নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

জীবনকে যারা উপভোগ করতে চান, আমি তাঁদের একজন। সহজ-সরল চিন্তা-ভাবনা করার চেষ্টা করি। আর, খুব ভালো আইডিয়া দিতে পারি।

সত্যপথিক শাইয়্যান

অন্যদের সেভাবেই দেখি, নিজেকে যেভাবে দেখতে চাই। যে বিষয়গুলো নিয়ে লেখার চেষ্টা করি- মোটিভেশনাল গল্প-কাহিনী-প্রবন্ধ, ছড়া এবং কবিতা

সত্যপথিক শাইয়্যান › বিস্তারিত পোস্টঃ

কার্যকর রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থা পরিচালনা করুক গণপরিবহন

০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৫:৪৭



বাসের ধাক্কায় শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে বাংলাদেশে তোলপাড় হয়ে গেল। এ তুফানে শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক দল ও পুলিশ— প্রতিটি পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু তাতে কি বাস-ট্রাকচালকদের হুঁশ ফিরেছে? আজকেও ঢাকা নগরীতে বাসগুলোর অসুস্থ গতি প্রতিযোগিতা দেখতে হয়েছে দেশবাসীকে, বাস স্টপেজ নয় এমন সব জায়গায় মানুষ নামাতে-ওঠাতে দেখা গেছে ঢাকা নগরের অনেক এলাকায়। এ সমস্যার আশু সমাধান কোথায়?

সড়ক দুর্ঘটনার ইতিহাস

শুধু বাংলাদেশে নয়, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, বিশ্বের প্রথম সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে, ১৮৯৬ সালে। সেই থেকে শুরু, এখন পর্যন্ত পৃথিবীতে তিন কোটি মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে। আরো কোটি কোটি মানুষ হয়েছে আহত। প্রতিদিন ৩ হাজার ৫০০ জন এবং প্রতি ২৫ সেকেন্ডে একজন মানবসন্তান প্রাণ হারাচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনা নামের বিভীষিকার কবলে পড়ে। শুধু তা-ই নয়, আরো ১ লাখ ৩৭ হাজার মানুষ প্রতিদিন এভাবে আহত হচ্ছে। হিসাব করলে বছরে ১৩ লাখ মানুষ মারা যায় এ দুর্ঘটনায়। আরো পাঁচ কোটি হয় আহত।

উন্নত বিশ্বের তুলনায় উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে

উন্নত দেশগুলো থেকে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃতের হার উন্নয়নশীল দেশগুলোয় ৫০ শতাংশ বেশি। অথচ উন্নয়নশীল দেশগুলোয় পৃথিবীর মোট ৪৮ শতাংশ রেজিস্টার্ড যানবাহন রয়েছে। আর আমাদের মনে রাখতে হবে পৃথিবীর ৮১ শতাংশ মানুষ এ দেশগুলোয় বাস করে। সেখানেই এত সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি! গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার মানুষের ৬২ শতাংশই মারা যায় মাত্র ১০টি দেশে।

পৃথিবীর দেশগুলোয় যেসব মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়, তার মধ্যে ৮০ শতাংশই মধ্যম আয়ের। বাকি ১২ শতাংশ স্বল্প আয়ের এবং ৮ শতাংশ উচ্চ আয় শ্রেণীর। অথচ ২০১৪ সাল পর্যন্ত মধ্যম আয়ের মানুষের আয়ত্তে ৫২ শতাংশ এবং নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে মাত্র ১ শতাংশ যান্ত্রিক যানবাহন ছিল।

বাংলাদেশ কি সড়ক দুর্ঘটনার দেশ?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৭ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশে প্রতি লাখে ১৫ দশমিক ৫৬ জন মৃত্যুবরণ করে। অর্থাৎ বাংলাদেশের বর্তমান জনসংখ্যা যদি ১৭ কোটি হয়, তাহলে গত বছর সড়ক দুর্ঘটনায় আমাদের দেশে মারা গেছে ২৬ হাজার ৪৫২ জন। অবশ্য বাংলাদেশেই যে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়, তা কিন্তু নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যে ১৮৩ দেশকে জরিপের আওতায় এনেছে, সেগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের স্থান ১০৩-এ। বিশ্বের যে পাঁচটি দেশে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের প্রাণ হারানোর ঘটনা ঘটে, সেগুলো হচ্ছে যথাক্রমে— জিম্বাবুয়ে, সাও টমে, রুয়ান্ডা, লাইবেরিয়া ও বুরুন্ডি। আর সবচেয়ে কম মানুষ মারা যায় যথাক্রমে— মাইক্রোনেশিয়া, সুইডেন, কিরিবাতি, যুক্তরাজ্য ও হল্যান্ডে।

এখানে বলে নেয়া ভালো, ২০১৭ সালে বাংলাদেশে স্ট্রোক করে ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৮৮ জন, করোনারি হূদরোগে ১ লাখ ৮৫ হাজার ২৮৩, ক্যান্সারে ১ লাখ ৪১ হাজার ৭৪৬, ফুসফুসের অসুখে ১ লাখ ১৭ হাজার ৪১৯, টিউবারকিউলোসিসে ১ লাখ ৩ হাজার ৯০৪, ইনফ্লুয়েঞ্জা/নিউমোনিয়ায় ৩৭ হাজার ৩৮৩, ডায়রিয়ায় ২৮ হাজার ১৬৯, কিডনিজনিত অসুস্থতার কারণে ২৩ হাজার ৮৬৮, জন্মের সময় কম ওজনের জন্য ২৩ হাজার ১৭১, পানিতে ডুবে ২১ হাজার ৯৯৮ ও সুইসাইডে ১০ হাজার ১৬৬, মারামারিতে ৫ হাজার ১৫১ জন, মাদকাসক্ত হয়ে ৩ হাজার ৬৭২, আগুনে পুড়ে ২ হাজার ২৪৪ আর এইডসে ৯৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ পরিসংখ্যান জনসংখ্যা ১৭ কোটি অনুমান করে।

উপরের হিসাবে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশে যেসব কারণে মানুষের মৃত্যু হয়, তার মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু অষ্টম স্থানে কিন্তু অস্বাভাবিক মৃত্যুর মধ্যে একদম প্রথম সারিতে।

কীভাবে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে

সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা সংঘটিত হয় পথচারীকে পিষ্ট করার মাধ্যমে। দেশের মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৪৫ শতাংশই এভাবে হয়। পরিবহনগুলোর একে অন্যের পেছন থেকে ধাক্কা দেয়ার কারণে ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটে। এছাড়া মুখোমুখি ও অপরিকল্পিতভাবে গাড়ি ঘোরানোর কারণে যথাক্রমে ১৩ দশমিক ২ ও ৯ দশমিক ৩ শতাংশ দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়। দেশের রাস্তাগুলোয় সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনার ৮৫ শতাংশই এ চার কারণে হয়ে থাকে।

কোন ধরনের পরিবহন সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী

আমরা সাধারণত ট্রাক ড্রাইভারদের বেপরোয়া গাড়ি চালানোর জন্য দায়ী করি। মজার ব্যাপার হচ্ছে, আসলে আমাদের ধারণা ভুল। বাংলাদেশে যেসব দুর্ঘটনা ঘটে, তার মধ্যে ৪২ শতাংশই হয় বাস বা মিনিবাসের কারণে। ৩৭ শতাংশ হয় ট্রাকের কারণে। আর মারাত্মক দুর্ঘটনাগুলোর ৩৮ শতাংশ ঘটে বাস-মিনিবাসের কারণে, আর ৩০ শতাংশ হয় ট্রাকের কারণে।

তাহলে এ থেকে বোঝা যাচ্ছে, বাংলাদেশের বেশির ভাগ সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী মাত্র দুই ধরনের যানবাহন— বাস ও ট্রাক। এ দুই যানবাহনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে সড়ক দুর্ঘটনাও কমে যাওয়ার কথা।

সড়ক দুর্ঘটনা কোথায় ঘটে

বুয়েটের ‘দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এআরআই) সাবেক পরিচালক প্রফেসর ড. মো. মাজহারুল হকের একটি গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩৭ শতাংশ জাতীয় সড়কগুলোয়, ১৫ শতাংশ ফিডার রাস্তাগুলোয়, ১২ শতাংশ আঞ্চলিক সড়কগুলোয় এবং প্রায় ৪০ শতাংশ নগরের রাস্তাগুলোয় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

অবাক করা বিষয় হচ্ছে, ঢাকায় যে ২০০টি রোড ইন্টারসেকশন রয়েছে, তার ১৮টিতেই ৫২ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।

এ থেকে একটা বিষয় প্রতীয়মান, এসব জায়গায় সঠিক ট্রাফিক আইন ও ব্যবস্থা বলবৎ করলেই সড়ক দুর্ঘটনা কমে যাবে।

কারা সড়ক দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হয়

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের ৪৭ শতাংশই পথচারী। আর মারাত্মক ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হতে দেখা গেছে ৪৯ শতাংশ পথচারীকে। ঢাকা শহরে যেসব মানুষ মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হয়, তাদের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশই পথচারী। আর অন্যান্য নগরে ৬২ শতাংশ পথচারী দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হয়।

এখানে আঁতকে ওঠার একটি বিষয় হচ্ছে, মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার মানুষের তিন ভাগের এক ভাগ ১৬ বছরের কম বয়সের। আর বাংলাদেশে মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ২২ ভাগের বয়স অনূর্ধ্ব ১৬ বছর। এ শিশু আক্রান্তের হার শিল্পোন্নত দেশগুলো থেকে ২ দশমিক ৫ গুণ বেশি। এ থেকে বোঝা যাচ্ছে, দেশের সরকারের মন্ত্রণালয়গুলোকে শিশুদের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।

কোন সময়গুলোয় বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে

আমাদের দেশে সারা বছরই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। তবে এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, বিশেষ দুটি সময়ে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে যায়— ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা।

সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত ব্যক্তিদের পরিবারের অবস্থা

টান্সপোর্ট রিসার্চ ল্যাবরেটরির গবেষণানুযায়ী, সড়ক দুর্ঘটনায় আক্রান্ত গরিব পরিবারের ৭০ শতাংশেরই আয় ও খাদ্যগ্রহণের মাত্রা কমে যায়। গরিব নয় এমন পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে তা ৫৭ শতাংশ। সড়ক দুর্ঘটনায় যেসব গরিব মানুষ মৃত্যুবরণ করে, তাদের ৬১ শতাংশের পরিবারকেই পরবর্তী পর্যায়ে বাধ্য হয়ে ঋণের বেড়াজালে আবদ্ধ হতে হয়। অন্যদিকে গরিব নয়, এমন ৩৪ শতাংশ পরিবারের ক্ষেত্রে এ ঘটনা ঘটে। গরিবদের মধ্যে ৩২ শতাংশের ক্ষেত্রে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় পরিবারপ্রধানের। অন্যদিকে গরিব নয়, এমন ২১ শতাংশ পরিবারের ক্ষেত্রে একই ঘটনা ঘটে।

বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার নিয়ামক

বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে মূলত তিনটি কারণে— ১. রাস্তা ব্যবহারকারী ২. সড়ক এবং ৩. পরিবহন। বাংলাদেশে যত সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে, তার ৯০ শতাংশ হয় রাস্তা ব্যবহারকারীদের ভুলের কারণে। যেখানে সেখানে রাস্তা পারাপার, ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সম্যক ধারণার অভাব, আইন না মানার প্রতি এক ধরনের মানসিকতা রাস্তায় চলা মানুষগুলোকে দুর্ঘটনায় ফেলে দেয়। এ কারণেই এত বেশিসংখ্যক পথচারী দুর্ঘটনার শিকার হয়। এছাড়া খারাপ রাস্তা বা আবহাওয়ার কারণে অনেক দুর্ঘটনা ঘটে। আর মাত্র ১০ শতাংশ দুর্ঘটনার কারণ পরিবহনগুলোর খুঁত। তবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষজ্ঞদের মতে, চালকদের বেপরোয়া মনোভাব ও গতিই মূলত দায়ী সড়ক দুর্ঘটনার জন্য।

এছাড়া আরো যেসব কারণে দুর্ঘটনা ঘটে তা হচ্ছে— চালকদের অদক্ষতা, দুর্ঘটনার রিপোর্ট না করা, দেশের আপামর জনগণের ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সঠিক শিক্ষা না থাকা, পুলিশের কার্যকর নজরদারিতে ব্যর্থতা এবং ট্রাফিক আইন প্রয়োগে কর্তৃপক্ষের গড়িমসি।

সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সরকারের কী করণীয়

প্রথমে অবশ্যই যেসব কারণে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে তার ওপর নজর দিতে হবে। সড়কে চলাচলকারী মানুষের মধ্যে শিশুদের তাদের স্কুলগুলো থেকেই রাস্তায় চলাচলের নিয়মকানুন হাতে-কলমে শিক্ষা দিতে হবে। যাতে তারা শিশুকাল থেকেই ট্রাফিক আইন ও নিরাপদে রাস্তায় চলাচলের ব্যাপারে দীক্ষা নিতে পারে। আর বয়স্কদের জন্য তাদের কর্মক্ষেত্রগুলোকে টার্গেট করতে হবে। গার্মেন্টে যেমন ফায়ার ফাইটিং ও ফার্স্ট এইড সম্পর্কে শিক্ষা দেয়া হয়, তেমনি সড়কে চলাচলের ওপর গুরুত্বারোপ করে ট্রেনিং নেয়া যেতে পারে। প্রতিটি অফিসের হিউম্যান রিসোর্স ডিপার্টমেন্টকে এ ব্যাপারে কার্যকর ভূমিকায় রাখা যেতে পারে। প্রতিটি প্রাইভেট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে এ ব্যাপারে উৎসাহিত করার জন্য সরকার বিশেষ কর রেয়াতের ব্যবস্থা করলে আশানুরূপ ফল পাওয়া যাবে বলে আমি মনে করি। এছাড়া এনজিওগুলোরও এক্ষেত্রে অনেক কিছু করার আছে।

সড়কের খানাখন্দক যত দ্রুত সম্ভব মেরামত করতে হবে। দেশের সব সড়ক একই মাপে এবং একই কাঁচামাল ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে কিনা, তা কড়াকড়িভাবে মনিটর করতে হবে। দরকার হলে রাস্তা তৈরির কাজে থাকা কনট্রাক্টরদের বিরুদ্ধে শক্ত আইন পাস করতে হবে।

পরিবহনে থাকা খুঁত ঠিক করার কাজ সরকার মালিকদের কাছে ছেড়ে না দিয়ে আলাদা একটি ডিপার্টমেন্ট খুলতে পারে, যা এমন কোনো পরিবহন পেলে নিজেই ঠিক করে দেবে। এজন্য দরকার হলে সরকারি এ সংস্থা খরচের টাকা মালিকদের কাছ থেকে নিয়ে নিতে পারে। এ ডিপার্টমেন্টকে খুব একটা বেশি কাজ করতে হবে না। শুধু কয়েকটি গাড়ি মেরামতের ওয়ার্কশপের সঙ্গে চুক্তি থাকবে। খুঁতওয়ালা গাড়িগুলো সেখানে পাঠিয়ে দিতে হবে সিরিয়াল ধরে। তবে সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা হবে যদি সরকার পুরো পরিবহন খাতকে জাতীয়করণ অথবা আধা সরকারি করে ফেলতে পারে। দেশে বর্তমানে বাসের সংখ্যা ৪৪ হাজার ৩৭৪ এবং মিনিবাসের সংখ্যা ২৭ হাজার ৯৬২। বাস ও মিনিবাস সব মিলিয়ে ৭২ হাজার ৩৩৬টি। এখন এসব পুরনো গাড়ির মূল্য কত হবে? ধরা যাক, গড়ে ২০ লাখ টাকা। সরকার গাড়িগুলোর মালিকানার ৫০ শতাংশ কিনে নিতে পারে। এজন্য প্রত্যেক মালিককে ১০ লাখ করে দিলে সরকারকে মোট খরচ করতে হবে ৭২ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন টাকা। আর যদি পুরনো গাড়িগুলোর গড় মূল্য ৪০ লাখ হয়, ৫০ শতাংশ মালিকানার জন্য খরচ করতে হবে ১৪৪ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন টাকা।

এ টাকা উঠে আসতে সরকারের কতদিন লাগবে? যদি ৭২ হাজার ৩৩৬টি পরিবহন দিনে গড়ে ৫ হাজার টাকা আয় করে, তাহলে প্রতিদিন আয় হবে কত? ৩৬ কোটি ১৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা। মাসে যা ১ হাজার ৮৫ কোটি টাকা দাঁড়াবে।

এখন একেকজন ড্রাইভারের বেতন যদি ৪০ হাজার, হেলপারের ২০ হাজার এবং মাসে গ্যাস খরচ ৫০ হাজার টাকা ধরি, তাহলে মোট মাসিক খরচ হবে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা (একেকটি বাস-মিনিবাসের পেছনে)। এছাড়া কাউন্টার ম্যানেজার ও স্টাফের জন্য গড়ে ১০ হাজার টাকা খরচ হবে। তাহলে ৭২ হাজার ৩৩৬টি থেকে সরকারের মাসিক মুনাফা হবে প্রায় ২১৭ কোটি টাকা। সরকারের যদি অর্ধেক মালিকানা থাকে, সে হিসাবে মাত্র ছয় বছরেরও কম সময়ের মধ্যে পুরো টাকাটা তুলে নিয়ে আসতে পারবে।

যুক্তরাজ্যের মতো উন্নত দেশগুলোর বেশির ভাগেই পরিবহন খাত সরকার নিয়ন্ত্রণ করে। যুক্তরাজ্য বলুন কি কানাডা, অস্ট্রেলিয়া— সব জায়গাতেই পাবলিক ট্রান্সপোর্ট সরকারের মালিকানাধীন সংস্থা চালায়। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ বাদ থাকবে কেন? তবে এজন্য প্রয়োজন শর্ট টার্ম ও লং টার্ম পরিকল্পনা।

পরিশেষ

এ ব্যাপারে সরকারকে আশু ব্যবস্থা নিতে হবে। তাহলেই সম্ভব সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা। ‘আর কোনো মায়ের বুক এভাবে খালি হবে না’— এ শপথ নিয়ে এখনই সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে।

================
দৈনিক বণিক বার্তায় প্রকাশিত আমার একটি কলাম
================================

মন্তব্য ৫ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (৫) মন্তব্য লিখুন

১| ০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:১৯

রাজীব নুর বলেছেন: রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থা পরিচালনা করলে অবস্থা আরও খারাপ হবে।
জানেন না সরকারী প্রতিষ্ঠান মানেই ঘুষ।

০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:২৪

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন: অর্থ মন্ত্রী বলেছেন ঘুষ দিলে জাহান্নামে যেতে হবে। পরিস্থিতির পরিবর্তন আসছে। ধন্যবাদ।

২| ০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৪৪

হাবিব স্যার বলেছেন: আপনার বিশ্লেষণ এবং সমাধানের যে পথ বললেন তা অনেকটাই সড়ক দূর্ঘটনা কমে আসবে আশা করি।

৩| ০১ লা এপ্রিল, ২০১৯ রাত ৮:২১

আহমেদ জী এস বলেছেন: সত্যপথিক শাইয়্যান,




পরিসংখ্যান বহুল লেখাটি জানার জন্যে ভালো। সরকারের করণীয় বিষয়েও ভালো লিখেছেন। কিন্তু কানে তুলো যে জাতির জন্ম থেকেই, যে জাতির রক্তে লোভ আর লোভ সে জাতির কোনও কিছুতেই কিছু হবেনা।

আশাবাদী হওয়া ভালো কিন্তু বাস্তবতা অন্য জিনিষ।

৪| ০২ রা এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ১০:০৮

নাঈম জাহাঙ্গীর নয়ন বলেছেন: সুন্দর একটা পোস্ট উপহার দিয়েছেন ভাই, আপনার অনেক পরিশ্রমের ফসল এটা সব তথ্যের যোগান দেখেই বুঝতে পারা যায়।

মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ুক, আপনার চেষ্টা সফল হোক।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.