবর্তন শুরু হয়েছে কিনা সেটাই আসল। কারন এত দিনের ঘুণে ধরা একটা সিস্টেমকে একদিনে বদলানো যাবে না।
আমাদেরকে বুঝতে হবে সমাজের ক্ষতটা কত !!!! ?
তাকে সারিয়ে তুলতে কতটা সময় দিতে হবে।
আচ্ছা একটি জলন্ত উদাহরণ দেই । দেশটির নাম “নেপাল”। ২৪০ বছরের রাজতন্ত্রের অবসান। রাগ-ক্ষোভ জমতে থাকা নেপালের সাধারন নাগরিক কিন্তু এতকাল চুপ করে বসে থাকেনি । ভেতরে ভেতরে চলছিল কিছু প্রক্রিয়া। মাত্র পাচ বছরে বদলে গেল একটা গোটা দেশের ইতিহাস । দীর্ঘ রাজতন্ত্রের পতন । নেপাল আজ গণতান্ত্রিক দেশ ।
আমাদের ভাষা আন্দোলন , সূচনা হয়েছিল ১৯৪৮ সালে, ১৯৫২ সালে প্রান দিল, সালাম,রফিক,বরকত কিন্তু ১৯৫৬ সালে সংবিধান পরিবর্তনের মাধ্যমে বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেয়া হল। সময় লেগেছিল ৮ বছর ।
আমাদের স্বাধীনতা সেটাও তো দীর্ঘ ২৩ বছরের ফসল।
অতএব ‘সময়’ একটা ফ্যাক্টর । সুতরাং সবকিছুর সফল হবার পেছনে থাকে একটা প্রক্রিয়া ও কিছুটা সময়। চাইলাম আর হয়ে যাবে ,ব্যাপারটা এমন না। সময় দিতে হবে সফল হওয়ার জন্য।
কিন্তু আমাদের এখনকার আন্দোলন গুলো হুট করে জ্বলে উঠে আবার ধুপ করে নিবে যায় ।
সেটাকে steady রাখা যায় না। কারন হল, দ্রুত আত্ন-বিশ্বাসী হয়ে উঠা , আবার আত্নবিশ্বাস ভেঙ্গে যাওয়া। এই ভাঙ্গা-গড়া মূল হল বিভ্রান্তি । যখন নামি তখন উদ্দেশ্যটা এক থাকে,কিন্তু যখন একটু প্রসার পায় তখনি ভুল তথ্য দিয়ে আমাদের ভিতরে লোভ, ঈর্ষা ,হুজুগ ও ভয়ে আচ্ছন্ন করে ফেলা হয়। আন্দোলন এর ভিত্তি নড়ে যায় । প্রশ্নবিধ হয় ।
ছোটবেলায় পরা একটা কবিতার কথা এখন বেশি মনে পড়ে ।
“এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ ! কান নিয়েছে চিলে,
চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে”।
শামসুর রহমানের কবিতার মত অবস্থা এখন আমাদের।
আমরা এখন আর কোন কিছু যাচাই করতে চাই না।যা শুনি ,দেখি, তাই বিশ্বাস করে ফেলি ,তাই নিয়ে মাতামাতি শুরু করে দেই । নিজে যাচাই-বাছাই না করে অন্যর ভিতর ছড়িয়ে দেই। অন্যকে বিভ্রান্ত করি ।
ছোটবেলায় কিছু অদ্ভুত কথা শুনতাম, যখন জিজ্ঞাস করা হত কই থেকে শুনছ ? বলত অমুকের থেকে শুনছি,অমুক বলত তমুকের কথা । অমুক,তমুক করে শেষ পর্যন্ত আর প্রকৃত সাক্ষী পাওয়া যেত না । আজকাল ফেসবুকের নিউজ এর একই অবস্থা। সবাই শুধু কপি ,পেস্ট ,শেয়ার করছে , কিন্তু সে নিজেই জানে না, তা সঠিক কিনা । আপনি প্রশ্ন করলে বলবে অমুকের থেকে শুনছি । আর এখন তো ভিডিও এর যুগ, এটা কি অবিশ্বাস করা যায়!? সব কি এডিট করা যায় ?
কথা সত্য। সব হয়ত যায় না। কিন্তু এটাও সত্য যে আপনি ঘটনার কোথা থেকে দেখা শুরু করছেন,কোন ঘটনা দেখছেন অথবা সত্য দেখছেন কিনা এটাও গুরুত্বপূর্ন ।
চট করে কোন কিছুই বিশ্বাস করা ঠিক না। একজন অভিনেত্রী অথবা কেউ মুখে মাস্ক পড়ে কিছু বলল, যেটা সে নিজেও নিশ্চিত না,অন্যর থেকে শোনা, আপনি কেন তা নিশ্চিত বলে বিশ্বাস করছেন ।একজন মানুষ যখন জানে সে অপরাধ করবে, সে আগে থেকেই নিজেকে বাচানোর কথাটা মাথায় রাখে । আপনার মাথায় কেন সেটা থাকে নাহ। আপনি রিপ বাংলাদেশ বলে স্ট্যাটাস দিলে আপনার ও যে অস্থিত্ব থাকে না,সেটা কেন ভাবছেন নাহ।
আপনার শেয়ার যে অন্য মানুষ ধাঁধায় পরে যাচ্ছে, আতঙ্কিত হচ্ছে, বিব্রত হচ্ছে, রাগ-ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে এটা কেন ভাবছেন নাহ। আপনার ভুল কথায় অন্য কেউ যদি প্রভাবিত হয়ে কিছু করে,তার দায় আপনার উপর ও কিছু বর্তায় ।
আর আমরা জাতি হিসেবে বেশি আবেগী ও বিশ্বাসী। তাই এই সুযোগটা বেশি কাজে লাগানো যায়।আমাদের কে সহজে যে কোন জিনিস বিশ্বাস করানো যায় ।
তাই আমাদের ঝার-ফুক বিশ্বাস করানো যায়, পিছন থেকে ডাক দিলে অমঙ্গল হয় বিশ্বাস করানো যায়। আমাদের কে MLM করে রাতারাতি বড়লোক হওয়া যায় বিশ্বাস করানো যায় ।
আমরাদের আরেকটা পরিচয় আছে হুজুগে জাতি হিসেবে ।
হুজগের এর গতি যুক্তির বিপরীতে। যুক্তি-বুদ্ধি, বিচার-বিবেচনাকে গুলিয়ে দিয়ে মানুষকে ভেড়ার পালে পড়িনত করে দেয় । ভেড়ার গল্প তো সবার মনে আছে ... সামনে টা যেদিকে বাকিরা সেদিকে ।
এটাও সত্য যে আজকাল নির্ভরযোগ্য সংবাদ এর অভাব। যদিও এই তথ্য প্রযুক্তি যুগে একটু কষ্ট করলেই কিন্তু সঠিক টা জেনে নেয়া যায়। কিন্তু আমরা সেটা করতে আগ্রহী না। আমার কপি ,পেস্ট ,শেয়ারে বেশি আগ্রহী,বিশ্বাসী । কেউ যদি এটা বিশ্বাস করতে না চায়, উলটা তার বিরুদ্ধে লেগে পড়ি । কিন্তু যখন জানতে পারি ঘটনাটির কোন অস্থিত্ব নেই অথবা এটা অন্য ঘটনার দৃশ্য তখন কিন্তু অনুশোচনা বোধ করি নাহ।
আধুনিকতা আমাদের ব্যক্তিস্বাধীনতা দিয়েছে কিন্তু আত্নকেন্দ্রিকতা বাড়িয়েছে । তাই আমরা অন্যর কাজ থেকে শিখতে চাই নাহ, নিজেও বুঝতে চাই না, দেখতে চাই না, বিচার করার তো দূরের কথা।
তাই আমাদের সচেতন হতে হবে।সত্য ও মিথ্যা যাচাই করতে হবে প্রচার এর আগে । প্রত্যকটা লড়াইয়ে কত প্রান ,কত রক্ত ঝড়েছে । তা যেন বৃথা না যায় । মানুষ যেন সত্যটা জানতে পারে ।
সত্যকে সামনে নিয়ে আন্দোলন করতে পারে। কারন মিথ্যা তথ্য আন্দোলন এর ভবিষ্যৎ অন্ধকার করে দেয় ।
তাই লোভ, ঈর্ষা ,হুজুগ ও ভয় যেন আমাদের চেতনাকে আচ্ছন্ন না করে ফেলে। সময়ের আগেই নিরাশা চেপে বসলে ব্যধি বাড়বে। নেতিবাচক চিন্তা কোন দিনই কোনো কাজ সফল করেনি । পৃথিবী যত বড় বড় লড়াই জিতেছে সবই ইতিবাচক চিন্তার ফসল ...।
যদি অদূর ভবিষ্যৎ এ “নিরাপদ সংবাদ চাই” বলে আন্দোলন হয় ,খুব বেশি অবাক হব নাহ।
অনিরাপদ সড়ক যত মানুষের প্রান কেড়ে নিতে পারে, অনিরাপদ সংবাদ এর থেকে বেশি ক্ষতি করতে পারে ।
বিঃদ্রঃ গতকাল ভাইরাল হওয়া ২ টা ছবি, আমি নিজে যাচাই করে দেখিছি । লিঙ্ক দিলাম, আপনার ও যাচাই করে দেখতে পারেন ।
http://kifache.com/328757
https://m.dailyhunt.in/…/dilli+lakhanau+par+khas+kalakatate…

©somewhere in net ltd.