| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সকালটা সুন্দর। যতটা সুন্দর হওয়া যায় সে তার সর্বোচ্চ সীমায় অবস্থান করছে। কুয়াশার চাদরে সে ঢেকে রেখেছে তার সকল অপূর্ণতাকে। ফোঁটায় ফোঁটায় সুখ ছড়িয়ে দিচ্ছে পথ থেকে পথে। অলিতে গলিতে। সকলের গায়ে। প্রাণী উদ্ভিদ সকলের মাঝে।
হয়তো বলছে হে জীবসকল, তোমরা এই শীতল জলের ছিটেয় নিজেদেরকে ভিজিয়ে নাও। উপভোগ করো আর মুছে ফেলো সকল অতৃপ্তি।
এই সকালেই কোনো এক কানাগলি থেকে একজন মানুষরূপী পাগলের রাস্তায় নামা। সবাই তাকে পাগলই বলে। তার চলাফেরা কথাবার্তায় আনন্দ পায়, অনেকটা ভাঁড়ের মতো। জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে সে জীবন উপভোগ করে। কাছের মানুষের কাছে নিজের ঢোল পেটায়। তাতে তারা হেসে কুটিকুটি হয়। কাছের মানুষদের জীবনে নিজেকে সর্বাধিক ক্ষমতাধারী মনেকরে আত্মতৃপ্তি নেয়। এই আত্মতৃপ্তি তার একান্ত নিজস্ব। অন্যদের কাছে সে শুধুই অপ্রকাশ্য, গোপনীয়, হয়তো একজন তৃতীয় পক্ষ।
পাগলটার এই সকল অচিন্তা কুচিন্তাগুলোকে সে হয়তো মুছে ফেলবে এমনই কোনো এক সুন্দর সকালে। শীতল কুয়াশায় ভেজাবে মুখ, চুল, মাথা,কান। চোখের পাপড়িটাও বাদ যাবে না। কুয়াশায় সিক্ত হবে সে। সাদা সাদা প্রলেপ পরবে তার উপর। সেই প্রলেপ মোছার ছলে সে মুছে ফেলবে ভিজে ওঠা চোখ। তবুও হয়তো অক্ষিনেত্রে দৃষ্টি রাখলে দেখা যাবে অসীম শূণ্যতা আর অপ্রকাশিত আবেগ।
একদিন এই আবেগ কাছের মানুষদের দৃষ্টিগোচর হবে। নিজেদেরকে অনেক নগন্য মনেহবে। মনেহবে নির্বোধ। তারা হাহাকার করে উঠবে। তাদের চোখ থেকে গড়িয়ে পরবে একফোঁটা আনন্দাশ্রু।
পাগলটি ওই অশ্রুকণা হাতে ধরে বলবে, "দেরী হোক তবু যায়নি সময়"।
পরক্ষনেই ফিক করে হেসে বলবে, "তুমি জানো না তোমার চোখের পানিতে আমার অ্যালার্জি আছে?"
সেই সুন্দর আনন্দময় শুভ সকালের প্রতিক্ষায় থাকা হাজারো পাগল/পাগলীদের জন্য শুভকামনা আর অজস্র ভালোবাসা।
©somewhere in net ltd.