| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সত্যপথিক শাইয়্যান
আমি একজন চিন্তুক, সমাজ নিয়ে চিন্তা করি! সমাজের ভালোর জন্যে গান-গল্প-ছড়া লিখি ও আইডিয়া শেয়ার করি। আপনি?
আমার আম্মার সেঝ চাচা’র লেখা ‘My life is not mine’ বইটি পড়ছি। বইটিতে ‘মাইজম ভাই’ নামের একটি অধ্যায় আছে। এতে সেঝ নানা আমার নানার বিভিন্ন সত্য কাহিনী উল্লেখ করেছেন। আমার নানা বঙ্গবন্ধুর সৈনিক ছিলেন। শোনা যায়, যেদিন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়, শুনতে পেরে তিনি সিলেটের নিজের বাসা থেকে নিজের লাইসেন্স করা বন্দুক নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন।
১) আমা নানা অন্যকে সাহায্য করতে ভালোবাসতেন।
বালাগঞ্জের সমস্ত মানুষ তা জানতেন। তাই তো রাস্তাঘাটে আমার নানাকে থামিয়ে তারা সাহায্য চাইতেন। নানা তাঁদেরকে নিজের পকেট খালি করে সাহায্য করতেন। অনেক সময় এমন হতো যে, বাড়ি ফেরার পথে রাস্তায় মানুষের প্রয়োজন মেটাতে মেটাতে দুপুরের খাবারের সময় পার করে নানাকে বাসায় ফিরতে হতো!
২) আমার নানা মরহুম মাহমুদ জায়গীরদার একজন আধ্যাত্মিক মানুষ ছিলেন। তাঁর আধ্যাত্মের লেভেল এমন পর্যায়ে চলে গিয়েছিলো যে, ভারতের খাজা বাবা’র দরবারের খাদিমরা পর্যন্ত তাঁকে সম্মান করতেন। তিনি যখন খাজা বাবা’র দরবারে জিয়ারতে যান তাঁকে সেখানে গিয়ে কোন খরচ করতে দেন নাই সেখানকার খাদিমরা। এখানে উল্লেখ্য, খাজা বাবার দরগাহের অতিথি হয়ে থাকাটা অত্যন্ত সম্মানের বিষয়। ‘দশ রূপী’ নিয়ে ভারত সফর করা এবং তা খরচ না করে দেশে ফেরা আমার নানার আধ্যাত্মিকতাই প্রমান করে।
৩) নানা ছোটদের স্নেহ করতেন। কাপড়ের ব্যবসায়ী হিসেবে সিলেটের বন্দর বাজারে তাঁর একটি দোকান ছিলো। তাঁর ছোট ভাই, অর্থাৎ আমার সেঝ নানা’র বন্ধুরা যখন তাঁর কাছ থেকে বাকিতে কাপড় কিনে পড়তেন, তিনি সেই পাওনা টাকার জন্যে ছোট ভাইয়ের বন্ধুদের পিছু পিছু ছুটতেন না। এতে অর্থের প্রতি তাঁর লোভহীন মনের পরিচয় মিলে।
৪) নিজের বাবার আদেশ আমার নানা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে শিরোধার্য করেছিলেন। একটি ঘটনা থেকে তা বুঝা যায়। আমার নানার আব্বা যখন একদিন হঠাৎ আমার নানাকে বললেন যে - জমির ধান কেটে ফেলতে। যদিও জমির ধান তখনো পাকা হোয় নাই, আমার নানা বাবার আদেশ মেনে তাঁর শ্রমিকদের সেগুলো কেটে ফেলার নির্দেশ দেন। যদিও পরে সেগুলো কাটা বন্ধ করা হোয়। নিজের বাবাকে কতটা সম্মান করতেন আমার নানা তা থেকে বুঝতে পারা যায়। এটা অত্যন্ত শিক্ষনীয় ব্যাপার যা আজকের জমানায় খুব একটা দেখতে পাওয়া যায় না।

৫) আমার নানা মানুষকে খুব ভালো আইডিয়া দিতে পারতেন। এখানে নানা’র সাথে আমার খুব মিল!!! আমিও খুব ভালো আইডিয়া দিতে পারি। বালাগঞ্জে নানাদের যে রাইসমিল ছিলো তা আমার নানা’র বুদ্ধিতেই খোলা হয়েছিলো।
৬) আমার নানা মানুষকে বিশ্বাস করতে ভালোবাসতেন। একজন মানুষ আরেকজন মানুষকে ঠকাতে পারে এটা তাঁর মাথায় আসতো না। সেজন্যেই তো তাঁর চাচা যখন আমার নানাকে বুঝালেন যে, রাইস মিলের ম্যানেজার তাঁকে ঠকাতে পারে, আমার নানা খুব অবাক হয়েছিলেন!
৭) আগেই বলেছি, আমার নানা মানুষকে সাহায্য করতে ভালোবাসতেন। তিনি ছিলেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের দাবা চ্যাম্পিয়নদের একজন। তাই তো, তিনি যখন লন্ডনে দাবা খেলতে যাওয়ার আমন্ত্রণ পেলেন, কিন্তু, তাঁর কাছে হেরে যাওয়া খেলোয়াড় তাঁকে বললো যে সে লন্ডনে সেটেল হতে চায় আর নানা যেন যেন নিজের অসুস্থতার কথা বলে লন্ডনে যাওয়ার আমন্ত্রণ ফিরিয়ে দেন, আমার নানা সেই লোকের কথা মেনে নেন। তিনি আর লন্ডনে যান নাই।
৮) আমার নানা দূর্নীর্তিগ্রস্থ ছিলেন না। এর প্রমাণ পাওয়া যায়, বালাগঞ্জ থানার কাউন্সিলের অন্যান্য সদস্যরা যখন সরকারের দেওয়া খাদ্য সামগ্রী মেরে দেন, কিন্তু, তারপরও বালাগঞ্জের মানুষ আমার নানাকে বিশ্বাস করে পরেরবার চেয়ারম্যান পদে পুনঃনির্বাচিত করেন। নানা তাঁদের আস্থার প্রতিদান দিয়েছিলেন বলেই এমন ঘটেছিলো।
৯) আমার নানা খুব ভোজনরসিক ছিলেন। বালাগঞ্জের বিভিন্ন দাওয়াতে নানাকে নিমন্ত্রন জানানো হতো। নানাও যেতেন।
১০) মানুষের ডাক ফিরিয়ে দিতেন না আমার নানা। তাই তো অসুস্থ্য থাকা সত্ত্বেও তিনি মানুষের বাসায় যাওয়ার নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে গিয়েছিলেন। সেটাই ছিলো তাঁর শেষ নিমন্ত্রণে যাওয়া। বাড়ি ফেরার পরে তিনি যে ঘুম দিলেন, সেই ঘুম আর ভাঙ্গে নাই!
১১) বালাগঞ্জের মানুষ তাঁকে ভালোবাসতেন। তাই তো তাঁর মৃত্যুর পরে তাঁর দাফন বালাগঞ্জেই হোক তা এলাকার মানুষ চেয়েছিলেন। তাই তো তাঁরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বলেছিলেন - “তোমরা কীভাবে তাঁকে নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবলে? তাঁর শেষ ঠিকানা তো এখানেই!”
খোদা আমার নানাকে বেহেশত নসীব করুন।
২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫১
সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:
আমীন।
ধন্যবাদ নিরন্তর।
২|
২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:২৬
শূন্য সারমর্ম বলেছেন:
আপনার নানা এতদিন বেহেশতে আছেই,যেখানে খাজার তরবারের খাদেম থেকে সম্মানিত।
২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫১
সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:
ধন্যবাদ।
©somewhere in net ltd.
১|
২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:১৫
কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত) বলেছেন: মহান রাব্বুল আলামীন উনাকে জান্নাতুল ফিরদউস নসীব করুন, আমীন।