| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
উত্তরীয় হাওয়া
লালনীয় মানবিকতার এক সাগরেদ আমি। আমার আমিত্বে নেই কোন বিষেশত্ব। সরলতাই আমার সম্পদ। ``মানুষ ভজিলে সোনার মানুষ হবি`` এই আমার আদর্শ
#সদরাতুলক_গ্রাম। অন্য আর দশটি গ্রামের মতই এই গ্রামটি। মানুষের সাধাসিধে জীবনযাপনের প্রচন্ডতা, প্রকৃতির শ্যামলীময় স্নিগ্ধতা, আকাবাকা মেঠোপথ, মানুষের প্রতি মানুষের ভালবাসা, আতিথিয়তা, আবেগ; চরম কুসংস্কার, গোড়ামি , চোগলামি, ভয়াবহ ঝগড়াঝাটি এই গ্রামের অনন্য চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য । এক পরিবারের কান্নায় অধিকাংশ পরিবার এখানে কেদে ওঠে। এখানে একজনের সুখে দশজন হিংসে করে। এখানে প্রেম-ভালবাসা হয় অতি সন্তর্পনে । তবুও এটিই আবহমান বাংলার অনন্য গ্রাম।
এই গ্রামের মুল অংশ মুলত ভায়ারহাট বাজার পেরিয়ে বাধের রাস্তার পুবদিকটা। যুদ্ধে পাকিস্তানি অত্যাচারে গড়ে ওঠা বাধের রাস্তাটাই এই গ্রামের বুক চিরে চলে গেছে কর্কটক্রান্তি রেখার মতই যা দুইভাগে ভাগ করেছে গ্রামটিকে। পশ্চিম অংশের তুলনায় পুবদিকের মানুষের জীবনবৈচিত্র্য বহুমাত্রিক।
বাধের রাস্তা মাড়িয়ে আকাবাকা মেঠোপথ ধরে এগুলেই হাতের বামপাশে পরবে মাঠের পাড়। আর কিছুদুর এগুলেই পাওয়া যাবে #কোলার_পাড়। এটিই এই গ্রামের মুল অংশ। দীর্ঘদিন এই কোলার পাড়ে রাস্তার ভাংগা দুই অংশ বাশের সাকো (গ্রামের লোকেরা চরাট নামেই চেনে) দিয়ে সংযোজিত। এই কোলার পুবদিকেই #আম্বিয়াদের বাড়ি। বাবা মায়ের পঞ্চম সন্তান । নিতান্তই গরীব ঘরের মেয়ে আম্বিয়া। এমনই অভাবী পরিবার যে সেখানে তিনবেলা পেট পুরে খাবার নিশ্চয়তা ছিল না। ভাত, আলুসিদ্ধ, গমের রুটি , খুদ সিদ্ধ , বাশের রুপান্তরিত কান্ড সিদ্ধ শুধু আম্বিয়া নয়, অসংখ্য প্রান্তিক শ্রমজীবী মানুষের খাবার কিংবা খাবারের বিকল্প ছিল। গৃহস্থের ক্ষেতের আলু তুলে দেবার কিংবা ধানমাড়াই কাজের বিনিময়ে যেটুকু পেত তা দিয়েই অধিকাংশ পরিবার চলতো। ক্ষুধাই ছিল #সদরাতালুকের মুল উপজীব্য বিষয় ।
গরীবের ঘরে জন্ম নেয়া পাপ বৈকি!!! কিন্তু আম্বিয়ার জন্ম মহাপাপ। কারন সে গরীব ও অসুন্দর। পায়ে কাটা নিয়ে যেমন হাটার আনন্দ উপভোগ করা যায় না তেমনি ক্ষুধা নিয়ে পড়া চালানো অসম্ভব হয়ে পরে আম্বিয়ার জীবন। এই অসম্ভব শিক্ষা জীবনকে দুঃসাধ্য করে তোলেন #রুনু_স্যারের কঞ্চির প্রাত্যহিক পিটুনি। চতুর্থ শ্রেণিতেই শিক্ষা জীবনের ইতি ঘটে আম্বিয়ার।
এরপর মায়ের রান্নার কাজের সাহায্য, অন্যের বাড়িতে কাজ করা, অন্যের ক্ষেতের আলু, মরিচ তুলে দেয়াই আম্বিয়ার জীবন ।
এভাবেই কেটে গেছে পাচ বছর। এখন আম্বিয়ার বয়স ১৪ বছর। গ্রামের হিসেবে বিয়ের জন্যে উপযুক্ত সময়। বাপ ভাই উঠে পরে লেগেছে আম্বিয়ার বিয়ের জন্যে। এদিকে সামাদ ঘটক থেমে নেই । সেও লেগে গেছে বরের সন্ধানে। বিয়ের পর সুখী হবে আম্বিয়া এটাই সবার মুল চাওয়া।কিন্তু আম্বিয়ার চাওয়া একেবারেই ভিন্ন। গ্রামের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কনে দেখতে আসলে বরপক্ষ মেয়েকে টাকা-পয়সা দেয়। মেয়েকে পছন্দ হলে ৫০০-১০০০ টাকা দেয়। কিন্তু অপছন্দ হলে টাকা দেয়া তো দুরের কথা টয়লেটে যাবার কথা বলে সবাই পালাবার চেষ্টা করে। ক্ষেত্রবিশেষে পঞ্চাশ একশো দিয়ে দেয়। আম্বিয়ার চাওয়া এটাই।
" মোক দেইখব্যার আসপে। আসলেই লাভ। বরপক্ষ টাকা দিবে। এই টাকা দিয়া মুই নতুন জামা বানাইম।"- এই চাওয়াই আম্বিয়ার লক্ষ্য। বিয়ে হয়ে সুখী হওয়া তার ভাবনার সীমানায় এখনো আসেনি। এখনো প্রাথমিক সুখ উপাদান তার জীবনে আসেনি। আম্বিয়ার একেবারেই না পাওয়ার জীবনেই এই পাওয়াটা কম কিসে?
২|
১১ ই জুলাই, ২০১৮ ভোর ৫:৪২
স্রাঞ্জি সে বলেছেন: আম্বিয়ার চাওয়া গুলো পুরণ হউক।
৩|
১১ ই জুলাই, ২০১৮ সকাল ৯:৫৮
রাজীব নুর বলেছেন: এই সমাজে আম্বিয়ার অভাব নেই।
©somewhere in net ltd.
১|
১১ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ১২:২৪
ঢাকার লোক বলেছেন: ভালোই আছে এখনো, পাওয়া নেই , চাওয়া ও নেই ! বিয়ের পর ও কতটা সুখী হবে আম্বিয়ারা সে আল্লাহই জানে !!