| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটের টিকেটে ছাড়ের অফার দিয়ে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে প্রায় বছর খানেক আগেই । রাজধানীর আই ট্রাভেলস লিমিটেড নামে এ প্রতিষ্ঠানটি অস্ট্রেলিয়া প্রবাসীদের মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের প্রায় ৪০০ ডলার কম দামে টিকেট ছাড় দেয়ার ঘোষণা দেয়। ছাড়ের সুযোগ পেয়ে শত শত অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি টিকেট কিনলেও পাননি। প্রতারণার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি হাতিয়ে নিয়েছে কয়েক কোটি টাকা। পরে প্রতিষ্ঠানটি টিকেট ক্রেতাদের টাকাও ফেরত দেয়নি। প্রতারণার শিকার কয়েকজন অস্ট্রেলিয়ার প্রবাসী বাংলাদেশে ওই প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার খালেদ আব্দুল্লাহ বিন হকের বিরুদ্ধে মামলাও করেছেন।
ছবি: প্রধান প্রতারক খালেদ আব্দুল্লাহ বিন হক
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসের দিকে আই ট্রাভেলস লিমিটেড অস্ট্রেলিয়া প্রবাসীদের বাংলাদেশ আসার জন্য মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের টিকেটে ছাড় ঘোষণা করে। যেখানে নিয়মিত ভাড়া ১৬০০ ডলার সেখানে ৯৫০ থেকে ১২৫০ ডলারে টিকেট দেয়ার অফার দেয়। প্রায় ৪০০ থেকে সাড়ে ৬০০ ডলার কম মূল্যে টিকেটের এই অফারে প্রায় কয়েক শত প্রবাসী টিকেট কেনেন। কিন্তু ভ্রমণের আগ মুহূর্তে টিকেট দিতে ব্যর্থ হয় প্রতিষ্ঠানটি। এ অবস্থায় টিকেট কেনা প্রবাসীরা ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং স্থানীয় দুই প্রতিনিধির ওপর ন্যাক্কারজনকভাবে চড়াও হয়।
ছবি: সহযোগি প্রতারক নবকুমার সাহা
জানা যায়, বাংলাদেশে আই ট্রাভেলসের এমডি খালেদ আব্দুল্লাহ বিন হক অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে বসবাসরত জনৈক শামিম হায়দার নামে এক ব্যক্তিকে তার প্রতিষ্ঠানের অ্যাডিলেড প্রতিনিধি এবং সিডনিতে বসবাসকারী জনৈক ইমরুল বিন কাশেমকে কান্ট্রি ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দিয়ে টিকেট অফারের বিষয়টি জানান। পরবর্তীতে তিনি অফার দিয়ে টিকেট বুকিং দেয়া শুরু করেন। ছাড় পেয়ে শত শত প্রবাসী টিকেট কেনেন। কিন্তু ভ্রমণের আগ মুহূর্তে টিকেট দিতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রবাসীরা স্থানীয় দুই নিরিহ প্রতিনিধির ওপর চড়াও হন। প্রবাসীরা অস্ট্রেলিয়া পুলিশের কাছেও অভিযোগ দেন। পরে পুলিশি তদন্তে দেখা যায় টিকেট বুকিংয়ের সব অর্থ বাংলাদেশের আই ট্রাভেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খালেদ আব্দুল্লাহ নিয়েছেন। মূলত খালেদ এবং নবকুমার শামিম হায়দার এবং ইমরুলসহ টিকেট ক্রেতা সকল প্রবাসীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। এ অবস্থায় খালেদ আব্দুল্লাহ টিকেটের অর্থ ফেরত দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন, এবং প্রতিবারই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন। আর তাই ভুক্তভোগীরা এখন পর্যন্ত তাদের টিকেটের অর্থ ফেরত পাননি। এমনকি খালেদ ও নবকুমার অত্যন্ত সুকৌশলে অস্ট্রেলিয় প্রতিনিধিদের কাছ থেকে অন্ততঃ ৫০ লক্ষ টাকা ধার নিয়ে সে টাকাও আত্নসাৎ করেছে।
জানা গেছে, মিরপুর ডিওএইচএস এলাকায় অফিস নিয়ে এয়ার লাইসেন্সের টিকেটিং কার্যক্রম শুরু করে আই ট্রাভেলস। অস্ট্রেলিয়া প্রবাসীদের বড় অংকের টাকা আত্মসাৎ করে বর্তমানে অফিস গুটিয়ে নিয়েছেন তার। ইতোমধ্যেই আরেক প্রতারক নবকুমার পালিয়ে গেছে। একটি সমর্থিত সূত্র জানিয়েছে নবকুমার নরসিংদীতে অবস্থান করছে। আর মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশও তাদের গ্রেফতারের জন্য খুঁজছে। বর্তমানে উভয়ই দেশ থেকে পালানোর চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে যে, প্রতারণা সংক্রান্ত ব্যাপারে পিতা ফজলুল হকের দেয়া কূটছকেই খালেদ এগুচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।এদিকে মিরপুরের পল্লবীতে তাদের বাড়ীটিও বিক্রি করে দিয়েছে। এলাকায় চাউর হয়েগেছে যে, বাড়ী বিক্রি হলেই ফজলুল হক স্ত্রীকে নিয়ে আমেরিকায় পাড়ি জমাবেন অপর দুই সন্তানের কাছে। ফলে টাকার পাওনাদাররা সীমাহীন অনিশ্চয়তার দিকে এগুচ্ছেন বলেই ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। এলাকাবাসী জানিয়েছেন যে খালেদের পিতা স্থানীয়ভাবে দীর্ঘদিন থেকেই নানান কূটচাল এবং লোক ঠকানোয় ওস্তাদ। পল্লবীর স্থানীয় বাসিন্দা, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আইনজীবি জানান, পিতার প্রচ্ছন্ন স্নেহে খালেদ ছোটবেলা থেকেই বোহেমিয়ান জীবনে অভ্যস্ত। আর তাই এবারও তিনি খালেদকে রক্ষা করার জন্য বিরামহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
এদিকে পল্লবী থানার ওসি দাদন ফকির বলেন, আমরা প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অভিযোগ(জিডি) পেয়েছি। এর সত্যতাও রয়েছে। আমরা তাকে আটকের চেষ্টা করছি।
তবে ভূক্তভোগীদের অভিযোগ প্রশাসনের গাঁছাড়া ভাবের কারণে খালেদ এবং নবকুমার এখনও পালিয়ে থাকতে পারছে। এটি সত্যিই হতাশার। প্রতিদিন সন্ধার পরই খালেদ তার কথিত পলাতক জীবন থেকে বেরিয়ে মিরপুর ডিওএইচএস অফিসে আড্ডা জমাচ্ছেন বলেই স্বীকার করেছেন তার অফিসসহকারী কালাম। ইতোমধ্যেই পাওনাদারদের ঝামেলা থেকে বাঁচতে স্থানীয় মাস্তান বাহিনীর সাথেও চুক্তি করেছে খালেদ। ভুক্তভোগীরা পাওনা টাকা চাইতে গেলেই নানা হুমকিসহ হেনস্থা করছে ঐ মাস্তান বাহিনীরা। ভুক্তভোগীদের আক্ষেপ প্রশাসনের আরেকটু সহযোগিতা পেলে এ প্রতারকচক্রটিকে খুব সহজেই পাকড়াও করা সহজ হতো। তবে ভুক্তভোগীরা সবাইকে অনুরোধ করছেন যেখানেই এ প্রতারকচক্রের সন্ধান মিলবে মিরপুর পল্লবী মডেল থানায় অবিলম্বে অবহিত করতে। অন্যদিকে ভূক্তভোগীদের অপর একটি পক্ষ প্রতারক খালেদ এবং সহযোগী নবকুমারের সন্ধানের জন্য নগদ টাকা পুরস্কারের কথাও চিন্তাভাবনা করছেন। সেক্ষেত্রে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে আরেকটি বৈঠকের পর তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন।
সংযুক্ত : আই ট্রাভেলস এর টিকেট কেলেঙ্কারি নিয়ে তৎকালীন সময়ে যমুনা টিভি’র রিপোর্ট দেখুন-
https://www.facebook.com/video.php?v=719109314874557&set=vb.586449788140511&type=2&theater
https://www.facebook.com/video.php?v=734342866684535&set=vb.586449788140511&type=2&theater
©somewhere in net ltd.
১|
১০ ই নভেম্বর, ২০১৫ দুপুর ২:৫২
এহসান সাবির বলেছেন: ঘটনা সত্যি হলে উপযুক্ত শাস্তি চাই।