নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অজানা কথা

স্বাধীনচেতা

শাওণীত

সেচ্ছায় এবং স্বাধীনভাবে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দবোধ করি ।

শাওণীত › বিস্তারিত পোস্টঃ

একটি উপচানো এসট্রে আর...........

০৬ ই অক্টোবর, ২০১৩ সকাল ১০:২৯

গুমোট আবহাওয়া। কাল অফিস নেই। সবাই যার যার মতো উল্লাসে ব্যাস্ত। সুমিত বসে আছে সেই পুবের জানালাটি ধরে। ঘরের আলো নেভানো, তবে কম্পিউটার অন।



কম্পিউটারে অনবরত বেজে চলছে সেই গানটি, যে গানে সুমিতের প্রতিটি অলস দিনের সৃষ্টি হয়।

"সাচ এ লোনলি ডে,

এন্ড ইটস মাইন,

দ্যা লোনলিয়েস্ট ডে ইন মাই লাইফ।"



সুমিত আপন মনে একের পর এক সিগারেট ধরাচ্ছে আর মুগ্ধ হয়ে শুনে যাচ্ছে গানটি। গানটির আসলেই একটা অনন্য মাদকতা আছে, যা শ্রোতাকে ভাবনার জগতে নিয়ে যেতে পারে। এই গানের সাথে সুমিতের এমন অন্তরঙ্গ সম্পর্ক প্রায় বছর খানিকের।



সুমিত হঠাৎ করে কম্পিউটারের সামনে এসে বসলো। বসেই চালিয়ে দিলো,

"আই হ্যাভ এ প্রবলেম,

দ্যাট আই কেননট এক্সপ্লেইন......"



আর এই সমস্যার সাথেই সুমিতের দৈনন্দিন পথচলা। রোবটিক জীবন জাপন চলতে থাকে কোনো এক অজানাকে উদ্দেশ্য করে।



হয়তো কোনো এক শুভ্র সকালে কোনো এক অপরিচিতা সামনে এসে দাঁড়াবে।

দাঁড়িয়ে বলবে, এই ছেলে ওঠো , এক্ষুনি রেডি হও। আমরা এখন ঘাসের শিশিরে পা ভেজাবো। তারপর বুটের ডাল দিয়ে গরম গরম পরাটা খাবো। তারপর তুমি অফিসে যাবে আর আমি ক্লাসে। ক্লাস শেষে আমি তোমার অফিসের সামনে আসবো। তুমি আর আমি ঘুরতে যাবো। রিক্সা ভ্রমন। তুমি ইঁদুরের মতো কুটকুট করে বাদাম খাবে আর আমি চেয়ে চেয়ে দেখবো। তারপর সন্ধ্যায় তুমি আমায় ওয়েস্টার্ন গ্রিলের চিকেন ললিপপ খাওয়াবে। সেখান থেকে আমায় বাসায় দিয়ে তুমি বাসায় যাবে।

কোনো প্রশ্ন করবে না। এসবের কারন ও জিজ্ঞাসা করবে না। শুধু জেনেরেখো আমার হাতে সময় কম, আর এই সময়ের পুরোটাই আমি তোমায় দিতে চাই।



দুই আংগুলের ফাঁকের ধুম্রশলাকাটি অবিরাম জ্বলছে। ধোঁয়াটে পরিবেশ। সুমিত একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ভেজা রাস্তায়। রাস্তাটি সচরাচর ধুলোমাখা থাকে। তবে আজ আকাশের মন খারাপ। তাই ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছে। আর সেই কয়েক ফোটা জলে ধুলোমাখা পথঘাট কর্দমাক্ত। গন্তব্যের দিকে ছুটে চলা প্রতিটি দ্রুতগতির গাড়ি রাস্তার কাদাজলে মাখামাখি। সাদা গাড়ির গায়ে, কাঁদার মেটে রং, উপরে হ্যালোজেন আলো!!! উফ!!! এক অসহ্য মুগ্ধকর পরিবেশ।





ঘরের বাইরে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ আর ঘরের ভেতরে ধোঁয়াটে আবেশ। সব মিলিয়ে একটি অতিসাধারণ রাত একজন নিভৃতচারীর কাছে। তার কাছে সকল রাতই অতিসাধারণ। সুমিত এর ধারনা তার রাতের দরকার নাই, কিন্তু রাতের তাকে প্রয়োজন। রাত তার কাছে শুধুই কিছু সময়ের ব্যাপ্তি, কিন্তু অনেকের কাছেই হয়তো নতুন কিছুর শুরু।





হয়তো এমনই এক প্রেমময় রাতে কারো প্রেমিকা, কারো বধু তার প্রিয়তমের বুকে মাথা রেখে অনাগত ভবিষ্যতের স্বপ্নে বিভোর। হয়তো কোনো এক নারী বাধ্য হচ্ছে পাশবিক আনন্দের উপকরণ হতে। হয়তো কারো জীবনের শেষ কয়েকটি প্রহর অতিক্রান্ত হচ্ছে। হয়তো জন্ম নিচ্ছে কোনো নতুন প্রাণ অথবা সৃষ্টি হচ্ছে কোনো নব্য ভ্রুণ। সকলই সম্ভব কালের বিবর্তনে।





কিন্তু যে ছেলেটি আংগুলের ফাঁকে পরম যত্নে ধরে রেখেছিলো একটি ধুম্রশলাকা, সে ই একমাত্র থেমে আছে। কিন্তু থেমেনেই তার ঘরের দেয়াল ঘড়িটি। সে অবিরাম চলমান। বয়স বেড়ে যাচ্ছে ছেলেটির, কিন্তু এসব নিয়ে সে ভাবেনা। সে সর্বদাই বর্তমান নিয়ে সময়ের অপচয় করে যাচ্ছে।





সে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে সেই যায়গায়, যেখানে একদা কেউ তার হাতের বাঁধন ছেড়ে গিয়েছিলো। ফিরবে কিনা? বলে যায়নি। অপেক্ষায় থাকতেও বলেনি। তবুও ছেলেটি অপেক্ষায় থাকে, আর ভাব হয়তোবা বিশ্বাস করে। একদিন মেয়েটি ফিরবে। হাতে হাত রেখে বলবে, "দেড়ি হোক তবু যায়নি সময়"।





হঠাৎ সিগারেটের আগুনে সুমিতের কল্পনা থেকে বাস্তবে ফেরা। আর ফিরেই আবার মনোযোগ দেয় গানে,

"আই, আই নো,

হাউ আই ফিল,

হোয়েন আই এম এরাউন্ড ইউ।"





আর এভাবেই প্রতিটি ছুটির রাত কেটে যায়, অতীত রোমন্থন এবং একাকিত্ত্বে। রাত শেষে পরে থাকে একটি উপচানো এসট্রে আর দুটি নির্ঘুম চোখ।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.