| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সত্যপথিক শাইয়্যান
আমি একজন চিন্তুক, সমাজ নিয়ে চিন্তা করি! সমাজের ভালোর জন্যে গান-গল্প-ছড়া লিখি ও আইডিয়া শেয়ার করি। আপনি?
১৯৭১-এ ৩ লক্ষ না ৩ মিলিয়ন নিহত হয়েছিলেন, তা নিয়ে অনেক অপরাজনীতি হয়েছে। সরকার এই অপরাজনীতি খুব সহজে বন্ধ করতে পারেন। যদি ১৯৭১-এ নিহতদের একটি ডাটাবেইজ তৈরী করা যায় তাহলেই, এটা অসম্ভব নয়! কীভাবে এটা করা যায়?
.
.
১৯৭১ সালে নিহত মানুষের একটি নির্ভরযোগ্য জাতীয় ডাটাবেইস তৈরির জন্য প্রথমে স্বাধীন ও বহুমাত্রিক একটি গবেষণা কমিশন গঠন করা যেতে পারে। ইতিহাসবিদ, পরিসংখ্যানবিদ, তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ, আর্কাইভ গবেষক এবং সব পক্ষের প্রতিনিধিত্বকারী নাগরিক সমাজের সদস্যদের নিয়ে এর কাঠামো করা দরকার।
প্রথম ধাপে দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন/ওয়ার্ডভিত্তিক সম্ভাব্য নিহতদের প্রাথমিক তালিকা তৈরি করতে হবে। উৎস হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে ১৯৭১ সালের সরকারি নথি, স্থানীয় প্রশাসনের রেকর্ড, হাসপাতাল ও কবরস্থানের রেজিস্টার, সংবাদপত্র, শরণার্থী-সংক্রান্ত নথি, মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ও গবেষণা, গণকবরের তথ্য এবং প্রত্যক্ষদর্শী/পরিবারের সাক্ষ্য। ইতিমধ্যে সরকারিভাবে গণহত্যার স্থান ও গণকবরের ডাটাবেইস তৈরির উদ্যোগের নজির রয়েছে।
প্রতিটি ব্যক্তির জন্য একটি ইউনিক রেকর্ড নম্বর থাকবে। নাম, পিতা-মাতা/স্বামী-স্ত্রীর নাম, বয়স, ঠিকানা, পেশা, মৃত্যুর আনুমানিক তারিখ ও স্থান, মৃত্যুর ধরন, মরদেহ/কবরের তথ্য, তথ্যদাতার পরিচয় এবং প্রত্যেক দাবির উৎস আলাদাভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।
তথ্য সংগ্রহের প্রধান উৎস হতে পারে -
ক) সরকারি নথি: তৎকালীন থানা, মহকুমা ও জেলা প্রশাসনের রেকর্ড, হাসপাতাল ও মৃত্যুসনদ।
খ) স্থানীয় রেকর্ড: ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা/সিটি করপোরেশনের পুরোনো রেজিস্টার, ভোটার তালিকা ও পরিবারভিত্তিক নথি।
গ) গণকবর ও বধ্যভূমি: প্রতিটি স্থান শনাক্ত করে কবরের সংখ্যা, উদ্ধারকৃত দেহাবশেষ ও সংশ্লিষ্ট এলাকার সাক্ষ্য সংগ্রহ।
ঘ) সমসাময়িক সংবাদপত্র: ১৯৭১ সালের দেশি-বিদেশি সংবাদপত্র, সাংবাদিকদের রিপোর্ট ও ছবি।
ঙ) মুক্তিযুদ্ধের নথি: মুক্তিযোদ্ধাদের ডায়েরি, রিপোর্ট, সেক্টর/বাহিনীর নথি এবং যুদ্ধকালীন প্রশাসনিক দলিল।
চ) শরণার্থী ও ত্রাণের রেকর্ড: ভারতসহ বিভিন্ন দেশের শরণার্থী শিবিরের নিবন্ধন ও প্রত্যাবাসন-সংক্রান্ত নথি।
ছ) পরিবারের সাক্ষ্য: নিহত ব্যক্তির স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের লিখিত/ভিডিও সাক্ষাৎকার।
জ) গবেষণা ও আর্কাইভ: দেশ-বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, আর্কাইভ ও পূর্বপ্রকাশিত গবেষণার তথ্য।
ঞ) ডিএনএ ও ফরেনসিক তথ্য: গণকবর বা অজ্ঞাত মরদেহের ক্ষেত্রে সম্ভব হলে ডিএনএ পরীক্ষা ও ফরেনসিক শনাক্তকরণ।
এরপর একই ব্যক্তির একাধিক নাম বিভিন্ন সূত্রে থাকলে “record linkage” পদ্ধতিতে সেগুলো একত্র করা হবে। প্রতিটি রেকর্ডকে প্রমাণের শক্তি অনুযায়ী - যাচাইকৃত, সম্ভাব্য, অসম্পূর্ণ বা বিরোধপূর্ণ - চিহ্নিত করা যেতে পারে।
সবশেষে একটি উন্মুক্ত ওয়েব পোর্টাল করা যেতে পারে, যেখানে নাম, এলাকা, তারিখ ও উৎস দিয়ে অনুসন্ধান করা যাবে। ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য সুরক্ষিত রেখে গবেষকদের জন্য মূল নথির রেফারেন্স রাখা হবে।
এভাবে মোট সংখ্যা আগে ঠিক না করে ব্যক্তি-ভিত্তিক প্রমাণ সংগ্রহ ও যাচাই করা হলে ভবিষ্যতের গবেষণা, বিতর্ক ও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত - সবকিছুর জন্য একটি স্বচ্ছ তথ্যভান্ডার তৈরি হবে। যদিও, প্রত্যেকটি খুনই বেদনাদায়ক, তবু, ৩ লক্ষ না ৩ মিলিয়ন তা বের করা গেলে দেশকে বিভাজনের হাত থেকে রক্ষা করা যাবে।
২|
২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৩০
এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল বলেছেন: সুন্দর প্রস্তাব। জানি না কখনো এর সুরাহা হবে কিনা?
©somewhere in net ltd.
১|
২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৬
কলিমুদ্দি দফাদার বলেছেন:
একজন ফেরেস্তা আসমানী ওহী নিয়ে আসলে ও কোন জামাত-শিবির, রাজাকারের আওলাদ বিশ্বাস করিবে নিহতের সংখ্যা ৩০ লক্ষ! জরিপ করে বিতর্কের অবসান কিভাবে করিবেন? আর জামাত কে সফট পাওয়ারে রেখে এই জরিপ চালান নিহতের সংখ্যা ৩ হাজারে গিয়ে দাঁড়াবে।