নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

বল পয়েন্ট

=> একজন সুখী মানুষ । অন্যের কারণে নিজের স্বাভাবিক জীবনযাপনে ব্যাঘাত ঘটলে বিরক্ত হই । =>পড়ালেখা, ♥ রুপা ♥, হুমায়ূন আহমেদ নিয়ে জীবনযাপন ।মাঝেমাঝে বন্ধু-বান্ধবদের সাথে সময় কাটাতে ভালো লাগে । সবকিছুতে সস্তা ফাজলামো করি । সবকিছুতে "কিন্তু" খোঁজা সিরিয়াস টাইপ মানুষ থেকে ১০০ হাত দূরে ।

বল পয়েন্ট › বিস্তারিত পোস্টঃ

সখি বহে গেল বেলা

২২ শে অক্টোবর, ২০১২ রাত ১০:০৮

মায়ার মন খারাপ।জন্মদিনে তাকে তেমন কেউ-ই উইশ করেনি। এটার অবশ্য কারণ ও আছে।তার ফেসবুক একাউন্ট ডি-এক্টিব।

আজকাল জন্মদিন মনে রাখাটা ফেসবুকের দায়িত্ব। সে সময়মতো জানান দেয় "নাই মিয়া's birthday is today"।বন্ধু-বান্ধবরা তড়িঘড়ি করে উইশ করা শুরু করে।কাছের মানুষদের জন্য ব্যাপারটা ভিন্ন।জন্মদিন মনে রাখার জন্য তাদের ফেসবুক লাগে না।

শাহেদ তেমন একজন।মন খারাপের আসল ব্যাপার সেখানেই। মায়ার খুব ইচ্ছে ছিল জন্মদিনে শাহেদকে নিয়ে 'রিভার ক্রুজে' যাবে।

জাহাজে করে নদীর বুকে ভেসে বেড়াবে,দুপুরে ভাসন্ত লাঞ্চ করবে।কিন্তু কিছুই হল না।বাবাব্যাংক কোনো টাকা দিবেনা বলেছে,পদ্মা সেতুর তহবিলের মতো এদের তহবিলেও ঝামেলা হল।শাহেদ বলেছে তার মাথায় অন্য প্ল্যান, এখন সেই প্ল্যানটাই হবে। কী প্ল্যান তা অবশ্য বলেনি,তাই

চাপা উত্তেজনাও হচ্ছে।শাহেদ যখন বলেছে ব্যাপারটা মজার হবে বলেই বিশ্বাস। ছেলেটা কাজেকর্মে গোছানো,যে কোনো পরিস্থিতি সামাল

দেয়া তার জন্য চুটকির কাজ।



এবার ঘটনা অন্য হল। সারপ্রাইজ দেখে মায়ার আনন্দ কষ্ট কোনোটাই হল না।জন্মদিনে কোথায় একটু হৈ-হুল্লোড় হবে।শাহেদ

তাকে এ কোথায় নিয়ে এল!

শাহেদ বলল,"তোমার মধ্যে অদ্ভুত একটা ব্যাপার আছে"

মায়ার অদ্ভুত ব্যাপার আর জানার ইচ্ছা নাই,তারপরও উদাস গলায়

বলল,"কী?"

"সাজুগুজুর পর মেয়েরা সামান্য বিরক্ত হলেও বুঝা যায়,'সারারাগুল'র মতো দেখায়,কিন্তু

তোমার ক্ষেত্রে তো বুঝা যায় ই না, উল্টো সুন্দর লাগে।লোকে বলে ডানাকাটা পরী,তুমি হলে ভ্রু- কুচকানো পরী।"

'ভ্রু-কুচকানো পরী' বাহ সুন্দর তো। শুধুমাত্র এই উপাধি দেয়ার জন্য ই শাহেদ কে ক্ষমা করে দেয়া যায়।



ছোট্ট একটা রুম। আসবাবপত্র বলতে গেলে একটা খাট, একটা আলনা, দুইটা বেতের চেয়ার। এক কোণায় রান্নাবান্নার ও ব্যবস্থা আছে দেখা যাচ্ছে।

বাংলাদেশের সবচাইতে বড় বৃদ্ধাশ্রমটি গাজীপুরে। যে কেউ চাইলে সেখানে গিয়ে স্বেচ্ছাশ্রম দিতে পারেন, অনেকে আবার কোনো সার্ভিস চান

না,তাঁদের সাথে বসে একটু গল্প করলেই তাঁরা খুশি। আহা! কতো অল্প এঁদের চাওয়া, অথচ হতভাগা সন্তানরা সেটাও পূরণ করে না। মায়ার

জন্মদিনের আনন্দ এখানের কারো সাথে ভাগ করবে বলে শাহেদ মায়াকে নিয়ে এখানে এসেছে। তারা যে রুমটিতে বসে আছে সেটাতে আজমল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী ফরিদা বেগমের রুম। সন্তানের হাতে সমস্ত পৃথিবী তুলে দিয়ে আজ তারা ছোট একটা রুমে নির্বাসিত।

মায়ার কেন জানি ভালো লাগতে শুরু করেছে। উনাদের দেখে তার মনে হচ্ছে নিজের দাদা-দাদীর সাথে জন্মদিন পালন করতে এসেছে।সে প্রথম থেকেই বৃদ্ধ- বৃদ্ধাকে দাদাজান-দাদীমা ডাকা শুরু করেছে। আজমল ইসলামকে যথেষ্ট আনন্দিত মনে হলেও ফরিদা বেগমের মনের অবস্থা বুঝা যাচ্ছে না।

তিনি জেরা করার মতো করে বললেন "জন্মদিন পালনে কেউ এখানে আসে না।তোমরা কেন এসেছ? করুণা দেখাতে?"

প্রশ্নটা করে ফরিদা বেগমের মন খারাপ হল।তার নিজের সন্তান যখন এতটুকু 'করুণা' করেনি,পরের সন্তান অন্তত সেটা করছে,তাও কম কী!

শাহেদ কিছু একটা বলতে গিয়েও বলতে পারল না।

মায়া বলল " এটা সত্যি জন্মদিনে আমাদের জাহাজে করে ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান ছিলো,টাকা পয়সা জোগাড় হয়নি বলে যায়নি, ও আমাকে এখানে নিয়ে এল" মায়া এগিয়ে এসে ফরিদা বেগমের পাশে বসে হাত ধরে বলল "প্রথমে একটু খটকা লাগলেও বিশ্বাস করেন দাদীমা এখন খুব শান্তি লাগছে,মনে হচ্ছে নিজের দাদা-দাদীর সাথে জন্মদিন পালন করার সুযোগ পেলাম।"

এরপরের পরিস্থিতির জন্য কেউ প্রস্তুত ছিল না।ফরিদা বেগম হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করলেন।

স্ত্রীর এমন কান্না দেখে আজমল ইসলামের খুব মন খারাপ লাগলো।বিব্রত ভঙ্গিতে বললেন " আরে কী শুরু করলে!এরা জন্মদিন পালন করতে এসেছে, আর তুমি কান্নাকাটি করে এদের আনন্দ মাটি করে দিচ্ছ।"

ফরিদা বেগম চোখ মুছলেন,শ্লেষ্মা জড়ানো গলায় বললেন " আসলে অনেকদিন আপন কাওকে দেখি নাতো,তাই কেমন জানি লাগল,তোমরা কিছু মনে কর না"

হয়ত প্রসঙ্গ পাল্টাতেই আজমল ইসলাম বললেন " তোমাদের মধ্যে সম্পর্কটা কী?প্রেমিক-প্রেমিকা?না স্বামী-স্ত্রী?"

শাহেদ-মায়া একে অন্যের দিকে তাকাল। এরা নিজেদের মধ্যেকার সম্পর্ক নিয়ে আলাদা আলাদা করে দুজন-ই ভেবেছে,কিন্তু একসাথে বসে ভাবা হয়নি কখন ও।মায়া লজ্জায় লাল-নীল-বেগুণী হয়ে যাচ্ছে। এদের অবস্থা দেখে বুড়ো- বুড়ি হো হো করে হেসে উঠলেন।সে কী হাসি!

আজমল সাহেব হাসতে হাসতে বললেন "বুঝেছি!বুঝেছি! লজ্জা পেতে হবে না,তোমাদের মানিয়েছেও ভালো"

শাহেদ বলল " আপনাদের ও কী কম মানিয়েছে! দাদীমা তো একদম সুচিত্রা সেন।"

বুড়ি এই বয়সেও রুপের প্রশংসা শুনে খুশি হল মনে হচ্ছে।

আজমল সাহেবের বহুদিনের অব্যবহৃত অভ্যাস আজ আবার দেখা গেল।রসিকতা করে বললেন "খবর্দার! আমার বউয়ের দিকে নজর দেবে না"

ফরিদা বেগম মায়ার থুতনি ধরে বললেন " এমন মেয়ে যার সাথে আছে,তার চোখ অন্য দিকে কোনোদিন যাবে বলে মনে হয় না"

শাহেদ আর মায়া বোধহয় একমাত্র জুটি যারা কোনোরকম 'অফার-ভেবে দেখি-একসেপ্টেনস্' এর ঝামেলা ছাড়াই প্রেমিক-প্রেমিকা হয়ে গেল।



মিনিট-পনেরোর মধ্যে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পাল্টে গেল। আকাশ কালো করে বৃষ্টি নামল। মায়া রুমের কোণায় রাখা স্টোভে খিচুড়ি বসিয়েছে।

শাহেদ এক ধরনের সালাদ বানিয়েছে,শুধুমাত্র এই সালাদ দিয়েই নাকি বিদেশিরা 'ডায়েটিং জিন্দাবাদ' বলে লাঞ্চ সেরে ফেলবে।বিদেশিরা 'জিন্দাবাদ' কেমনে বলবে এ নিয়ে ফরিদা বেগম আর শাহেদের তর্ক লেগে গেল।

খেতে খেতে আজমল ইসলাম তাঁর আর ফরিদা বেগমের পরিচয় থেকে শুরু করে আটত্রিশ বছরের দাম্পত্য জীবনের নানা গল্প শোনালেন।

গল্পে ছেলের শৈশব,কৈশোরের কথা উঠে আসলে দুইজনই কাঁদেন।

কাঁদতে কাঁদতে " আজকের দিনটা আনন্দের, আজকের দিনটা আনন্দের, দুখের কথা আরেকদিন হবে" বলে অন্য গল্পে যান,সেখানেও কোনো-না কোনোভাবে ছেলের কথা চলে আসে। শক্ত-সামর্থ্য সন্তানের বাবা-মাকে না লাগতে পারে,কিন্তু অসহায় পিতা-মাতার সন্তানকে খুব প্রয়োজন।



বিকেলের দিকে বৃষ্টি থেমে গেছে।কিন্তু আকাশে মেঘের হুড়োহুড়ি থামেনি।বাসায় ফেরা দরকার। ঝড়বৃষ্টি শুরু হলে সমস্যায় পড়ে যাবে।বিদায় নেয়ার সময় মায়াকে জড়িয়ে ধরে ফরিদা বেগম কাঁদলেন,মায়া কাঁদল। আজমল ইসলাম দুজনের নাম-ঠিকানা লিখে নিলেন।তারা আবার আসবে এরকম শক্ত প্রতিঞ্জা নিয়ে ফরিদা বেগম তারপর তাদের বিদায়

দিলেন।





সপ্তাহখানেক পর মায়া একটা চিঠি পেল। খাম খুলে দেখল,ছোট্ট একটা চিরকুট-



দিদিভাই,

আমার ছেলে অতো খারাপ না। প্রতিমাসে সে হাতখরচের কিছু টাকা পাঠায়। আমাদের তেমন খরচ নেই,সেখান থেকে হাজার

তিনেক টাকা তোমাকে বখশিশ করলাম। তোমরা কোথায় যেতে চেয়েছিলে না?ঘুরে এসো।"



জন্মদিনের সারপ্রাইজ গিফট হিসেবে মায়ার বাবা মায়াকে রিভার ক্রুজে যাওয়ার জন্য টাকা দিয়েছিলেন,পরের দিন মায়া শাহেদের

কাঁধে মাথা রেখে জাহাজের ডেকে বসে নদীর বুকে ভেসে বেড়াল। দাদুর গিফট করা টাকাটা সে রেখে দিয়েছে,শুধু

যে রেখে দিয়েছে তা না, এক হাজার টাকার তিনটা নোট-ই লেমিনেটিং করে রেখেছে।



-শাহরিয়াজ মোহাম্মদ মুত্তাকিন

মন্তব্য ২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ২২ শে অক্টোবর, ২০১২ রাত ১১:৫৯

কাল্পনিক চরিত্র বলেছেন: মোত্তাকিন !! এত ভালো লিখবি ভাবতে পারিনাই ।
আরেকবার তোর লিখায় মুগ্ধ হলাম ।
আরেকবার তোর লিখা আমাকে মুগ্ধ করলো ।

২| ২৩ শে অক্টোবর, ২০১২ রাত ৩:৩৩

বল পয়েন্ট বলেছেন: Tor eto valo lagbe,setao bujhte pari ny.inspired :)

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.