| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
দুই
নির্মাণ প্রকৌশলী,শখের বসে লেখার চেষ্টা তবে লেখক নই আবার সমালোচক হবার অভিপ্রায়
প্রকৌশলী মোঃ সিফাতুল ইসলাম
একাবিংশ শতাব্দীতে আমরা বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিপর্যয় , আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের তথা বিরূপ আচারনের কারনে হলেও আগের শতাব্দী থেকে পরিবেশ রক্ষায় আমরা এখন অনেক সচেতন । কিন্তু নির্মাণ শিল্প এই সচেতনতা থেকে অনেক পিছিয়ে । বাংলাদেশে নির্মাণ প্রযুক্তিতে সেভাবে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি বল্লেই চলে এবং জনসচেতনতা তৈরি করতে পারেনি । নির্মাণ শিল্পের অন্যতম প্রধান উপকরন হল ইট , যা তৈরিতে ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগের পলিমাটি ব্যাবহার করা হয় যাকে প্রকৌশলীদের ভাষায় (clay brick ) বলা হয় । এই পলিমাটির যাচ্ছেতাই ব্যাবহারে মাটি যেমন উর্বরতা হারাচ্ছে এবং কৃষি জমির পরিমান কমছে তেমনি এই ইট পোড়ানোর ব্যাপারটা আরও ভয়াবহ ক্ষতি করছে যেমন প্রাকৃতিক উৎস থেকে জ্বালানী সংগ্রহ অতঃপর বাতাসে কার্বন নিঃসরণ । সরকারী ভাবে নির্দেশ থাকলেও এই শিল্পে আইন মানার প্রবনতা সামান্য বল্লেই চলে। তবে সরকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ হউজ বিল্ডিং রিসার্চ ইনিস্টিটিউট পরিবেশ বান্ধব ইট তৈরিতে এবং তা জনগনের মাঝে এই প্রযুক্তি পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছে।
আর্থ ব্লক , হলো ব্লক , বা সিমেন্ট ব্লক:
বিভিন্ন প্রাকৃতিক উৎস থেকে সংগ্রহ করা , নির্মাণ বর্জ্য , নদী ড্রেজিং এর সময় প্রাপ্ত বালি-মাটি , পাথর কুঁচি , ছিরামিক বর্জ্য , বয়লার বর্জ্য , ফ্লাই-এশ , সিমেন্ট সহ বিভিন্ন সামগ্রী ব্যাবহার করে সাধারন ইট থেকে অনেক গুন শক্তিশালী , কার্যকারী , পরিবেশ বান্ধব , সাশ্রয়ী এবং প্রায় ১০০ ও বেশী প্রকার ইট তৈরি সম্ভব যা বিশেষ ভাবে বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য ।
এই ইট ব্যাবহারের সুবিধাঃ
এই ইট পোড়ানর কোন ঝামেলা নেই, নির্মাণ স্থানের আশেপাশে ই এই ইট বানানো যায় , বিভিন্ন কাজের জন্য উপযোগী বিভিন্ন রকম ইট ব্যাবহার সম্ভব , যেমন ভার বহনের জন্য (load bearing bricks ) , পার্টিশনে ব্যাবহারের জন্য হালকা ও দৃষ্টিনন্দন ইট , আর সার্বিক দিক দিয়ে এই ইট সাধারণ ইটের থেকে প্রায় ৩০-৩৫% খরচ সাশ্রয়ী ।
এই ইট তৈরিতে পরিবেশের কোন ক্ষতি হয় না , প্লাস্টার খরচ লাগে না , দৃষ্টিনন্দন আর সব থেকে বড় সুবিধা হল এই ইটকে প্রাকৃতিক শীতাতপ যন্ত্র ও বলা যায় কারন এই ইটের মাঝে ভ্যাকুয়াম থাকায় এবং নির্মাণ কৌশলের কারনে বাইরের তাপমাত্রা কে ভেতরে আসতে বাধা দেয় একই ভাবে ভেতরের তাপমাত্রা কে নিয়ন্ত্রন করতে পারে যার ফলে শীতে উষ্ণতা এবং উষ্ণ দিনে শীতল পরিবেশ ধরে রাখা সম্ভব যার ফলে প্রায় ৫-১০% বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে সক্ষম।
নোনা পানির এলাকাতে অথবা বন্যা কবলিত এলাকার জন্য এই ইট বিশেষ ভাবে উপকারী কারন উচ্চ চাপে তৈরি হবার কারনে এটি পানি ও লবনক্তাতায় সংবেদনশীল নয়।
এই প্রযুক্তি চীন ও জাপানে আশির দশকে জনপ্রিয় হলেও এটি আমাদের দেশে এখনও অপ্রচলিত । নির্মাণ সংক্রান্ত অজ্ঞতার কারনে আমরা এই বিকল্প ও কম খরচের প্রযুক্তি থেকে পিছিয়ে আছি। পরবর্তী লেখায় এই বিকল্প ইটের প্রাপ্তি , প্রতিষ্ঠান সহ নির্মাণ সংক্রান্ত আধুনিক প্রযুক্তি সমন্ধে আরও বিস্তারিত থাকবে
চলবে...................................................
©somewhere in net ltd.