![]() |
![]() |
নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সকল মানুষের মধ্যে কিছু কিছু ভুলত্রুটি আছে যা মানুষ নিজে বুঝতে পারে না, সেই ভুলগুলো ধরিয়ে দেয়া এই অধমের দায়িত্ব
বাংলা পঞ্জিকার অনুশাসনে আজ ১ আষাঢ়, ১৪২৪ বঙ্গাব্দের বর্ষার প্রথম দিন। প্রকৃতিতে গ্রীষ্মের তাপদাহ ছিন্ন করে বর্ষার দিন উঁকি দিল। তৃষ্ণায় যাদের ছাতি ফাটিয়া যায় তারা বর্ষার আগমনে প্রাণে স্পন্দন অনুভব করা শুরু করে দিয়েছেন। বর্ষার আগমন প্রকৃতিতে যেন নব যৌবনের ছোঁয়া লেগেছে।
মহাকবি কালিদাস তার ‘মেঘদূত’ কাব্যে বর্ষার সৌন্দর্য-সখা যে মেঘ, সেই মেঘকে কবি লোভনীয় সম্ভোগের আভাস দিয়ে যক্ষের সহচর রূপে যক্ষপ্রেমিকার কাছে পাঠান। সেখানে মেঘ সঙ্গত কারণেই প্রেমের বার্তাবহ দূত রূপে চিহিৃত হয়।
তীব্র গরমের পর কয়েক দিন পর পর বৃষ্টি হচ্ছে। কদম এখন ফুল থেকে কলির গন্ডি ছাড়িয়ে গেছে। কোথাও কোথাও ফুল হয়ে ফোটা শুরু করে দিয়েছে। কদমের শ্রুভ হৃদয় মানব মনে রাঙ্গিয়ে নেয়ার মত পরিবেশ শহরে কমই আছে। শুধু শহর নয় গ্রাম থেকেও হারিয়ে যাচ্ছে কদম ফুল এবং তার সাথে গাছ। আষাড়ে বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটায় পুষ্প-বৃক্ষে, পত্র পল্লবে নতুন প্রাণের স্পন্দন ধ্বণিত হয়। বর্ষার সতেজ বাতাসে জুঁই, কামিনী, বেলি, রজনীগন্ধা, দোলনচাঁপা আরো কত ফুলের সুবাস ছড়িয়ে প্রকৃতির মাঝে একটা নতুনত্বের সন্ধান দেয়। পদ্মপুকুর আকুল হয়ে থাকে বর্ষাকে পাওয়ার জন্য। বৃষ্টিতে ভিজে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরা আশি ও নব্বই দশকের ছেলেদের কাছে এখন নষ্টালিজম।
বর্ষায় কবিদের মন উদাস করে দেয়। অতীতে বর্ষা নিয়ে বিদ্রোহী কবি, বিশ্বকবি কিংবা মহা কবিরা মাতোয়ারা ছিলেন। এখন ফেসবুকের দুই লানের কবি থেকে শুরু করে সম-সাময়িক কবিরা লিখেছেন। বর্ষা মানেই সময়-অসময়ে ঝুপ ঝুপ বৃষ্টি, কর্দমাক্ত পথঘাট, খাল-বিলে থৈ থৈ পানি, নদীতে বয়ে চলা ছবির মতো পাল তোলা নৌকার সারি। শৈশবে বৃষ্টিতে ভিঁজে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরা। গ্রামের মাঠে বৃষ্টিতে ভিজে ফুটবল খেলা। ঝড়-সর্দি এবং কাশি, অত:পর মায়ের বকুনি। আশি ও নব্বই দশকে বর্ষার সময় ছেলেপুলেরা লুডু, ছয় গিট্টা, বারো গিট্টা, বাঘ-ছাগল প্রভূতি খেলা খেলে সময় কাটাত। আর বড়রা কেউ কেউ মাঠে হাডুডু খেলত, বাকিরা তা দেখে বিনোদিত হত। পাড়ায় পাড়ায় চলত হাডুডু খেলার আয়োজন।
সময়ের সাথে বর্ষার অনুসঙ্গগুলো পরিবর্তন হতে চলেছে। এখনকার পোলাপাইন বর্ষা নিয়ে ফেবুতে দুই লাইনের স্টাটাস দেয়। ফ্যাশন হাউজগুলো বর্ষার উপযোগী বিশেষ মডেলের পোষাক বিপনন করে। ঘরে ঘরে চলে খিচুরি ভোজ। ছাতা আর রেইন কোর্ট ব্যবসায়ীদের মওসুম চলে। বর্ষার সময় পানি বাহিত এবং বায়ূ বাহিত বিভিন্ন রোগ জীবানু ছড়িয়ে পড়ে, এর বড় শিকার হয় শিশুরা। ফলে ডাক্তারী দোকান গুলোতে ভিড় পরে যায়। গরীবের চিন্তায় ভাঁজ পড়ে। নগরে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং গানের দল আয়োজন করে বর্ষাবরণের নানা অনুষ্ঠান। সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতেও থাকে বিশেষ অনুষ্ঠান মালা। পর্যাটন নগরী কক্সবাজারের রাখাইন সম্প্রদায় বর্ষাকে বরণ করে ভিন্ন মাত্রায়। তারা সমুদ্রসৈকতে মাসব্যাপী বর্ষাবরণ উৎসবের আয়োজন করে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকেরা এ বর্ষাবরণ উৎসবে যোগ দেয়।
বর্ষা মানব হৃদয়ে বিচিত্র অনুভূতি খেলা করলেও হতদরিদ্র, খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের জীবনে মহাদুর্যোগ ও দুর্বিপাক বয়ে আনে। অনেকের ছন কিংবা টিনের চালা দিয়ে পানি ঝড়তে থাকে। এ যেন প্রকৃতির কান্না। একটানা অনেক দিন ভারি বর্ষণ চলতে থাকলে গরীবের মাথায় হাত পড়ে। কাজ কাম বন্ধ হওয়ার কারণে কেউ কেউ উপোষ থাকে। হালে বৃষ্টির সময় নগরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। তখন ঢাকা শহরের রাজ পথ হয়ে উঠে বুড়িগঙ্গার শাখা নদী। পোলাপাইনে সেখানে সেল্ফি তোলে দুই মেয়র এবং সরকার কে নিয়ে ট্রুল করে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এখন বর্ষা আর গ্রীষ্মকে আলাদা করে চিহ্নিত করা দিনে দিনে দুরূহ হচ্ছে।খানিক ভ্যাপসা গরম আর খানিক সময় মাথার উপর ঠ্যাটা পড়া রোদ পড়ে। ফলে মানব কুলের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা সৃষ্টি হয়। বৃষ্টির জন্য চাতক পাখির ন্যায় চেয়ে থাকে প্রকৃতি।
সর্বশেষ, কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা দিয়ে শেষ করলাম।
নীল নবঘনে আষাঢ়গগনে তিল ঠাঁই আর নাহি রে।
ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে।
বাদলের ধারা ঝরে ঝরঝর,
আউশের ক্ষেত জলে ভরভর,
কালি-মাখা মেঘে ও পারে আঁধার ঘনায়েছে দেখ্ চাহি রে।
ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে।।
………………………
১৫ ই জুন, ২০১৭ সকাল ১১:৪২
শাহাদাৎ হোসাইন (সত্যের ছায়া) বলেছেন: ধন্যবাদ মন্তব্য করার জন্য।
আশা করি বাসায় খিচুড়ি হবে সাথে জম্পেশ আড্ডা।
২| ১৫ ই জুন, ২০১৭ সকাল ১১:৪১
জীবন সাগর বলেছেন: আপনাকেও শুভেচ্ছা ভাই
সুন্দর লিখেছেন
১৫ ই জুন, ২০১৭ সকাল ১১:৪৪
শাহাদাৎ হোসাইন (সত্যের ছায়া) বলেছেন: পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
অনুপ্রাণিত হলাম।
৩| ১৫ ই জুন, ২০১৭ দুপুর ১২:৩৯
নাঈম জাহাঙ্গীর নয়ন বলেছেন: দারুণ লিখেছেন ভাই। সব কাব্যিকরসে ভরপুর আপনার বর্ষাগম পোষ্টে। অসাধারণ কথাসাহিত্যিক।
অপনাকেও শুভেচ্ছা জানিয়ে গেলাম ভাই।
শুভকামনা জানবেন।
১৫ ই জুন, ২০১৭ দুপুর ১২:৫০
শাহাদাৎ হোসাইন (সত্যের ছায়া) বলেছেন: ধন্যবাদ নয়ন ভাই,
পাঠ ও অনুপ্রেরণা দায়ক মন্তব্যের জন্য।
বর্ষার দিনে কদম ফুলের শুভেচ্ছা রইল।
৪| ১৫ ই জুন, ২০১৭ দুপুর ১২:৫৭
সামিয়া বলেছেন: বাহ! খুব সুন্দর।
১৫ ই জুন, ২০১৭ দুপুর ২:৫৩
শাহাদাৎ হোসাইন (সত্যের ছায়া) বলেছেন: ধন্যবাদ আপু।
৫| ১৫ ই জুন, ২০১৭ দুপুর ১:১২
বিজন রয় বলেছেন: আপনাকেও শুভেচ্ছা।
বৃষ্টির মতো নিষ্পাপ হোক আপনার জীবন।
১৫ ই জুন, ২০১৭ দুপুর ২:৫৪
শাহাদাৎ হোসাইন (সত্যের ছায়া) বলেছেন: দোয়া কবুল হউক।।
আপনার মন্তব্যে অনুপ্রাণিত হলাম।
৬| ১৫ ই জুন, ২০১৭ দুপুর ২:৩৮
প্রামানিক বলেছেন: ছবি এবং লেখা খুব ভালো লাগল। ধন্যবাদ
১৫ ই জুন, ২০১৭ দুপুর ২:৫৫
শাহাদাৎ হোসাইন (সত্যের ছায়া) বলেছেন: শ্রদ্ধা এবং সালাম জানবেন।
৭| ১৬ ই জুন, ২০১৭ রাত ১২:০৭
রাজীব নুর বলেছেন: বর্ষা কিন্তু আমার প্রিয় ঋতু। কিন্তু নগরবাসীর কষ্টের সীমা থাকে না।
১৬ ই জুন, ২০১৭ সকাল ১০:৪০
শাহাদাৎ হোসাইন (সত্যের ছায়া) বলেছেন: আপনি সেদিন এব্যাপারে পোষ্ট দিয়েছিলেন। এবং সেল্ফিটা চরম হইছে।
©somewhere in net ltd.
১|
১৫ ই জুন, ২০১৭ সকাল ১১:৩৯
মোস্তফা সোহেল বলেছেন: আপনাকেও বর্ষার প্রথম কদম ফুলের শুভেচ্ছা রইল।