| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ঘুরাঘুরির নাকি আবার সময় আছে?অনেকে বলে,সিজন-ননসিজন এগুলো ও ভ্র্রমনের একটা ফ্যাক্ট।কিন্তু আমি তা মানি না।আর তাই আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে হঠাৎ ডিসিশন নিলাম সেন্ট মাটর্িন যাব (রাতুল,পরাগ,বাবু আর আমি)।তখন সেপ্টেম্বর মাসের ১২ তারিখ আর ডেট ফইনাল করলাম ২৩ এ।কিছু বড় ভাই+ বন্ধুদের ফোন দিয়ে একটু খোজ খবর নিলাম আর গুগুল মামা তো আছেই।এরমাঝে এক বন্ধু বলল, এটা তো অফসিজন যাওয়ার দরকার নাই।করণ এ সময়ে নাকি সেন্ট মার্টিন যাওয়ার শিপ থাকে না। অলরেডি আমাদের ট্রেনের টিকেট কাটা শেষ। আমরা যাচ্ছি। কিন্তু হায়!একেই বোধয় বলে কপাল,২০ তারিখ হতে টানা বৃষ্টি, ২৩ তারিখ সন্ধ্যা পর্যন্ত।এদিকে পরাগ বারবার ফোন দিয়ে বলছে,তোরা আসছিস তো? ও চিটাগাং ভাসর্িটিতে পড়ে ।আমাদের চিটাগাং তো ফকফকা ওয়েদার। রাতুল ওয়েদারফাকেস্টে দেখলো আর ও ৩-৪ দিন বৃষ্টি হবে।অনেক চিন্তাভাবনার পর ওরা বলল যাবে না।এই আবহাওয়াতে নাকি যাওয়া উচিত হবে না।হঠাৎ আমার কি হল জানিনা,প্রচন্ড জেদের বশে বললাম,আমি একাই যাব।আমার জেদের কাছে ওরা পরাজিত হয়ে রাজি হল।রাতে ট্রেনে উঠার আগে পযর্ন্ত এত টেনশনে ছিলাম য,কখন যে এক প্যাকেট সিগারেট শেষ হয়ে গেল বুঝতেই পারিনি।আর তাই ট্রেনে উঠে,খেয়েদেয়েই ঘুম। সকালে স্টেশনে পৌছই দেখি প্রাণের বন্ধু পরাগ হাজির।এত খুশি দেখে কে?ঝটপট নাস্তা করেই সৌদিয়া বাসে ককা্রবাজার।যদিও এবারই প্রথম নয়।হোটেলে উঠার সময় এ অফসিজনে আসার পুরো এডভ্যােন্টজ টা পেলাম।ভাড়আ মাত্র ৩০০ টাকা।(ডায়মন্ড প্যালেস-০১৮১৮৯১৮২১৩)লাইট হাউজের নিচেই।সী বিচ এতটা কোলাহল মুক্ত যা আগের বার,আগের বার কেন অন্য কখনও পাওয়া যাবে না।সমুদ্রের এই আক্রোশ,ক্ষুদ্ধতা,উন্মুক্ততা বা বিশলতা যাই বলি না কেন অন্য সময়টাতে তা দেখা যায় না।বিকেল থেকে সন্ধ্যা অবধি গোসল করলাম।যদিও অল্প গভীরতায় নেমেছিলাম,তারপর ও এত বড় বড় ঢেউ শুধু এ সময়টাতেই। এটাকেই বলে কপাল,কই বৃষ্টি,কই কি।ঝকঝকে আকাশ আর ফকফকা দিন। পরদিন অটো যোগে হিমছড়ি হয়ে ইনানী রক বিচ।হিমছড়িতে পাহাড়ের উপর উঠতে অবশ্য একটু কষ্ট করতে হয়।কিন্তু ওপর থেকে সমুেদ্রর ভিউটা এত চমৎকার লাগে দেখতে,যে আর চোখ ফেরানো যায় না।শুধু মনের অজান্তে ভাবি এত সুন্দর জায়গা কি পৃথিবীর কোথাও আছে?
ইনানী বিচ হল মিনি ভাসর্ন অব সেন্ট মার্টিন।তারই কিছু ছবি।
সেন্টমার্টিন যাওয়ার জন্য অনেক ট্রাভেল এজেন্সী আছে।কিন্তু আমি মনে করি নিজেরা যাওয়াই বেস্ট।এটা যেমন সাশ্রয়ী তেমনি কোন লিমিটেশন নাই।২৫ তারিখ খুব ভোরে রিকা্রা করে শহরের বাস স্ট্যান্ডে পৌছে টেকনাফ এর বাস ধরলাম।টেকনাফ পৌছে যখন জাহাজ ঘাটিতে,তখন জানতে পারলাম ৩ নাম্বার সতর্ক সংকেত।জাহাজ আর যাবার নয়।নো টেনশন,বিকল্প প্ল্যান করাই ছিল।দেরি না করে সরসরি মেইন শহরে ট্রলার ঘাটে পৌছালাম।একেই বোধহয় বলে বিধি বাম,৪নাম্বার বিপদ সংকেত।২-১ দিন টেকনাফ থাকতে হবে।মজার ব্যাপার হল এই,সবাই জেদ ধরল যে করেই হোক যাবেই।অতঃপর ট্রলার ঘাটের মাস্টারের সহোযোগিতায় ঘাটের পাশেই দ্বিতল হোটেলের একটি রুম ভাড়া নিলাম।তিনি আমাদের এই বলে আশ্বস্ত করলেন যে,সেন্টমার্টিনগামী প্রথম ট্রলারে আমাদের তুলে দিবেন। নিশ্চিন্ত মনে অনেক রাত অবধি কাডর্ খেলে ঘুমালাম।আনুমানিক সকাল ৮ টার দিকে দরজায় নক।দরজা খুলতেই এক লোক এক্ষুনি ঘাটে যেতে বলল।আমরা দ্রুত ঘাটে গিয়ে দেখি ট্রলার ছাড়ছে ছাড়ছে ভাব।ব্যাপার গুলো এত তাড়াতাড়ি ঘটে গেল যে নাস্তটা করার সময় পাইনি।ট্রলার ভ্রমণ এতটা রোমান্চকর তা আগে বুঝিনি।
বেশকিছু চেকপোস্ট পার হয়ে যখন নাফ নদীতে পড়লাম,তখন ভাবছি একটা নদী কি করে এত জীবন্ত হয়।সত্যিই বিচিত্র এক অনুভূতি।
এই নাফ নদী থেকেই যাওয়া যায় মায়ানমার।বিডিআর, সী কোস্টগাডর্ চেকপোস্ট পার হয়ে তবেই।অনেকে ভাগ্যের সন্ধানে পারি জমায় আর আমাদের মত কেউ রোমান্চকর এডভ্যানচার এর নেশায় এরকম ভাবেই।
পরবতর্ী খন্ডে সমাপ্ত।(অন দ্যা ওয়ে টু সেন্টমাটর্িন)
২|
১২ ই জুলাই, ২০১৩ দুপুর ১২:২০
মনিরুল হাসান শাওন বলেছেন: ধন্যবাদ।
শীঘ্রই চেষ্টা করব।
©somewhere in net ltd.
১|
১১ ই জুলাই, ২০১৩ সকাল ৯:২০
অপূর্ণ রায়হান বলেছেন: +++++++++++++++
পরের পর্বের অপেক্ষায়