| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ছবি : খালেদ আব্দুল্লাহ বিন হক
গত বছরের ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্তত: একশ জনের দেশে ফেরার সময় বিমান টিকেট জালিয়াতির নায়ক এবং এ ঘটনার মূল হোতা বাংলাদেশি ট্রাভেল এজেন্সি ‘আই ট্রাভেলস লি: (বাংলাদেশ) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক খালেদ আবদুল্লাহ বিন হক এর খায়েশ ছিল বাংলাদেশের নতুন ‘আজিজ মোহাম্মদ ভাই’ হওয়ার! এমনটাই জানিয়েছেন তারই অফিসে কর্মরত সাবেক এক নারী কর্মকর্তা।
ঘটনার নয়মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও খালেদ রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের বিভিন্ন মিডিয়ায় বেশ ফলাও করে এ ঘটনা প্রকাশিত হওয়ার খালেদ ও তার সহযোগী নবকুমার কথিত পলাতক জীবনে আছে । ভুক্তভোগীদের অনেকেই এখনও তাদের টাকা ফেরত পাননি। অন্তত: দেড় কোটি টাকারও বেশি টাকা আত্নসাতের অভিযোগ রয়েছে ভুক্তভোগীদের। অন্যদিকে আইন ও প্রশাসনের নাকের ডগায় ঢাকার মিরপুরে নিজ বাড়ী ও আই ট্রাভেলস’র অফিসে ‘বিলাসী আত্নগোপন’ জীবনযাপন করছে এই প্রতারক, এমন অভিযোগ উঠে এসেছে দেশের বিভিন্ন মিডিয়ায়।
কে এই খালেদ?
ঢাকার মিরপুরের পল্লবীর ৩৩ নম্বর সড়কের ১৬ নম্বর বাড়ীতেই স্থায়ীভাবে বসবাস করেন আলোচিত খালেদ আবদুল্লাহ বিন হক ওরফে রুমি। প্রথম দর্শনে বা আলাপচারিতায় মনে হবে অমায়িক কোন আধুনিক ধার্মিক লোক। কিন্তু বাস্তবতা এর পুরো উল্টো। যাকে বলে বক ধার্মিক। কোন মতে লেখাপড়ার পাঠ চুকিয়ে খালেদ চাকরির সুযোগ পান ঢাকার একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে। বছর চারেকের মাথায় নিজেই মিরপুরের ডিওএচইএস এ খুলে বসেন নিজের ট্রাভেল এজেন্সি ‘আই ট্রাভেলস লি:’। প্রতিযোগিতার বাজারে কোন মতে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলতে থাকে তার প্রতিষ্ঠান। তবে ব্যক্তি জীবনে বেপরোয়া খরচের হাত থাকায় একটু একটু করে ধার দেনা বাড়তে থাকে। নিজের বিলাসবহুল গাড়ি, চোখ ধাঁধানো অফিস সবকিছুতেই খালেদের চাকচিক্য চাই ই চাই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইট্রাভেলস লি: অন্তত: দুইজন সাবেক নারী কর্মকর্তা জানান, অস্ট্রেলিয়া থেকে যখন ব্যপক টিকেট বিক্রির টাকা আসতে থাকে ঠিক তখনই খালেদের চারিত্রিক অধ:পতন শুরু হয়। অফিসে অন্তত: চারজন সুন্দরী মেয়েকে কর্মকর্তা হিসাবে নিয়োগ দেন, যাদের কোন দাপ্তরিক কাজকর্মই ছিলনা। শুধুমাত্র তাদের সান্নিধ্যে নিজেকে হারাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন খালেদ। এদের মধ্যে ‘শ’ আদ্যাক্ষরের এক মোহনীয় সুন্দরীকে প্রতি সপ্তাহে গহনা পর্যন্ত উপহার দিতেন খালেদ। আর বিনিময়ে একান্ত সান্নিধ্যে নিতেন খালেদ। এমনকি বহুরাত অফিসেই কাটিয়েছেন, আর তার স্ত্রীকে জানান যে বিদেশের সাথে সময় মিলিয়ে অফিস করার জন্যই রাতে অফিসে থাকছেন। একই সাথে খোদ অফিসে নিজ কক্ষে ফেন্সিডিল ও ইয়াবা নিয়মিতভাবে সেবনও করতেন বলেও জানিয়েছেন ঐ নারী কর্মকর্তারা।
‘আজিজ মোহাম্মদ ভাই’ হতে চেয়েছিলেন খালেদ!
সামাজিক অবস্থান ও নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আই ট্রাভেলস লি: এর সাবেক এক নারী কর্মকর্তা জানান খালেদের গোপন কীর্তি ও অভিলাসের কথা। সাবেক এই নারী নিয়োগের মাত্র দুই সপ্তাহ পরেই খালেদ তাকে ডেকে নেন নিজ কক্ষে। মিটিং এর এক পর্যায়ে খালেদ তাকে জানান তিনি হতে চান বাংলাদেশের এক সময়ের আলোচিত ব্যবসায়ী এবং অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের মত। আর তাই তিনি ইতোমধ্যেই কাগজে কলমে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘আই গ্রুপ’ যার সত্ত্বাধিকারি তিনিই। একই সাথে তার প্রতিষ্ঠানে তিনি বেছে বেছে সুন্দরীদেরকেই নিয়োগ দিচ্ছেন। কারণ তিনি সুন্দরীদের সঙ্গ ও সান্নিধ্য দারুন উপভোগ করেন। খালেদ তাকে এও বলেন যে, আগের আজিজ মোহম্মদ ভাইয়ের দিন শেষ, তাই তিনিই হবেন নতুন আজিজ মোহাম্মদ ভাই! খালেদ তাৎক্ষণিকভাবে ঐ নারী কর্মকর্তাকে পুরো গ্রুপের ব্যবস্থাপক পদ গ্রহনেরও অফার করেন। আর এর বিনিময়ে তিনি ঐ নারী কর্মকর্তার একান্ত সান্নিধ্য পাওয়ার আকুল আবেদন জানান। ঐ দিনই ঐ নারী কর্মকর্তা লজ্জা আর অপমান নিয়ে অফিস ত্যাগ করেন। আর কোনদিনই ঐ অফিসে ফিরে যাননি। এমনকি খালেদ তার নির্ধারিত বেতনও তাকে আর পরিশোধ করেনি। অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে এই নারী কর্মকর্তা প্রশ্ন রাখেন যে লোকটির অভিলাষ বাংলাদেশে নতুন আজিজ মোহাম্মদ ভাই হওয়ার তার কাছে কোন নারীই কি নিরাপদ থাকতে পারে? প্রতারক খালেদের অন্য বিচারের পাশাপাশি নারী কেলেংকারির বিচারও হওয়া প্রয়োজন।
অস্ট্রেলিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের অভিযোগ বিগত নয় মাসে বাংলাদেশে অন্তত: ৭/৮টি মামলাও (সবগুলোই ভুক্তভোগী যাত্রীদের ব্যাংক চেক ডিজঅনার হওয়া) হয়েছে খালেদের বিরুদ্ধে। কিন্তু কোন খুঁটির জোরে এখন পর্যন্ত বহাল তবিয়্যতে আছেন খালেদ এটিই আশ্চর্যের বিষয়। নতুন খবর হলো গত মাসেই অফিসের বকেয়া ভাড়া, বিলসহ সকল পাওনাদি পরিশোধ করেছেন খালেদ। আর ইতোমধ্যেই ভিন্ন নামে আরো বড় আকারে ট্রাভেল এজেন্সি শুরু করার জন্য অন্তত: ৩/৪ জন সুন্দরীর নিয়োগ প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে। এবার তিনি নিজেই আইআটার লাইসেন্স নেবেন বলেও কাছের সবাইকে জানিয়েছেন। ইতোমধ্যেই খালেদ একটি বিএমডাব্লউ গাড়ি কিনেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে এ গাড়িতে করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়াচ্ছে খালেদ আর তার সহযোগি নবকুমার।
ছবি : নবকুমার
ছবি: নবকুমার বিএমডাব্লুউ’র সামনে
প্রশ্ন হলো যে লোকটি প্রবাসী বাংলাদেশির টিকেট প্রতারণার মূল ব্যক্তি, যার নামে মামলার অভাব নেই দেশে, সে কেমন করে প্রশাসনের নাকের ডগায় সবাইকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে আবারও ব্যবসা শুরু করতে যাচ্ছে? ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন তাহলে কী অস্ট্রেলিয়াতে প্রবাসী বাংলাদেশির টিকেট কেলেংকারির মূল নায়ক খালেদ এতই শক্তিশালী যে তিনি রয়ে যাবেন ধরাছোঁয়ার একেবারে বাইরে? নাকি আগের আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের মতো এবারের কথিত ‘নতুন আজিজ মোহাম্মদ ভাই’ ওরফে খালেদও থাকবেন সব ধরা ছোঁয়ার উর্ধে?
©somewhere in net ltd.