নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মনিরুল হাসান শাওন

মনিরুল হাসান শাওন › বিস্তারিত পোস্টঃ

ভ্রমনের কি আর সময়সীমা বাধা থাকে? পার্ট-২

২৮ শে জুলাই, ২০১৩ রাত ১:৪৪

ট্রলারে করে নাফ নদী হতে যখন মোহনায় পৌছালাম তখন এর ঢেউ দেখে আমাদের আনন্দের মাত্রা অনেক বেড়ে গেল।ভাবতেই অন্যরকম লাগছে পুরোপথটাই সাগর পথে যেতে হবে।আমাদের ট্রলারে ৩০-৩৫ জন ছিল কিন্তু শুধু আমরাই টুরিস্ট।মাঝ সাগরে এসে এর বিশালতায় আমরা মুগ্ধ হয়ে যাচ্ছিলাম।ইনফ্যাক্ট প্রথম বলে কথা।প্রায় ঘন্টা ৩ এর পথ।সাগর এত বিশাল যে, ট্রলারটাকে একটা খড়কুটার মত লাগছিল।আমাদের এত ক্ষুদ্র লাগছিল,একটু ভয়পেয়ে গিয়েছিলাম।একটানা ট্রলারের ভটভট শব্দে কিছুটা অস্বস্থি বোধ করছিলাম।স্থানীয় একজনকে বলতেই উনি জানালেন আর ৪০ মিনিটের মত লাগবে।তারএকটু পরেই সেই আকাঙ্খিত দ্বীপটির অবয়ব দেখতে পেলাম।সেটা এক অন্যরকম অনুভূতি।সবাই যখন খুশিতে আত্মহারা তখনই আকাশ মেঘে ঢেকে কালো হয়ে গেল। একই সাথে বৃষ্টিও শুরু হল এবং প্রচন্ড বাতাস। ট্রলারের সবাই খুব ভয় পেয়ে মহান আল্লাহ্ তালার নাম জপতে শুরু করল।আমরা তখনও এতটা ভয় পাইনি। কিন্তু যখন সবাইকে লাইফ জ্যাকেট দিয়ে পড়তে বলল তখন, সতি্যই খুব ভয় পেলাম।ভাগ্য এতটাই খারাপ,আমি,পরাগ আর রাতুল ছাড়া সবাই লাইফ জ্যাকেট পেল।ভয়ে এমন অবস্থা যে, পেটের ভাত চাল হয়ে যায়।চোখের সামনে ১০-১৫ফুট ঢেউ দেখেও বিশ্বাস হচ্ছিল না,এটা কি স্বপ্ন না বাস্তব।এই ঢেেউ ট্রলার এত দুলছিল,যেকোন সময় একটা খারাপ কিছু ঘটে যেতে পারে।সবাই একদম চুপ,একমনে আল্লাহ্-নবীর নাম নিচ্ছে। আমিও সুরা পড়ছি।এতবার আল্লহ্‌র নাম নিয়েছিলাম যে,জীবনেও তা একসাথে নিই নি। এক মহিলাতো ভয়ে বমি-টমি করে শেষ।আমি টেনশন এর চোটে একটানা সিগারেট টানলাম,যদি টেনশন কিছুটা কমে। পরাগ আর রাতুল নিজেরা জোক্‌স বলতে লাগলো।তখন পরাগ বলল,রাতুল একটু আগে বাসায় ওর আম্মার কাছে ফোন দিয়ে মাফ-টাফ চেয়েছে।

ভাবছি এত বিশাল ঢেউ যে,ট্রলার ডুবে গেলেও লাইফ জ্যাকেট এ কিচ্ছু হবে না।ঢেউের নিচেই পৈতৃক জীবনটা যাবে। এরপরও আমি খুশিতে চিৎকার করছিলাম। এত প্রকৃতিক,বন্য মজাটা আর কোথায় পাওয়া যাবে???

এটা অবশ্য বলে কাউকে বোঝানো যাবে না, ঐ মুহূর্তের অনুভূতিটা।সময় ও স্থির হয়ে গিয়েছিল। ট্রলারের প্রপেলার পানির উপরে বারবার উঠেআসছিল। উপর নিচে এমন ভাবে দোল খাচ্ছিল,যেন রোলার কোস্টারে আছি।দীঘর্ ১ ঘন্টা ২০ মিনিট পর জাটিতে পা রাখার পর মনে হল,নতুন জীবন পেলাম।যদিও জেটিতে নামার পর সী সিকনেস এর প্রভাবে বমি বমি আসছিল।ওখানকার কোস্টগাডর্ জানালো কিছুক্ষন আগেই ৪ নাম্বার বিপদ সংকেত পড়েছে।অথর্্যাত আমরা সমদ্রে ঝড়ে পেড়ছিলাম।আল্লাহ্‌র অশেষ রহমতে আমরা পৌছালাম।সীকোস্টগার্ডের হালকা চেক করার পর অব্যহতি পেলাম।



খাওয়া দাওয়ার পর হোটেলে আসতেই ঝুম বৃষ্টি।কি আর করা এই পরিবেশে?ঘুম।সন্ধ্যায় উঠে বেড়াতে বের হলাম।একেবারে আড্ডা দিয়ে অনেক রাতে রুমে ফেরা।







পরদিন সকালে দেখি ঝকঝকে আকাশ।মনটাই ভাল হয়ে গেল।সবাই মিলে পূবর্ প্ল্যান অনুযায়ী সেন্ট মাটর্িন পুরা দ্বীপটাই ঘুরে দেখতে বের হলাম।হাটতে হাটতেই দ্বীপ দেখার ইচ্ছা।যদিও তখন এছাড়া অন্য কোন উপায় নেই।শুধু সিজনের সময় ট্রলারে করে ছেড়াদ্বীপ যাওয়া যায়।আমাদের আনন্দের বহর্িপ্রকাশ স্বরুপ শুধু কিছু ছবি।





ছেড়াদ্বীপ হতে ঘুরে এসে সমুদ্রবিলাস ও এর আশেপাশে একটু ঘুরাঘুরি করে সী বিচ এ গোসল।সারাটা বিকেল জেটিতে আড্ডা দিয়ে কাটালাম। ঐ দিনই ফেরার ইচ্ছা ছিল কিন্তু এত সুন্দর পরিবেশ এ আরও একদিন থাকার পক্ষে সবাই মত দিল।অবশ্য এর মাশুল স্বরুপ কিছু জরিমানা গুনতে হল।কারন আমরা ঢাকায় ফেরার টিকেট আগেই কেটে ফেলেছি। ফোন দিয়ে পরের দিন টিকেট কনফার্ম করলাম। তারপরই সবাই মিলে মাস্তি আর মাস্তি।তবে একটা ব্যাপার না বললেই নয়, শুধু এই সময়েই দ্বীপের মানুষগুলো এত কোঅপারেটিভ যা অন্য কোন সময়ে পাওয়া যায় না।পরের বারের অভিজ্ঞতায় বুঝেছি,সিজনে এদের মন মানসিকতা অনেকটা ব্যাবসায়িক হয়ে যায়।পরদিন ঘুম থেকে উঠে লম্বা একটা জানর্ির জন্য রেডি হয়ে যাই।আসার সময় ও ট্রলারে করেই আসতে হল কারণ তখন ও খারাপ আবহাওয়ার জন্য কোন জাহাজ নেই।ফিরে আসতে আসতে বার বার সেন্টমাটর্িন এর কথাই মনে হচ্ছিল।সারাটা পথ সোলসের "মুখরিত জীবনের চলার পথ" এই গানটিই শুনছিলাম।





বিঃদ্রঃ- আসার সময় খুব ভাল ভাবেই এসেছিলাম।তবে রোদে ঘুরাঘুরির ফলে হাত ও মুখে কাল স্পট পরেছিল সানসক্রিম না ইউজ করার ফলে।বেশ কিছুদিন পর ঠিক হল।বন্ধুরা এটা নিয়ে অনেক হাসহাসি করেছিল বাট এটাই আমাদের মজার দিন গুলো বার বার মনে করিয়ে দিচ্ছিল।



পূবর্ের লিংকঃ

ভ্রমনের কি আর সময় সীমা বাধা থাকে?

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.